Skip to content

Bangla Grammar and Composition chapter 2: Phonology

২. ধ্বনিতত্ত্ব

  • Bangla Grammar and Composition
  • Textbook pages 11-35
  • 1 source
  • 36,739 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Phonology

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents32
  1. ২.১ বাগ্যন্ত্র
  2. ২.২ স্বরধ্বনি
  3. ২.২ স্বরধ্বনির উচ্চারণ
  4. ২.২.১ জিভের অবস্থা
  5. ২.২.২ জিভের উচ্চতা
  6. ২.২.৩ ঠোঁটের অবস্থা
  7. ২.২.৪ হ্রস্ব ও দীর্ঘ স্বর
  8. ২.২.৫ কোমল তালুর অবস্থা
  9. ২.৩ ব্যঞ্জনধ্বনি
  10. ২.৩. ১ ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণ
  11. ২.৩.২ উচ্চারণস্থান
  12. ২.৩.৩ সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় প্রত্যঙ্গ
  13. ২.৩.৪ উচ্চারণরীতি
  14. ২.৩.৫ ঘোষ ও অঘোষ ব্যঞ্জন
  15. ২.৩.৬ মহাপ্রাণ ও অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি
  16. ২.৪ বাংলা স্বরধ্বনির সংখ্যা
  17. ২.৪.১ স্বরবর্ণ
  18. ২.৫ কার ও ফলা
  19. স্বরবর্ণের পূর্ণরূপ
  20. স্বরবর্ণের সংক্ষিপ্তরূপ
  21. বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনির সংখ্যা
  22. বাংলা ব্যঞ্জনবর্ণ
  23. ২.৬ ব্যঞ্জনবর্ণ
  24. ব্যঞ্জনবর্ণের পূর্ণরূপ
  25. ব্যঞ্জনবর্ণের সংক্ষিপ্তরূপ
  26. ২.৭ যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ ও বিশ্লেষণ
  27. যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ বিশ্লেষণ
  28. ২.৮ ধ্বনি-পরিবর্তন : সন্ধি
  29. ২.৮.১ স্বরসন্ধি : সূত্র ও উদাহরণ
  30. ২.৮.২ সন্ধির প্রয়োজনীয়তা
  31. নমুনা প্রশ্ন
  32. বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

Printed page 11

২. ধ্বনিতত্ত্ব

২.১ বাগ্যন্ত্র

ধ্বনির উচ্চারণে মানবশরীরের যেসব প্রত্যঙ্গ জড়িত সেগুলোকে একত্রে বাগ্যন্ত্র বা বাকপ্রত্যঙ্গ বলে। আমাদের শরীরের উপরের প্রত্যঙ্গগুলো বাগ্যন্ত্র হিসেবে পরিচিত। এগুলোর প্রধান কাজ দুটি- (ক) শ্বাসকার্য পরিচালনা করা এবং (খ) খাদ্য গ্রহণ করা। কিন্তু এসব প্রয়োজন সিদ্ধ করেও বাগ্যন্ত্র মানুষের ভাষিক কাজ করে থাকে। বাগ্যন্ত্রের সাহায্যে আমরা ধ্বনি উৎপাদন করি। বাগ্যন্ত্রের এলাকা বিস্তৃত।এর মধ্যে রয়েছে ফুসফুস, শ্বাসনালি, স্বরযন্ত্র ,স্বরতন্ত্র, জিভ, ঠোঁট নাসিকা, নিচের চোয়াল, দাঁত তালু ও গলনালি। এ ছাড়াও রয়েছে মধ্যচ্ছদা ও চিবুক।

Figure: চিত্র : ২.১ : বাগ্যন্ত্র

লেবেল: শক্ত তালু, কোমল তালু (জিহ্বামূল), নাসিক্য-গহ্বর, নাসারন্ধ্র, ঠোঁট, জিভ, দাঁত, মুখ-গহ্বর, চোয়াল, গলবিল, স্বরযন্ত্র, খাদ্যনালি, শ্বাসনালি, ফুসফুস, মধ্যচ্ছদা
বর্ণনা: মানুষের মাথা ও গলার মধ্যবর্তী অংশের পার্শ্বচিত্র; উপরের গহ্বর, মুখ, গলা, স্বরযন্ত্র, খাদ্যনালি ও শ্বাসনালি এবং নিচের ফুসফুস ও মধ্যচ্ছদা তীর চিহ্ন ও লেবেল দিয়ে দেখানো হয়েছে।

