Skip to content

Islamic Studies chapter 2: Ibadat

ইবাদত (اَلْعِبَادَةُ)

  • Islamic Studies
  • Textbook pages 25-50
  • 1 source
  • 49,021 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Ibadat

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents75
  1. ইবাদত (اَلْعِبَادَةُ)
  2. পাঠ ১
  3. সালাত (اَلصَّلٰوةُ)
  4. জামাআতে সালাত
  5. জামাআতে সালাত আদায়ের গুরুত্ব
  6. ইমাম
  7. ইমামের কর্তব্য
  8. মুক্তাদি
  9. পাঠ ২
  10. বিভিন্ন প্রকার সালাত
  11. মাসবুকের সালাত (صَلٰوةُ الْمَسْبُوْقِ)
  12. মুসাফিরের সালাত (صَلٰوةُ الْمُسَافِرِ)
  13. মুসাফিরের সালাত আদায়ের নিয়ম
  14. রুগ্ণ ব্যক্তির সালাত (صَلَوٰةُ الْمَرِيضِ)
  15. রুগ্ণ ব্যক্তির সালাত আদায়ের নিয়ম
  16. জুমুআর সালাত (صَلَوٰةُ الْجُمُعَةِ)
  17. গুরুত্ব
  18. জুমার সালাত আদায়ের নিয়ম
  19. সামাজিক শিক্ষা
  20. পাঠ ৩
  21. ঈদের সালাত
  22. ঈদুল ফিতর (عِيدُ الْفِطْرِ)
  23. গুরুত্ব
  24. ঈদের দিনে সুন্নত কাজ
  25. ঈদের তাকবির
  26. ঈদুল আযহা (عِيدُ الْأَضْحٰى)
  27. গুরুত্ব
  28. কুরবানির গোশত বিতরণে মুস্তাহাব বিধান
  29. ঈদুল আজহার ওয়াজিব কাজ
  30. ঈদের সালাত আদায়ের নিয়ম
  31. সামাজিক শিক্ষা
  32. পাঠ ৪
  33. সালাতুল জানাযা ( صَلٰوةُ الْجَنَازَةِ )
  34. পরিচয়
  35. গুরুত্ব ও তাৎপর্য
  36. জানাযার সালাত আদায়ের নিয়ম
  37. পাঠ ৫
  38. সালাতুত তারাবিহ ( صَلٰوةُ التَّرَاوِيْحِ )
  39. তারাবিহ-এর সালাত আদায়ের নিয়ম
  40. তারাবিহ-এর সালাতের গুরুত্ব ও ফজিলত
  41. সালাতুত তাহাজ্জুদ (صَلَاةُ التَّهَجُّدِ)
  42. গুরুত্ব
  43. তাহাজ্জুদের সময় ও আদায়ের নিয়ম
  44. সালাতুল ইশরাক (صَلَاةُ الْإِشْرَاقِ)
  45. সময়
  46. সালাতুল আওয়াবিন (صَلَاةُ الْأَوَّابِينَ)
  47. সময় ও আদায়ের নিয়ম
  48. সালাতের নৈতিক শিক্ষা
  49. সালাতের সামাজিক শিক্ষা
  50. সাওম (اَلصَّوْمُ)
  51. সাওমের ধারণা
  52. সাওমের (রোযার) প্রকারভেদ
  53. সাহারি (اَلسَّحَرِيُّ)
  54. ইফতার (اَلْاِفْطَارُ)
  55. সাওম ভঙ্গের কারণ
  56. সাওম মাকরূহ হওয়ার কারণ
  57. সাওমের (রোযার) কাযা ও কাফফারা ( قَضَاءُ الصَّوْمِ وَكَفَّارَتُهُ )
  58. কাযা
  59. সাওম কাযা করার কারণসমূহ
  60. কাফফারা (اَلْكَفَّارَةُ)
  61. সাওমের কাফফারা নিম্নরূপ:
  62. ইতিকাফ (اَلْاِعْتِكَافُ)
  63. আদায়ের নিয়ম
  64. সাদাকাতুল ফিতর (صَدَقَةُ الْفِطْرِ)
  65. তাৎপর্য
  66. আদায়ের নিয়ম
  67. সাদাকাতুল ফিতরের পরিমাণ
  68. পাঠ ১১
  69. সাওমের (রোযার) নৈতিক শিক্ষা
  70. ১. সংযম
  71. ২. সহমর্মিতা
  72. ৩. সহিষ্ণুতা
  73. নমুনা প্রশ্ন
  74. সৃজনশীল প্রশ্ন
  75. সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন

Printed page 25

দ্বিতীয় অধ্যায়

ইবাদত (اَلْعِبَادَةُ)

‘ইবাদত’ আরবি শব্দ। এর অর্থ দাসত্ব, বন্দেগি, আনুগত্য ইত্যাদি। মহান আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসুলুল্লাহ (স.) প্রদর্শিত পন্থায় জীবন পরিচালিত করাকেই ইবাদত বলে। সালাত, সাওম, যাকাত, হজ ইত্যাদি আমরা যেমনি ইবাদত হিসেবে পালন করে থাকি, তেমনি জীবনের প্রতিটি কাজ ইসলামি বিধি-বিধান মোতাবেক সম্পন্ন করাও ইবাদতের অংশ। আল্লাহ জিন ও মানবসন্তানকে তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন।

এ অধ্যায় শেষে আমরা –

  • জামাআতে সালাত আদায়ের গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব;
  • ইমাম ও মুক্তাদির দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্ণনা করতে পারব;
  • বিভিন্ন প্রকার সালাতের পরিচয় -মাসবুকের সালাত, মুসাফিরের সালাত, রুগ্ণ ব্যক্তির সালাত, জুমুআর সালাত, ঈদের সালাত, জানাযার সালাত, তারাবিহের সালাত, তাহাজ্জুদের সালাত, আওয়াবিনের সালাত ও ইশরাকের সালাত সম্পর্কে বলতে পারব;
  • সালাতের আধ্যাত্মিক, নৈতিক, সামাজিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • সাওমের ধারণা, প্রকারভেদ এবং সাওম ভঙ্গের কারণ, সাওম মাকরুহ হওয়ার কারণ, সাওমের কাযা ও কাফ্ফারা সম্পর্কে বলতে পারব;
  • সাহারি ও ইফতারের পরিচয়, সময়সূচি ও গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব;
  • ইতিকাফ এবং সাদাকাতুল ফিতরের ধারণা, তাৎপর্য ও আদায়ের নিয়ম ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • সাওমের নৈতিক উপকার সম্পর্কে বলতে পারবে। বাস্তব জীবনে সংযম, সহমর্মিতা ও সহিষ্ণুতা অনুশীলনে সাওমের (রোজার) গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিশ্লেষণ করতে পারব।

পাঠ ১

সালাত (اَلصَّلٰوةُ)

ইসলামের মৌলিক পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে সালাত বা নামায অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহর নিকট বান্দার আনুগত্য ও বিনয় প্রকাশের সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম হচ্ছে সালাত। সালাতের মাধ্যমেই বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে বেশি নৈকট্য লাভ করতে পারে।

সালাত হচ্ছে জান্নাতের চাবিকাঠি ও আল্লাহর সঙ্গে আধ্যাত্মিক সংযোগ স্থাপনের মাধ্যম। সালাত মানুষকে অশ্লীলতা ও গর্হিত কর্মকাণ্ড হতে বিরত রাখে। সালাতের প্রভাবে মানুষ শৃঙ্খলাবোধ, সময়ানুবর্তিতা, কর্তব্যপরায়ণতা ইত্যাদি গুণে গুণান্বিত হয় এবং ধনী-গরিব, সাদা-কালো মানুষের মধ্যে সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়।

Printed page 26

জামাআতে সালাত

জামাআত আরবি শব্দ। এর অর্থ একত্রিত হওয়া, সমবেত হওয়া প্রভৃতি। ইসলামি পরিভাষায়, নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট জায়গায় মুসলিম সম্প্রদায় ইমামের সঙ্গে একত্রিত হয়ে সালাত আদায় করাকে জামাআতে সালাত আদায় বলে।

