Islamic Studies chapter 4: Akhlaq
আখলাক (اَلْأَخْلَاقُ)
- Islamic Studies
- Textbook pages 83-103
- 1 source
- 36,484 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Akhlaq
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents66ShowHide
- এ অধ্যায় শেষে আমরা –
- পাঠ ১
- আখলাকে হামিদাহ্ ( اَلْأَخْلَاقُ الْحَمِيْدَةُ )
- আখলাকে হামিদাহ্র গুরুত্ব
- আখলাকে হামিদাহ্র সুফল
- ১. মহান আল্লাহর ভালোবাসা লাভ
- ২. ইমানের পূর্ণতা অর্জন
- ৩. সর্বোত্তম মর্যাদা লাভ
- ৪. কিয়ামতের দিন সবচেয়ে ভারী আমল
- ৫. আখিরাতে সফলতা লাভ
- পাঠ ২
- পরোপকার ( اَلْإِحْسَانُ )
- তাৎপর্য
- পরোপকারের সুফল
- ১. আল্লাহর ভালোবাসা লাভ
- ২. সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়
- ৩. শত্রু মিত্রে পরিণত হয়
- ৪. আল্লাহর রহমত লাভ
- ৫. মানুষের ভালোবাসা অর্জন
- পাঠ ৩
- শালীনতাবোধ ( اَلتَّهْذِيْبُ )
- গুরুত্ব
- পাঠ ৪
- সৃষ্টির সেবা (خِدْمَةُ الْخَلْقِ)
- গুরুত্ব
- পাঠ ৫
- আমানত (الْأَمَانَةُ)
- গুরুত্ব
- পাঠ ৬
- শ্রমের মর্যাদা (شَرَفُ الْعَمَلِ)
- শ্রমের মর্যাদা
- পাঠ ৭
- ক্ষমা (الْعَفْوُ)
- গুরুত্ব
- পাঠ ৮
- অসদাচরণ (الْأَخْلَاقُ الذَّمِيمَةُ)
- আখলাকে যামিমাহ্র কুফল
- ১. ঘৃণার পাত্র
- ২. জান্নাত থেকে বঞ্চিত
- পাঠ ৯
- হিংসা (الْحَسَدُ)
- অপকারিতা
- পাঠ ১০
- ক্রোধ (الْغَضَبُ)
- অপকারিতা
- পাঠ ১১
- লোভ (اَلْحِرْصُ)
- লোভের কুফল
- লোভ থেকে বাঁচার উপায়
- পাঠ ১২
- প্রতারণা (اَلْغَشُّ)
- কুফল
- পাঠ ১৩
- পিতামাতার অবাধ্য হওয়া (عُقُوْقُ الْوَالِدَيْنِ)
- অপকারিতা
- পাঠ ১৪
- ইভটিজিং
- অপকারিতা
- প্রতিকার
- পাঠ ১৫
- ছিনতাই (اَلْاِنْتِهَابُ)
- কুফল
- প্রতিকার
- নমুনা প্রশ্ন
- সৃজনশীল প্রশ্ন
- সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন
Printed page 83
চতুর্থ অধ্যায়
আখলাক (اَلْأَخْلَاقُ)
আখলাক আরবি শব্দ। এর অর্থ চরিত্র, স্বভাব, আচার-আচরণ, ব্যবহার ইত্যাদি। মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের মাধ্যমে যেসব আচার-ব্যবহার, চালচলন এবং স্বভাবের প্রকাশ পায়, সেসবের সমষ্টিই হলো আখলাক। এককথায় মানবচরিত্রের সব দিকই আখলাকের অন্তর্ভুক্ত। মানবচরিত্রের সৎ ও অসৎ দিকগুলোর বিচারে আখলাককে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। আখলাকে হামিদাহ্ (প্রশংসনীয় আচরণ) এবং আখলাকে যামিমাহ্ (নিন্দনীয় আচরণ)।
এ অধ্যায় শেষে আমরা –
- সদাচরণের পরিচয় ও কতিপয় সদাচরণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব;
- অসদাচরণের পরিচয় এবং এর কুফল বর্ণনা করতে পারব এবং;
- ইসলামের দৃষ্টিতে ইভটিজিং (যৌন হয়রানি) ও ছিনতাইয়ের (রাহাজানি) নেতিবাচক প্রভাব এবং প্রতিকারের উপায় বর্ণনা করতে পারব।
পাঠ ১
আখলাকে হামিদাহ্ ( اَلْأَخْلَاقُ الْحَمِيْدَةُ )
মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের মাধ্যমে যেসব উত্তম আচার, ব্যবহার-চালচলন এবং স্বভাবের প্রকাশ পায়, সেসবের সমষ্টিকে আখলাকে হামিদাহ্ বা উত্তম চরিত্র বলা হয়। যেমন- পরোপকারিতা, শালীনতাবোধ, সৃষ্টির সেবা, আমানত রক্ষা, শ্রমের মর্যাদা, ক্ষমা ইত্যাদি।
