Skip to content

Bangladesh and Global Studies chapter 11: Bangladesh and International Cooperation

বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

  • Bangladesh and Global Studies
  • Textbook pages 102-112
  • 1 source
  • 18,604 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Bangladesh and International Cooperation

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents13

Printed page 102

একাদশ অধ্যায়

বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

বিশ্বের সকল স্বাধীন রাষ্ট্রই সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। প্রতিটি দেশের সরকারের দায়িত্ব হলো দেশকে সুন্দর ও সঠিকভাবে পরিচালনার মাধ্যমে দেশ ও জনগণের কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন সাধন করা। এজন্য বিভিন্ন দেশের সরকার বিভিন্নমুখী কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করে। কিন্তু এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা কোনো সরকারের পক্ষে এককভাবে করা সম্ভব হয় না। প্রয়োজন হয় অন্য কোনো দেশ বা সংস্থার সহযোগিতা। এ প্রয়োজনীয়তা থেকেই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ধারণার উদ্ভব হয়েছে। গড়ে উঠেছে বিভিন্ন সহযোগিতা সংস্থা। এদের মধ্যে অন্যতম হলো জাতিসংঘ। এ অধ্যায়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

এ অধ্যায় শেষে আমরা–

১. আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ধারণা ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব;

২. জাতিসংঘের গঠন বর্ণনা করতে পারব;

৩. জাতিসংঘ গঠনের উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে পারব;

৪. জাতিসংঘের মৌলিক নীতিসমূহ বর্ণনা করতে পারব;

৫. জাতিসংঘের বিভিন্ন শাখার উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম বর্ণনা করতে পারব;

৬. বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের ভূমিকা বর্ণনা করতে পারব;

৭. বিশ্ব শান্তিরক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশের ভূমিকা বর্ণনা করতে পারব।

পাঠ-১ : আন্তর্জাতিক সহযোগিতা : ধারণা ও গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ধারণা

বিশ্বের প্রত্যেক রাষ্ট্রই তাদের নিজেদের কল্যাণে বা স্বার্থে বৈদেশিক নীতি প্রণয়ন করে। বৈদেশিক নীতির মূলে রয়েছে পারস্পরিক নির্ভরশীলতার মাধ্যমে নিজ দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করা। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামরিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে এক রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে। দেশগুলো বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সাতটি মহাদেশে ছড়িয়ে আছে। দেশগুলো স্বাধীন ও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হলেও অনেক দেশই সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল নয়। এছাড়া দেশগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা। এ সমস্যাগুলো দূর করতে

Printed page 103

অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় অন্য দেশ ও সংস্থার সহযোগিতা। যেমন– আমাদের বাংলাদেশে জ্বালানি, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের সরকারের পক্ষে এককভাবে এ সমস্যাগুলো পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। ফলে এ সমস্যাগুলো দূরীকরণে বাংলাদেশকে অন্যান্য দেশ বা সংস্থার সহযোগিতা নিতে হয়। আবার মধ্যপ্রাচ্যসহ আফ্রিকার অনেক দেশে রয়েছে জাতিগত সংঘাত, যুদ্ধ ও অস্থিরতা। ফলে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য দেশের সেনাবাহিনী জাতিসংঘের মাধ্যমে সেখানে শান্তি রক্ষার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এভাবেই বিশ্বের দেশগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সুন্দরভাবে টিকে আছে।

উপরের আলোচনায় দেখা যাচ্ছে বিশ্বের দেশগুলো স্বাধীন হলেও তাদের মধ্যে রয়েছে পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা ও বন্ধুত্বের মনোভাব। কেবল একই অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যেই নয়, বিশ্বের দূরদূরান্তে অবস্থিত দেশগুলোর মধ্যেও এ ধরনের সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে পারে। সহযোগিতার এ গুরুত্ব থেকে তাই পৃথিবীতে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা, যেমন– জাতিসংঘ, ওআইসি, কমনওয়েলথ ইত্যাদি। এসব আন্তর্জাতিক সংস্থা বিভিন্ন দেশকে সহযোগিতা দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব : বর্তমান যুগ পরস্পর নির্ভরশীলতার যুগ। আর পারস্পরিক নির্ভরশীলতার এ যুগে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা গড়ে উঠেছে। একটি দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, অর্থনীতি, পরিবেশ, আবহাওয়া, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি ইত্যাদি ক্ষেত্রে এ ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হতে পারে। অনেক সময় একটি দেশ সরাসরি বা দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে অন্য দেশকে সাহায্য করে। আবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমেও সহযোগিতা করে থাকে। মূলত নিজস্ব প্রচেষ্টার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বের দেশগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করে। আবার এমন অনেক সমস্যা আছে যেগুলোর সাথে এক বা একাধিক দেশের স্বার্থ জড়িত। ফলে বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়া সমস্যার সমাধান সম্ভব হয় না। এ জন্য বর্তমান বিশ্বে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উপর যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

নিচে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি উদাহরণ তুলে ধরা হলো। এগুলো পাঠের মাধ্যমে আমরা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারব।

উদাহরণ-১ : বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশে নিরক্ষর জনসংখ্যা অনেক। শিক্ষা হচ্ছে যে কোনো দেশের সব ধরনের উন্নয়নের চাবিকাঠি। কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে দেশগুলোর নিজেদের পক্ষে দেশের সকলকে শিক্ষিত করা সম্ভব নয়। ফলে ইউনিসেফ, ইউনেস্কোসহ বিশ্বের আরও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা এসব দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর করার জন্য আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সাহায্য দিচ্ছে। জাতিসংঘ 'সহস্রাব্দ

