Skip to content

Science chapter 3: External Morphology of Plants

উদ্ভিদের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য

  • Science
  • Textbook pages 22-31
  • 1 source
  • 17,975 characters of context

Textbook (verbatim transcription): External Morphology of Plants

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents11

Printed page 22

তৃতীয় অধ্যায়

উদ্ভিদের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য

কখনো কখনো উদ্ভিদের মূল, কাণ্ড ও পাতা এমনভাবে রূপান্তরিত হয় যে তাদের চেনাই যায় না। কেন এরা রূপান্তরিত হয় এবং কীভাবে তাদের চেনা যাবে এ অধ্যায়ে তা আলোচনা করা হবে।

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা

  • রূপান্তরিত মূলের গঠন ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • রূপান্তরিত কাণ্ডের গঠন ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • রূপান্তরিত পত্রের গঠন ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • রূপান্তরিত মূল, কাণ্ড ও পাতার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • রূপান্তরিত মূল, কাণ্ড ও পাতার চিত্র অঙ্কন করতে পারব;
  • আমাদের জীবনে রূপান্তরিত মূল, কাণ্ড ও পাতার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারব।

Printed page 23

পাঠ ১ : প্রধান মূলের রূপান্তর

মূলের প্রধান কাজ হলো গাছকে মাটির সঙ্গে আবদ্ধ রাখা। তবে প্রধান মূল কখনো বিশেষ কাজ সম্পাদনের জন্য রূপান্তরিত হতে পারে। এখন খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য প্রধান মূলের রূপান্তর সম্পর্কে আলোচনা করব। মূলা, শালগম আমরা সবাই দেখেছি এবং খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করেছি। এগুলো মূল না কাণ্ড? একটু লক্ষ কর। এদের গায়ে কি কোনো গিট বা পর্ব আছে? পাতা আছে? মুকুল আছে? না নেই। মাটির উপরে যে পাতা দেখা যায় তা মূলের উপরে অবস্থিত ক্ষুদ্র কাণ্ডের গা থেকে বেরিয়েছে। আকৃতিগত দিক থেকে রূপান্তরিত মূল চার প্রকার, যথা-

১। মূলাকৃতি মূল, ২। গাজরাকৃতি মূল ৩। শালগমাকৃতি মূল এবং ৪। কন্দাকৃতি মূল।

Figure: চিত্র-৩.১ : বিভিন্ন ধরনের রূপান্তরিত মূল, ক. মূলাকৃতি মূল, খ. গাজরাকৃতি মূল, গ. শালগমাকৃতি মূল, ঘ. কন্দাকৃতি মূল

লেবেল: ক, খ, গ, ঘ বর্ণনা: চারটি রূপান্তরিত প্রধান মূলের ছবি দেখানো হয়েছে—ক-তে মূলাকৃতি মূল (উভয় প্রান্ত সরু, মধ্যভাগ মোটা), খ-তে গাজরাকৃতি মূল (উপরের দিক মোটা, ক্রমশ নিচের দিকে সরু), গ-তে শালগমাকৃতি মূল (উপরের অংশ গোলাকার স্ফীত, নিচের অংশ হঠাৎ সরু), এবং ঘ-তে কন্দাকৃতি মূল (অনিয়মিতভাবে মোটা)।

মূলাকৃতি মূল: এরা খাদ্য সঞ্চয় করে তাই প্রধান মূল মোটা ও রসালো হয়। এই মূলের মধ্যভাগ মোটা কিন্তু দুই প্রান্ত ক্রমশ সরু। যেমন – মূলা।

গাজরাকৃতি মূল: এরা খাদ্য সঞ্চয় করে তাই প্রধান মূলটি মোটা ও রসালো হয়। এই মূলের উপরের দিক মোটা এবং নিচের দিকে ক্রমশ সরু হয়ে যায়। যেমন – গাজর।

শালগমাকৃতি মূল: এই ক্ষেত্রে প্রধান মূলটির উপরের অংশ খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে গোলাকার এবং নিচের অংশ হঠাৎ করে সরু হয়ে যায়। যেমন – শালগম।