আখলাকে হামিদাহ্র গুরুত্ব
মানবজীবনে আখলাকে হামিদাহ্ (উত্তম চরিত্রের) গুরুত্ব অপরিসীম। মানবজীবনের সুখ-শান্তি আখলাকে হামিদাহ্ বা প্রশংসনীয় আচরণের ওপর নির্ভরশীল। প্রশংসনীয় আচরণের মাধ্যমেই উত্তম চরিত্র গড়ে ওঠে। আখিরাতের সুখ-দুঃখও আখলাকে হামিদাহ্র ওপর নির্ভর করে। যার স্বভাব-চরিত্র যত সুন্দর হবে, সে ততই সৎকর্মশীল হবে এবং আল্লাহর কাছে প্রিয় হবে।
আখলাকে হামিদাহ্র সুফল
১. মহান আল্লাহর ভালোবাসা লাভ
উত্তম চরিত্রের অধিকারী হলে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন- 'আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় বান্দা সেই ব্যক্তি যার চরিত্র সবচেয়ে উত্তম' (তাবারানি)।
Printed page 84
২. ইমানের পূর্ণতা অর্জন
উত্তম চরিত্র মানুষের ইমানকে পূর্ণতা দান করে। এ সম্পর্কে মহানবি (স.) বলেন,
اَكْمَلُ الْمُؤْمِنِيْنَ اِيْمَانًا اَحْسَنُهُمْ خُلُقًا -
অর্থ : 'চরিত্রের বিচারে যে উত্তম, মুমিনদের মধ্যে সেই পূর্ণতম ইমানের অধিকারী ।' (আবু দাউদ)
৩. সর্বোত্তম মর্যাদা লাভ
উত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি সমাজের নিকট উঁচু মর্যাদার অধিকারী হন। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন,'তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই শ্রেষ্ঠ, যার চরিত্র উত্তম ।'(বুখারি)
৪. কিয়ামতের দিন সবচেয়ে ভারী আমল
মহানবি (স.) বলেন , কিয়ামতের দিন পরিমাপদণ্ডে উত্তম চরিত্রের ওজন হবে অত্যন্ত ভারি। (আবু দাউদ)
৫. আখিরাতে সফলতা লাভ
উত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি তাঁর উত্তম চরিত্রের বদৌলতে আখিরাতে অত্যধিক মর্যাদা লাভ করবে। মহানবি (স.) বলেন- বান্দা তার উত্তম চরিত্রের বলে আখিরাতে বিশেষ মর্যাদা ও সম্মানিত স্থানে উন্নীত হবে, যদিও সে ইবাদতের দিক থেকে দুর্বল থাকে। (তাবারানি)
দলগত কাজ : আখলাকে হামিদাহ্র সুফলগুলো উল্লেখ করো।
বাড়ির কাজ : সদাচারণের গুরুত্ব বর্ণনা করো।
পাঠ ২
পরোপকার ( اَلْإِحْسَانُ )
মানুষ সামাজিক জীব হিসেবে সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। আর সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করতে হলে পরস্পরের সহযোগিতার প্রয়োজন। অন্যের প্রয়োজনে বা উপকারে আসার নামই হলো পরোপকার।
পরোপকারের আরবি প্রতিশব্দ হলো 'আল-ইহসান' اَلْإِحْسَانُ, যার অর্থ অন্যের উপকার করা। আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি মানুষের যে দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে সেগুলোকে উত্তম বা যথাযথভাবে পালন করার নামই পরোপকার।
তাৎপর্য
পরোপকার মহান আল্লাহর একটি বড় গুণ। মহান আল্লাহ পরম দয়ালু। সমগ্র সৃষ্টির প্রতি তার এ অসীম দয়া ও করুণা বিরাজমান। তিনি সকল মানুষকে সমান যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে সৃষ্টি করেননি। এ কারণে মানুষ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। তাই মানুষ সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী অপরের উপকার করবে।
Printed page 85
পরোপকারের সুফল
১. আল্লাহর ভালোবাসা লাভ
পরোপকারী ব্যক্তিদের আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন,
