Skip to content

Charupath chapter 12: The Human Race

মানুষ জাতি

  • Charupath
  • Textbook pages 71-75
  • 1 source
  • 6,030 characters of context

Textbook (verbatim transcription): The Human Race

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents7

Printed page 71

মানুষ জাতি

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

জগৎ জুড়িয়া এক জাতি আছে
সে জাতির নাম মানুষ জাতি;
এক পৃথিবীর স্তন্যে লালিত
একই রবি শশী মোদের সাথি ।

শীতাতপ ক্ষুধা তৃষ্ণার জ্বালা
সবাই আমরা সমান বুঝি,
কচি কাঁচাগুলি ডাঁটো করে তুলি
বাঁচিবার তরে সমান যুঝি ।

দোসর খুঁজি ও বাসর বাঁধি গো,
জলে ডুবি, বাঁচি পাইলে ডাঙা,
কালো আর ধলো বাহিরে কেবল
ভিতরে সবারই সমান রাঙা ।

বাহিরের ছোপ আঁচড়ে সে লোপ
ভিতরের রং পলকে ফোটে,
বামুন, শূদ্র, বৃহৎ, ক্ষুদ্র
কৃত্রিম ভেদ ধূলায় লোটে ।

বংশে বংশে নাহিকো তফাত
বনেদি কে আর গর-বনেদি,
দুনিয়ার সাথে গাঁথা বুনিয়াদ
দুনিয়া সবারি জনম-বেদি ।

Printed page 72

শব্দার্থ ও টীকা

এক পৃথিবীর স্তন্যে লালিত — একই মায়ের দুধ পান করে যেমন সন্তান-সন্ততি বেড়ে ওঠে, তেমনি পৃথিবীর সব জাতি-ধর্ম-গোত্রের মানুষ একই পৃথিবীর খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করে জীবন-যাপন করে ।
রবি শশী — সূর্য ও চাঁদ ।
শীতাতপ (শীত + আতপ) — ঠান্ডা ও গরম ।
ক্ষুধা তৃষ্ণার জ্বালা — ক্ষুধা ও পিপাসার কষ্ট ।
কচি কাঁচাগুলি ডাঁটো করে তুলি — ছোটদের পরিপুষ্ট করে তুলি ।
যুঝি — যুদ্ধ করি । লড়াই করি । সংগ্রাম করি ।
তরে — জন্য (সাধারণত পদ্যে এ শব্দ ব্যবহৃত হয়) ।
ডাঁটো — পুষ্ট । শক্ত । সমর্থ ।
বাঁচিবার তরে সমান যুঝি — মানবিক জীবন-যাপনের জন্য সব মানুষই লড়াই করে ।
বাসর বাঁধি গো — সম্প্রীতি গড়ে তুলি ।
দোসর — সাথি । বন্ধু । সজ্জী ।
ধলো — সাদা । ফরসা । শুভ্র ।
জলে ডুবি, বাঁচি পাইলে ডাঙা — জীবনসংগ্রামে কখনো বিপদে পড়ি আবার সংকট পেরিয়ে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখি ।
ডাঙা — স্থল । উঁচুভূমি । চর ।
জনম-বেদি — সূতিকাগৃহ । জন্মস্থান ।
ছোপ — রঙের পোঁচ । ছাপ/দাগ ।
বাহিরের ছোপ আঁচড়ে সে লোপ — মানুষের বাইরের চেহারার রং যাই হোক না কেন, আঁচড় লাগলে বা কেটে গেলে যে লাল রক্ত বের হয় তা বাইরের রঙের পার্থক্যকে ঘুচিয়ে দেয় ।
শূদ্র — হিন্দু চতুর্বর্ণের (চার বর্ণের) একটি হলো শূদ্র ।
বনেদি — প্রাচীন । সম্ভ্রান্ত ।
গর-বনেদি — অভিজাত নয় এমন ।
বুনিয়াদ — ভিত্তি ।
দুনিয়া সবারি জনম-বেদি — এ পৃথিবী সব মানুষেরই জন্মক্ষেত্র ।
ব্রহ্ম — হিন্দু ধর্মমতে পরমেশ্বর বা বিধাতা ।

Printed page 73

পাঠের উদ্দেশ্য

জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি সংবেদনশীলতা ও সমমর্যাদার মনোভাব সৃষ্টি ।

পাঠ-পরিচিতি

‘মানুষ জাতি’ কবিতাটি কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অভ্র আবীর কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। মূল কবিতার নাম ‘জাতির পাঁতি’ ।

দেশে দেশে, ধর্মে ও বর্ণের পার্থক্য সৃষ্টি করে মানুষে মানুষে যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করা হয়েছে, কবি মানুষকে এসবের উপরে আসন দিয়েছেন ।