কন্দাকৃতি মূল: খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে কখনো কখনো প্রধান মূলটি অনিয়মিতভাবে মোটা হয়। এদের কোনো নির্দিষ্ট আকার বা আকৃতি নেই। যথা- সন্ধ্যামালতি।

পাঠ ২-৪ : রূপান্তরিত অস্থানিক মূল

অস্থানিক মূল বিশেষ বিশেষ কার্য সাধনের জন্য পরিবর্তিত বা রূপান্তরিত হয়ে থাকে। অস্থানিক মূল সাধারণত তিন ধরনের কাজ করার জন্য রূপান্তরিত হয়ে থাকে, যথা- খাদ্য সঞ্চয়, যান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষা ও শারীরবৃত্তীয় কার্য সম্পাদন।

Printed page 24

খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য রূপান্তর : বিভিন্ন ধরনের অস্থানিক মূল ভবিষ্যতের জন্য খাদ্য সঞ্চয় করে স্ফীত হয় এবং বিভিন্ন আকার ধারণ করে, যেমন মিষ্টি আলুর কন্দাল মূল, শতমূলী ও ডালিয়ার গুচ্ছিত কন্দ মূল ও করলার মালাকৃতির মূল ইত্যাদি। মিষ্টি আলুর কন্দাল অস্থানিক মূল মাটির কাছাকাছি কাণ্ডের পর্ব হতে বের হয় এবং খাদ্য সঞ্চয় করার ফলে অনিয়মিত ভাবে স্ফীত হয়ে অনির্দিষ্ট আকার ধারণ করে। খাদ্য সঞ্চয় করা এই মূলের পরিবর্তিত কাজ।

কন্দাল মূল (চিত্র-৩.২): অস্থানিক মূল কখনো অনিয়মিতভাবে স্ফীত হয়, যথা- মিষ্টি আলু।

Figure: চিত্র-৩.২: কন্দাল মূল

লেবেল: পর্ব, কাণ্ড, কন্দাল বর্ণনা: একটি মিষ্টি আলুর উদ্ভিদের পর্ব থেকে বের হওয়া অনিয়মিতভাবে স্ফীত কন্দাল মূল দেখানো হয়েছে।

গুচ্ছিত কন্দমূল (চিত্র-৩.৩): ইহা কন্দাল মূলের মতো খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য অনিয়মিতভাবে স্ফীত হয়। তবে স্ফীত মূলগুলো একটি গুচ্ছে অবস্থান করে কারণ, এক গুচ্ছ অস্থানিক মূলের সবগুলোই খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য কন্দের মতো স্ফীত হয়ে থাকে এই জন্য এই মূলকে গুচ্ছিত কন্দমূল বলা হয়। খাদ্য সঞ্চয়ই এর প্রধান কাজ। উদাহরণ- শতমূলী ও ডালিয়া।

Figure: চিত্র-৩.৩: ডালিয়ার গুচ্ছিত কন্দমূল

লেবেল: কাণ্ডের গোড়া, মূলের স্ফীত অংশ বর্ণনা: ডালিয়া উদ্ভিদের কাণ্ডের গোড়া থেকে গুচ্ছাকারে বের হওয়া কয়েকটি স্ফীত কন্দমূল দেখানো হয়েছে।

নডুলুজ মূল (চিত্র-৩.৪): যখন মূলের অগ্রভাগ খাদ্য সঞ্চয় করে স্ফীত হয়, যেমন- আম আদা।

Figure: চিত্র-৩.৪: নডুলুজ মূল

লেবেল: কাণ্ড, মূলের সরু অংশ, মূলের স্ফীত অংশ বর্ণনা: কাণ্ডের নিচ থেকে বের হওয়া মূলের অগ্রভাগগুলো খাদ্য সঞ্চয় করে স্ফীত হয়ে নডুল গঠন করেছে, গোড়ার দিকের অংশ সরু রয়েছে।