জামাআতে সালাত আদায়ের গুরুত্ব

ফরজ সালাত একাকী আদায় করার চেয়ে জামাআতে আদায় করার প্রতি বিশেষ তাগিদ রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন –

وَارْكَعُوْا مَعَ الرّٰكِعِيْنَ ○

অর্থ : ‘তোমরা রুকুকারীদের সাথে রুকু কর।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ৪৩)

নবি করিম (স.) জামাআতে সালাত আদায়ের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন, ‘একাকী সালাত আদায় অপেক্ষা জামাআতে আদায় করলে সাতাশগুণ বেশি সাওয়াব পাওয়া যায়।’ (বুখারি ও মুসলিম)। জামাআতে সালাত আদায়কারীকে নবি করিম (স.) খুবই পছন্দ করতেন। তিনি নিজে কখনো জামাআত ত্যাগ করেননি। আবার কেউ জামাআতে উপস্থিত না হলে তিনি খোঁজ নিতেন এবং এতে মহানবি (স.) অসন্তুষ্ট হতেন। তাই আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জন ও অধিক সাওয়াব পাওয়ার আশায় প্রত্যেক মুমিন বান্দাকে জামাআতে সালাত আদায় করতে হবে।

ইমাম

ইমাম অর্থ নেতা। যিনি সালাত পরিচালনা করেন, তিনিই ইমাম। অন্য কথায়, জামাআতে সালাত আদায়ের সময় মুসল্লিগণ (মুক্তাদি) যাকে অনুসরণ করে সালাত আদায় করে, তাকে ইমাম বলে। যার কিরাআত শুদ্ধ, সুন্দর ও ইসলামি জ্ঞান বেশি এবং বয়সে বড় তিনিই ইমাম হওয়ার যোগ্য। তাই একজন যোগ্য ব্যক্তিকে ইমাম হিসেবে নির্বাচন করা উচিত।

ইমামের কর্তব্য

ইমামের কর্তব্য হচ্ছে সালাতে কাতার সোজা হলো কি না সেদিকে দৃষ্টি রাখা। মুসল্লিদের মধ্যে সুসম্পর্ক রক্ষা করা। সৎ উপদেশ দেওয়া এবং মুসল্লিদের প্রতি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা। ইমাম হিংসা, বিদ্বেষ, প্রবৃত্তির অনুসরণ ও ইসলাম বহির্ভূত কাজকর্ম থেকে দূরে থাকবেন। তাঁর উচিত মুসল্লিদের অবস্থা দেখে সালাতে তিলাওয়াত দীর্ঘ বা সংক্ষিপ্ত করা। মুসল্লিদের মধ্যে অনেকে বৃদ্ধ, রুগ্ণ, দুর্বল ও মুসাফির থাকতে পারে, তাই ইমামকে সকলের প্রতি লক্ষ্য রেখে সালাত আদায় করতে হবে। জামাআতে সালাত আদায়ের মাধ্যমে মানুষকে শৃঙ্খলাবোধ, সময়ানুবর্তিতা ও নেতার প্রতি আনুগত্য শিক্ষা দেয়। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করে এবং সামাজিক ঐক্যের প্রতিফলন ঘটায়।

Printed page 27

মুক্তাদি

ইমামের পেছনে দাঁড়িয়ে তাঁকে অনুসরণপূর্বক যারা সালাত আদায় করে, তাঁদের মুক্তাদি বলা হয়। মুক্তাদি এই বলে সালাতের নিয়ত করবে যে, ‘আমি এই ইমামের পেছনে সালাত আদায় করছি।’ সালাতের যাবতীয় কাজে মুক্তাদিকে ইমামের অনুসরণ করতে হবে। মুক্তাদিগণ ইমামের পেছনে দাঁড়াবে। যদি মুক্তাদি একজন হয় তবে ইমামের ডান দিকে দাঁড়াবে। যদি ইমাম তিলাওয়াতে ভুল করেন, তাহলে মুক্তাদি সংশোধন করে দেবে। আর যদি অন্য কোনো কাজে ভুল করেন, যেমন : দাঁড়ানোর পরিবর্তে বসে, বসার পরিবর্তে দাঁড়ায়, তবে ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে ইমামকে সংশোধন করে দেবে। (বুখারি)।