Printed page 104

উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা'র আলোকে ২০১৫ সালের মধ্যে দেশগুলোকে নিরক্ষরতামুক্ত করার কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল। এ লক্ষ্য অর্জনে জাতিসংঘ বিভিন্ন দেশকে আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছিল। 'সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা' ২০১৫ সালে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর 'টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা'র যাত্রা ২০১৬ হতে শুরু হয়। উক্ত লক্ষ্যমাত্রায় শিক্ষার সম্প্রসারণ ও মান উন্নয়নে জাতিসংঘের অঙ্গীকার রয়েছে।

উদাহরণটি থেকে সহজেই আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়। এ ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের অনেক বড়ো বড়ো সমস্যার সমাধান সম্ভব।

কাজ : আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্বের উপর একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন লেখো।

পাঠ-২ : জাতিসংঘ ও এর গঠন

জাতিসংঘ গঠনের পটভূমি

আমরা জানি বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে মাত্র ২৫ বছরের ব্যবধানে পৃথিবীতে দুটি বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়। প্রথমটি শুরু হয় ১৯১৪ সালে এবং দ্বিতীয়টি শুরু হয় ১৯৩৯ সালে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এসব যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। এ যুদ্ধ ছিল মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রায় বিরাট বাধা। সেজন্য যুদ্ধের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী চলেছে শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টা। তাই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯২০ সালে গঠিত হয়েছিল সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ বা লীগ অব নেশনস। কিন্তু বিভিন্ন দেশের স্বার্থপরতার কারণে এ সংস্থাটি স্থায়িত্ব লাভ করেনি। ফলে ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পৃথিবীকে গ্রাস করে। এ যুদ্ধে বিভিন্ন দেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। জাপান পারমাণবিক বোমার আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হয়ে যায়। মারা যায় লাখ লাখ মানুষ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা দেখে বিশ্ববাসী শংকিত ও হতবাক হয়ে যায়। তাদের মনে দানা বাঁধে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা। এছাড়া তোরা অনুভব করে মানব কল্যাণের জন্য যুদ্ধকে পরিহার করতে হবে। দেশগুলোকে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বে শান্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসতে হবে। ফলে ১৯৪১ সাল থেকে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হাতে নেয়। তৎকালীন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট-এর উদ্যোগে এবং বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দের সাথে দীর্ঘদিন আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ১৯৪৫ সালের ২৪শে অক্টোবর তারিখে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ন্যায় অন্য কোনো যুদ্ধের ধ্বংসলীলা থেকে মুক্তির জন্য জাতিসংঘের জন্ম হয়।

Figure: জাতিসংঘের সদর দপ্তর

বর্ণনা: জাতিসংঘের সদর দপ্তরের একটি উঁচু কাচের ভবন; ভবনের সামনে সারিবদ্ধ পতাকার খুঁটি, যাতে বিভিন্ন দেশের পতাকা উড়ছে।

Printed page 105

জাতিসংঘ গঠন

জাতিসংঘ মোট ছয়টি সংস্থা বা শাখা নিয়ে গঠিত।

শাখাগুলো নিম্নরূপ :

ক) সাধারণ পরিষদ ঘ) আন্তর্জাতিক আদালত

খ) সচিবালয় ঙ) অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ

গ) অছি পরিষদ চ) নিরাপত্তা পরিষদ

Figure: জাতিসংঘের প্রধান ছয়টি শাখা

লেবেল: জাতিসংঘের প্রধান ছয়টি শাখা; সাধারণ পরিষদ; সচিবালয়; অছি পরিষদ; নিরাপত্তা পরিষদ; আন্তর্জাতিক আদালত; অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ বর্ণনা: কেন্দ্রে জাতিসংঘের প্রতীক; এর চারপাশে ছয়টি বৃত্তে ছয়টি শাখার নাম ও কার্যাবলি লেখা। প্রতিটি বৃত্ত একটি রেখা দ্বারা কেন্দ্রের প্রতীকের সাথে যুক্ত। সাধারণ পরিষদ ও সচিবালয়ের বৃত্ত যথাক্রমে বাঁয়ে ও উপরে, অছি পরিষদ ডানে উপরে, নিরাপত্তা পরিষদ ডানে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ নিচে এবং আন্তর্জাতিক আদালত বাঁয়ে নিচে অবস্থিত।

শুরুতে জাতিসংঘের সদস্য সংখ্যা ছিল ৫১। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ১৯৩। জাতিসংঘের মহাসচিব হচ্ছে এর প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা। নরওয়ের অধিবাসী ট্রিগভেলি ছিলেন জাতিসংঘের প্রথম মহাসচিব। বর্তমান (জানু-২০১৭ হতে) মহাসচিবের নাম অ্যান্টনিও গুতেরেস (Antonio Guterres)। তিনি পর্তুগালের নাগরিক। জাতিসংঘের সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে অবস্থিত। বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।

জাতিসংঘের নিজস্ব পতাকা আছে। পতাকাটি হালকা নীল রঙের। মাঝখানে সাদার ভিতরে বিশ্বের বৃত্তাকার মানচিত্র রয়েছে। এর দুইপাশ দুটি জলপাই পাতার ঝাড় দিয়ে বেষ্টিত।

Printed page 106

জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা ছয়টি । এগুলো হলো : আরবি, চাইনিজ, ইংরেজি, ফরাসি, রাশিয়ান ও স্প্যানিশ। জাতিসংঘের যেকোনো সভায় এই ছয়টি ভাষার যেকোনো একটি ব্যবহার করা হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাকি ভাষাগুলোতে অনুবাদ হয়ে যায়। তবে ইংরেজি ভাষার উপর বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়ে থাকে।

কাজ : জাতিসংঘের গঠন সম্পর্কিত উল্লেখযোগ্য ঘটনা নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত রচনা তৈরি করো।

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.