মালাকৃতির মূল (চিত্র-৩.৫): যখন কোনো অস্থানিক মূল পর্যায়ক্রমে স্ফীত ও সংকুচিত হয়, যথা- করলার মূল।

Figure: চিত্র-৩.৫: মালাকৃতি মূল

লেবেল: কাণ্ড বর্ণনা: কাণ্ডের নিচ থেকে উৎপন্ন অস্থানিক মূলগুলো পর্যায়ক্রমে স্ফীত ও সংকুচিত হয়ে মালার মতো আকার ধারণ করেছে।

যান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষার্থে রূপান্তর

এ মূল উদ্ভিদকে মাটির উপর খাড়াভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে, আরোহণ করতে বা পানিতে ভাসতে সাহায্য করে। এ জন্য অস্থানিক মূলের বিভিন্ন রকম রূপান্তর ঘটে থাকে, যেমন- স্তম্ভমূল, ঠেসমূল, আরোহী মূল, ভাসমান মূল ইত্যাদি।

স্তম্ভমূল: এই ধরনের অস্থানিক মূল কাণ্ড বা শাখা হতে উৎপন্ন হয়। এরা খাড়াভাবে নিচের দিকে নামতে নামতে মাটির মধ্যে প্রবেশ করে এবং মোটা হয়ে স্তম্ভের আকার ধারণ করে, যেমন- বট।

ঠেস মূল : কোনো কোনো উদ্ভিদের প্রধান কাণ্ড দুর্বল হওয়ার কারণে সোজাভাবে দাঁড়াতে পারে না। তাই কাণ্ডের গোড়ার দিক থেকে কতগুলো অস্থানিক মূল বের হয়ে তীর্যকভাবে মাটিতে প্রবেশ করে, যেমন – কেয়ার ঠেস মূল।

আরোহী মূল : এই মূল দুর্বল কাণ্ডযুক্ত উদ্ভিদের পর্ব হতে উৎপন্ন হয়ে অন্য কোনো উদ্ভিদ বা অবলম্বনকে আঁকড়ে ধরে এবং উদ্ভিদটিকে উপরে উঠতে সাহায্য করে, যেমন- পান।

Figure: চিত্র-৩.৬: আরোহী মূল

লেবেল: কাণ্ড, আরোহী মূল, অবলম্বন বর্ণনা: একটি আরোহী উদ্ভিদের কাণ্ডের পর্ব থেকে আরোহী মূল উৎপন্ন হয়ে অবলম্বনকে আঁকড়ে ধরে উপরে উঠছে।

Printed page 25

Figure: চিত্র-৩.৭ : বটের স্তম্ভমূল

লেবেল: স্তম্ভমূল, স্তম্ভমূল:শাখা-প্রশাখার অতিরিক্ত ভার বহন করে প্রদান করে। বর্ণনা: একটি বটগাছের শাখা-প্রশাখা থেকে খাড়াভাবে মাটিতে নেমে আসা স্তম্ভমূলগুলো অতিরিক্ত ভার বহন করছে।

Figure: চিত্র-৩.৮ : কেয়ার ঠেস মূল

লেবেল: কাণ্ড, ঠেস মূল, ঠেস মূল : পর্ব, পর্বমধ্য ও পাতা ধারন করে না। গাছকে সোজাভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে বর্ণনা: কেয়া গাছের কাণ্ডের গোড়ার দিক থেকে তীর্যকভাবে মাটিতে প্রবেশ করা কয়েকটি ঠেস মূল দেখানো হয়েছে।

শারীরবৃত্তিয় কার্য সাধনের জন্য রূপান্তর

মূলের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় কাজ ছাড়াও বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে শারীরবৃত্তীয় কাজ সমাধা করার জন্য অস্থানিক মূলের রূপান্তর ঘটে থাকে।

বায়বীয় মূল: এই প্রকার মূল বাতাস থেকে জলীয় বাষ্প গ্রহণ করে। এদের বায়বীয় মূল বলে। যথা- রাস্না।

