Skip to content

Science chapter 2: Cellular Organisation of Plants and Animals

উদ্ভিদ ও প্রাণীর কোষীয় সংগঠন

  • Science
  • Textbook pages 10-21
  • 1 source
  • 21,583 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Cellular Organisation of Plants and Animals

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents5

Printed page 10

দ্বিতীয় অধ্যায়: উদ্ভিদ ও প্রাণীর কোষীয় সংগঠন

প্রাকৃতিক পরিবেশে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবদেহ থেকে শুরু করে অতি বৃহদাকার ও উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহের সাংগঠনিক এবং কার্যপ্রণালিতে প্রচুর মিল-অমিল রয়েছে। সকল জীবদেহের মধ্যে সাধারণ মিল বা সাদৃশ্যটি হলো যে, জীবদেহ মাত্রই কোষ দ্বারা গঠিত। বিগত কয়েকশ বছর ধরে বিজ্ঞানীগণ নিরলস প্রচেষ্টায় কোষের গঠন, আকৃতি, প্রকৃতি ও অন্যান্য বিষয়ে প্রচুর গবেষণামূলক কাজ করেছেন। একটি জীবদেহের সব কোষের গঠন প্রকৃতি এক রকম নয় বরং ভিন্ন। আমরা এ পরিচ্ছেদে কোষের গঠন বর্ণনা করব কিন্তু নিম্নে বর্ণিত সকল অঙ্গাণু এক সাথে এক কোষে পাওয়া যায় না। তাই মোটামুটি সব ধরনের কোষে যেসব ক্ষুদ্র অঙ্গাণু পরিলক্ষিত হয় সেগুলোকে বর্ণনার জন্য একটি কোষের আওতায় এনে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রথম দিকে যৌগিক অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে জীববিজ্ঞানীরা কোষের যে ধারণা পেয়েছিলেন তা ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কারের পর আরও সুস্পষ্ট ও বিস্তারিত হয়েছে। সেই আলোকে আদর্শ কোষ আলোচনা করা হলো।

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা

  • উদ্ভিদ এবং প্রাণিকোষের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করতে পারব;
  • প্রাণী এবং উদ্ভিদকোষের তুলনা করতে পারব;
  • কোষের বিভিন্ন অঙ্গাণুর গঠন ও কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • বিভিন্ন প্রকার টিস্যুর কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • উদ্ভিদ ও প্রাণী টিস্যুর পার্থক্য করতে পারব।

Printed page 11

পাঠ ১-২ : উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষের সাধারণ গঠন

প্রতিটি জীবদেহ এক বা একাধিক কোষ দিয়ে গঠিত হয়। একটি আদর্শ উদ্ভিদকোষ প্রধানত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত- কোষপ্রাচীর এবং প্রোটোপ্লাজম।

১) কোষপ্রাচীর : উদ্ভিদকোষের ক্ষেত্রে কোষঝিল্লির বাইরে জড় পদার্থ দিয়ে তৈরি একটি পুরু প্রাচীর থাকে, একে কোষপ্রাচীর বলে। এটি সেলুলোজ দ্বারা গঠিত। প্রাণিকোষে এ ধরনের প্রাচীর থাকে না। প্রাণিকোষের আবরণটি প্লাজমা পর্দা দ্বারা গঠিত। কোষের সজীব অংশকে রক্ষা করা এবং কোষের সীমারেখা নির্দেশ করা কোষপ্রাচীরের প্রধান কাজ।

২) প্রোটোপ্লাজম : একটি প্রোটোপ্লাজম প্রধানত কোষঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস সমন্বয়ে গঠিত। প্রোটোপ্লাজম কোষের অর্ধতরল, জেলির মতো আঠালো ও দানাদার বর্ণহীন সজীব অংশ। প্রোটোপ্লাজমের নানাবিধ বিক্রিয়ার ফলে জীবনের বৈশিষ্ট্যগুলো পরিলক্ষিত হয়। এটি বিভিন্ন জৈব ও অজৈব যৌগ সমন্বয়ে গঠিত। প্রোটোপ্লাজমে পানির পরিমাণ সাধারণত শতকরা ৬৭ থেকে ৯০ ভাগ।

