Science chapter 4: Morphology of Plants
উদ্ভিদের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য
- Science
- Textbook pages 28-37
- 1 source
- 20,021 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Morphology of Plants
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents17ShowHide
- পাঠ-১ : আদর্শ সপুষ্পক উদ্ভিদের বাহ্যিক গঠন
- একটি আদর্শ সপুষ্পক উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশ
- পাঠ-২ : একটি আদর্শ মূলের বিভিন্ন অংশ
- পাঠ ৩-৪ : মূলের প্রকারভেদ ও কাজ
- মূল নিম্নলিখিত কাজসমূহ করে থাকে :
- পাঠ-৫ : কাণ্ডের বিভিন্ন অংশ
- পাঠ-৬ : কাণ্ডের শ্রেণিকরণ
- পাঠ-৭ : কাণ্ডের কাজ
- পাঠ-৮ : একটি পাতার বিভিন্ন অংশ
- পাতার বিভিন্ন অংশ
- পাঠ- ৯ : পাতার প্রকারভেদ
- পাঠ- ১০ : মানবজীবনে মূল, কাণ্ড ও পাতার প্রয়োজনীয়তা
- পাঠ-১১ : উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রতি আচরণ
- এই অধ্যায়ে আমরা যা শিখলাম
- বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
- সৃজনশীল প্রশ্ন
- সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন
Printed page 28
চতুর্থ অধ্যায়: উদ্ভিদের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য
ইতঃপূর্বে আমরা বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য ও শ্রেণিকরণ সম্পর্কে জেনেছি। আমরা জানি, উন্নত উদ্ভিদ দুই ধরনের যথা নগ্নবীজী ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ। আবৃতবীজী উদ্ভিদকে একটি আদর্শ উদ্ভিদ হিসেবে ধরে তার বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী তা আমরা এ অধ্যায়ে জানব। একটি সপুষ্পক উদ্ভিদের কোন কোন অংশ থাকে, কোথায় তাদের অবস্থান তা জানব। এর প্রধান অংশগুলোর প্রকারভেদ, কাজ ও মানবজীবনে এসব অঙ্গের অবদান কী তা আলোচনা করা হবে।
এই অধ্যায় শেষে আমরা
- উদ্ভিদের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
- মূলের প্রধান বৈশিষ্ট্য, বিভিন্ন অংশ, প্রকারভেদ এবং কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- কাণ্ডের প্রধান বৈশিষ্ট্য, বিভিন্ন অংশ, প্রকারভেদ এবং কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পাতার প্রধান বৈশিষ্ট্য, বিভিন্ন অংশ, প্রকারভেদ এবং কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- উদ্ভিদ এবং মানবজীবনে মূল, কাণ্ড ও পাতার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- উদ্ভিদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ প্রদর্শন করব।