Figure: চিত্র-৩.৯ : রাস্নার বায়বীয় মূল

লেবেল: বায়বীয় মূল, বায়বীয় মূল: জলীয় বাষ্প শোষণ ও সঞ্চিত করে। বর্ণনা: রাস্না উদ্ভিদের গুচ্ছবদ্ধ বায়বীয় মূল দেখানো হয়েছে।

চোষক মূল : পরজীবী উদ্ভিদে ক্লোরোফিল থাকে না তাই খাদ্যের জন্য আশ্রয়দাতা উদ্ভিদের দেহে বিশেষ ধরনের মূল প্রবেশ করিয়ে খাদ্যরস শোষণ করে থাকে। এ মূলগুলোকে চোষক মূল বলে, যেমন- স্বর্ণলতা।

Figure: চিত্র-৩.১০: স্বর্ণলতার চোষক মূল

লেবেল: চোষক মূল, পোষকের কাণ্ড, পরজীবী মূল, চোষক মূল : পোষক উদ্ভিদ থেকে খাদ্য শোষণ করে। বর্ণনা: পোষক কাণ্ডের সাথে জড়িয়ে থাকা পরজীবী স্বর্ণলতার কাণ্ড থেকে চোষক মূল পোষকের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে।

শ্বাসমূল : সমুদ্র উপকূলে লবণাক্ত ও কর্দমাক্ত মাটিতে উদ্ভিদের প্রধান মূল হতে শাখা মূল মাটির উপরে খাড়াভাবে উঠে আসে। এই সকল মূলে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে। এই ধরনের রূপান্তরিত মূলকে শ্বাসমূল বা নিউমাটোফোর বলে। যেমন- সুন্দরী, গরান ইত্যাদি।

Figure: চিত্র-৩.১১ : শ্বাসমূল

লেবেল: শ্বাসমূল, শ্বাসমূল : ছোট ছোট ছিদ্রগুলো শ্বাসকার্যে সহযোগিতা করে বর্ণনা: গাছের গোড়ার চারপাশের মাটি থেকে খাড়াভাবে ওপরে উঠে আসা বহু শ্বাসমূল এবং মূলের গায়ে ছোট ছিদ্র দেখানো হয়েছে।

Printed page 26

জনন মূল : কোনো কোনো উদ্ভিদের মূল প্রজননে অংশগ্রহণ করে থাকে। যেমন– মিষ্টি আলু, পটল, কাকরোল ইত্যাদি।

Figure: চিত্র-৩.১২ : জননমূল

লেবেল: কাঁকরোলের জননমূল বর্ণনা: কাঁকরোল উদ্ভিদের মাটির নিচের স্ফীত জননমূল দেখানো হয়েছে।

পাঠ ৫-৭ : রূপান্তরিত কাণ্ড

তোমরা জান, কাণ্ড সাধারণত মাটির উপরে অবস্থান করে এবং পাতা, ফুল ও ফল ধারণ করে। কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে সাধারণ কাজ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কাজ সম্পন্ন করার জন্য কাণ্ডের আকৃতিগত ও অবস্থানগত পরিবর্তন ঘটে। এ ধরনের পরিবর্তনকে কাণ্ডের রূপান্তর বলে। অবস্থান অনুযায়ী রূপান্তরিত কাণ্ড তিন প্রকার, যথা- ১) ভূ- নিম্নস্থ ২) অর্ধ বায়বীয় ও ৩) বায়বীয়।

ভূ নিম্নস্থ রূপান্তরিত কাণ্ড

প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকা, খাদ্য সঞ্চয় এবং অঙ্গজ উপায়ে বংশবিস্তার করার জন্য কিছু কিছু উদ্ভিদের কাণ্ড মাটির নিচে বৃদ্ধি পায়। এ ধরনের কাণ্ডকে ভূনিম্নস্থ রূপান্তরিত কাণ্ড বলে। এরা চার প্রকারের, যথা- স্ফীত কন্দ, মৌলকাণ্ড বা রাইজোম, কন্দ ও গুঁড়িকন্দ।