Figure

বর্ণনা: অসংখ্য মুসল্লি সারিবদ্ধ কাতারে দাঁড়িয়ে আছে; কাতারগুলো পাশাপাশি সমান্তরালভাবে সাজানো।

সালাত শেষে মুসল্লিগণ একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় করবে। নিয়মিত কোনো মুসল্লি অনুপস্থিত থাকলে তার খোঁজ খবর নেবে। নিয়মিতভাবে উক্ত অভ্যাস চর্চা করলে গভীর ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে উঠবে। ইমামের ভুল হলে বিরোধিতা না করে সংশোধনের জন্য সহযোগিতা করবে।

দলগত কাজ: শিক্ষার্থীরা দলে ভাগ হয়ে ইমাম ও মুক্তাদির কর্তব্যগুলোর একটি তালিকা তৈরি করবে।

বাড়ির কাজ: জামাআতে সালাত আদায়ের গুরুত্ব বর্ণনা কর।

পাঠ ২

বিভিন্ন প্রকার সালাত

মাসবুকের সালাত (صَلٰوةُ الْمَسْبُوْقِ)

যে ব্যক্তি নামাযে এক বা একাধিক রাকআত শেষ হওয়ার পর ইমামের সাথে জামাআতে অংশগ্রহণ করে, তাকে মাসবুক বলে।

মাসবুকের সালাত আদায়ের নিয়ম

মুসল্লি জামাআতে সালাত আদায় করতে গিয়ে ইমামকে যে অবস্থায় পাবে সে অবস্থাতেই নিয়ত করে সালাতে অংশগ্রহণ করবে। তারপর ইমামের সাথে যথারীতি রুকু সিজদাহ্ করে তাশাহ্হুদ পাঠের জন্য বসে যাবে। ইমাম সালাম ফিরালে সে মুসল্লি সালাম না ফিরিয়ে দাঁড়িয়ে যাবে এবং ছুটে যাওয়া রাকআতগুলো রুকু, সিজদাহ্ করে যথারীতি তাশাহ্হুদ, দরুদ, দোয়া মাসূরা পড়ে সালামের মাধ্যমে সালাত শেষ করবে। রুকুসহ ইমামের সাথে যে কয় রাকআত পাওয়া যায় তা আদায় হয়ে যায়। রুকুর পর ইমামের পেছনে ইক্তেদা বা সালাতে দাঁড়ালে ঐ রাকআত মাসবুককে আদায় করতে হবে।

মুক্তাদির সালাত এক, দুই, তিন, চার রাকআত ছুটে গেলে, তা আদায়ে কিছুটা তারতম্য রয়েছে।

Printed page 28

নিম্নে এসবের বর্ণনা করা হলো :

মুক্তাদি ইমামের পেছনে ইক্তেদা করার আগে যদি এক রাকআত ছুটে যায়, তবে ইমামের সালাম ফেরানোর পর দাঁড়িয়ে যাবে এবং ছুটে যাওয়া এক রাকআত একাকী সালাত আদায়ের ন্যায় আদায় করে নিবে।

দুই রাকআত ছুটে গেলে ইমামের সালাম ফেরানোর পর মুক্তাদি দাঁড়িয়ে যাবে এবং ছুটে যাওয়া দুই রাকআত যথানিয়মে আদায় করবে, যেভাবে ফজরের দুই রাকআত ফরজ সালাত একাকী আদায় করা হয়।

তিন রাকআত ছুটে গেলে ইমামের সালাম ফেরানোর পর মুক্তাদি দাঁড়িয়ে যাবে। এক রাকআত যথানিয়মে আদায় করে প্রথম বৈঠক করবে। এ বৈঠকে তাশাহ্হুদ পড়ার পর আবার দাঁড়িয়ে যাবে এবং বাকি দুই রাকআত যথানিয়মে আদায় করে শেষ বৈঠকে তাশাহ্হুদ, দরুদ, দোয়া মাসূরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করবে।

