Skip to content

Primary Science chapter 11: Climate Change

জলবায়ু পরিবর্তন

  • Primary Science
  • Textbook pages 102-117
  • 1 source
  • 27,556 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Climate Change

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents43
  1. ১. জলবায়ুর উপাদান
  2. জলবায়ুর উপাদান কী কী?
  3. সারসংক্ষেপ
  4. জলবায়ুর উপাদান সম্পর্কে আরও কিছু জানি
  5. তাপমাত্রা
  6. বায়ু প্রবাহের দিক
  7. বায়ু প্রবাহের তীব্রতা
  8. বাতাসের আর্দ্রতা
  9. বৃষ্টিপাত
  10. ২. আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য
  11. আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য কী কী?
  12. আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে আরও কিছু জানি
  13. ৩. জলবায়ুর পরিবর্তন
  14. জলবায়ুর পরিবর্তন কীভাবে হয়?
  15. সারসংক্ষেপ
  16. জলবায়ুর পরিবর্তন সম্পর্কে আরও কিছু জানি
  17. ৪. জলবায়ুর পরিবর্তনের নিয়ামকসমূহ
  18. জলবায়ু পরিবর্তনের নিয়ামকসমূহ কী কী?
  19. সারসংক্ষেপ
  20. জলবায়ু পরিবর্তনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক সম্পর্কে আরও কিছু জানি
  21. ৫. জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ
  22. জলবায়ু পরিবর্তনের কারণসমূহ কী কী?
  23. সারসংক্ষেপ
  24. জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে আরও কিছু জানি
  25. ৬. পরিবেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  26. জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কী কী প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়?
  27. পরিবেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে আরও কিছু জানি
  28. জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং এর প্রভাব
  29. তীব্র তাপদাহ ও খরা
  30. শৈত্যপ্রবাহ
  31. কালবৈশাখী ঝড়
  32. টর্নেডো
  33. ঘূর্ণিঝড়
  34. সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে পানির লবণাক্ততা বৃদ্ধি
  35. বন্যা
  36. মানুষের জীবনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
  37. মানুষের জীবনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কী কী?
  38. সারসংক্ষেপ
  39. মানুষের জীবনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে আরও কিছু জানি
  40. জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অভিযোজন কৌশল
  41. জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কী কী অভিযোজন কৌশল নেওয়া যায়?
  42. সারসংক্ষেপ
  43. জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অভিযোজন কৌশল সম্পর্কে আরও কিছু জানি

Printed page 102

অধ্যায় ১১: জলবায়ু পরিবর্তন

জলবায়ু হলো কোনো অঞ্চলের অনেক বছরের গড় আবহাওয়া। আবহাওয়া প্রতিদিন বদলায়, কিন্তু জলবায়ু ধীরে ধীরে অনেক বছরে বদলায়। আমাদের পৃথিবীর জলবায়ু এখন আর আগের মতো নেই, বদলাতে শুরু করেছে। একে জলবায়ু পরিবর্তন বলে। এই পরিবর্তনের কারণে অনেক সময় খুব গরম পড়ে, বেশি বৃষ্টি হয়, আবার কখনো শুষ্কতা দেখা দেয়। জলবায়ুর কিছু উপাদান আছে। যেমন– সূর্যের আলো, তাপমাত্রা, বৃষ্টি, বাতাস ইত্যাদি। এসব উপাদান পরিবর্তন হলেই জলবায়ু পরিবর্তন হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের পেছনে মানুষ ও প্রকৃতির কিছু নিয়ামক বা কারণ আছে। এই অধ্যায়ে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ, প্রভাব এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অভিযোজন সম্পর্কে জানব।

১. জলবায়ুর উপাদান

আমরা চতুর্থ শ্রেণিতে আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান সম্পর্কে জেনেছি। আবহাওয়ার উপাদানগুলো জলবায়ুরও উপাদান। কোনো স্থানের আবহাওয়া সেই স্থানের জলবায়ুর ওপর নির্ভরশীল।

জলবায়ুর উপাদান কী কী?