টিউবার বা স্ফীত কন্দ : গোল আলু স্ফীতকন্দের উদাহরণ। স্ফীত কন্দে পর্ব, পর্বমধ্য, শল্কপত্র ও কাক্ষিক মুকুল থাকে। শল্কপত্রের কক্ষে গর্তের মতো অংশকে “চোখ” বলে। অনুকূল ঋতুতে “চোখ” হতে কাক্ষিক মুকুল বৃদ্ধি পেয়ে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি করে। খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য স্ফীত হয়ে এরা গোলাকার রূপ ধারণ করে।

Figure: চিত্র-৩.১৩ : টিউবার

বর্ণনা: একটি গোল আলুর স্ফীত কন্দ বা টিউবার দেখানো হয়েছে যার গায়ে গর্তের মতো একাধিক চোখ রয়েছে।

রাইজোম : আদা, হলুদ প্রভৃতি উদ্ভিদের কাণ্ড রাইজোম জাতীয়। এরা মাটির নিচে খাদ্য সঞ্চয় করে ভূমির সাথে সমান্তরাল বা খাড়াভাবে অবস্থান করে এদের সুস্পষ্ট পর্ব ও পর্বমধ্য থাকে। পর্ব হতে শল্কপত্র ও অস্থানিক মূল এবং শল্কপত্রের কক্ষে কাক্ষিক মুকুল উৎপন্ন হয়।

Figure: চিত্র-৩.১৪ : রাইজোম

বর্ণনা: ভূমির সমান্তরালে বৃদ্ধি পাওয়া আদার রাইজোম ও তার থেকে বের হওয়া মূল দেখানো হয়েছে।

কন্দ : পিঁয়াজ, রসুন ইত্যাদি উদ্ভিদের কাণ্ড এই প্রকারের। এদের কাণ্ডটি (কন্দ) খুবই ক্ষুদ্র, গোলাকার ও উত্তল। পর্ব ও পর্বমধ্যগুলো সংকুচিত। পুরু ও রসালো শল্কপত্রগুলো এমনভাবে অবস্থান করে যে কন্দটিকে দেখা যায় না। এ কাণ্ডের নিচের দিক থেকে প্রচুর অস্থানিক গুচ্ছমূল বের হয়।

Figure: চিত্র-৩.১৫ : কন্দ

লেবেল: শীর্ষ মুকুল, রসাল শল্কপত্র, কাণ্ড, অস্থানিক মূল, কাক্ষিক মুকুল বর্ণনা: পিঁয়াজের কন্দের লম্বচ্ছেদ; ওপরে রসাল শল্কপত্র ও শীর্ষ মুকুল, নিচে সংকুচিত কাণ্ড, কাক্ষিক মুকুল এবং অস্থানিক গুচ্ছমূল দেখানো হয়েছে।

Printed page 27

গুঁড়িকন্দ : ওলকচু গুঁড়িকন্দের উদাহরণ। এ ধরনের কাণ্ড বেশ বড়। আকৃতিতে প্রায় গোলাকার। এতে সুস্পষ্ট পর্ব ও পর্বমধ্য থাকে। শল্কপত্রের কক্ষে উৎপন্ন পার্শ্ব বা কাক্ষিক মুকুলগুলি বড়ো হয় এবং শিশু গুঁড়িকন্দের সৃষ্টি করে।

Figure: চিত্র-৩.১৬ : গুঁড়িকন্দ

লেবেল: চিত্র : কন্দ, শল্কপত্র, কাক্ষিক মুকুল, অস্থানিক মূল বর্ণনা: ওলকচুর গুঁড়িকন্দ দেখানো হয়েছে, যার গায়ে শল্কপত্র, কাক্ষিক মুকুল এবং নিচে অস্থানিক মূল রয়েছে।