ক) কোষ ঝিল্লি বা প্লাজমামেমব্রেন: পুরো প্রোটোপ্লাজমকে ঘিরে যে নরম পর্দা দেখা যায় তাকে কোষঝিল্লি বা প্লাজমামেমব্রেন বলে। প্লাজমামেমব্রেন দ্বিস্তরবিশিষ্ট ফসফোলিপিড দ্বারা গঠিত। বর্তমানে এটিকে বায়োমেমব্রেন বলা হয়। এটি কোষের ভেতর ও বাইরের মধ্যে পানি, খনিজ পদার্থ ও গ্যাস এর পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করে।

খ) সাইটোপ্লাজম: কোষের প্রোটোপ্লাজমের নিউক্লিয়াসের বাহিরে জেলির মতো অংশকে সাইটোপ্লাজম বলে। সাইটোপ্লাজমের অভ্যন্তরে অবস্থিত কোষের বিভিন্ন জৈবনিক ক্রিয়াকলাপের সাথে সংশ্লিষ্ট সজীব বস্তুসমূহকে একত্রে সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু বলা হয়। একটি আদর্শ কোষে সাধারণত নিম্নলিখিত অঙ্গাণুগুলো দেখা যায়- ১. প্লাস্টিড, ২. মাইটোকন্ড্রিয়া, ৩. গলজি বডি, ৪. এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা, ৫. রাইবোজোম, ৬. লাইসোজোম ৭. সেন্ট্রিওল ও ৮. কোষগহ্বর।

Figure: গঠন-২.১: উদ্ভিদকোষের আণুবীক্ষণিক চিত্র

লেবেল: প্লাজমা মেমব্রেন, সাইটোপ্লাজমীয় ধাত্র, মসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা, অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা, নিউক্লিয়াস (নিউক্লিয়ার রন্ধ্র, নিউক্লিওলাস, নিউক্লিয়ার আবরণী, ক্রোমাটিন তন্তু, নিউক্লিওপ্লাজম), আন্তঃকোষীয় ফাঁকা, গলজি বস্তু, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, লাইসোজোম, কোষগহ্বর, কোষপ্রাচীর বর্ণনা: একটি আদর্শ উদ্ভিদকোষের আণুবীক্ষণিক চিত্র। এর বাইরে পুরু কোষপ্রাচীর ও ভেতরের দিকে প্লাজমা মেমব্রেন রয়েছে। কোষের কেন্দ্রে একটি সুবিশাল কোষগহ্বর এবং পাশে গোলাকার নিউক্লিয়াস অবস্থিত। সাইটোপ্লাজমে ক্লোরোপ্লাস্ট, মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজি বস্তু ও এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা দেখা যাচ্ছে।

Figure: গঠন-২.২: প্রাণিকোষের আণুবীক্ষণিক চিত্র

লেবেল: মাইক্রোভিলাস, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম (মসৃণ), মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজি বস্তু, সেন্ট্রোসোম, নিউক্লিয়াস (নিউক্লিয় পর্দা, নিউক্লিওলাস, ক্রোমাটিন, নিউক্লিওপ্লাজম), এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম (অমসৃণ), লাইসোজোম, গহ্বর বর্ণনা: একটি প্রাণিকোষের আণুবীক্ষণিক চিত্র। কোষের উপরিভাগে মাইক্রোভিলাস এবং কোষের ভেতরে নিউক্লিয়াস, সেন্ট্রোসোম, গলজি বস্তু, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ও ক্ষুদ্র গহ্বর চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে কোনো কোষপ্রাচীর বা প্লাস্টিড নেই।