وَاَحْسِنُوْا اِنَّ اللّٰهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِيْنَ ○
অর্থ : 'তোমরা সৎকর্ম ও পরোপকার করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীল ও পরোপকারীদের ভালোবাসেন ।' (সূরা আল-বাকারা, আয়াত :১৯৫)
২. সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়
পরোপকারের মাধ্যমে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। সম্পদ ব্যয় করে বা ভালো কথা বলেও মানুষের উপকার করা যায়। এতে সমাজ থেকে ঝগড়া-ফাসাদ দূর হয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
৩. শত্রু মিত্রে পরিণত হয়
পরম শত্রুকেও পরোপকারের মাধ্যমে আপন করা যায়। কঠোর হৃদয়বিশিষ্ট লোকের অন্তরও জয় করা যায়।
৪. আল্লাহর রহমত লাভ
আল্লাহর কোনো সৃষ্টির প্রতি দয়া করলে তিনি দয়াকারী ব্যক্তির ওপর রহমত বর্ষণ করেন। এ সম্পর্কে মহানবি (স.)- বলেন—
اِرْحَمُوْا مَنْ فِي الْاَرْضِ يَرْحَمْكُمْ مَنْ فِي السَّمَاۤءِ -
অর্থ : 'তোমরা জমিনের অধিবাসীদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করবে। তাহলে আসমানের অধিপতি মহান আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়া করবেন ।' (তিরমিযি)
৫. মানুষের ভালোবাসা অর্জন
দয়া বা পরোপকারের মাধ্যমে মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায়। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। সামাজিক বন্ধন মজবুত হয়। কঠিন হৃদয়ের মানুষকে বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করা যায়। পরম শত্রুও মিত্রতে পরিণত হয়।
আমরা সর্বদা সৃষ্টির সেবা করব। বিপদে-আপদে অপরের সাহায্য করব।
দলগত কাজ : শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে মানুষকে কীভাবে উপকার করা যায়, তার একটি তালিকা তৈরি করবে।
Printed page 86
পাঠ ৩
শালীনতাবোধ ( اَلتَّهْذِيْبُ )
শালীনতার আরবি প্রতিশব্দ 'আত-তাহযিব' (اَلتَّهْذِيْبُ), যার অর্থ ভদ্রতা, নম্রতা ও লজ্জাশীলতা। আচার-আচরণে, কথাবার্তায়, বেশভূষায় ও চালচলনে মার্জিত পন্থা অবলম্বন করাকে শালীনতা বলে।
গুরুত্ব
শালীনতা মানুষের একটি মহৎগুণ। এটির গুরুত্ব অপরিসীম। শালীনতাবোধ মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রাখে। শালীনতা আল্লাহর অনুগত বান্দা হতে সাহায্য করে। আচার-ব্যবহারে শালীন ব্যক্তিকে সবাই পছন্দ করে। শালীন পোশাক-পরিচ্ছদ সৌন্দর্যের প্রতীক। শালীন ও ভদ্র আচরণের মাধ্যমে বন্ধুত্ব ও হৃদ্যতা সৃষ্টি হয়। সমাজকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল রাখতে শালীনতার প্রয়োজন সর্বাধিক। শালীনতাপূর্ণ আচার-ব্যবহার সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের চাবিকাঠি। অশোভন বা অশালীন পোশাক-পরিচ্ছদ ও আচরণ অনেক সময় সমাজে বিপর্যয় ডেকে আনে, সমাজে অশান্তির সৃষ্টি করে। চরিত্রের অবক্ষয় ঘটায়।
শালীনতাপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। পক্ষান্তরে অভদ্র বা অশালীন আচরণ বন্ধুকেও দূরে ঠেলে দেয়। মানুষ অশালীন ব্যক্তিকে পছন্দ করে না। তার সাহচর্য পরিত্যাগ করে। মহানবি (স.) বলেন– 'মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যার অশ্লীলতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য লোকেরা তাকে পরিত্যাগ করে ।'(বুখারি) অশালীন ব্যক্তিকে আল্লাহ তা'আলা কখনোই পছন্দ করেন না। বরং অশালীন ব্যক্তিকে আল্লাহ তায়ালা ঘৃণা করেন। এ সম্পর্কে মহানবি (স.) বলেন-
