Skip to content

Charupath chapter 5: The Sky

আকাশ

  • Charupath
  • Textbook pages 31-35
  • 1 source
  • 7,959 characters of context

Textbook (verbatim transcription): The Sky

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents8

Printed page 31

আকাশ

আবদুল্লাহ আল-মুতী

খোলা জায়গায় মাথার ওপরে দিনরাত আমরা আকাশ দেখতে পাই। গাছপালা, নদীনালা দুনিয়ায় কোথাও আছে, কোথাও নেই। এমনকি ঘরবাড়ি, জীবজন্তু, মানুষও সব জায়গায় না থাকতে পারে। কিন্তু আকাশ নেই, ভূপৃষ্ঠে এমন জায়গা কল্পনা করা শক্ত।

দিনের বেলা সোনার থালার মতো সূর্য তার কিরণ ছড়ায় চারপাশে। এমনি সময়ে সচরাচর আকাশ নীল। কখনো সাদা বা কালো মেঘে ঢেকে যায় আকাশ। ভোরে বা সন্ধ্যায় আকাশের কোনো কোনো অংশে নামে রঙের বন্যা। কখনো-বা সারা আকাশ ভেসে যায় লাল আলোতে। রাতের আকাশ সচরাচর কালো, কিন্তু সেই কালো চাঁদোয়ার গায়ে জ্বলতে থাকে রুপালি চাঁদ আর অসংখ্য ঝকঝকে তারা আর গ্রহ।

আগেকার দিনে লোকে ভাবতো, আকাশটা বুঝি পৃথিবীর ওপর একটা কিছু কঠিন ঢাকনা। কখনো তারা ভাবতো, আকাশটা পরতে পরতে ভাগ করা।

আজ আমরা জানি, আকাশের নীল চাঁদোয়াটা সত্যি সত্যি কঠিন কোনো জিনিসের তৈরি নয়। আসলে এ নিতান্তই গ্যাস-ভরতি ফাঁকা জায়গা। হরহামেশা আমরা যে আকাশ দেখি তা আসলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ঢাকনা। সেই বায়ুমণ্ডলে রয়েছে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড এমনি গোটা কুড়ি বর্ণহীন গ্যাসের মিশেল। আর আছে পানির বাষ্প আর ধুলোর কণা।

আকাশ যদি বর্ণহীন গ্যাসের মিশেল, তবে তা নীল দেখায় কেন? মাঝে মাঝে সাদা আর লাল রঙের খেলাই বা দেখি কী করে? আসলে সাদা মেঘে রয়েছে জলীয়বাষ্প জমে তৈরি অতি ছোট ছোট অসংখ্য পানির কণা। কখনো মেঘে এসব কণার গায়ে বাষ্প জমার ফলে ভারি হয়ে বড় পানির কণা তৈরি হয়। তখন সূর্যের আলো তার ভেতর দিয়ে আসতে পারে না, আর তাই সে মেঘের রং হয় কালো।

কিন্তু সারাটা আকাশ সচরাচর নীল রঙের হয় কী করে? আকাশ নীল দেখায় বায়ুমণ্ডলে নানা গ্যাসের অণু ছড়িয়ে আছে বলে। এইসব গ্যাসের কণা খুব ছোট মাপের আলোর ঢেউ সহজে ঠিকরে ছিটিয়ে দিতে

Printed page 32

পারে। এই ছোট মাপের আলোর ঢেউগুলোই আমরা দেখি নীল রঙ হিসেবে। অর্থাৎ পৃথিবীর ওপর হাওয়ার স্তর আছে বলেই পৃথিবীতে আকাশকে নীল দেখায়।

সকাল-দুপুর-সন্ধ্যায় আকাশের রঙ হুবহু এক রকম থাকে না। এরও কারণ হলো পৃথিবীর ওপরকার বায়ুমণ্ডল। সূর্য থেকে যে আলো আমাদের চোখে পড়ে, তাকে পৃথিবীর ওপরকার বিশাল হাওয়ার স্তর পেরিয়ে আসতে হয়। দুপুর বেলা এই আলো আসে সরাসরি অর্থাৎ প্রায় লম্বভাবে হাওয়ার স্তর ফুঁড়ে। কিন্তু সকালে বা সন্ধ্যায় এই আলো আসে তেরছাভাবে হাওয়ার স্তর পেরিয়ে। তাতে আলোকে হাওয়ার কণা ডিঙাতে হয় দুপুরের তুলনায় অনেক বেশি।

সকালে বা সন্ধ্যায় মেঘ আর হাওয়ার ধুলোর কণার ভেতর দিয়ে লম্বা পথ পেরিয়ে আসতে পারে শুধু সূর্যের লাল আলোর ঢেউগুলো। সে মেঘকে তখন দেখায় লাল। ঘন বৃষ্টি-মেঘের বড় বড় কণার যখন আকাশ ছেয়ে ফেলে, তখন তার ভেতর দিয়ে আলো পেরিয়ে আসতে পারে না, তাই সে মেঘকে দেখায় কালো।