Printed page 12

পাঠ ৩-৫ : সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু

১) প্লাস্টিড : সজীব উদ্ভিদকোষের সাইটোপ্লাজমে বর্ণহীন অথবা বর্ণযুক্ত গোলাকার বা ডিম্বাকার অঙ্গাণুকে প্লাস্টিড বলে। সাধারণত প্রাণিকোষে প্লাস্টিড নেই। এ অঙ্গাণুটি উদ্ভিদকোষের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। প্লাস্টিড উদ্ভিদের খাদ্য সংশ্লেষে, বর্ণ গঠনে এবং খাদ্য সঞ্চয়ে মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করে। রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে প্লাস্টিডকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ক্রোমোপ্লাস্টিড বা বর্ণযুক্ত প্লাস্টিড এবং লিউকোপ্লাস্টিড বা বর্ণহীন প্লাস্টিড। ক্রোমোপ্লাস্টিড দুই রকম- ক্লোরোপ্লাস্ট ও ক্রোমোপ্লাস্ট। এদের মধ্যে তিনটি অংশ পরিলক্ষিত হয়। যথা- আবরণী, স্ট্রোমা এবং গ্রানা। প্লাস্টিডের মধ্যে ক্লোরোপ্লাস্টে সবুজ বর্ণের ক্লোরোফিল নামক রঞ্জক পদার্থ থাকায় সবুজ বর্ণ ধারণ করে। সালোকসংশ্লেষণে সহায়তা করা এর প্রধান কাজ।

Figure: চিত্র-২.৩: ক্লোরোপ্লাস্ট

লেবেল: ম্যাট্রিক্স, বহিঃস্তর, অন্তঃস্তর, স্ট্রোমা ল্যামেলাম, গ্রানাম, গ্রানামচক্র বা থাইলাকয়েড, গ্রানাম ল্যামেলাম বর্ণনা: দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী দ্বারা ঘেরা ক্লোরোপ্লাস্টের ভেতরের গঠন দেখানো হয়েছে। এতে বহিঃস্তর, অন্তঃস্তর, তরল ম্যাট্রিক্স, স্তূপাকারে সাজানো গ্রানাম বা গ্রানামচক্র (থাইলাকয়েড) এবং সংযোগকারী স্ট্রোমা ল্যামেলাম ও গ্রানাম ল্যামেলাম চিহ্নিত রয়েছে।

ক্রোমোপ্লাস্ট ফুলের পাপড়ি ও ফলের ত্বকে বিভিন্ন বর্ণবৈচিত্র্য সৃষ্টি করে। সবুজ ফল পাকার সময় ক্লোরোপ্লাস্ট ক্রোমোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হয়ে বর্ণবৈচিত্র্য সৃষ্টি করে। টমেটোর যে লাল টকটকে রং দেখ তা এ ক্রোমোপ্লাস্টের লাইকোপেন নামক রঞ্জক পদার্থের জন্য হয়। ক্রোমোপ্লাস্টে লাল, কমলা ও হলুদ বর্ণের ক্যারোটিনয়েড নামক রঞ্জক পদার্থ থাকে।

উদ্ভিদের যেসব অংশে আলো পৌঁছায় না, সেসব অংশের কোষে লিউকোপ্লাস্টিড থাকে। যেমন মূলের কোষের প্লাস্টিড। সূর্যালোকের প্রভাবে এ প্লাস্টিডগুলো রূপান্তরিত হয়ে ক্লোরোপ্লাস্টে পরিণত হয়। তোমরা নিশ্চয় লক্ষ করে থাকবে, যদি সবুজ দূর্বাঘাস ইট দিয়ে কিছুদিন ঢাকা থাকে তবে ঘাসগুলো সাদা হয়ে যায়, কারণ ক্লোরোপ্লাস্টগুলো লিউকোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে ইট সরিয়ে নিলে সূর্যের আলোয় ঘাসগুলো আবার সবুজ বর্ণের হয়ে যায়। এতে প্রমাণিত হয় যে এক ধরনের প্লাস্টিড রূপান্তরিত হয়ে অন্য ধরনের প্লাস্টিডে পরিণত হয়।

২) মাইটোকন্ড্রিয়া: সজীব উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষের সাইটোপ্লাজমে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট দণ্ডাকার অঙ্গাণুগুলোকে মাইটোকন্ড্রিয়া বলে (এক বচনে মাইটোকন্ড্রিয়ন)। প্রতিটি মাইটোকন্ড্রিয়ন দ্বিস্তর পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। এর বহিঃপর্দাটি মসৃণ। কিন্তু অন্তঃপর্দাটি আঙুলের মতো অনেক ভাঁজ সৃষ্টি করে। এদেরকে ক্রিস্টি বলে।