Printed page 29
পাঠ-১ : আদর্শ সপুষ্পক উদ্ভিদের বাহ্যিক গঠন
আমরা চারপাশের পরিবেশে অগণিত উদ্ভিদ দেখতে পাই। এসব উদ্ভিদের আকার ও গঠনে অনেক বিভিন্নতা লক্ষ করা যায়। কিছু কিছু উদ্ভিদের দেহে মূল কাণ্ড ও পাতা থাকে। এদের ফুল, ফল ও বীজ হয়। এরা সপুষ্পক উদ্ভিদ। যেমন- আম, জাম, ছোলা, লাউ, ধান, গম ইত্যাদি। ধান, গম, ঘাস একবীজপত্রী ও আম, কাঁঠাল, সরিষা, মরিচ দ্বিবীজপত্রী সপুষ্পক উদ্ভিদ। আবৃতবীজী সপুষ্পক উদ্ভিদকে আদর্শ উদ্ভিদ বলা হয় কারণ এরা সর্বোন্নত উদ্ভিদ।
একটি আদর্শ সপুষ্পক উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশ
একটি আদর্শ সপুষ্পক উদ্ভিদকে মূল, কাণ্ড, পাতা, ফুল, ফল প্রভৃতি অংশে বিভক্ত করা যায়।
বিটপ : উদ্ভিদের যে অংশগুলো মাটির উপরে থাকে তাদের একত্রে বিটপ বলে। বিটপে কাণ্ড, পাতা, ফুল ও ফল থাকে। কাণ্ডে পর্ব, পর্বমধ্য ও শীর্ষ মুকুল থাকে। ফুলগুলো পাতার কক্ষে উৎপন্ন হয়। ফুলে বৃতি, দল, পুংকেশর ও গর্ভাশয় থাকে। এ কথাগুলোর সাথে পাশের পরিচিত মরিচ গাছের চিত্র মিলিয়ে দেখি।
Figure: চিত্র ৪.১: একটি মরিচ গাছের বাহ্যিক গঠন
লেবেল: ফুল, ফল, পাতা, কাণ্ড, প্রধান মূল বর্ণনা: একটি মরিচ গাছের বিভিন্ন বাহ্যিক অঙ্গ তীরচিহ্ন দিয়ে দেখানো হয়েছে। শীর্ষভাগে ফুল, তার নিচে ফল, ডালে পাতা, মাঝখানে সোজা কাণ্ড এবং মাটির নিচে বিস্তৃত প্রধান মূল।
১। কাণ্ড : প্রধান মূলের সাথে লাগানো মাটির উপরে উদ্ভিদের অংশটি কাণ্ড। কাণ্ডের গায়ে পর্ব ও পর্ব মধ্য থাকে। পর্ব থেকে পাতা উৎপন্ন হয়। কাণ্ড পাতা ও শাখা প্রশাখার ভার বহন করে।
২। পাতা : শাখা প্রশাখার গায়ে সৃষ্ট চ্যাপ্টা সবুজ অঙ্গটিই পাতা বা পত্র। পাতায় খাদ্য তৈরি হয়।
৩। ফুল : পত্র কক্ষে সাদা রঙের ছোটো ছোটো ফুল হয়। এই ফুল থেকে ফল অর্থাৎ মরিচ হয়।
৪। ফল : ফুল বুড়ো হয়ে ঝরে যায়। ঝরা ফুলের গোড়ায় ফুলের যে অংশটি থেকে যায় তা বড়ো হয়ে ফল সৃষ্টি করে। গর্ভাশয়ই বড়ো হয়ে ফলে পরিণত হয়। মরিচ গাছের ফলই মরিচ।
মূল : উদ্ভিদের পর্ব, পর্বমধ্য ও অগ্রমুকুলবিহীন অংশই মূল। সাধারণত মানুষ মনে করে উদ্ভিদের মাটির নিচের অংশই মূল। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ বক্তব্যটি সত্য তবে বিশেষ ক্ষেত্রে কাণ্ড, পত্র, ফুল, ফল মাটির নিচের জন্মে, যেমন- আদা, হলুদ, পিঁয়াজ ইত্যাদি। এ ব্যাপারে উপরের শ্রেণিতে তোমরা বিশদ জানতে পারবে।