২.২ স্বরধ্বনি

যে-বাগ্ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস-আগত বাতাস মুখের মধ্যে কোনোভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয় না, সেগুলোই হলো স্বরধ্বনি। যেমন- অ, আ, ই, উ। কিছু স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস বাধাহীনভাবে একই সঙ্গে মুখ ও নাক দিয়ে বের হয়। যেমন- আঁ, ইঁ, এঁ, ওঁ ইত্যাদি।

২.২ স্বরধ্বনির উচ্চারণ

স্বরধ্বনির উচ্চারণে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো হলো জিভের উচ্চতা, জিভের অবস্থান ও ঠোঁটের আকৃতি। এ ছাড়া আরও একটি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হয়, তা হলো কোমল তালুর অবস্থা। কোমল তালুর অবস্থা অনুযায়ী স্বরধ্বনিগুলোকে মৌখিক ও অনুনাসিক স্বরধ্বনি হিসেবে উচ্চারণ করতে হয়।

Printed page 12

২.২.১ জিভের অবস্থা

জিভের যে-অংশের সাহায্যে স্বরধ্বনি উচ্চারিত হয়, সেই অংশকে গুরুত্ব দিয়ে স্বরধ্বনিগুলোকে যথাক্রমে (ক) সম্মুখ, (খ) মধ্য ও (গ) পশ্চাৎ ধ্বনি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ক) সম্মুখ স্বরধ্বনি : জিভের সামনের অংশের সাহায্যে উচ্চারিত স্বরধ্বনিগুলো হলো সম্মুখ স্বরধ্বনি। ই, এ, অ্যা স্বর এজাতীয়।

খ) মধ্য-স্বরধ্বনি : জিভ স্বাভাবিক অবস্থায় থেকে অর্থাৎ, সামনে কিংবা পেছনে না-সরে যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারিত হয়, সেগুলো হলো মধ্য-স্বরধ্বনি। আ স্বরধ্বনি এ-শ্রেণির।

গ) পশ্চাৎ স্বরধ্বনি : এজাতীয় স্বরধ্বনিগুলো জিভের পেছনের অংশের সাহায্যে উচ্চারণ করতে হয়। যেমন- অ, ও, উ।

২.২.২ জিভের উচ্চতা

জিভের উচ্চতা অনুসারে স্বরধ্বনিগুলোকে (ক) উচ্চ, (খ) নিম্ন, (গ) উচ্চ-মধ্য ও (ঘ) নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি হিসেবে নির্দেশ করা হয়।

ক) উচ্চ-স্বরধ্বনি : এগুলোর উচ্চারণের সময় জিভ সবচেয়ে উপরে ওঠে। যেমন- ই, উ।

খ) নিম্ন-স্বরধ্বনি : জিভ সবচেয়ে নিচে অবস্থান করে এসব স্বরধ্বনি উচ্চারিত হয়। আ, এ এ-শ্রেণির ধ্বনির দৃষ্টান্ত।

গ) উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি : এজাতীয় স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ নিম্ন-স্বরধ্বনির তুলনায় উপরে এবং উচ্চ-স্বরধ্বনির তুলনায় নিচে থাকে। যেমন- এ, ও।

ঘ) নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি : এসব স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনির তুলনায় নিচে এবং নিম্ন-স্বরধ্বনি থেকে উপরে ওঠে। যেমন- অ্যা, ও।

Figure: চিত্র - ২.২ : জিভের উচ্চতা অনুযায়ী স্বরধ্বনির উচ্চারণ

লেবেল: ই, এ, অ্যা, আ
বর্ণনা: মানুষের মুখ-গহ্বরের পার্শ্বচিত্র; জিভের বিভিন্ন অবস্থান তীর চিহ্ন দিয়ে দেখানো হয়েছে। ই-এর জিভ সবচেয়ে উপরে, আ-এর জিভ সবচেয়ে নিচে এবং এ ও অ্যা-এর জিভের অবস্থান এ দুটোর মাঝামাঝি।

Printed page 13

২.২.৩ ঠোঁটের অবস্থা

ঠোঁটের অবস্থা অনুযায়ী স্বরধ্বনিগুলোর উচ্চারণে দু-ধরনের বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়- ঠোঁট গোলাকৃত অথবা অগোলাকৃত অবস্থায় থাকতে পারে। ঠোঁটের এইসব অবস্থাভেদে স্বরধ্বনিগুলোকে গোলাকৃত ও অগোলাকৃত স্বরধ্বনি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট গোলাকৃত হয়, সেই স্বরধ্বনিগুলোই হলো গোলাকৃত স্বরধ্বনি। যেমন- অ, ও, উ। অন্যদিকে যেসব স্বরধ্বনির উচ্চারণে ঠোঁট গোল না-হয়ে বিস্তৃত অবস্থায় থাকে, সেগুলোই হলো অগোলাকৃত স্বরধ্বনি। যেমন- ই, এ, অ্যা।