Figure: চিত্র-২.৪: মাইটোকন্ড্রিয়ন

লেবেল: ঝিল্লি, ক্রিস্টি, অক্সিসোম, ম্যাট্রিক্স বর্ণনা: একটি মাইটোকন্ড্রিয়নের লম্বচ্ছেদ দেখানো হয়েছে। এর বাইরের মসৃণ ঝিল্লি, ভেতরের দিকে আঙুলের মতো ভাঁজযুক্ত ক্রিস্টি, ক্রিস্টির গায়ে গোলাকার অক্সিসোম এবং ভেতরের তরল ম্যাট্রিক্স চিহ্নিত করা হয়েছে।

জীবের যাবতীয় বিপাকীয় কাজের শক্তির উৎস হচ্ছে মাইটোকন্ড্রিয়া। এ জন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের ‘পাওয়ার হাউস’ বলে। সবুজ উদ্ভিদকোষে এর সংখ্যা বেশি তবে প্রাণীর যকৃত কোষে এর সংখ্যা সহস্রাধিক।

৩) গলজি বডি : এগুলো পর্দঘেরা গোলাকার বা সূত্রাকার নালিকাসমৃদ্ধ অঙ্গাণু যা নিউক্লিয়াসের কাছে অবস্থান করে। উৎসেচক, হরমোন ইত্যাদি ক্ষরণ করা এর কাজ।

Printed page 13

  1. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম: সাইটোপ্লাজমে একক ঝিল্লিবেষ্টিত জালিকাকার অঙ্গাণু থাকে যা এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম। কোষে মসৃণ ও অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম পাওয়া যায়।

৫) রাইবোজোম: সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় বা এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের গায়ে দানার মতো রাইবোজোম থাকে। রাইবোজোমে প্রোটিন সংশ্লেষিত হয়।

৬) লাইসোজোম: প্রাণিকোষের সাইটোপ্লাজমে দ্বিস্তরবিশিষ্ট লিপোপ্রোটিনের মেমব্রেনে আবৃত লাইসোজোম থাকে। এটি হাইড্রোলাইটিক এনজাইম ধারণ করে।

৭) সেন্ট্রিওল : প্রাণিকোষের নিউক্লিয়াসের কাছে দুটি ফাঁপা নলাকার বা দণ্ডাকার অঙ্গাণু দেখা যায়, তাদের সেন্ট্রিওল বলে। সেন্ট্রিওল সাধারণত একটি স্বচ্ছ দানাবিহীন পদার্থ দ্বারা আবৃত থাকে। এ অবস্থায় এটিকে সেন্ট্রোজোম বলে। উদ্ভিদকোষে সেন্ট্রিওল সাধারণত থাকে না, তবে নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদকোষে যেমন- ছত্রাকে থাকে। প্রাণিকোষ বিভাজনের সময় অ্যাস্টার গঠন করা সেন্ট্রিওলের প্রধান কাজ।

৮) কোষগহ্বর: কোষের সজীব অঙ্গাণু এবং নির্জীব বস্তুসমূহ সাইটোপ্লাজমের ধাত্রে (ম্যাট্রিক্সে) থাকে। উদ্ভিদ কোষের নির্জীব বস্তুসমূহের মধ্যে আছে বিভিন্ন রকমের সঞ্চিত পদার্থ, বর্জ্য পদার্থ ও ক্ষরিত পদার্থ। কোষের সাইটোপ্লাজমে তরল পদার্থপূর্ণ ছোট বড় গহ্বর থাকে তাদের কোষগহ্বর বলে। নানা প্রকার জৈব এসিড, লবণ, শর্করা, অমিষ ইত্যাদি কোষগহ্বরে দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। এদেরকে কোষরস বলে। প্রাণিকোষে সাধারণত কোষগহ্বর থাকে না তবে কোনো কোনো কোষে যদি থাকে তা আকারে খুব ছোট। উদ্ভিদকোষে কোষগহ্বর বেশি থাকে এবং আকারে বড় হয়। এ কারণে উদ্ভিদ কোষে নিউক্লিয়াস একপাশে এবং প্রাণিকোষে নিউক্লিয়াস মাঝে থাকে।

কাজ : চিত্র দেখে দলগতভাবে প্রাণী ও উদ্ভিদকোষের মধ্যে পার্থক্যগুলো পোস্টার কাগজে লিখে উপস্থাপন করো।