কাজ : বিদ্যালয়ের পাশে থেকে ছোট্ট একটি গাছ মূলসহ তুলে আনো।এবার তার চিত্র এঁকে বিভিন্ন অংশের নাম লেখো।
সাধারণত মূল ভ্রূণমূল হতে উৎপন্ন হয়। মূলে পাতা, ফুল বা ফল হয় না। সাধারণত মূল নিম্নগামী। ভ্রূণমূলটি বৃদ্ধি পেয়ে প্রধান মূল গঠন করে। প্রধান মূল থেকে শাখা মূল, শাখা মূল থেকে প্রশাখা মূল উৎপন্ন হয়।
নতুন শব্দ : সপুষ্পক, বিটপ, কাণ্ড, পর্ব, পর্বমধ্য ও ভ্রূণমূল।
Printed page 30
পাঠ-২ : একটি আদর্শ মূলের বিভিন্ন অংশ
মূলকে কয়েকটি অংশে ভাগ করা যায়। এর শেষ প্রান্তে টুপির মতো অংশটি হচ্ছে মূলটুপি বা মূলত্র। আঘাত থেকে মূলকে রক্ষা করা এর কাজ। এর পেছনের মসৃণ অংশটি বর্ধিষ্ণু অঞ্চল। এ স্থানে মূলের বৃদ্ধি ঘটে। এই এলাকার পেছনে সূক্ষ্ম লোমশ মূলরোম অঞ্চল অবস্থিত। মূলরোম দিয়ে উদ্ভিদ পানি শোষণ করে। এই অঞ্চলের পর মূলের স্থায়ী এলাকা অবস্থিত। স্থায়ী অঞ্চল থেকে মূলের শাখা ও প্রশাখা সৃষ্টি হয়।
Figure: চিত্র ৪.২ : একটি আদর্শ মূলের বিভিন্ন অংশ
লেবেল: স্থায়ী অঞ্চল, মূলরোম অঞ্চল, বর্ধিষ্ণু অঞ্চল, মূলত্র অঞ্চল বর্ণনা: একটি আদর্শ মূলের লম্বচ্ছেদের বিভিন্ন অংশ তীরচিহ্ন দিয়ে দেখানো হয়েছে। ওপর থেকে নিচে ক্রমান্বয়ে রয়েছে স্থায়ী অঞ্চল, লোমশ মূলরোম অঞ্চল, মসৃণ বর্ধিষ্ণু অঞ্চল এবং ডগায় টুপির মতো মূলত্র অঞ্চল।
নতুন শব্দ : মূলরোম, মূলটুপি ও মূলত্র।
পাঠ ৩-৪ : মূলের প্রকারভেদ ও কাজ
সব গাছের মূল কি একই ধরনের হয়? ধানের মূল আর আম গাছের মূল কি এক ধরনের? বটের ঝুরিও আসলে এক ধরনের মূল। উদ্ভিদের প্রয়োজনে এ মূলগুলো ভিন্নরূপ ধারণ করেছে। বটের ঝুরিমূল, কেয়া গাছের ঠেসমূল, পানের আরোহী মূল উদ্ভিদের প্রয়োজনে বিশেষ ধরনের কাজ করে।
আমরা খেয়াল করলে দেখব যে, সকল ধরনের উদ্ভিদের মূল এক রকমের নয়। একটি মরিচ বা একটি আম গাছের মূল অবশ্যই ধান, ভুট্টা বা ঘাস এর মূল হতে ভিন্ন রকমের। এরূপ ভিন্নতার জন্য মূলকে এর উৎপত্তি ও অবস্থান অনুযায়ী প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়, যথা- ১। স্থানিক মূল ও ২। অস্থানিক মূল।
১। স্থানিক মূল: ভ্রূণমূল বৃদ্ধি পেয়ে প্রধান মূল হিসেবে সরাসরি মাটিতে প্রবেশ করে। প্রধান মূল শাখা প্রশাখা বিস্তার করে। তখন এদেরকে স্থানিক মূলতন্ত্র বা স্থানিক মূল বলে। যথা আম, জাম কাঁঠাল, লিচু, বেগুন, সরিষা, ইত্যাদি।
