Bangla Grammar and Composition chapter 6: Spelling
৬. বানান
- Bangla Grammar and Composition
- Textbook pages 53-55
- 1 source
- 4,315 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Spelling
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents3ShowHide
Printed page 53
৬. বানান
বানান বলতে বোঝায় 'বর্ণন' বা বর্ণনা করা। অন্যভাবে বলা যায়, বানান হলো বুঝিয়ে বলা। লিখিত ভাষায় এই বলা দ্বারা স্বরবর্ণের পর স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণের পর ব্যঞ্জনবর্ণ অথবা স্বরবর্ণের পর ব্যঞ্জনবর্ণ বা ব্যঞ্জনবর্ণের পর স্বরবর্ণ যোগ করাকে বোঝায়। যেমন− স্বরবর্ণ + ব্যঞ্জনবর্ণ : আম; ব্যঞ্জনবর্ণ + স্বরবর্ণ : মা (ম্ + আ); ব্যঞ্জনবর্ণ + স্বরবর্ণ + ব্যঞ্জনবর্ণ + ব্যঞ্জনবর্ণ : কষ্ট (ক্+অ+ষ্+ট্)।
বানান শিখতে বা লিখতে গেলে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, পরিপূর্ণভাবে ধ্বনি অনুযায়ী বানান লেখার নিয়ম বিশ্বের কোনো ভাষায় নেই। ধ্বনিতত্ত্ব অংশে আমরা দেখেছি যে, আমাদের ভাষায় সব বর্ণ সব ধ্বনির প্রতিনিধিত্ব করে না। কিন্তু সব বর্ণই আমাদের লিখনপদ্ধতির আশ্রয়। আমাদের জানতে হবে কোথায় দীর্ঘস্বর (ঈ, ঊ), চন্দ্রবিন্দু (ঁ), কোথায় ন্, কোথায় ণ্, কোথায় শ্ স্ ষ্, কোথায় বিসর্গ (ঃ), কোথায় ঙ, ঞ, ৎ, ক্ষ, জ্ঞ, ঙ্গ, ক্ক, ত, ৎ, ক্ষ ইত্যাদি বসবে। এসবের ব্যবহার না জানলে বানান ভুল হবে।
৬.১ বানানের ধারণা
এমন এক সময় ছিল যখন বাংলা বানানের নিয়মের প্রতি কারো আগ্রহ ছিল না। এ-অবস্থায় ব্যক্তি নিজের মতো করে বানান ব্যবহার করত। এতে বানানের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, শুরু হয় বাংলা বানানে শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা। বাংলা ভাষায় বিভিন্ন উৎস থেকে শব্দ এসেছে, যেমন− সংস্কৃত, আরবি-ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি। বাংলায় আগত শব্দগুলোর মূল উচ্চারণ এবং বাংলা ভাষার ধ্বনিব্যবস্থা অনুসারে সেগুলো লেখার প্রেরণা থেকেই উদ্ভাবিত হয় 'বাংলা বানানের নিয়ম'। এক্ষেত্রে প্রথম প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয় কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয় 'বাংলা শব্দের বানানের নিয়ম'।পরবর্তীকালে বাংলা বানানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগী হয়েছে। আমাদের দেশে বাংলাদেশ টেকস্ট বুক বোর্ড, বাংলা একাডেমি বানানরীতি তৈরি করেছে। পরবর্তীতে টেকস্ট বুক বোর্ড ও বাংলা একাডেমির বানানরীতি এক হয়েছে। বাংলা একাডেমির বানানরীতি এখন সর্বত্র মানা হচ্ছে।
৬.২ বানানের নিয়ম
নিচে বাংলা বানানের কিছু নিয়ম উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হলো :
১. বিদেশি শব্দের (ইংরেজি, আরবি-ফারসি ও অন্যান্য ভাষার শব্দ) বানানে সব সময় হ্রস্ব ই বা ই-কার (ি) হবে। যেমন− জাফরানি, মিশনারি, ফিরিস্তি, উর্দি, বনেদি প্রভৃতি।
২. বাংলা শব্দের বানানে সব সময় হ্রস্ব ই বা ই-কার (ি) হবে। যেমন− ডুলি, হাঁড়ি, বাঁশি, চাঙারি প্রভৃতি।
৩. ভাষা ও জাতিবাচক শব্দের শেষে হ্রস্ব ই-কার হবে। যেমন− বাঙালি, ইংরেজি, ইরানি, পাঞ্জাবি, ইরাকি, পাকিস্তানি, জাপানি প্রভৃতি।
Printed page 54
৪. ইংরেজি শব্দে a-উচ্চারণ যেখানে অ্যা সেখানেa-এর জন্য অ্যা, s-এর উচ্চারণ যেখানে দন্তমূলীয় স্ সেখানে s-এর জন্য স, যেখানে শ-এর জন্য sh এবং st-এর জন্য স্ট হবে। যেমন− অ্যাডভোকেট, অ্যাটোর্নি, বাস, সুগার, আর্টিস্ট, স্টেশন, স্টোর প্রভৃতি।
৫. সংস্কৃত বা তৎসম শব্দে 'র'-এর পরে 'ণ' (মূর্ধন্য-ণ) হবে। যেমন− চরণ, কারণ, রণ, মরণ, অনুসরণ প্রভৃতি।
৬. বাংলা শব্দে র-এর পর ন হবে। যেমন− ধরন।
নমুনা প্রশ্ন
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
সঠিক উত্তরের পাশে টিকচিহ্ন (√) দাও :
১। বানান বলতে কী বোঝায়?
ক. বর্ণন
খ. বর্ণনা করা
গ. বর্ণিল
ঘ. বিশ্লেষণ
২। পরিপূর্ণভাবে ধ্বনি অনুযায়ী কোন নিয়ম বিশ্বের কোনো ভাষায় নেই?
ক. বানান লেখার নিয়ম
খ. ধ্বনির নিয়ম
গ. শব্দগঠনের নিয়ম
ঘ. ব্যাকরণের নিয়ম
৩। কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বানানের উপর প্রকাশিত গ্রন্থের নাম কী?
ক. বাংলা বানানের নিয়ম
খ. বাঙ্গলা শব্দের বানানের নিয়ম
গ. বাঙ্গাল শব্দের বানানের নিয়ম
ঘ. বাঙ্গালা শব্দের বানানের নিয়ম
৪। 'বাংলা বানানের নিয়ম' কখন প্রকাশিত হয়?
ক. ১৯৩৫
খ. ১৯৩৬
গ. ১৯৩৭
ঘ. ১৯৩৮
৫। বাংলাদেশে যে প্রতিষ্ঠানগুলো বানানরীতি তৈরি করেছে সেগুলো হলো−
i. বাংলাদেশ টেকস্ট বুক বোর্ড
ii. বাংলা একাডেমি
iii. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
Printed page 55
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i ও ii
খ. ii ও iii
গ. i ও iii
ঘ. i, ii ও iii
৬। বিদেশি শব্দের বানানে সব সময় কী হবে?
ক. ণ
খ. ই বা ই-কার
গ. ষ
ঘ. ঈ বা ঈ-কার
৭। জাতিবাচক শব্দে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
ক. দীর্ঘ ঈ-কার
খ. হ্রস্ব ই-কার
গ. হ্রস্ব উ-কার
ঘ. কোনোটি নয়
৮। কোন বানানগুলো ঠিক?
ক. ডুলি, চরণ
খ. মরন, শানকী
গ. গহিণ, বনেদী
ঘ. আর্টিষ্ট, অণুসরন
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.