Skip to content

Islamic Studies chapter 2: Ibadat

ইবাদত

  • Islamic Studies
  • Textbook pages 18-43
  • 1 source
  • 45,668 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Ibadat

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents64
  1. ইবাদতের প্রকারভেদ
  2. পাঠ ২
  3. নাজাসাত (اَلنَّجَاسَةُ)
  4. নাজাসাত বা অপবিত্রতার প্রকারভেদ
  5. অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জনের উপায়সমূহ
  6. পাঠ ৩
  7. পবিত্রতা (اَلطَّهَارَةُ)
  8. পবিত্রতার প্রকারভেদ
  9. অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা
  10. বাহ্যিক পবিত্রতা
  11. পাঠ ৪
  12. ওযু (اَلْوُضُوْءُ)
  13. ওযুর গুরুত্ব
  14. ওযুর নিয়ম
  15. ওযুর ফরজ
  16. ওযু ভঙ্গের কারণ
  17. পাঠ ৫
  18. তায়াম্মুম (اَلتَّيَمُّمُ)
  19. তায়াম্মুমের ফরজ
  20. তায়াম্মুম করার নিয়ম
  21. তায়াম্মুম ভঙ্গের কারণ
  22. পাঠ ৬
  23. গোসল (الْغُسْلُ)
  24. গোসলের ফরজ
  25. গোসলের নিয়ম
  26. পাঠ ৭
  27. সালাত (الصَّلٰوةُ)
  28. পাঠ ৮
  29. সালাতের সময়সূচি (أَوْقَاتُ الصَّلٰوةِ)
  30. সালাতের সময়
  31. পাঠ ৯
  32. সালাত আদায়ের নিয়ম
  33. দুই রাকআত বিশিষ্ট সালাত আদায়ের নিয়ম
  34. তিন রাকআত বিশিষ্ট সালাত আদায়ের নিয়ম
  35. চার রাকআত বিশিষ্ট সালাত আদায়ের নিয়ম
  36. পাঠ ১০
  37. সালাতের ফরজ (فَرَائِضُ الصَّلٰوةِ)
  38. সালাতের ওয়াজিব
  39. সালাতের সুন্নত
  40. সালাতের মুস্তাহাব
  41. সালাত ভঙ্গ হওয়ার কারণ
  42. সালাত মাকরূহ হওয়ার কারণ
  43. সালাতের নিষিদ্ধ সময়
  44. সালাতের মাকরূহ সময়
  45. পাঠ ১১
  46. সিজদাহ্ (اَلسَّجْدَةُ)
  47. সিজদাহ্র প্রকারভেদ
  48. সিজদায়ে সাহু আদায় করার নিয়ম
  49. সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হওয়ার কারণ
  50. পাঠ ১২
  51. সিজদায়ে তিলাওয়াত (سَجْدَةُ التِّلَاوَةِ)
  52. সিজদায়ে তিলাওয়াতের নিয়ম
  53. সিজদায়ে তিলাওয়াতের চারটি শর্ত
  54. সিজদায়ে তিলাওয়াতের স্থান
  55. পাঠ ১৩
  56. সালাতের নৈতিক শিক্ষা
  57. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা
  58. সময়ানুবর্তিতা
  59. শৃঙ্খলা
  60. একাগ্রতা
  61. নিয়মানুবর্তিতা
  62. সাম্য
  63. অনুশীলনী
  64. বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

Printed page 18

দ্বিতীয় অধ্যায়

ইবাদত (اَلْعِبَادَةُ)

আল্লাহ তায়ালার দাসত্ব স্বীকার করাকে ইবাদত বলে। আল্লাহর সকল আদেশ-নিষেধ, বিধিবিধান মেনে চলার নামই ইবাদত। পরকালের শান্তির জন্য মানুষ সালাত, সাওম ইত্যাদি পালন করে থাকে। দুনিয়ার প্রত্যেকটি কাজ বিসমিল্লাহ্ বলে শুরু করাও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।

এ অধ্যায় শেষে আমরা—

  • ইবাদতের ধারণা, তাৎপর্য ও প্রকারভেদ বর্ণনা করতে পারব;
  • পবিত্রতা ও অপবিত্রতার ধারণা ও পবিত্র থাকার প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করতে পারব;
  • পবিত্র হওয়ার উপায় বর্ণনা করতে পারব;
  • সালাত (নামায) আদায়ের নিয়মকানুন, সময়সূচি ও সালাতের ফরজ, ওয়াজিব ইত্যাদি সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;
  • সালাত (নামায) ভঙ্গের কারণ বর্ণনা করতে পারব;
  • সিজদাহ্ সাহু ও সিজদাহ্ তিলাওয়াতের ধারণা ও প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করতে পারব;
  • বাস্তব জীবনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলাবোধ, নিয়মানুবর্তিতা ও সাম্যের শিক্ষা অর্জনে সালাতের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারব।