আগেকার দিনে আমাদের ওপরকার আকাশ নিয়ে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেন শূন্যে বেলুন পাঠিয়ে বা যন্ত্রপাতিসুদ্ধ রকেট পাঠিয়ে। আজ মানুষ নিজেই মহাকাশযানে চেপে সফর করছে পৃথিবীর ওপরে বহুদূর পর্যন্ত। পৃথিবী ছাড়িয়ে যেতে পেরেছে চাঁদে। পৃথিবীর ওপর দেড়শ দুশ মাইল বা তারও অনেক বেশি উপর দিয়ে ঘুরছে অসংখ্য মহাকাশযান। যেখান দিয়ে ঘুরছে সেখানে হাওয়া নেই বললেই চলে।

মহাকাশযান থেকে দিনরাত তোলা হচ্ছে পৃথিবীর ছবি। জানা যাচ্ছে কোথায় কখন আবহাওয়া কেমন হবে, কোন দেশে কেমন ফসল হচ্ছে। মহাকাশযান থেকে ঠিকরে দেওয়া হচ্ছে টেলিফোন আর টেলিভিশনের সংকেত। তাই দূরদেশের সঙ্গে যোগাযোগ আজ অনেক সহজ হয়ে উঠেছে।

শব্দার্থ ও টীকা

ভূপৃষ্ঠ — পৃথিবীর উপরের অংশ।
সচরাচর — সাধারণত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। প্রায়শ।
চাঁদোয়া — শামিয়ানা। কাপড়ের ছাউনি।
পরতে পরতে — স্তরে স্তরে। ভাঁজে ভাঁজে।
কণা — বস্তুর অতি সূক্ষ্ম বা ক্ষুদ্র অংশ।
হরহামেশা — সবসময়। সর্বদা।
বায়ুমণ্ডল — পৃথিবীর উপরে যতদূর পর্যন্ত বাতাস রয়েছে।
নাইট্রোজেন — বর্ণ ও গন্ধ নেই এমন একটি মৌলিক গ্যাস, বাতাসের প্রধান উপাদান।
অক্সিজেন — জীবের প্রাণ বাঁচানো ও আগুন জ্বালানোর জন্য দরকারি বর্ণহীন, স্বাদহীন, গন্ধহীন মৌলিক গ্যাস।
কার্বন ডাই অক্সাইড — কার্বন পুড়ে কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরি হয়। প্রাণীর নিশ্বাসের সঙ্গে বের হওয়া বর্ণগন্ধহীন গ্যাস।
মিশেল — বিভিন্ন বস্তুর মিলন। মিশ্রণ।
জলীয়বাষ্প — পানির বায়বীয় অবস্থা।
ঠিকরে — ছিটকে। ছড়িয়ে।

Printed page 33

হুবহু — অবিকল। একেবারে একই রকম।
স্তর — একের ওপর আর এক—এমনিভাবে সাজানো। ধাপ।
লম্বভাবে — খাড়াভাবে।
ফুঁড়ে — ভেদ করে।
তেরছা — বাঁকা। আড়। হেলানো।
রকেট — গ্রহে-উপগ্রহে যেতে পারে এমন মহাকাশযান।
মহাকাশযান — মহাকাশে যাতায়াতের বাহন।
সংকেত — ইঙ্গিত। ইশারা।

পাঠের উদ্দেশ্য

বিজ্ঞানচেতনা জাগ্রত করা।

পাঠ-পরিচিতি

এক সময় আকাশকে মনে করা হতো মানুষের মাথার ওপরে বিশাল একটি ঢাকনা। আসলে আকাশ কোনো ঢাকনা নয়। এ হচ্ছে বায়ুর স্তর। বাতাসে প্রায় বিশটি বর্ণহীন গ্যাস মিশে আছে। বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন গ্যাসের অণু ছড়িয়ে আছে বলে আকাশ নীল দেখায়। সকাল বা সন্ধ্যায় মেঘ ও বাতাসের ধুলোকণার মধ্যে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে পারে শুধু সূর্যের লাল আলো। তাই এ সময় মেঘ লাল দেখায়। ঘন বৃষ্টি ও মেঘে ছেয়ে ফেললে আকাশ দেখায় কালো। শূন্যে মহাকাশযান পাঠিয়ে বিজ্ঞানীরা নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। পৃথিবীর অন্তত কয়েক'শ মাইল ওপর দিয়ে পাঠানো মহাকাশযান থেকে প্রেরিত অসংখ্য ফটো বা ভিডিও থেকে মানুষ আবহাওয়ার খবর পাচ্ছে। একই কারণে টেলিভিশন, টেলিফোন, মোবাইল ফোন ইত্যাদিতে সংকেত পাঠিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত করা সম্ভব হয়েছে।