Figure: চিত্র : ২.৩ : ঠোঁটের অবস্থা ভেদে স্বরধ্বনি

লেবেল: ই, উ, আ, অ
বর্ণনা: চারটি ঠোঁটের আকৃতি দেখানো হয়েছে। ই ও আ-এর ঠোঁট বিস্তৃত, উ ও অ-এর ঠোঁট গোলাকৃত। আ-এর ঠোঁট ই-এর তুলনায় বেশি ফাঁক।

২.২.৪ হ্রস্ব ও দীর্ঘ স্বর

বিশ্বের বহু ভাষায় একই স্বরধ্বনির দুটি উপলব্ধি আছে। উচ্চারণকালে কিছু স্বরধ্বনি স্বল্পকাল স্থায়ী হয়, সে-তুলনায় অন্যগুলো অধিক সময় স্থায়ী হয়। দীর্ঘস্বর উচ্চারণের সময় আরও দুটি দিক খেয়াল করতে হবে- (ক) নিচের চোয়ালের মাংসপেশিতে বেশি চাপ পড়বে এবং (খ) মুখ দিয়ে হ্রস্ব স্বরের তুলনায় অধিক বাতাস বের হবে। স্বরের হ্রস্ব-দীর্ঘ উচ্চারণভেদে দুটি ভিন্ন অর্থবোধক শব্দ তৈরি হয়। যেমন- ইংরেজি bit ও beat শব্দের উচ্চারণ। প্রথম শব্দের ই-ধ্বনি হ্রস্ব (i) আর দ্বিতীয় শব্দের ই দীর্ঘ (i) এবং এই দুই স্বর উচ্চারণের কারণে ইংরেজিতে দুটি ভিন্ন অর্থবাহী শব্দ তৈরি হয়েছে।

বাংলা ভাষার সব স্বরই হ্রস্ব; কিন্তু আমাদের লিখিত ভাষায় কিছু দীর্ঘ বর্ণ রয়েছে। আমরা লিখি 'নদী', 'তরী' ইত্যাদি। এসব শব্দের স্বরের দীর্ঘ উচ্চারণ হয়তো করা যায়, কিন্তু তাতে দুটি ভিন্ন অর্থবাহী শব্দ তৈরি হয় না। অর্থাৎ লিখিত ভাষায় যা-ই থাকুক, আমাদের সব স্বরই হ্রস্ব।

Printed page 14

২.২.৫ কোমল তালুর অবস্থা

মৌখিক স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস কেবল মুখ দিয়ে আর অনুনাসিক স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস একই সঙ্গে মুখ ও নাক দিয়ে বের হয়। জানা দরকার, কীভাবে বাতাস কখনো মুখ, এবং কখনো নাক ও মুখ দিয়ে একসঙ্গে বের হয়। আমাদের মুখের উপরে রয়েছে তালু। এটি দেখতে অনেকটা গম্বুজ-আকৃতির। এই তালুর সামনের অংশ শক্ত কিন্তু পেছনের অংশ নরম। বোঝাই যাচ্ছে যে, শক্ত প্রত্যঙ্গ স্থির, তা নড়াচড়া করতে পারে না। সে-ক্ষমতা আছে কেবল নরম অংশের। নরম বলেই তালুর পেছনের অংশকে বলে কোমল তালু। এ-তালুকে আমরা উপরে ওঠাতে পারি আবার নিচে নামাতে পারি। মৌখিক স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় তা উপরে উঠে গিয়ে নাক দিয়ে বাতাস বেরোনোর পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়।

Figure: চিত্র : ২.৪ : মৌখিক ও অনুনাসিক ধ্বনির উচ্চারণ

বর্ণনা: দুটি পার্শ্বচিত্র। বাঁদিকের চিত্রে কোমল তালু উপরে উঠে নাকের পথ বন্ধ রয়েছে এবং বাতাস শুধু মুখ দিয়ে বের হচ্ছে। ডানদিকের চিত্রে কোমল তালু নিচে নেমে আছে এবং বাতাস মুখ ও নাক দুই দিক দিয়ে বের হচ্ছে; তীর চিহ্ন দিয়ে বাতাসের গতিপথ দেখানো হয়েছে।