Printed page 19

পাঠ ১

ইবাদতের ধারণা ও তাৎপর্য

ইবাদত (عِبَادَةٌ) আরবি শব্দ। এর অর্থ আনুগত্য করা। আল্লাহর দাসত্ব ও আনুগত্যই হলো ইবাদত। ইসলামি পরিভাষায়-আল্লাহর সকল আদেশ-নিষেধ মেনে চলার নামই ইবাদত। সালাত, সাওম, যাকাত, হজ, ইত্যাদি যেমন ইবাদত, তেমনি জীবনের প্রতিটি কাজ ইসলামি বিধিবিধান অনুযায়ী পালন করাও ইবাদত।

মহান আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন। তিনিই আমাদের লালনপালন করেন। তিনিই আমাদের রব। আমরা তার বান্দা। আমাদের জীবনমরণ তার হাতে। তিনি আমাদের জন্য এ মহাবিশ্বকে কত সুন্দর করে সাজিয়েছেন। আসমান জমিন, চাঁদ, সুরুজ, ফুল, ফল, নদীনালা সব আমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আমরা সব ভোগ করি। আমাদের সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে তৈরি করেছেন। আল্লাহর দেওয়া অফুরন্ত নিয়ামত ভোগ করার পর এর শুকরিয়া (কৃতজ্ঞতা) আদায় করতে হবে। নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে আল্লাহর দেওয়া বিধানমতো চলার নামই ইবাদত। আমরা আল্লাহর আদেশমতো চলব এবং তারই ইবাদত করব।

মহান আল্লাহ সকল জিনিস মানুষের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর জিন ও মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত বা দাসত্ব স্বীকার করার জন্য। এ সম্পর্কে কুরআন মজিদে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন—

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ ○

অর্থ : আর আমি জিন ও মানুষকে শুধু আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি (সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত : ৫৬)।

মহানবি (স.) ইবাদত সম্পর্কে বলেছেন, 'যেখানেই থাকো আল্লাহকে ভয় করে চল। আর কখনো কোনো মন্দ কাজ হয়ে গেলে তখনি একটি ভালো কাজ করে ফেল। তাহলে এ কাজটি পূর্ববর্তী মন্দ কাজকে মিটিয়ে দেবে। আর মানুষের সাথে উত্তম আচরণ কর ' (তিরমিযি)।

আমরা ভালো কাজ করব। অন্যকে সৎকাজের পরামর্শ দেবো। এতে উভয়ই সমান সাওয়াব পাব। এ প্রসঙ্গে মহানবি (স.) বলেন, 'যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের পরামর্শ বা সন্ধান দেবে, সে ঐ কাজটি সম্পাদনকারীর সমান সাওয়াব পাবে ।' (মুসলিম)। আমাদের জন্য নামায, রোযা, হজ, যাকাত ইত্যাদি কতগুলো নির্ধারিত ইবাদত রয়েছে। এগুলো নবি করিম (স.) যেভাবে আদায় করেছেন, আমাদেরকে করতে বলেছেন, আমরা ঠিক সেভাবেই আদায় করব। এভাবে মানুষ তার জীবনকে পরিচালিত করলে সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও অপরের প্রতি শ্রদ্ধা-ভক্তি বৃদ্ধি পাবে।

Printed page 20

ইবাদতের প্রকারভেদ

ইবাদতকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় : ১. ইবাদতে বাদানি বা শারীরিক ইবাদত, ২. ইবাদতে মালি বা আর্থিক ইবাদত, ৩. ইবাদতে মালি ও বাদানি বা শরীর ও অর্থ উভয়ের সংমিশ্রণে ইবাদত। শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাহায্যে যে ইবাদত করা হয় তাকে বলা হয় ইবাদতে বাদানি বা শারীরিক ইবাদত। যথা– দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা ও রমযান মাসে রোযা রাখা। ইবাদতের মধ্যে শারীরিক ইবাদত সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থের দ্বারা যে ইবাদত করতে হয় সেগুলোকে বলা হয় ইবাদতে মালি বা আর্থিক ইবাদত। যেমন : যাকাত দেওয়া, সাদাকা ও দানখয়রাত করা ইত্যাদি। উল্লিখিত দুই প্রকার ইবাদত ছাড়াও এমন কিছু ইবাদত আছে যা শুধু শরীর দ্বারা কিংবা অর্থ দ্বারা করা যায় না। বরং শরীর এবং অর্থ উভয়ের প্রয়োজন হয়; যেমন : হজ করা, জিহাদ করা ইত্যাদি।