লেখক-পরিচিতি

আবদুল্লাহ আল-মুতীর পুরো নাম আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন। শিশুদের জন্য বিজ্ঞানবিষয়ক সাহিত্য রচনা করে আবদুল্লাহ আল-মুতী বিখ্যাত হয়ে আছেন। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়িতে ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। বিজ্ঞানের অনেক জটিল ও রহস্যময় অজানা দিককে তিনি আকর্ষণীয় ও সাবলীল ভাষায় তুলে ধরেছেন।

ছোটদের জন্যে তাঁর লেখা বইগুলো হচ্ছে: এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে, অবাক পৃথিবী, আবিষ্কারের নেশায়, রহস্যের শেষ নেই, জানা অজানার দেশে, সাগরের রহস্যপুরী, আয় বৃষ্টি ঝেঁপে, ফুলের জন্য ভালোবাসা ইত্যাদি।

সাহিত্য রচনা ও বিজ্ঞান সাধনার জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক কলিঙ্গ পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তিনি ১৯৯৮ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

Printed page 34

কর্ম-অনুশীলন

১. এসো শিক্ষার্থীরা, আমরা স্কুলে আসা দৈনিক পত্রিকার সাপ্তাহিক বিজ্ঞান পাতাগুলো সংগ্রহ করি। তারপর পাতাগুলোর কয়েকটি বিষয় আমরা দলে ভাগ হয়ে পাঠ করি। পঠিত বিষয়ে আমাদের জ্ঞান ও ধারণা শ্রেণিকক্ষে দলীয়ভাবে পোস্টার পেপারের মাধ্যমে উপস্থাপন করি।

নমুনা প্রশ্ন

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. রাতের আকাশ সচরাচর কী রঙের হয়?

ক. নীল

খ. সাদা

গ. কালো

ঘ. লাল

২. মহাকাশযান থেকে এখন জানা সম্ভব হচ্ছে—

i. আবহাওয়ার অবস্থা

ii. জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি

iii. বিভিন্ন দেশের ফসল উৎপাদনের অবস্থা

কোনটি ঠিক?

ক. i ও ii

খ. i ও iii

গ. ii ও iii

ঘ. i, ii ও iii

উদ্দীপকটি পড়ে ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:

ফাহিম মনে করে আকাশের রঙের ভিন্নতা খেয়াল খুশিমতো হয়ে থাকে। কিন্তু পলির ধারণা এ রঙের ভিন্নতার পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক যুক্তি রয়েছে।

৩. 'আকাশ' প্রবন্ধের কোন বাক্যটি পলির ধারণাকে সমর্থন করে?

ক. আকাশটা পরতে পরতে ভাগ করা।

খ. সকাল-দুপুর-সন্ধ্যায় আকাশের রং হুবহু এক রকম থাকে না।

গ. খোলা জায়গায় মাথার ওপরে দিনরাত আমরা আকাশ দেখতে পাই।

ঘ. বায়ুমণ্ডলে নানা গ্যাসের অণু ছড়িয়ে আছে বলে আকাশ নীল দেখায়।

Printed page 35

৪. 'আকাশ' প্রবন্ধ অনুযায়ী ফাহিমের ভাবনাটি—

i. অবাস্তব

ii. প্রাচীন

iii. অযৌক্তিক

কোনটি ঠিক?

ক. i ও ii

খ. i ও iii

গ. ii ও iii

ঘ. i, ii ও iii

সৃজনশীল প্রশ্ন

১. রফিক সাহেব একজন চিকিৎসক। চিকিৎসা করার পাশাপাশি তিনি রোগীর স্বজনদের রোগ-শোকের খবরও নিতেন। হাত দিয়ে রোগীর মাথা, কপাল ও পেট টিপে রোগ নির্ণয় করে তিনি ওষুধ দিতেন। আধুনিক পদ্ধতিতে রোগনির্ণয় করতে বললেও তিনি তাঁর পদ্ধতিকেই উপযুক্ত মনে করতেন। রফিক সাহেবের ছেলে সুমন এখন বিখ্যাত চিকিৎসক। সুমন সাহেবের রোগ নির্ণয়ের প্রক্রিয়াই ভিন্ন। আলট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি, এক্স-রে ইত্যাদির মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে তিনি চিকিৎসা করেন। আধুনিক ধ্যান-ধারণা এবং গবেষণাই বিজ্ঞানের জগতে ব্যাপক গতি এনে দিয়েছে।

ক. হরহামেশা যে আকাশ দেখি তা আসলে কী?

খ. সকাল-দুপুর-সন্ধ্যায় আকাশের রং হুবহু এক রকম থাকে না কেন?

গ. উদ্দীপকের রফিক সাহেবের মধ্যে 'আকাশ' শীর্ষক প্রবন্ধের যে দিকটি উঠে এসেছে তা ব্যাখ্যা করো।

ঘ. "আধুনিক ধ্যান-ধারণা এবং গবেষণাই বিজ্ঞানের জগতে ব্যাপক গতি এনে দিয়েছে"—উদ্দীপক এবং 'আকাশ' প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.