আমাদের এই পৃথিবী জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষেরই বাসভূমি । এই ধরণীর স্নেহ-ছায়ায় এবং একই সূর্য ও চাঁদের আলোতে লালিত ও প্রতিপালিত হচ্ছে সব মানুষ । শীতলতা ও উষ্ণতা, ক্ষুধা ও তৃষ্ণার অনুভূতি সব মানুষেরই সমান । বাইরের চেহারায় মানুষের মধ্যে সাদা-কালোর ব্যবধান থাকলেও সব মানুষের ভেতরের রং এক ও অভিন্ন । সবার শরীরে প্রবাহিত হচ্ছে একই লাল রক্ত ।

মানুষ আজ জাতিভেদ, গোত্রভেদ, বর্ণভেদ ইত্যাদি কৃত্রিম পরিচয়ে নিজেদের পরিচয়কে সংকীর্ণ ও গণ্ডিবদ্ধ করেছে । কিন্তু গোটা দুনিয়ার সঙ্গে মানুষের যে জন্মসম্পর্ক, সেই বিচারে মানুষের আসল পরিচয় হচ্ছে সে মানুষ এবং তাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবার কথা নয় । সারা পৃথিবীতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র-পরিচয়ের উর্ধ্বে যে সমগ্র মানবসমাজ, কবি এই কবিতায় মানুষের সে পরিচয়কেই তুলে ধরেছেন । পৃথিবীর সব মানুষকে নিয়েই গড়ে উঠেছে মানুষ জাতি ।

কবি-পরিচিতি

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার কাছাকাছি নিমতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু ঘটে । বৈচিত্র্যপূর্ণ ছন্দের কবিতা লিখে সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছন্দের জাদুকর হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন ।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কর্মজীবন শুরু করেছিলেন ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগ করে । কিন্তু পরে ব্যবসায় ছেড়ে সাহিত্যসাধনায় আত্মনিয়োগ করেন । তিনি আরবি, ফারসি, ইংরেজিসহ অনেক ভাষা জানতেন । বিদেশি ভাষা থেকে উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ অনুবাদ করলেও কবি হিসেবেই তিনি অধিক পরিচিত । তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য : বেণু ও বীণা, কুহু ও কেকা, বিদায় আরতি ইত্যাদি ।

কর্ম-অনুশীলন

১. মানুষে মানুষে কী ধরনের ভেদাভেদ তোমার চোখে পড়েছে? তোমার অভিজ্ঞতার আলোকে উক্ত ভেদাভেদের বর্ণনা দাও এবং এই ভেদাভেদ কীভাবে কমিয়ে আনা যায় সে ব্যাপারে তোমার মতামত উপস্থাপন করো ।

Printed page 74

নমুনা প্রশ্ন

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. বাংলা কবিতার ক্ষেত্রে কাকে ‘ছন্দের জাদুকর’ বলা হয়?
ক. কাজী নজরুল ইসলামকে
খ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে
গ. সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে
ঘ. জসীমউদ্দীনকে

২. ‘এক পৃথিবীর স্তন্যে লালিত’—এ উক্তিতে কী বোঝানো হয়েছে?
ক. একই পৃথিবীর স্নেহ-ছায়ায় বেড়ে ওঠা
খ. জীবন ধারণের ভিন্ন উপাদান
গ. মানুষে মানুষে মেলবন্ধন
ঘ. মানবকল্যাণে কাজ করে যাওয়া

উদ্দীপকটি পড়ে ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:

প্রীতি ও প্রেমের পুণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরস্পরে,
স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাদেরই কুঁড়ে ঘরে ।

৩. ‘মানুষ জাতি’ কবিতার যে বিষয়টি এখানে প্রাসঙ্গিক তা হলো—
i. সকল মানুষের ভালোবাসার অনুভূতি অভিন্ন
ii. সকল মানুষের অভ্যন্তরীণ গঠন অভিন্ন
iii. জাতিভেদ, বর্ণভেদ কৃত্রিম

কোনটি ঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

৪. উদ্দীপকটি ‘মানুষ জাতি’ কবিতার যে ভাবটি প্রকাশ করে তা হলো—
ক. বিশ্বভ্রাতৃত্ব
খ. সমমর্যাদা
গ. মমত্ব
ঘ. সংহতি

Printed page 75

সৃজনশীল প্রশ্ন

১. রহিম, শ্যামল ও রোজারিও তিন বন্ধু। ঈদ ,পূজা ও বড়দিনে তারা একে অন্যের বাড়ি বেড়াতে যায়। আনন্দে-উৎসবে, সুখে-দুঃখে একে অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতা করে। এরূপ আচরণে তাদের বাবা-মা খুব খুশি। রহিমের বাবা বলেন, ‘তোমরা অসাধারণ। তোমাদের মতো সবাই বন্ধুসুলভ হলে এ পৃথিবী আরো সুন্দর বাসস্থান হবে ।’

ক. ‘মানুষ জাতি’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?

খ. ‘দুনিয়া সবারি জনম-বেদি’—একথা দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

গ. রহিম, শ্যামল ও রোজারিওর বন্ধুত্বে ‘মানুষ জাতি’ কবিতার কোন বক্তব্যটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. “উদ্দীপকের রহিমের বাবার মন্তব্যই যেন ‘মানুষ জাতি’ কবিতার মূল সুর ।”—উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.