আল্লাহ তায়ালা যেহেতু আমাদের ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন, তাই সবসময় তাঁর ইবাদতে মশগুল থাকা আমাদের কর্তব্য। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে যে, সবসময় কি ইবাদত করা সম্ভব? হ্যাঁ, দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা ইবাদত করা সম্ভব। যেমন আমরা খেতে বসলে যদি 'বিসমিল্লাহ্' বলে খাওয়া শুরু করি, তবে যতক্ষণ খাওয়ার মধ্যে থাকব ততক্ষণ আল্লাহর রহমত পেতে থাকব। এটিই ইবাদত। পড়ার সময় যদি 'বিসমিল্লাহ্' বলে পড়া শুরু করি তবে যতক্ষণ পর্যন্ত লেখাপড়া করব, ততক্ষণই তা ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে। স্কুলে যাবার সময় 'বিসমিল্লাহ্' বলে যাত্রা শুরু করলে রাস্তার সকল বিপদাপদ থেকে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করবেন। একজন অন্ধলোক রাস্তা পার হতে পারছে না, তাকে হাত ধরে রাস্তা পার করে দিলে তাও আল্লাহর নিকট ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে। এমনিভাবে সবসময় আমরা ইবাদতে মশগুল থাকতে পারি। ইবাদত করলে আল্লাহ খুশি হন। এতে দুনিয়ার জীবন সুখময় হয়। পরকালে পরম শান্তিময় স্থান জান্নাত লাভ করা যায়। আর যারা ইবাদত করে না, আল্লাহর নির্দেশিত পথে চলে না, আল্লাহ তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হন। তারা দুনিয়াতে শান্তি পায় না। পরকালেও তাদেরকে জাহান্নামের কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে।

কাজ : শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে পাঠ্যপুস্তকের আলোচনার বাইরে আর কোন কোন কাজ ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে তার তালিকা তৈরি করবে।

পাঠ ২

নাজাসাত (اَلنَّجَاسَةُ)

'নাজাসাত' আরবি শব্দ। এর অর্থ অপবিত্রতা। এটি তাহারাত বা পবিত্রতার বিপরীত। শরীর থেকে যেসব জিনিস বের হওয়ার কারণে শরীর অপবিত্র হয়ে যায় অথবা যে সব দ্রব্য কোনো পবিত্র বস্তুতে লাগলে তা অপবিত্র হয়ে যায়, তাকে নাজাসাত বা অপবিত্রতা বলা হয়। যেমন: মল-মূত্র, রক্ত ইত্যাদি। নাজাসাতের কারণে শরীর, কাপড় ও ব্যবহারিক জিনিসপত্র অপবিত্র হয়ে যায়। এ অবস্থায় তা পবিত্র করা একান্ত জরুরি।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন-

Printed page 21

وَإِنْ كُنْتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا

অর্থ: আর তোমরা যদি অপবিত্র হয়ে যাও তবে বিশেষভাবে পবিত্র হবে ( সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ৬)।

নাজাসাত বা অপবিত্রতার প্রকারভেদ

নাজাসাত দুই প্রকার। যেমন— ১. নাজাসাতে হাকিকি বা প্রকৃত অপবিত্রতা ২. নাজাসাতে হুকমি বা অপ্রকৃত অপবিত্রতা

নাজাসাতে হাকিকি: নাজাসাতে হাকিকি বলতে ঐ সকল অপবিত্র বস্তুকে বোঝায় যেগুলো প্রকৃতিগতভাবেই অপবিত্র এবং ইসলামি শরিয়ত সেগুলোকে অপবিত্র ঘোষণা করে। ঐ সকল অপবিত্র বস্তুকে মানুষ অপছন্দ করে। যেমন: প্রস্রাব, পায়খানা, রক্ত ইত্যাদি। ইসলাম এসব থেকে শরীরকে পবিত্র রাখার নির্দেশ দিয়েছে। নাজাসাতে হুকমি: নাজাসাতে হুকমি হচ্ছে ঐ সকল অপবিত্রতা যা দেখা যায় না কিন্তু ইসলামি বিধানে তা নাজাসাত বা অপবিত্র বলে গণ্য। যেমন-ওযু ভঙ্গ হওয়া, গোসলের প্রয়োজন হওয়া ইত্যাদি। উলেখ্য যে, উভয় প্রকার অপবিত্রতা থেকে শরীর পবিত্র রাখা একান্ত প্রয়োজন।

অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জনের উপায়সমূহ

আল্লাহ তায়ালা নিজে পবিত্র, তাই তিনি পবিত্রতা অর্জনকারী ব্যক্তি ও পবিত্র বস্তুকে পছন্দ করেন। বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় প্রকার পবিত্রতা অর্জন করা জরুরি। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী পবিত্রতা অর্জনের উপায়গুলো হলো-

১. ওযু: শরীর পবিত্র করার নিয়তে পাক-পবিত্র পানি দিয়ে শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী মুখমন্ডল, দুই হাত (কনুই সহ) ও দুই পা (টাখনু সহ) ধৌত করা এবং মাথা মাসহ করার নাম ওযু। যে পানি দিয়ে ওযু করা হবে তা অবশ্যই পবিত্র হতে হবে। যেমন-নদী, খাল, পুকুর, কূপ, ঝরনা, নলকূপ বা শহরে সরবরাহ করা পানি।

২. গোসল: পবিত্র পানি দিয়ে নির্দিষ্ট নিয়মে পুরো শরীর ধৌত করাকে গোসল বলে। গোসলের মাধ্যমে পুরো শরীর পবিত্র হয়ে যায়।

৩. তায়াম্মুম: পানি পাওয়া না গেলে অথবা অসুস্থ অবস্থায় রোগী পানি ব্যবহারে অক্ষম হলে মাটি বা মাটি জাতীয় বস্তু দ্বারা মুখমন্ডল ও হাত মাসহ করার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করাকে তায়াম্মুম বলে। ইসলাম মনের পবিত্রতার ওপর খুব গুরুত্ব দিয়ে থাকে। খ্যাতিমান ইসলামি পন্ডিতগণ মনের কতিপয় মৌলিক রোগ চিহ্নিত করেছেন। তা হলো লোভ, উচ্চাশা, রাগ, মিথ্যা বলা, গিবত (পরনিন্দা), কার্পণ্য, অহংকার, রিয়া (লোক দেখানো), হাসাদ (হিংসা)। এ পাপগুলো থেকে বেঁচে থাকলে মনের পবিত্রতা অর্জন করা সম্ভব। এ ছাড়া ইসলামের ফরয, ওয়াজিব, সুন্নত ও মুস্তাহাবগুলো যথাযথভাবে আদায়ের মাধ্যমে মনের পবিত্রতা অর্জন করা যায়। কোনো মুমিন যদি ইবাদতের পাশাপাশি হালাল খাদ্য গ্রহণ করেন, হারাম থেকে বেঁচে থাকেন, কুরআন তিলাওয়াত করেন এবং সদা আল্লাহর যিকির (স্মরণ) করেন তবে তাঁর অন্তর পবিত্র থাকবে। এবার আমরা পবিত্র থাকার লক্ষ্যে ওযু, গোসল এবং তায়াম্মুমের নিয়মগুলো জেনে নেবো।

কাজ : শিক্ষার্থীরা চার-পাঁচজনের দলে বিভক্ত হয়ে প্রত্যেক দল প্রকৃত অপবিত্রতার ও অপ্রকৃত অপবিত্রতার একটি তালিকা ছক আকারে লিখে শ্রেণিতে উপস্থাপন করবে।

Printed page 22

পাঠ ৩

পবিত্রতা (اَلطَّهَارَةُ)

পবিত্রতার আরবি প্রতিশব্দ 'তাহারাতুন'। ওযু, গোসল ইত্যাদির মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা যায়। ইবাদতের জন্য পবিত্র থাকা একান্ত প্রয়োজন। পবিত্র না হয়ে নামায আদায় করা যায় না। এ প্রসঙ্গে মহানবি (স.) বলেন, 'পবিত্রতা ব্যতীত নামায কবুল হয় না এবং আত্মসাতের মাল দ্বারা সাদাকাহ (দান) হয় না' (মুসলিম)।

পবিত্র থাকলে শরীর সুস্থ থাকে। মন প্রফুল্ল থাকে। লেখাপড়া ও কাজকর্মে মন বসে। আল্লাহ তায়ালাও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন—

وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ○

অর্থ : আর উত্তমরূপে পবিত্রতা সম্পাদনকারীদের আল্লাহ ভালোবাসেন (সূরা আত-তাওবা, আয়াত :১০৮)।

রাসুলুল্লাহ (স.) স্বয়ং পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার অতুলনীয় দৃষ্টান্ত ছিলেন। তিনি তাঁর উম্মতকে পবিত্রতা অর্জনের জন্য বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন এবং পবিত্র থাকার জন্য বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করেছেন। এ প্রসঙ্গে মহানবি (স.) বলেন, 'পবিত্রতা ইমানের অংশ' (মুসলিম)।

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.