চার, তিন, দুই রাকআত বিশিষ্ট নামাযে মুক্তাদি ইমামকে শেষ বৈঠকে পেলে ইমামের সালাম ফেরানোর পর মুক্তাদি দাঁড়িয়ে যাবে। যথানিয়মে ছুটে যাওয়া রাকআতগুলো এমনভাবে আদায় করে নেবে, যেভাবে একজন মুসল্লি একাকী চার, তিন, দুই রাকআত বিশিষ্ট সালাত আদায় করে থাকে।

দলগত কাজ : কোনো এক শিক্ষার্থী মাগরিবের নামায আদায় করতে মসজিদে গিয়ে ইমামের সাথে এক রাকআত পেয়েছে। অবশিষ্ট নামায কীভাবে আদায় করবে? শিক্ষার্থীরা দলে বিভক্ত হয়ে আলোচনা করবে।

মুসাফিরের সালাত (صَلٰوةُ الْمُسَافِرِ)

‘মুসাফির’ আরবি শব্দ। এর অর্থ ভ্রমণকারী। কমপক্ষে ৪৮ মাইল বা প্রায় ৭৮ কিলোমিটার দূরবর্তী কোনো স্থানে যাওয়ার নিয়তে কোনো ব্যক্তি তার নিজ এলাকা/শহর থেকে বের হলে শরিয়তের পরিভাষায় তাকে মুসাফির বলে। এমন ব্যক্তি গন্তব্যস্থলে পৌঁছে কমপক্ষে পনেরো দিন অবস্থানের নিয়ত না করা পর্যন্ত তার জন্য মুসাফিরের হুকুম প্রযোজ্য হবে। শরিয়তে মুসাফিরকে সংক্ষিপ্ত আকারে সালাত আদায়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই সংক্ষিপ্তকরণকে আরবিতে কসর বলা হয়। মুসাফির অবস্থায় যোহর, আসর ও এশার ফরজ সালাত কসর পড়তে হয়। যেমন, আল্লাহ তায়ালা বলেন :

وَاِذَا ضَرَبْتُمْ فِى الْاَرْضِ فَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ اَنْ تَقْصُرُوْا مِنَ الصَّلٰوةِ

অর্থ : ‘যখন তোমরা দেশ-বিদেশে সফর করবে, তখন সালাত সংক্ষিপ্ত করলে তোমাদের কোনো দোষ নেই।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত : ১০১)

মুসাফিরের জন্য কসর সালাত আদায় করার অনুমতি আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ অনুগ্রহ। এই অনুগ্রহের গুরুত্ব সম্পর্কে মহানবি (স.) বলেন : ‘এটি একটি সাদাকা, যা আল্লাহ তায়ালা তোমাদের (মুসাফিরদের) দান করেছেন। এ সাদাকা তোমরা গ্রহণ কর।’ (বুখারি ও মুসলিম)

Printed page 29

মুসাফিরের সালাত আদায়ের নিয়ম

চার রাকআত বিশিষ্ট অর্থাৎ যোহর, আসর ও এশার ফরজ সালাত মুসাফির ব্যক্তি দুই রাকআত করে আদায় করবে। ফজর, মাগরিব ও বিতরের নামাযে কসর নেই। এগুলো পুরোপুরি আদায় করতে হবে।

আল্লাহর দেওয়া সকল সুযোগ-সুবিধা খুশি মনে গ্রহণ করা উচিত। কাজেই কোনো মুসাফির ব্যক্তি যদি ইচ্ছে করে যোহর, আসর বা এশার ফরজ সালাত চার রাকআত আদায় করে, তবে আল্লাহর দেওয়া সুযোগ গ্রহণ না করায় গুনাহগার হবে। কিন্তু ইমাম যদি মুকিম (স্থায়ী) হয়, তাহলে সে ইমামের অনুসরণ করে পূর্ণ সালাত আদায় করবে। সফর একটি কষ্টকর বিষয়। তাই আল্লাহ তার বান্দার উপর সালাত সংক্ষিপ্ত করার অনুমতি প্রদান করেছেন।

দলগত কাজ : মুসাফির অবস্থায় কোন কোন নামায পূর্ণ এবং কোন কোন নামায কসর পড়তে হয় তার একটি তালিকা পোস্টারে লিখে শ্রেণিতে উপস্থাপন করবে।

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.