Figure: চিত্র ৪.৩ : স্থানিক মূল ও অস্থানিক মূল
বর্ণনা: পাশাপাশি দুটি উদ্ভিদের মূলের চিত্র। বামের উদ্ভিদে একটি স্পষ্ট প্রধান মূল থেকে শাখা-প্রশাখা বের হওয়া স্থানিক মূলতন্ত্র এবং ডানের উদ্ভিদে কাণ্ডের গোড়া থেকে গুচ্ছাকারে ছড়িয়ে থাকা অস্থানিক মূলতন্ত্র দেখানো হয়েছে।
কাজ : মূলসহ একটি মরিচের চারা ও একটি ধানের চারা সংগ্রহ করো। এদের মূলের মধ্যে কী কী পার্থক্য রয়েছে তার তালিকা করো।
Printed page 31
২। অস্থানিক মূল : এসব মূল ভ্রূণমূল থেকে উৎপন্ন না হয়ে কাণ্ড ও পাতা থেকে উৎপন্ন হয়। এরা দুই ধরনের। যথা- ক) গুচ্ছ মূল ও খ) অগুচ্ছ মূল।
ক) গুচ্ছ মূল : ধান, ঘাস, বাঁশ ইত্যাদি উদ্ভিদের মূল লক্ষ করলে দেখা যাবে যে, কাণ্ডের নিচের দিকে এক গুচ্ছ সরু মূল সৃষ্টি হয়েছে। এরা গুচ্ছমূল। ভ্রূণমূল নষ্ট হয়ে সে স্থান থেকেও গুচ্ছ মূল উৎপন্ন হতে পারে। সাধারণত একবীজপত্রী উদ্ভিদে গুচ্ছমূল থাকে। যেমন-ধান, নারিকেল, সুপারি ইত্যাদি।
খ) অগুচ্ছ মূল : এসব মূল একত্রে গাদাগাদি করে গুচ্ছাকারে জন্মায় না বরং পরস্পর থেকে আলাদা থাকে। কেয়া গাছের ঠেসমূল, বটের ঝুরিমূল এ ধরনের অগুচ্ছ মূল।
কাজ : মূলসহ একটি ধানের চারা, সরিষার চারা, ঘাস তুলে এনে দেখো এবং নারিকেল গাছের মূলের সাথে তাদের মূলের মিল এবং অমিল উল্লেখ করো।
মূল নিম্নলিখিত কাজসমূহ করে থাকে :
১। মূল উদ্ভিদকে মাটির সাথে শক্তভাবে আটকে রাখে ফলে ঝড় বাতাসে সহজে হেলে পড়ে না। ২। মূল মাটি থেকে পানি ও খনিজ পদার্থ শোষণ করে। আমরা জানি, মূলে মূলরোম অঞ্চল বলে একটি অংশ থাকে। এখানে অসংখ্য সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম রোম উৎপন্ন হয় যার মাধ্যমে উদ্ভিদ পানি ও খনিজ পদার্থ সংগ্রহ করে।
নতুন শব্দ : প্রধানমূল, স্থানিকমূল, অস্থানিকমূল, গুচ্ছমূল, শোষণ ও মূলরোম।
পাঠ-৫ : কাণ্ডের বিভিন্ন অংশ
আমরা যখন আম পাড়তে গাছে উঠি, তখন মাটির ওপরে গাছের খাড়া লম্বা অংশটি আঁকড়ে ধরে তবেই গাছে উঠি। এটাই গাছের কাণ্ড। কুল গাছের যে ডালে বসে কুল খাই এগুলো শাখা। গাছের শাখাও কিন্তু কাণ্ডেরই অংশ। উদ্ভিদের যে অংশ থেকে শাখা-প্রশাখা পাতা উৎপন্ন হয়, তাই কাণ্ড। এতে পর্ব, পর্বমধ্য ও মুকুল থাকে।
Figure: চিত্র ৪.৪ : একটি শাখা কাণ্ড
