Islamic Studies chapter 1: Aqaid
আকাইদ (اَلْعَقَائِدُ)
- Islamic Studies
- Textbook pages 1-17
- 1 source
- 34,569 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Aqaid
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents39ShowHide
- প্রথম অধ্যায়
- পাঠ ১
- তাওহিদ (اَلتَّوْحِيْدُ)
- তাওহিদের ধারণা
- আল্লাহ তায়ালার পরিচয়
- তাওহিদের তাৎপর্য
- তাওহিদে বিশ্বাসের গুরুত্ব
- তাওহিদে বিশ্বাসের উদাহরণ
- তাওহিদের শিক্ষা
- পাঠ ২
- কালিমা তায়্যিবা (كَلِمَةٌ طَيِّبَةٌ)
- তাৎপর্য
- পাঠ ৩
- কালিমা শাহাদাত (كَلِمَةُ شَهَادَةٍ)
- তাৎপর্য
- পাঠ ৪
- ইমানে মুজমাল (إِيْمَانٌ مُجْمَلٌ)
- তাৎপর্য
- পাঠ ৫
- আল-আসমাউল হুসনা (اَلْاَسْمَآءُ الْحُسْنٰى)
- আল্লাহু মালিক (اَللهُ مَالِكٌ)
- আল্লাহু কারিম (اَللهُ كَرِيْمٌ)
- আল্লাহু আলিম (اَللهُ عَلِيْمٌ)
- আল্লাহু হাকিম (اَللهُ حَكِيْمٌ)
- পাঠ ৬
- রিসালাত (اَلرِّسَالَةُ)
- নবি-রাসুলগণের পরিচয়
- নবি-রাসুলের পার্থক্য
- নবি-রাসুল প্রেরণের প্রয়োজনীয়তা
- রিসালাতে বিশ্বাসের গুরুত্ব
- পাঠ ৭
- আখিরাত (الْآخِرَةُ)
- আখিরাতে বিশ্বাসের গুরুত্ব
- আখিরাতের পর্যায়সমূহ
- পাঠ ৮
- আকাইদ ও নৈতিকতা
- নতুন শব্দাবলি
- অনুশীলনী
- সংক্ষিপ্ত- উত্তর প্রশ্ন
Printed page 1
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
প্রথম অধ্যায়
আকাইদ (اَلْعَقَائِدُ)
'আকাইদ' আরবি শব্দ। এটি বহুবচন। এর অর্থ হলো বিশ্বাসমালা। এর একবচন হলো 'আকিদাহ' (اَلْعَقِيْدَةُ), যার অর্থ বিশ্বাস। ইসলামের মৌলিক বিষয়সমূহের প্রতি বিশ্বাসকে 'আকাইদ' বলা হয়। যেমন : আল্লাহ, নবি-রাসুল, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, আখিরাত, তাকদির, পুনরুত্থান ইত্যাদির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।
এ অধ্যায় শেষে আমরা—
- আকাইদের ধারণা বর্ণনা করতে পারব;
- তাওহিদের (একত্ববাদ) ধারণা, তাৎপর্য ও তাওহিদে বিশ্বাসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব;
- অর্থসহ কালিমা তায়্যিবা ও কালিমা শাহাদাত শুদ্ধ উচ্চারণে পড়তে, বলতে ও ব্যাখ্যা করতে পারব;
- ইমান মুজমাল (ইমানের সংক্ষিপ্ত পরিচয়) অর্থসহ শুদ্ধ উচ্চারণে পড়তে, বলতে ও ব্যাখ্যা করতে পারব;
- আল্লাহর কতিপয় গুণবাচক নামের অর্থ ব্যাখ্যা করতে পারব;
- রিসালাতের ধারণা ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব;
- আখিরাতের ধারণা, বিশ্বাসের গুরুত্ব ও পর্যায়সমূহ ব্যাখ্যা করতে পারব;
- নৈতিকতা উন্নয়নে 'আকাইদ'-এর গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারব।
পাঠ ১
তাওহিদ (اَلتَّوْحِيْدُ)
তাওহিদের ধারণা
তাওহিদ (تَوْحِيْدُ) আরবি শব্দ। বাংলা ভাষায় একে বলা হয় একত্ববাদ। আল্লাহ তায়ালাকে এক ও অদ্বিতীয় সত্তা হিসেবে বিশ্বাস করাকে তাওহিদ বা একত্ববাদ বলা হয়। আল্লাহ তায়ালাই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রিজিকদাতা। তিনি ব্যতীত ইবাদতের যোগ্য কেউ নেই। তিনিই হলেন একমাত্র ইলাহ। তিনি সকল দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত। আল্লাহ তায়ালার প্রতি এরূপ বিশ্বাসই হলো তাওহিদ।
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
قُلْ هُوَ اللهُ اَحَدٌ اَللهُ الصَّمَدُ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُوْلَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَّهٗ كُفُوًا اَحَدٌ