اِنَّ اللهَ يَبْغِضُ الْفَاحِشَ الْبَذِيَّ -
অর্থ : 'নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা অশালীন ও দুশ্চরিত্র ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন ।' (তিরমিযি)
শালীনতা মানুষের জীবনে অপরিহার্য বিষয়। আল্লাহ আমাদের শালীনতা শিক্ষা দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনের সূরা লুকমানে উল্লেখ আছে যে, হযরত লুকমান (আ.) তাঁর পুত্রকে শালীনতা শিক্ষা দিতে গিয়ে বলেন,
'হে পুত্র, অহংকার বশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না। পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে চলো না, কারণ আল্লাহ কোনো উদ্ধত অহংকারী ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না। তুমি পদচারণ করবে সংযতভাবে এবং তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করবে। নিশ্চয়ই স্বরের মধ্যে গাধার স্বর সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর।' (সূরা লুকমান, আয়াত ১৯)
শালীনতার গুরুত্ব অপরিসীম। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শালীনতা অবলম্বন করে চলা উচিত। এতে জীবন সুন্দর ও মধুময় হয়ে ওঠে। সমাজেও সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
দলগত কাজ : শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে শালীন আচরণের সুফলগুলো পোস্টারে লিখে শ্রেণিতে উপস্থাপন করবে।
বাড়ির কাজ : 'অশালীন পোশাক-পরিচ্ছদ ও আচরণ বিপর্যয় ডেকে আনে।' - ব্যাখ্যা করো।
Printed page 87
পাঠ ৪
সৃষ্টির সেবা (خِدْمَةُ الْخَلْقِ)
ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়া ও সহানুভূতিশীল হয়ে আদর-যত্ন করার নামই হলো সৃষ্টির সেবা। মহান আল্লাহ এই সুন্দর পৃথিবীতে মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির সেরা করে পাঠিয়েছেন। আর সৃষ্টিকুলের সবকিছু যেমন: জীবজন্তু, পশু-পাখি, কীটপতঙ্গ, পাহাড়-পর্বত, গাছপালা ইত্যাদি মানুষের উপকারের জন্য সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং এসব সৃষ্টির প্রতি সহানুভূতি দেখানো এবং এগুলোর যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা অবশ্য কর্তব্য।
গুরুত্ব
যে সৃষ্টির প্রতি দয়া ও সহানুভূতি প্রদর্শন করে, আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি খুশি হয়ে রহমত বর্ষণ করেন। এ সম্পর্কে মহানবি (স.) বলেন—
ارْحَمُوا مَنْ فِي الْأَرْضِ يَرْحَمْكُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ -
অর্থ : 'তোমরা জমিনের অধিবাসীদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করবে। তাহলে আসমানের অধিপতি মহান আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।' (তিরমিযি)
পৃথিবী ও এই মহাবিশ্বে যা কিছু আছে তা সবই আল্লাহর সৃষ্টি। সৃষ্টিজগতের সবকিছু আল্লাহ তায়ালা প্রিয়। আল্লাহর প্রিয় সৃষ্টির মধ্যে মানুষই সেরা সৃষ্টি। পরিবারে যেমন পরিবার প্রধানের অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য থাকে, তেমনি সৃষ্টিজগতের প্রতিও মানুষের অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে। সৃষ্টিকুলের প্রতি এ দায়িত্ব পালন করার নাম সৃষ্টির সেবা।