অনুনাসিক স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় কোমল তালু নিচে নেমে যায়। এটি তখন এমন অবস্থায় থাকে যে, বাতাস একই সঙ্গে মুখ ও নাক দিয়ে বের হতে পারে। এভাবে উচ্চারিত স্বরধ্বনিগুলোই হলো অনুনাসিক স্বরধ্বনি। বাতাস বের হওয়ার এই দুই ধরন অনুসারে স্বরধ্বনিগুলোকে ভাগ করা হয়েছে মৌখিক ও অনুনাসিক স্বরধ্বনি হিসেবে। মৌখিক স্বরের অনুনাসিক উচ্চারণ হলে শব্দের অর্থ বদলে যাবে। বাংলা মৌখিক স্বরধ্বনি সাতটি, অনুনাসিক স্বরধ্বনিও সাতটি। নিচের সারণিতে মৌখিক ও অনুনাসিক স্বরধ্বনিগুলো উল্লেখ করা হলো :

সারণি-০১: বাংলা মৌখিক ও অনুনাসিক স্বরধ্বনির তালিকা

মৌখিক স্বরউদাহরণঅনুনাসিক স্বরধ্বনিউদাহরণঅর্থ
১ইবিধিইঁবিঁধি‘বিদ্ধ করা’
২এএরা (সাধারণ)এঁএঁরা‘তাঁরা’ (সম্মানীয়)
৩অ্যাট্যাকঅ্যাঁট্যাঁক‘থলে’
৪আবাধা (বিপত্তি)আঁবাঁধা‘বন্ধন, আবদ্ধ করা’
৫অগদ (কবিতা)অঁগঁদ‘আঠা’
৬ওওরা (সাধারণ)ওঁওঁরা‘তাঁরা’ (সম্মানীয়)
৭উকুড়ি (সংখ্যা বিশেষ)উঁকুঁড়ি(ফুলের) ‘কলি’

Printed page 15

২.৩ ব্যঞ্জনধ্বনি

যেসব বাগ্‌ধ্বনি উচ্চারণে ফুসফুস আগত বাতাস মুখের মধ্যে সম্পূর্ণ বন্ধ বা রুদ্ধ হয় অথবা আংশিকভাবে বন্ধ হয় কিংবা সংকীর্ণ পথে বাতাস বেরিয়ে যাওয়ার সময় ঘর্ষণের সৃষ্টি করে সেগুলোই হলো ব্যঞ্জনধ্বনি। কিছু ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় বাতাস প্রথমে মুখের মধ্যে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়, তারপর কেবল নাক দিয়ে বেরিয়ে যায়। যেমন- প্ ক্ ল্ শ্ ম্ ন্।

২.৩. ১ ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণ

ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে দুটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল করতে হয়। এগুলো হলো ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণস্থান ও উচ্চারণরীতি। যে বাগ্‌যন্ত্রের সাহায্যে ধ্বনি উচ্চারিত হয় তা-ই উচ্চারণস্থান। উচ্চারণরীতি বলতে কীভাবে ধ্বনিটি উচ্চারণ করা হয় তাকে বোঝায়। অর্থাৎ ফুসফুস থেকে আগত বাতাস মুখের মধ্যে বিভিন্ন প্রত্যঙ্গে কীভাবে বাধা পায় সে-সম্পর্কিত ধারণা স্পষ্ট না হলে ধ্বনির প্রকৃত উচ্চারণ সম্ভব নয়। উচ্চারণরীতি আমাদের সে-ধারণা দান করে।

২.৩.২ উচ্চারণস্থান

উচ্চারণস্থান অনুসারে বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনিগুলোকে দ্বি-ওষ্ঠ্য, দন্ত্য, দন্তমূলীয়, প্রতিবেষ্টিত, দন্তমূলীয়, তালব্য, জিহ্বামূলীয় ও কণ্ঠনালীয় ধ্বনি হিসেবে দেখানো হয়।

Figure: চিত্র : ২.৫ : উচ্চারণস্থান

লেবেল: তালব্য, জিহ্বামূলীয়, দন্তমূলীয়, দ্বি-ওষ্ঠ্য, দন্ত্য, কণ্ঠনালীয়
বর্ণনা: মানুষের মুখগহ্বর ও গলার পার্শ্বচিত্র। তালব্য ও জিহ্বামূলীয় স্থান উপরের দিকে, দন্তমূলীয় স্থান সামনের উপরের দিকে, দ্বি-ওষ্ঠ্য ও দন্ত্য স্থান সামনে ঠোঁট ও দাঁতের কাছে দেখানো হয়েছে; কণ্ঠনালীয় স্থান গলার নিচের দিকে। প্রতিটি স্থানে তীর দিয়ে নাম নির্দেশ করা হয়েছে।