কাজ: প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে জলবায়ুর উপাদানসমূহ চিহ্নিতকরণ।

যা করতে হবে:

১. প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে আজকের আবহাওয়া সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করি। আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহ করতে নিচের ছকে উল্লিখিত তথ্যগুলো লিখি।

আবহাওয়ার তথ্যকী দেখতে পেলাম?
আকাশের অবস্থা কেমন? (মেঘাচ্ছন্ন, রৌদ্রোজ্জ্বল, বর্ষণমুখর)
বাতাস কোন দিকে বইছে? (বায়ু প্রবাহের দিক)
জোরে বাতাস বইছে কি না? (বায়ু প্রবাহের তীব্রতা)
ঘাম হচ্ছে নাকি শুষ্ক অনুভূত হচ্ছে? (বায়ুর আর্দ্রতা)

সারসংক্ষেপ

কোনো স্থানের বায়ুর তাপমাত্রা, বায়ুর আর্দ্রতা, আকাশের অবস্থা, বায়ু প্রবাহের দিক, বায়ু প্রবাহের তীব্রতা, বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ইত্যাদি দিয়েই আবহাওয়ার খবর দেওয়া হয়। এগুলো মূলত আবহাওয়ার

Printed page 103

উপাদান। কোনো স্থানের দীর্ঘ সময়ের, সাধারণত ২৫-৩০ বছরের আবহাওয়ার গড় বা সামগ্রিক অবস্থার হিসাবকে জলবায়ু বলে। তাই আবহাওয়ার উপাদানই হলো জলবায়ুর উপাদান।

জলবায়ুর উপাদান সম্পর্কে আরও কিছু জানি

বায়ুর তাপমাত্রা, বায়ুর আর্দ্রতা, বায়ু প্রবাহের দিক, বায়ু প্রবাহের তীব্রতা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মূলত জলবায়ুর উপাদান। কোনো একটি স্থানের জলবায়ু বর্ণনা করার সময় এই উপাদানগুলোর বহু বছরের গড় মান সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে ছয়টি ঋতুর ভিন্নতা উপলব্ধি করা খুবই কষ্টকর। একটি অঞ্চলের জলবায়ুর ধারণা থেকে আবহাওয়া সম্পর্কে ভবিষ্যৎ তথ্য দেওয়া হয়।

তাপমাত্রা

Figure

লেবেল: In, Out, AM, 1204, 310°C, 316°C, 56%, MODE, ADJ, MAX/MIN, °C/°F বর্ণনা: তিনটি ছবি পাশাপাশি দেখানো হয়েছে: বামে একজন নারী রুমাল দিয়ে কপালের ঘাম মুছছেন, মাঝখানে একটি ডিজিটাল থার্মোমিটার যাতে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার মান প্রদর্শিত হচ্ছে, এবং ডানে মেঘযুক্ত আকাশে উজ্জ্বল সূর্যের কিরণ।

সময় ও ঋতুর পরিবর্তনের কারণে কোনো স্থানে কখনো গরম এবং কখনো ঠান্ডা অনুভূত হয়। একটি স্থানের বায়ু কতটা গরম অথবা কতটা ঠান্ডা তা তাপমাত্রা পরিমাপ করে জানা যায়। থার্মোমিটারের সাহায্যে কোনো স্থানের তাপমাত্রা পরিমাপ করা যায়।

বায়ু প্রবাহের দিক

Figure

বর্ণনা: বামে বাতাসে একদিকে হেলে থাকা গাছপালা ও মাঠের দৃশ্য এবং ডানে হাতে ধরা একটি ঘূর্ণায়মান কাগজের চরকি।

বাংলাদেশসহ আশেপাশের দেশে গ্রীষ্মকালে বায়ু দক্ষিণ দিক থেকে উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়। আবার দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। শীতকালে বাংলাদেশ অঞ্চলে বায়ু উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়। একটি স্থানের আবহাওয়া বর্ণনা করার সময় বায়ু কোন দিক থেকে কোন দিকে প্রবাহিত হয় তা জানানো হয়। বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ও বায়ুর চাপের তারতম্যের কারণে

Printed page 104

বায়ু প্রবাহিত হয়।

বায়ু প্রবাহের তীব্রতা

বাংলাদেশসহ সকল অঞ্চলেই বায়ু প্রবাহের যেমন একটা দিক আছে, একইভাবে বায়ু প্রবাহের একটা গতিবেগও রয়েছে। বায়ু যেদিক থেকেই প্রবাহিত হোক না কেন কখনো এর গতিবেগ বেশি বা তীব্র হয়, আবার কখনো কম বা মৃদু হয়।