মানুষের ওপর প্রধানত দুই ধরনের কর্তব্য রয়েছে। প্রথমত স্রষ্টার প্রতি কর্তব্য, তারপর সৃষ্টির প্রতি কর্তব্য। সৃষ্টির প্রতি মানুষের কর্তব্যগুলোর মধ্যে অসহায় ও দুস্থ মানুষকে সাহায্য ও সহযোগিতা করা যেমন কর্তব্য, তেমনি গাছপালা, পশু-পাখি, বৃক্ষলতা এবং পরিবেশের প্রতিও মানুষের কর্তব্য রয়েছে। সৃষ্টির প্রতি সদয় হলে এবং এদের লালনপালন ও রক্ষণাবেক্ষণ করলে আল্লাহ খুশি হন। তেমনি এদের প্রতি অবহেলা করলে, নিষ্ঠুর আচরণ করলে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন।
আমাদের চার পাশের কীটপতঙ্গ, গাছপালা, তরুলতা, পশু-পাখি সবকিছুর প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। কারণ এ সবকিছু নিয়েই আমাদের পরিবেশ। আমাদের স্বার্থেই এ পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। মহান আল্লাহ এ সবকিছু আমাদের উপকারের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আমাদের প্রিয় নবি (স.) সৃষ্টিজীবের প্রতি সর্বদা সদয় ছিলেন। সমাজে কোনো ব্যক্তি পীড়িত হলে তার সেবা করতে হবে। ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে। এভাবে সমাজে একে অপরের সেবা ও সাহায্য করলে আল্লাহর অনুগ্রহ পাওয়া যায়। প্রিয় নবি (স.) বলেন, 'যে মুসলমান অন্য মুসলমান ভাইয়ের অভাব মোচন করে আল্লাহ তায়ালা তার অভাব দূর করেন।' (মুসলিম)
Printed page 88
গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি, কুকুর, বিড়াল প্রভৃতি সকল প্রাণীরই আমাদের মতো ক্ষুধা ও পিপাসা আছে। এদের খেতে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।
মহানবি (স.) বলেন— 'কোনো এক মহিলা একটি বিড়াল বেঁধে রাখে। সে বিড়ালটিকে খেতে দেয়নি এবং ছেড়েও দেয়নি যাতে পোকামাকড় খেয়ে জীবনধারণ করতে পারে। অবশেষে বিড়ালটি বাঁধা অবস্থায় খাদ্যাভাবে মারা গেলে আল্লাহ ঐ মহিলাকে শাস্তি দেন।' (বুখারি ও মুসলিম)।
প্রিয় নবি (স.) আরও বলেন, 'বনি ইসরাইলের এক পাপী মহিলা একটি তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পিপাসায় কাতর দেখে পানি পান করায়। এতে আল্লাহ তায়ালা ঐ মহিলার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তাকে ক্ষমা করে দেন।' (বুখারি ও মুসলিম)।
জীবজন্তুর মতো উদ্ভিদের প্রতিও সদয় হতে হবে। অকারণে গাছ কাটা উচিত নয়। গাছের পাতা ছেঁড়া বা চারাগাছ উপড়ে ফেলাও উচিত নয়। গাছপালার যত্ন করা উচিত। বৃক্ষলতাও মহান আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করে। পরিবেশ রক্ষায় ও নিজেদের প্রয়োজনে জীবজগৎ ও পরিবেশের প্রতি সদাচরণ করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।
আমরা সৃষ্টির সেবা করব, জীবজন্তুকে কষ্ট দেবো না। অকারণে কোনো বৃক্ষের ক্ষতি করব না। বৃক্ষ রোপণ করব এবং এর যত্ন করব।
দলগত কাজ : শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে সৃষ্টির সেবামূলক কাজগুলোর একটি তালিকা তৈরি করবে।
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.