অর্থ: বলুন, তিনিই আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নন (সকলেই তার মুখাপেক্ষী)। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেওয়া হয়নি এবং তার সমতুল্য কেউ নেই। (সূরা আল-ইখলাস, আয়াত: ১-৪)
আল্লাহ তায়ালার পরিচয়
আল্লাহ তায়ালা এক ও অদ্বিতীয়। তিনি সত্তাগতভাবে যেমনি একক, তেমনি গুণাবলিতেও তুলনাহীন। অর্থাৎ মহান আল্লাহ একক সত্তা। তার কোনো সমকক্ষ নেই। তিনি কারো সন্তান নন। আবার কেউ তার সন্তানও নয়। গুণাবলির দিক থেকেও মহান আল্লাহ অদ্বিতীয়। তিনি সকল গুণের আধার। তিনি চিরস্থায়ী,
Printed page 2
চিরঞ্জীব, শাশ্বত ও সত্য। তিনি সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রক্ষাকর্তা, পুরস্কারদাতা, শাস্তিদাতা ইত্যাদি। তিনি 'লা-শারিক'। তার সমান বা সমকক্ষ কেউ নেই। তার গুণাবলির সাথে কোনো কিছুরই তুলনা করা যায় না। তার তুলনা একমাত্র তিনি নিজেই।
তাওহিদের তাৎপর্য
আমরা আমাদের চারপাশে নানারকম জিনিস দেখতে পাই। সুন্দর সুন্দর ফুল, ফল, গাছপালা, তরুলতা, পশুপাখি ইত্যাদি। এছাড়া রয়েছে নদীনালা, পাহাড়, পর্বত, বন, জঙ্গল, সাগর, মহাসাগর। আরও আছে বিশাল আকাশ, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ নক্ষত্র ইত্যাদি। আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না এমন অনেক বস্তু এবং প্রাণীও রয়েছে। এ সব কিছুই সৃষ্টিজগতের অন্তর্গত। এগুলো সৃষ্টিকর্তা ছাড়া নিজ থেকে সৃষ্ট হয়নি। নিশ্চয়ই একজন স্রষ্টা এগুলো সৃষ্টি করেছেন। তিনি হলেন মহান আল্লাহ। তিনিই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। তার কোনো সাহায্যকারীর প্রয়োজন হয়নি। তিনি كُنْ (কুন) অর্থাৎ 'হও' বলার সাথে সাথেই সবকিছু সৃষ্টি হয়ে যায়।
বিশ্বজগতের সবকিছুই তিনি মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করেছেন। মানুষ জ্ঞান-বুদ্ধি প্রয়োগ করে এগুলো থেকে উপকার লাভ করে। সুতরাং মানুষের উচিত তার স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। এক আল্লাহ তায়ালার আনুগত্য ও ইবাদত করা। তার ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক করা যাবে না। এভাবে মহান আল্লাহর তাওহিদ বা একত্ববাদের প্রতি অনুগত হলে মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনে কল্যাণ ও সফলতা লাভ করতে পারে।
তাওহিদে বিশ্বাসের গুরুত্ব
তাওহিদ বা আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদে বিশ্বাস আকাইদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইমান ও ইসলামের মূলভিত্তি হলো তাওহিদ। তাওহিদে বিশ্বাস না করলে কেউ মুমিন বা মুসলিম হতে পারে না। সকল নবি-রাসুল (আ.) তাওহিদের দাওয়াত দিয়েছেন। সকলেই ঘোষণা করেছেন যে, আল্লাহ তায়ালা এক ও অদ্বিতীয়। তার তুল্য কিছুই নেই। তাওহিদে বিশ্বাস মানুষকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করে। আর তাওহিদে বিশ্বাসীগণ আখিরাতে জান্নাত লাভ করবেন।
তাওহিদে বিশ্বাসের উদাহরণ
আমরা সকলেই হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর নাম শুনেছি। তিনি ছিলেন একজন নবি ও রাসুল এবং মুসলিম জাতির পিতা। তিনি এক মূর্তিপূজক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন মন্দিরের পুরোহিত। তাঁর সময়ের লোকজন আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদে বা তাওহিদে বিশ্বাস করত না। বরং তারা মূর্তিপূজা করত। তাদের রাজা নমরূদদের উপাসনা করত। হযরত ইবরাহিম (আ.) এসব করতেন না। তিনি ভাবলেন মূর্তি বা নমরূদ কোনো কিছুর স্রষ্টা হতে পারে না। কেননা এগুলো নিজেরাই ধ্বংসশীল। সুতরাং এদের উপাসনা করা ঠিক নয়।