লেবেল: অগ্রমুকুল, পত্র, পর্ব, পর্ব মধ্য, কাক্ষিক মুকুল বর্ণনা: একটি কাণ্ডের শাখা ও তার বিভিন্ন অংশের চিত্র। ডগায় অগ্রমুকুল, কাণ্ডে পাতা যুক্ত হওয়ার স্থান পর্ব, পাতার কক্ষে কাক্ষিক মুকুল, কাণ্ডের সাথে পত্র এবং দুটি পর্বের মধ্যবর্তী অংশ বন্ধনী দিয়ে 'পর্ব মধ্য' হিসেবে দেখানো হয়েছে।
১। পর্ব : কাণ্ডের যে স্থান থেকে পাতা বের হয় তাকে পর্ব বা সন্ধি বলে।
২। পর্বমধ্য : পাশাপাশি দুটি পর্বের মধ্যবর্তী অংশটি পর্বমধ্য। পর্বমধ্য গাছকে খাড়া রাখতে ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। পর্বমধ্য থেকে কোনো ধরনের মূল, পাতা বা শাখা সৃষ্টি হয় না।
৩। মুকুল : কাণ্ডের সাথে পাতা যে কোণ সৃষ্টি করে তাকে পত্রকক্ষ বলে। সাধারণত মুকুল এ পত্রকক্ষে জন্মে। তবে শাখার অগ্রভাগেও মুকুল সৃষ্টি হয়। কাক্ষিক মুকুল পত্রকক্ষে এবং শীর্ষ মুকুল কাণ্ড বা শাখার অগ্রভাগে জন্মে।
কাজ : একটি বৃক্ষ হতে ছোট একটি শাখা নিয়ে তার বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করো। এবার এর চিত্র আঁক এবং অংশগুলি চিহ্নিত করে দেখাও।
নতুন শব্দ : শীর্ষমুকুল, পত্রকক্ষ, পর্ব, পর্বমধ্য ও কাক্ষিক মুকুল।
Printed page 32
পাঠ-৬ : কাণ্ডের শ্রেণিকরণ
একটি আম গাছের কাণ্ড, একটি লাউগাছের কাণ্ড এবং একটি নারকেল গাছের কাণ্ড লক্ষ করি। কোনোটির কাণ্ড বেশ শক্ত, কোনোটি দুর্বল আবার কোনোটির মধ্যে কোনো শাখা-প্রশাখা নেই। এ থেকে ধারণা করা যায় যে কাণ্ড বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। তবে এদের প্রাথমিকভাবে দুইভাগে ভাগ করা যায়, যথা-১) সবল কাণ্ড ও ২) দুর্বল কাণ্ড।
১) সবল কাণ্ড : এসব কাণ্ড শক্ত ও খাড়াভাবে গাছকে দাঁড়াতে সাহায্য করে। যেমন : আম, জাম, নারিকেল, তাল ইত্যাদি গাছের কাণ্ড। এই কাণ্ডগুলোর কোনোটির শাখা-প্রশাখা থাকে আবার কোনোটির শাখা-প্রশাখা থাকে না।
ক) অশাখ কাণ্ড : এসব কাণ্ডের কোনো শাখা হয় না। কাণ্ডটি লম্বা হয়ে বেড়ে ওঠে। এর শীর্ষে পাতার মুকুট থাকে। খেয়াল করলে দেখবে নারিকেল, তাল, সুপারি ইত্যাদি গাছের কাণ্ড এ ধরনের হয়।
খ) শাখান্বিত কাণ্ড :
১. মঠ আকৃতি : কোনো কোনো গাছে প্রধান কাণ্ডটি থেকে এমনভাবে শাখা-প্রশাখা সৃষ্টি হয় যে পূর্ণাঙ্গ গাছটিকে একটি মঠের ন্যায় দেখায়। এ গাছের নিচের দিকের শাখাগুলো বড়ো এবং ক্রমান্বয়ে উপরের দিকের শাখাগুলো ছোটো হয়ে থাকে।
সম্পূর্ণ গাছটি নিচে থেকে উপরের দিকে ক্রমশ সরু হয়ে মঠের ন্যায় আকার ধারণ করে। দেবদারু, বিলেতি ঝাউ ইত্যাদি গাছে এ ধরনের কাণ্ড দেখা যায়।
