Bangla Grammar and Composition chapter 12: Letter Writing
৪. পত্র রচনা
- Bangla Grammar and Composition
- Textbook pages 77-81
- 1 source
- 7,996 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Letter Writing
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Printed page 77
৪. পত্র রচনা
একসময়ে আমাদের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে পত্র বা চিঠি ব্যবহৃত হতো। তবে তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে পত্র বা চিঠির সঙ্গে যোগাযোগের নানা মাধ্যম যুক্ত হয়েছে। কিন্তু যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে সেই পত্র বা চিঠিকেই এখনও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই ধরা হয়। এছাড়া লিখিত প্রমান হিসেবে চিঠিপত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। দূরের মানুষের সাথে চিঠিপত্রের মাধ্যমে সহজে ও স্বল্প খরচে মনের ভাব আদান-প্রদান করা যায়। বড়দের মতো ছোটরাও পত্র লিখতে পারে। পত্রের মাধ্যমে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়। তাছাড়া বিদ্যালয়ে বিভিন্ন কারণে প্রধান শিক্ষকের কাছে এবং নানা উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদনপত্র লিখতে হয়। এজন্য চিঠিপত্র লেখার নিয়মকানুন জানা দরকার।
পত্র লেখার কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। আমাদের সেসব নিয়ম জানতে হবে। সচরাচার যেসব পত্র লিখতে হয় সেগুলোকে দুভাগে ভাগ করা যায়- (ক) ব্যক্তিগত পত্র ও (খ) আবেদনপত্র বা দরখাস্ত। নিচে এগুলোর পরিচয় দেওয়া হলো।
ক) ব্যক্তিগত পত্র: মা-বাবা, ভাই-বোন, বন্ধুবান্ধবকে ব্যক্তিগত দরকারে যেসব পত্র লেখা হয়, সেগুলো ব্যক্তিগত পত্র।
খ) আবেদনপত্র বা দরখাস্ত: বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে কিংবা বিশেষ প্রয়োজনে সরকারের বিভিন্ন অফিস ও সংস্থা অথবা বেসরকারি কোনো সংস্থার কর্মকর্তাদের নিকট যেসব পত্র লেখা হয় সেগুলোকে আবেদনপত্র বা দরখাস্ত বলা হয়।
ব্যক্তিগত পত্র লেখার নিয়ম:
এজাতীয় পত্রের দুটো অংশ থাকে—(ক) বাইরের অংশ বা শিরোনাম ও (খ) ভেতরের অংশ বা পত্রগর্ভ।
ক) শিরোনাম: পত্রের খাম বা পোস্টকার্ডে প্রেরক (যিনি চিঠি লেখেন) ও প্রাপকের (যাঁর উদ্দেশে চিঠি লেখা হয়) তাঁর নাম ও ঠিকানা লেখা হয়। একে শিরোনাম বলে। পোস্টকার্ড বা খামের বাম দিকে থাকে প্রেরকের নাম ও ঠিকানা আর ডানদিকে থাকে প্রাপকের নাম ও ঠিকানা।
Figure: বাংলাদেশ পোস্টকার্ড
লেবেল: বাংলাদেশ, পোস্টকার্ড, BANGLADESH, নাম, জনাব আবদুল মালেক, ঠিকানা, গ্রাম : পলাশপুর, ডাকঘর, পলাশপুর বাজার, জেলা, চুয়াডাঙ্গা, পোস্টকোড নং
বর্ণনা: একটি বাংলাদেশ পোস্টকার্ডের নমুনা। ডানদিকে ওপরে ডাকটিকিট, মাঝখানে নাম, ঠিকানা, ডাকঘর ও জেলা পূরণ করার ঘর এবং নিচের ডানদিকে পোস্টকোড নম্বরের ঘর।
Figure: বাংলাদেশ খাম
লেবেল: "যৌতুক দেয়া-নেয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ", প্রেরক :, [অস্পষ্ট], প্রাপক :, [অস্পষ্ট], পোস্টকোড
বর্ণনা: একটি বাংলাদেশ খামের নমুনা। ওপরে বাম দিকে একটি সতর্কবাণী, ডানদিকে ওপরে বাংলাদেশের প্রতীক; বাম দিকে প্রেরকের এবং ডান দিকে প্রাপকের নাম ও ঠিকানা লেখার অংশ; নিচের ডানদিকে পোস্টকোডের ঘর।
খ) পত্রগর্ভ: একটি পত্রের বিষয় অনুসারে কয়েকটি ভাগ থাকে। যেমন—