এভাবে তিনি স্রষ্টা সম্পর্কে চিন্তা করতে লাগলেন। প্রথমে তিনি ভাবলেন যে আকাশের তারকা, চন্দ্র, সূর্য ইত্যাদি হয়তো মানুষের সৃষ্টিকর্তা। কিন্তু এগুলো একে একে অদৃশ্য হয়ে গেলে তিনি বুঝতে পারলেন যে এগুলো মানুষের স্রষ্টা বা ইলাহ নয়। কেননা এগুলো কোনোটাই স্থায়ী নয়। এরা অস্ত যায়, অদৃশ্য হয়। বরং এ সবকিছু যিনি সৃষ্টি করেছেন এবং সুন্দরভাবে পরিচালনা করেন তিনিই ইলাহ, তিনিই মাবুদ। অতঃপর তিনি সেই অদৃশ্য সত্তার প্রতি ইমান আনলেন ও তাওহিদে বিশ্বাস স্থাপন
Printed page 3
করলেন। এভাবে বিশ্বজগতের নানা সৃষ্টির প্রতি লক্ষ্য করে হযরত ইবরাহিম (আ.) মহান আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য প্রদান করলেন।
অতএব, তাওহিদ অর্থ একত্ববাদ। আল্লাহ তায়ালা তার সত্তা ও গুণাবলিতে এক ও অদ্বিতীয়। আমরা তাওহিদে বিশ্বাস করব এবং সে অনুযায়ী আমল করব। আল্লাহ তায়ালার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করব না।
তাওহিদের শিক্ষা
আকাইদের সর্বপ্রথম ও প্রধান বিষয় হলো তাওহিদ। তাওহিদ অর্থ আল্লাহ তায়ালাকে এক ও অদ্বিতীয় বলে বিশ্বাস করা, তার সঙ্গে কাউকে শরিক না করা। তাওহিদ থেকে আমরা নিম্নলিখিত শিক্ষা লাভ করতে পারি :
১. আমরা আল্লাহ তায়ালাকে এক ও অদ্বিতীয় বলে বিশ্বাস করবো এবং তার সাথে কাউকে শরিক করবো না। ২. আমরা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার ইবাদাত করবো, তিনি ব্যতীত অন্য কারও ইবাদাত করবো না। ৩. আল্লাহ তায়ালা আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং পৃথিবীর সবকিছু তিনি আমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন। এ জন্য আমরা সর্বদা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবো। ৪. আল্লাহ তায়ালা বিপদ-আপদ থেকে একমাত্র মুক্তিদাতা। সুতরাং বিপদ-আপদ থেকে পরিত্রাণের জন্য আমরা সবসময় আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করবো। ৫. আমরা আল্লাহর গুণবাচক নামসমূহ জানবো ও সেইসব নামে তাকে ডাকব এবং আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হওয়ার চেষ্টা করবো। ৬. আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবসময় দেখছেন এবং আমাদের সকল কাজের হিসাব রাখছেন। সুতরাং আমরা সর্বদা ভালো কাজ করবো এবং অন্যায়, অত্যাচার ও সর্বপ্রকার পাপ কাজ থেকে দূরে থাকব।
কাজ : শ্রেণির সব শিক্ষার্থী দুই দলে ভাগ হয়ে যাবে। একদল তাওহিদের পরিচয় ও তাৎপর্য সম্পর্কে বলবে। অন্যদল একটি উদাহরণের মাধ্যমে তাওহিদে বিশ্বাসের গুরুত্ব সম্পর্কে বলবে।
পাঠ ২
কালিমা তায়্যিবা (كَلِمَةٌ طَيِّبَةٌ)
لَا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ
উচ্চারণ : লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।
অর্থ : আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ বা মাবুদ নেই, মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল।
তাৎপর্য
কালিমা তায়্যিবা অর্থ হলো পবিত্র বাক্য। এটি তাওহিদ, ইমান ও ইসলামের মূলভিত্তি। এ কালিমা স্বীকার না করলে কেউ ইসলামে প্রবেশ করতে পারে না। এ কালিমার দুটি অংশ।
প্রথম অংশ : لَا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ)
Printed page 4