২. গম্বুজ আকৃতি : কোনো কোনো গাছের প্রধান কাণ্ডটি খাটো ও মোটা হয় এবং শাখা ও প্রশাখাগুলো এমনভাবে এই প্রধান কাণ্ডে বিন্যস্ত হয় যে গাছটিকে একটি গম্বুজের ন্যায় দেখায়, যেমন- আম, কাঁঠাল, জাম ইত্যাদি।
৩. তৃণ কাণ্ড : এসব কাণ্ডে পর্ব ও পর্বমধ্য খুবই স্পষ্ট। পর্ব থেকে অস্থানিক মূল সৃষ্টি হতে দেখা যায়, যথা- বাঁশ, আখ ইত্যাদি। ক্ষেত্রবিশেষে এসব কাণ্ডের পর্বগুলো ফাঁপা বা ভরাট হতে পারে।
Figure: চিত্র ৪.৫ : অশাখ, মঠ আকৃতি, গম্বুজ আকৃতির কাণ্ড
বর্ণনা: পাশাপাশি তিনটি বৃক্ষের কাণ্ডের ধরন দেখানো হয়েছে—বামে লম্বা শাখাহীন অশাখ কাণ্ড (নারকেল), মাঝখানে নিচ থেকে ওপরে ক্রমশ সরু হয়ে ওঠা মঠ আকৃতির কাণ্ড, এবং ডানে ছড়ানো শাখাপ্রশাখা বিশিষ্ট গম্বুজ আকৃতির কাণ্ড।
২) দুর্বল কাণ্ড : কিছু উদ্ভিদের কাণ্ড খাড়াভাবে দাঁড়াতে পারে না তাই মাটিতে বা মাচার উপরে বৃদ্ধি পায়। এদের কাণ্ডে সাধারণত কাষ্ঠ থাকে না তাই এরা দুর্বল ও নরম। এদের কোনোটি লতানো, কোনোটি শয়ান আবার কোনোটি আরোহিণী।
Figure: চিত্র ৪.৬ : ট্রেইলার বা শয়ান কাণ্ড
বর্ণনা: মাটির উপর ছড়িয়ে থাকা বা শায়িত কাণ্ডযুক্ত একটি উদ্ভিদের ডাল ও পাতার চিত্র।
Figure: চিত্র ৪.৭ : ক্রিপার বা লতানো কাণ্ড
বর্ণনা: মাটির সমান্তরালে অনুভূমিকভাবে বেড়ে ওঠা একটি ক্রিপার বা লতানো উদ্ভিদ, যার কাণ্ডের সংযোগস্থল থেকে মূল এবং ওপরের দিকে পাতা ও ফুল সৃষ্টি হয়েছে।
Printed page 33
ক) ক্রিপার বা লতানো : এসব কাণ্ড মাটির উপর দিয়ে সমান্তরালভাবে বৃদ্ধি পায়। এদের প্রতিটি পর্ব থেকে গুচ্ছমূল বের হয়ে মাটিকে আঁকড়ে ধরে, যেমন- ঘাস, আমরুল ইত্যাদি।
খ) ট্রেইলার বা শয়ান : এসব কাণ্ড মাটির উপরে ছড়িয়ে পড়ে কিন্তু পর্ব থেকে মূল বের হয় না। যথা- পুঁই, মটরশুঁটি ইত্যাদি।
গ) আরোহিণী : এ সকল কাণ্ড কোনো অবলম্বনকে আঁকড়ে ধরে উপরের দিকে বেড়ে ওঠে, এরা ক্লাইম্বার বা আরোহিণী। যথা- শিম, পান, বেত ইত্যাদি।
Figure: চিত্র ৪.৮ : আরোহিণী কাণ্ড
বর্ণনা: একটি খাড়া দণ্ড বা অবলম্বনকে পেঁচিয়ে ওপরের দিকে বেয়ে ওঠা দুর্বল কাণ্ডবিশিষ্ট লতানো উদ্ভিদের চিত্র।
কাজ : তোমরা দল বেঁধে বিদ্যালয়ের কাছাকাছি এলাকা থেকে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন গাছের কাণ্ড পর্যবেক্ষণ করো।এবং কোন গাছের কাণ্ড কী ধরনের তা খাতায় নোট করো। শ্রেণিতে ফিরে কাণ্ডের শ্রেণিকরণ করো।
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.