Printed page 16

দ্বি-ওষ্ঠ্য : দুই ঠোঁট অর্থাৎ উপরের ও নিচের ঠোঁটের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনিগুলো হলো দ্বি-ওষ্ঠ্য। তাপ্‌, লাফ্‌, নাম্‌ শব্দের প্, ফ্, ম্ এ-শ্রেণির ধ্বনি।

দন্ত্য : জিভের সামনের অংশ দ্বারা উপরের পাটি দাঁতে নিচের অংশকে স্পর্শ করে দন্ত্য ধ্বনিগুলো উচ্চারিত হয়। বাংলা মত্‌, পথ্‌, পদ্‌, সাধ্‌ শব্দের ত্, থ্, দ্, ধ্ ধ্বনিগুলো এ-জাতীয়।

দন্তমূলীয় : জিভের সামনের অংশ ও উপরের পাটি দাঁতের মূল বা নিচের অংশের সাহায্যে দন্তমূলীয় ধ্বনি উচ্চারিত হয়। কাস্‌তে, দান্‌, ঘর্‌, দল্‌ শব্দের স্, ন্, র্, ল্ ব্যঞ্জন এ-শ্রেণির। ন্ ধ্বনিকে দন্ত্য-ন এবং স্ ধ্বনিকে দন্ত্য-স হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু এ দুটি ধ্বনির উচ্চারণে কোনোক্রমেই দাঁতের স্পর্শ নেই। আমরা 'কান' শব্দ উচ্চারণ করলেই তা বুঝতে পারি। শব্দটি উচ্চারণের সময় জিভের সামনের অংশ উপরের পাটি দাঁতের মূলকে স্পর্শ করে। একইভাবে 'বস্তা' কিংবা 'রাস্তা' শব্দের স্উচ্চারণের সময় জিভের সামনের অংশ উপরের পাটি দাঁতের মূলের খুব কাছাকাছি আসে। সে-হিসেবে ন্ এবং স্ ব্যঞ্জনকে দন্ত্যমূলীয়-ন, দন্তমূলীয়-স বলাই বিজ্ঞানসম্মত।

তালব্য-দন্তমূলীয় : জিভের সামনের অংশ উপরের শক্ত তালু স্পর্শ করে তালব্য-দন্তমূলীয় ধ্বনি উচ্চারিত হয়। যেমন- টাক, কাঠ্‌, ডাল, ঢাকা শব্দের ট্, ঠ্, ড্, ঢ্ ধ্বনি।

তালব্য : জিভ প্রসারিত হয়ে সামনের অংশ শক্ত তালু স্পর্শ করে উচ্চারিত ধ্বনিগুলো হলো তালব্য। পচ্‌ন, ছুলনা, জাগরণ, ঝংকার, বাঁশ্‌ শব্দের চ্, ছ্, জ্, ঝ্, শ্ ধ্বনি তালব্য।

জিহ্বামূলীয় : জিভের পেছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের মূলের কাছাকাছি নরম তালু স্পর্শ করে জিহ্বামূলীয় ব্যঞ্জন উচ্চারিত হয়। কাক্‌, লাখ্‌, দাগ্‌, গগন, বাঘ্‌, রঙ্‌ শব্দের ক্, খ্, গ্, ঘ্, ঙ্ ধ্বনি এ-জাতীয়। এ ধ্বনিগুলোকে কণ্ঠ্য ধ্বনিও বলে।

কণ্ঠনালীয় : কণ্ঠনালির মধ্যে ধ্বনিবাহী বাতাস বাধা পেয়ে উচ্চারিত ধ্বনিগুলোই কণ্ঠনালীয়। এজাতীয় বাংলা ব্যঞ্জন মাত্র একটি-হ্।

Printed page 17

সারণি-০২ : উচ্চারণস্থান অনুযায়ী বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনির তালিকা

উচ্চারণস্থানব্যঞ্জনধ্বনি
দ্বি-ওষ্ঠ্যপ্, ফ্, ব্, ভ্, ম্
দন্ত্যত্, থ্, দ্, ধ্,
দন্তমূলীয়ন্, র্, ল্, স্
তালব্য-দন্তমূলীয়ট্, ঠ্, ড্, ঢ্
তালব্যচ্, ছ্, জ্, ঝ্, শ্
জিহ্বামূলীয়ক্, খ্, গ্, ঘ্, ঙ্
কণ্ঠনালীয়হ্

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.