গ) নিউক্লিয়াস : প্রোটোপ্লাজমে পর্দা দিয়ে বেষ্টিত সর্বাপেক্ষা ঘন বস্তুকে নিউক্লিয়াস বলে।

প্রতিটি নিউক্লিয়াস চারটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত হয়- i. নিউক্লিয়ার মেমব্রেন বা নিউক্লিয়ার পর্দা ii. নিউক্লিওলাস iii. নিউক্লিও জালিকা iv. নিউক্লিওপ্লাজম।

কোষ বিভাজনের পূর্ব মুহূর্তে ইন্টারফেজ দশায় নিউক্লিয়াসের এই চারটি অংশ দেখা যায় যা নিচে আলোচনা করা হলো।

Figure: চিত্র-২.৫: নিউক্লিয়াসের বিভিন্ন অংশ

লেবেল: নিউক্লিয়ার মেমব্রেন/পর্দা, নিউক্লিওলাস, নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লিয়ার রন্ধ্র, নিউক্লিও জালিকা বর্ণনা: একটি আদর্শ নিউক্লিয়াসের চিত্র। বাইরের ছিদ্রযুক্ত দ্বিস্তরবিশিষ্ট নিউক্লিয়ার মেমব্রেন/পর্দা, নিউক্লিয়ার রন্ধ্র, ভেতরে ঘন গোলাকার নিউক্লিওলাস, সূক্ষ্ম সুতার মতো প্যাঁচানো নিউক্লিও জালিকা এবং তরল নিউক্লিওপ্লাজম চিহ্নিত রয়েছে।

i. নিউক্লিয়ার পর্দা : সজীব ও দ্বিস্তরবিশিষ্ট পর্দা দিয়ে প্রতিটি নিউক্লিয়াস আবৃত থাকে, তাকে নিউক্লিয়ার পর্দা বলে। নিউক্লিয়ার পর্দা অসংখ্যা ছিদ্রযুক্ত। এসব ছিদ্রের নাম নিউক্লিয়ার রন্ধ্র।

নিউক্লিয়ার পর্দা সাইটোপ্লাজম এর সাথে নিউক্লিয়াসের বিভিন্ন বস্তুর যোগাযোগ রক্ষা করে এবং নিউক্লিয়াসকে রক্ষণাবেক্ষণ করে।

ii. নিউক্লিওপ্লাজম : নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরস্থ নিউক্লিয়ার মেমব্রেন দিয়ে আবৃত স্বচ্ছ, দানাদার ও জেলির মতো অর্ধতরল পদার্থটির নাম নিউক্লিওপ্লাজম। এটি নিউক্লিওলাস ও ক্রোমোজোমের

Printed page 14

মাতৃকা বা ধারক হিসেবে কাজ করে এবং নিউক্লিয়াসের জৈবনিক কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে।

iii. নিউক্লিওলাস : নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে অবস্থিত ক্ষুদ্র, গোলাকার, উজ্জ্বল ও অপেক্ষাকৃত ঘন বস্তুটি নিউক্লিওলাস নামে পরিচিত। সাধারণত প্রতি নিউক্লিয়াসে একটি নিউক্লিওলাস থাকে।

iv. নিউক্লিওজালিকা বা ক্রোমাটিন তন্তু : নিউক্লিওপ্লাজমে ভাসমান অবস্থায় প্যাঁচানো সুতার মতো খাটো ও মোটা গঠনটি নিউক্লিওজালিকা বা ক্রোমাটিন জালিকা নামে পরিচিত। কোষ বিভাজনের সময় তন্তুময় গঠনটি খাটো ও মোটা হয়ে ক্রোমোজোম হিসেবে দৃশ্যমান হয়।

কাজ : একটি আলু কেটে সামান্য পানিতে কচলিয়ে সে পানির দুই-তিন ফোঁটা অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখ এবং চিত্রের সাথে মিলাও। এগুলো কি কোষের অঙ্গাণু নাকি অন্য বস্তু? সে সম্পর্কে ব্যাখ্যা দাও।

নতুন শব্দ – কোষপর্দা, প্রোটোপ্লাজম, সাইটোপ্লাজম, প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, লাইসোজোম, নিউক্লিক অ্যাসিড ও ক্রোমোজোম।

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.