Figure

বর্ণনা: তীব্র বাতাসে নারিকেল গাছের ডালপালা একদিকে হেলে প্রবলভাবে দুলে ওঠার দৃশ্য।

বাতাসের আর্দ্রতা

Figure

বর্ণনা: সবুজ পাতার ওপর জমে থাকা জলীয়বাষ্প বা শিশিরবিন্দু।

বাংলাদেশের দক্ষিণ দিকে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। সাগরের উপর দিয়ে বায়ু প্রবাহিত হওয়ার সময় সাগর থেকে জলীয়বাষ্প স্থলভাগের দিকে নিয়ে আসে। এই বায়ুকে আর্দ্র বায়ু বলে। কোনো স্থানের আবহাওয়া বর্ণনা করার সময় সে স্থানের বায়ুতে শতকরা কত ভাগ জলীয়বাষ্প থাকে তা প্রকাশ করা হয়।

বৃষ্টিপাত

বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে বায়ু দক্ষিণ দিক থেকে উত্তর দিকে প্রবাহিত হওয়ার সময় বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয়বাষ্প নিয়ে আসে। একইসাথে নদী, খাল, বিল, পুকুর থেকেও পানি বাষ্পীভূত হয়ে জলীয়বাষ্পে পরিণত হয়। এই জলীয়বাষ্প উপরে উঠে শীতল ও ভারী হয়ে মেঘে পরিণত হয়। মেঘ-পরবর্তী সময়ে পানির কণায় পরিণত হয়ে বৃষ্টিপাত হিসেবে নিচে নেমে আসে। বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ যত বেশি হয় বৃষ্টিপাতের পরিমাণও তত বেশি হয়।

Figure

বর্ণনা: আকাশে কালো মেঘ এবং নিচে সবুজ মাঠ ও জলাশয়ের ওপর প্রবল বৃষ্টির দৃশ্য।

২. আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য

আবহাওয়া হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানের আকাশ ও বায়ুমণ্ডলের সাময়িক অবস্থা। জলবায়ু হলো কোনো স্থানের বহু বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা। তাই আবহাওয়া ও জলবায়ু এক নয়।

আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য কী কী?

কাজ: তথ্য বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া ও জলবায়ুর পার্থক্য নিরূপণ।

যা করতে হবে:

১. আজকের তাপমাত্রা, বাতাসের গতি, আকাশের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করি। প্রয়োজনে ওয়েদার অ্যাপস

Printed page 105

ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করতে পারি। পরিস্থিতি অনুযায়ী শিক্ষকের সহায়তা নিই। তথ্যগুলো খাতায় লিখি।

২. বাংলাদেশের গত ১০ বছরের গড় তাপমাত্রা, বার্ষিক বৃষ্টিপাত, আপেক্ষিক আর্দ্রতার নিচের তালিকাটি পর্যবেক্ষণ করি। আমরা চাইলে আবহাওয়ার অন্যান্য উপাদানের তথ্যগুলোর বিগত ১০ বছরের গড় অবস্থার তথ্য সংগ্রহ করতে পারি।

বছরগড় তাপমাত্রা (ডিগ্রি সেলসিয়াস)গড় বার্ষিক বৃষ্টিপাত (মি.মি.)গড় আপেক্ষিক আর্দ্রতা (%)
২০১৫২৫.৭০২২০০৭৮
২০১৬২৫.৭২২২৫০৭৯
২০১৭২৫.৭৩২৩০০৮০
২০১৮২৫.৭৫২১৫০৭৭
২০১৯২৫.৭৭২১০০৭৬
২০২০২৫.৭৮২৩০০৭৮
২০২১২৫.৭০২৪০০৮০
২০২২২৫.৭৪২৫০০৮১
২০২৩২৫.৭৬২৬০০৮২
২০২৪২৫.৭৭২৭০০৮৩

তথ্যসূত্র : বিশ্বব্যাংক, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা

৩. সরবরাহকৃত তথ্যের আলোকে আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য নিচের ছকে লিপিবদ্ধ করি।

আবহাওয়াজলবায়ু

Printed page 106

আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে আরও কিছু জানি

আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আবার পার্থক্যও আছে। আবহাওয়া হলো কোনো স্থানের প্রকৃতির অল্প সময়ের অবস্থা। আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তনশীল। অপরদিকে জলবায়ু হলো কোনো স্থানের ২৫-৩০ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা। জলবায়ু ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত ইত্যাদি পরিমাপের মাধ্যমে আবহাওয়া সম্পর্কে জানা যায়। অপরদিকে জলবায়ু দীর্ঘমেয়াদি তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে গড় হিসাব করা হয়।