১. পত্রের উপরের ডানদিকে প্রেরকের ঠিকানা লিখতে হয়। ঠিকানার নিচে পত্র লেখার তারিখ লিখতে হয়।
Printed page 78
২. পত্রের বাম দিকে প্রাপকের প্রতি সম্ভাষণ থাকে। বয়স ও সম্পর্ক অনুযায়ী সম্ভাষণের ভাষায় পার্থক্য থাকে। গুরুজনদের উদ্দেশে শ্রদ্ধেয়, শ্রদ্ধাভাজনীয়াসু ইত্যাদি লেখা হয়। সমবয়সী বন্ধুদের প্রতি প্রিয়, প্রীতিভাজনেষু, প্রীতিভাজনাসু, বন্ধুবরেষু ইত্যাদি লেখা হয়।
৩. এরপর আসে পত্রের মূল বক্তব্য। এ অংশে বক্তব্য অনুযায়ী কয়েকটি অনুচ্ছেদে পত্রটিকে বিভক্ত করতে হয়। বক্তব্যের শুরুতে কুশল জিজ্ঞাসা এবং শেষে সুস্বাস্থ্য কামনা করতে হয়।
৪. বক্তব্যের শেষে সমাপ্তিসূচক শব্দ, যেমন- ইতি, শুভেচ্ছান্তে, সালামান্তে ধন্যবাদান্তে ইত্যাদি লিখতে হয়। তারপর পত্র প্রেরকের নাম লিখতে হয়। অনেকে পত্রের উপরে, ঠিক মাঝখানে মঙ্গলসূচক বাক্য লিখে থাকেন। এতে পত্রলেখকের ধর্মবিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটে। যেমন- এলাহি ভরসা, ৭৮৬, শ্রীহরি শরণম্, ওঁ ইত্যাদি। আজকাল এ ধরনের বাক্য/সংকেত সচরাচর লেখা হয় না। তবে ব্যক্তিগত পত্রে এ ধরনের বাক্য/সংকেত কেউ চাইলে লিখতে পারে।
৪.১ ব্যক্তিগত পত্র
১) পরীক্ষার ফলাফলের সংবাদ জানিয়ে বাবার কাছে একখানা পত্র লেখ।
ঢাকা
১৫ জানুয়ারি ২০২৬
শ্রদ্ধেয় বাবা,
সালাম নিন। আশাকরি ভালো আছেন। গতকাল আপনার চিঠি পেলাম। আপনার আসতে দেরি হবে জেনে মনটা বেশ খারাপ হলো।
আজ আমার বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। আমার ফল জেনে আশাকরি আপনি খুশি হবেন। এবারও আমি আমার জায়গাটি ধরে রাখতে পেরেছি। পরীক্ষায় সকল বিষয়ে আমি A+ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। দোয়া করবেন, মানুষের মতো মানুষ হয়ে আমি যেন আপনার ও সমাজের মুখ উজ্জ্বল করতে পারি।
আপনাকে অনেক দিন দেখিনি। আপনাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করে। ছুটি নিয়ে একদিনের জন্য হলেও আমাদের সঙ্গে দেখা করে যান। আমরা আপনার আগমনের অপেক্ষায় রইলাম।
বাড়ির সবাই ভালো আছেন। আপনি শরীরের প্রতি যত্ন নেবেন। ভালো থাকবেন।
ইতি
আপনার স্নেহের
শাহারিয়ার শাফিন
| প্রেরক | প্রাপক |
|---|---|
| শাহারিয়ার শাফিন | মোঃ মাহফুজ হাসান |
| ২/৩, ইকবাল রোড | থানা পাড়া, আগৈলঝাড়া |
| মোহাম্মদপুর | বরিশাল |
| ঢাকা ১২০৭ |
(ডাকটিকিট)
Printed page 79
২। তোমার বোনের বিয়ে উপলক্ষে বন্ধুর কাছে আমন্ত্রণপত্র লেখো।
রাজশাহী
১৫ ডিসেম্বর ২০২৬
প্রিয় অরিক,
আমার ভালোবাসা নিও। আশাকরি তোমরা সবাই ভালো আছো। শুনে অবশ্যই খুশি হবে, আগামী ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ আমার বড় বোনের বিয়ে। বিয়ের অনুষ্ঠানে অনেক ধুমধাম হবে। তোমার কথা বারবার মনে পড়ছে। তুমি এলে খুব মজা হবে।
মা-বাবাসহ বাড়ির সবাই তোমাকে ভীষণভাবে মনে করেন। বিয়ের অন্তত এক সপ্তাহ আগে তুমি আমাদের বাড়ি চলে আসবে। তুমি না এলে বিয়ের মজাই পাওয়া যাবে না। শুধু তুমি নও, তোমাদের বাড়ির সবাইকে নিয়ে চলে আসবে। তোমাদের আগমনের অপেক্ষায় রইলাম।
বড়দেরকে আমার সালাম দিও, ছোটদের দিও আদর।
ভালো থেকো।
ইতি
তোমার বন্ধু
সাদমান জারিফ
| প্রেরক | প্রাপক |
|---|---|
| সাদমান জারিফ | অরিক সোবহান |
| পাথরঘাটা | ১০০, তেজকুনি পাড়া |
| বরগুনা | ঢাকা |
(ডাকটিকিট)
৪.২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে পত্র
১) বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে ছুটির দরখাস্ত লেখো।
তারিখ : ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রধান শিক্ষক
তেজগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
ঢাকা
Printed page 80
বিষয়: অনুপস্থিতির কারণে ছুটি মঞ্জুরের আবেদন।
জনাব,
সবিনয়ে নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির 'ক' শাখার একজন ছাত্রী। আমি স্কুলের সকল ক্লাস ও পরীক্ষায় যথারীতি অংশগ্রহণ করে আসছি। কিন্তু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় গত ২৯/০১/২০২৬ থেকে ৩১/০১/২০২৬ পর্যন্ত সর্বমোট তিন (০৩) দিন আমি বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে পারিনি।
অতএব, উক্ত তিন দিনের ছুটি মঞ্জুর করে আমাকে সকল প্রকার শাস্তি ও জরিমানা মওকুফ করে শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার অনুমতি প্রদান করার জন্য মহোদয়ের নিকট বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।
বিনীত,
আপনার একান্ত অনুগত ছাত্রী
অনন্যা সরকার
ষষ্ঠ শ্রেণি, 'ক' শাখা
রোল নম্বর-৫
২. বিনাবেতনে পড়ার সুযোগলাভের জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে আবেদন।
তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
প্রধান শিক্ষক
বিএইচপি একাডেমি
বরিশাল
বিষয় : বিনাবেতনে অধ্যয়নের সুযোগদান প্রসঙ্গে।
জনাব,
সবিনয় নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। আমার বাবা একটি বেসরকারি অফিসের সামান্য বেতনের কর্মচারী। আমরা চার ভাইবোন। আমার বড়ো দুই ভাই কলেজে ও ছোটো বোন স্কুলে লেখাপড়া করে। এমতাবস্থায় পরিবারের ভরণপোষণের পর আমাদের লেখাপড়ার খরচ চালানো আমার বাবার একার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, আমি কৃতিত্বের সঙ্গে পঞ্চম শ্রেণি থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছি। আমি নিয়মিত ক্লাস করি।
অতএব, আমাদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে আমাকে বিনাবেতনে পড়ার সুযোগ দানের জন্য জনাবের নিকট বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
বিনীত,
মোঃ আশরাফুল ইসলাম
শ্রেণি : ষষ্ঠ
শাখা : 'ক'
রোল নম্বর-৩
Printed page 81
৩। বড়ো বোনের বিয়ে উপলক্ষে প্রধান শিক্ষকের কাছে অগ্রিম ছুটির আবেদন।
তরিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
প্রধান শিক্ষক
ডা. খাস্তগীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
চট্টগ্রাম
বিষয় : বড়ো বোনের বিয়ে উপলক্ষে অগ্রিম ছুটি মঞ্জুরের আবেদন।
জনাব,
বিনীত নিবেদন এই যে, আমি আপনার বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির একজন নিয়মিত ছাত্রী। আগামী ২রা ফেব্রুয়ারি আমার বড়ো বোনের বিয়ে। উক্ত বিয়ের অনুষ্ঠানের বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে আগামী ৩১শে জানুয়ারি থেকে ৪ঠা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমার পক্ষে বিদ্যালয়ে আসা অসম্ভব।
অতএব, আমাকে উক্ত পাঁচ দিনের ছুটি মঞ্জুর করার জন্য আপনাকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
বিনীত,
রুবি আক্তার
শ্রেণি : ষষ্ঠ
রোল নম্বর-১১
নমুনা প্রশ্ন
১। পত্র লেখঃ
ক) বাবার কাছে টাকা চেয়ে পত্র লেখো।
খ) দর্শনীয় স্থানের বর্ণনা দিয়ে বন্ধুর কাছে চিঠি লেখো।
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.