অর্থ : আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ বা মাবুদ নেই। অর্থাৎ পৃথিবীতে ইলাহ বা ইবাদতের যোগ্য একমাত্র আল্লাহ তায়ালা। তিনি ব্যতীত আর কেউ উপাস্য হতে পারে না। চন্দ্র, সূর্য, তারকারাজি, পাহাড়, পর্বত, বাঘ-সিংহ, রাজা-বাদশাহ কেউই ইবাদতের যোগ্য নয়। বরং এসবের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালাই হলেন একমাত্র মাবুদ। তাকে ছাড়া আর কারো ইবাদত বা উপাসনা করা যাবে না। এমনকি তার ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক করাও যাবে না। আরবি 'লা-ইলাহা' শব্দের অর্থ কোনো ইলাহ নেই; আর 'ইল্লাল্লাহ' অর্থ আল্লাহ ছাড়া। কালিমার এ অংশটি না-বোধক শব্দ দ্বারা শুরু করা হয়েছে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কোনো পাত্রে ভালো কিছু নেওয়ার আগে প্রথমে ঐ পাত্রটি খালি করে ফেলি। যেন ঐ জিনিসটি অন্য কিছুর সাথে মিশ্রিত না হয়। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি বোঝা যাবে। যেমন : একটি গ্লাসে পানি রয়েছে। তুমি যদি ঐ গ্লাসে দুধ নিতে চাও তাহলে কী করবে? প্রথমে গ্লাসের পানিটুকু ফেলে দেবে। তাই না? এরপর খালি গ্লাসে দুধ নেবে। গ্লাসে পানি রেখে দিয়ে তাতে দুধ নিলে দুধ আর পানি মিশ্রিত হয়ে যাবে। ফলে দুধের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যাবে। তদ্রূপ তাওহিদে বিশ্বাসের জন্য প্রয়োজন পবিত্র অন্তর। অর্থাৎ প্রথমে অন্তর থেকে সবরকমের ভুল ও ভ্রান্ত বিশ্বাস দূর করতে হবে। 'লা-ইলাহা' দ্বারা এটাই করা হয়। অতঃপর 'ইল্লাল্লাহ' দ্বারা আল্লাহ তায়ালার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা হবে।
আমাদের প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ (স.) যখন মক্কা নগরীতে ইসলাম প্রচার শুরু করেন, তখন আরবের লোকেরা ছিল মূর্তিপূজক। তারা নানারূপ মূর্তি, গাছপালা, চন্দ্র, সূর্য, পাহাড়, পর্বত ইত্যাদির পূজা করত। এজন্য রাসুলুল্লাহ (স.) এ কালিমার দাওয়াত দেন। ফলে আরবের লোকজন মূর্তিপূজা থেকে অন্তরকে পরিষ্কার করে আল্লাহ পাকের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে।
দ্বিতীয় অংশ : مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ (মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ)
অর্থ : মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল। অর্থাৎ মুহাম্মদ (স.) আল্লাহ তায়ালার প্রেরিত নবি ও রাসুল। এ কথার উপর বিশ্বাস স্থাপন ইমানের অংশ। কালিমা তায়্যিবার প্রথম অংশের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা যেমন জরুরি, দ্বিতীয় অংশের প্রতি ইমান আনাও তেমনই আবশ্যক। আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসের পাশাপাশি মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর প্রতিও বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। কেননা তাঁর মাধ্যমেই আমরা আল্লাহ পাকের পরিচয় লাভ করি। তিনিই আমাদের নিকট আল্লাহ তায়ালার বাণী পৌঁছে দিয়েছেন। ভালোমন্দ, সত্য, মিথ্যা ইত্যাদি তিনিই আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন। আর এসব তিনি নিজ থেকে শিক্ষা দেননি। বরং মহান আল্লাহর নির্দেশেই শিক্ষা দিয়েছেন। সুতরাং আমরা বিশ্বাস করব যে, হযরত মুহাম্মদ (স.) আল্লাহ তায়ালার মনোনীত বান্দা। তিনি নবি ও রাসুল। তিনি যে বাণী নিয়ে এসেছেন তা আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। যাতে রয়েছে মানুষের জীবন পরিচালনার যথার্থ বিধিবিধান।
কালিমা তায়্যিবা ইমানের মূলভিত্তি। অতএব, আমরা শুদ্ধভাবে এ কালিমা পড়ব। এর অর্থ বুঝে আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করব এবং এর মর্মানুসারে জীবনের সকল কাজ পরিচালনা করব।
কাজ : শিক্ষার্থীরা প্রত্যেকে বাড়ি থেকে বড় একটি কাগজে 'কালিমা তায়্যিবা' অর্থসহ লিখে একটি পোস্টার তৈরি করে নিয়ে আসবে এবং শ্রেণিতে উপস্থাপন করবে।
Printed page 5
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.