৩. জলবায়ুর পরিবর্তন

প্রতিদিন আবহাওয়া একই রকম থাকে না। আবহাওয়ার ভিন্নতা একটি স্বাভাবিক ঘটনা। আবহাওয়ার উপাদানগুলোর উল্লেখযোগ্য স্থায়ী পরিবর্তন হলো জলবায়ু পরিবর্তন। কোনো স্থানের জলবায়ু হঠাৎ পরিবর্তন হয় না, তা ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়।

জলবায়ুর পরিবর্তন কীভাবে হয়?

কাজ: পৃথিবী এবং বাংলাদেশের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করে জলবায়ুর পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা করা।

যা করতে হবে:

১) নিচের ছকটি লক্ষ করি। এখানে প্রতি দশ বছরকে এক দশক ধরে বিগত পাঁচ দশক বা পঞ্চাশ বছরের পৃথিবীর বার্ষিক গড় তাপমাত্রা এবং বাংলাদেশের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা দেওয়া হয়েছে।

২) ছক পর্যবেক্ষণ করে পৃথিবী এবং বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রার কী পরিবর্তন হয়েছে? হ্রাস নাকি বৃদ্ধি পেয়েছে তা ছকের ডানপাশের কলামে লেখো।

সাল (দশক)পৃথিবীর বার্ষিক গড় তাপমাত্রা (ডিগ্রি সেলসিয়াস)বাংলাদেশের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা (ডিগ্রি সেলসিয়াস)লক্ষণীয় পরিবর্তন (হ্রাস বা বৃদ্ধি)
১৯৭০-১৯৭৯১৪.০২৫.৫৫
১৯৮০-১৯৮৯১৪.১২৫.৭৪
১৯৯০-১৯৯৯১৪.৩২৫.৮৭
২০০০-২০০৯১৪.৫২৬.১৩
২০১০-২০১৯১৪.৮২৬.৩২

৩) তথ্যগুলো নিয়ে সহপাঠীর সাথে আলোচনা করি। প্রয়োজনে শিক্ষককে প্রশ্ন করে বুঝে নিই।

Printed page 107

সারসংক্ষেপ

পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে যা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই ঘটছে। এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতা স্থায়ীভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে। এভাবে জলবায়ু পরিবর্তন হতে থাকলে এক সময় পৃথিবী বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।

জলবায়ুর পরিবর্তন সম্পর্কে আরও কিছু জানি

বাংলাদেশে পূর্বে ছয় ঋতুর আলাদা রূপ ছিল। গ্রীষ্মে খরতাপ, বর্ষায় নিয়মিত বৃষ্টি, শরতে কাশফুল, হেমন্তে নতুন ধানের ঘ্রাণ, শীতে কুয়াশা আর বসন্তে ছিল ফুলের সৌন্দর্য। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে গ্রীষ্ম ও বর্ষার শুরু এবং স্থায়িত্ব অনিয়মিত। অতীতে গরমকাল সহনীয় ছিল, আর শীতকাল দীর্ঘ হতো। জলবায়ু বিপর্যয়ে বর্তমানে গরমে টিকে থাকা মুশকিল। শীত কম সময় স্থায়ী হয়। এক সময়ে আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে নিয়মিত ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হতো। কৃষক জানতো কখন ফসল লাগাতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সময়মতো বৃষ্টি হয় না। কখনো অনেক আগে বৃষ্টি হয়, কখনো অনেক পরে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এখন ডেঙ্গু জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়া ইত্যাদি রোগ হয়। কয়েক দশক আগেও এত ঘনঘন রোগ হতো না। আগের দিনে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন মাঝেমধ্যে হতো। বর্তমানে জলবায়ুর বৈশ্বিক পরিবর্তনে প্রায় প্রতি বছর এসব দুর্যোগ হয়। এরূপ কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের আবহাওয়ার উপাদানগুলোর স্থায়ী পরিবর্তন ঘটলে তখন তাকে জলবায়ুর পরিবর্তন বলা হয়। জলবায়ুর পরিবর্তন আবহাওয়ার পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল।

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.