অর্ধবায়বীয় রূপান্তরিত কাণ্ড

নরম কাণ্ডযুক্ত (বিরুৎ) উদ্ভিদে এক ধরনের বিশেষ শাখা উৎপন্ন হয়। এ শাখাগুলো অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি করে থাকে। মাটির উপরে বা সামান্য নিচে অবস্থিত এ ধরনের দুর্বল শায়িত রূপান্তরিত কাণ্ডকে অর্ধবায়বীয় কাণ্ড বলে। এরা চার প্রকারের হতে পারে।

রানার বা ধাবক: থানকুনি, দুর্বাঘাস, আমরুল ইত্যাদি উদ্ভিদের কাণ্ডের নিচের পর্বের কাক্ষিক মুকুল থেকে যে শায়িত শাখা জন্মায় তাকে ধাবক বলে।

Figure: চিত্র-৩.১৭ : ধাবক

লেবেল: রানার, অস্থানিক মূল বর্ণনা: মাটির উপর দিয়ে বিস্তৃত রানার বা ধাবক শাখা এবং পর্ব থেকে উৎপন্ন অস্থানিক মূল দেখানো হয়েছে।

স্টোলন বা বক্র ধাবক : এরা এক বিশেষ ধরনের ধাবক। কচু উদ্ভিদের গোড়া থেকে লম্বা শাখা বের হয়। এ শাখার শুধু পর্বগুলি অস্থানিক মূলের সাহায্যে মাটি ধরে রাখে বাকি শাখাটি বক্রভাবে অবস্থান করে। কক্ষে সৃষ্ট মুকুল থেকে পরে নূতন উদ্ভিদ জন্মায়।

Figure: চিত্র-৩.১৮: বক্র ধাবক

বর্ণনা: কচু গাছের গোড়া থেকে ধনুকের মতো বাঁকা হয়ে বের হওয়া বক্র ধাবক বা স্টোলন দেখানো হয়েছে।

অফসেট: টোপাপানা, কচুরিপানা নামক জলজ উদ্ভিদের পর্বমধ্যগুলো ছোট ও মোটা হওয়ার কারণে কাণ্ডকে খর্বাকৃতি দেখায়। এদের অফসেট বলে।

Figure: চিত্র-৩.১৯ অফসেট

বর্ণনা: কচুরিপানা উদ্ভিদের খর্বাকৃতির পর্বমধ্যযুক্ত অফসেট কাণ্ড দেখানো হয়েছে।

সাকার বা ঊর্ধ্ব ধাবক : চন্দ্রমল্লিকা, বাঁশ প্রভৃতি উদ্ভিদের শায়িত কাক্ষিক মুকুল থেকে উৎপন্ন হয়ে শাখাটির অগ্রভাগ মাটির উপরে চলে আসে এবং নূতন উদ্ভিদ উৎপন্ন করে।

Figure: চিত্র-৩.২০ : ঊর্ধ্ব ধাবক

বর্ণনা: মাটির নিচ দিয়ে বর্ধিত হয়ে শাখাটির অগ্রভাগ মাটির উপরে চলে আসা সাকার বা ঊর্ধ্ব ধাবক দেখানো হয়েছে।

বায়বীয় রূপান্তরিত কাণ্ড

এ সকল কাণ্ড মাটির উপরে স্বাভাবিক কাণ্ডের মতো অবস্থান করে কিন্তু বিশেষ ধরনের কাজ যেমন- খাদ্য তৈরি, অঙ্গজ প্রজনন, আত্মরক্ষা, আরোহ ইত্যাদি কাজের জন্য রূপান্তরিত হয়ে থাকে। এরা চার প্রকারের হতে পারে।

ফাইলোক্ল্যাড বা পর্ণ কাণ্ড : ফণীমনসা জাতীয় উদ্ভিদটিই এ ধরনের কাণ্ডের উদাহরণ। এ ধরনের কাণ্ড পাতার মত চ্যাপ্টা ও সবুজ, যার ফলে এরা খাদ্য তৈরি করতে পারে। পাতাগুলো কাঁটায় পরিণত হয়ে উদ্ভিদের আত্মরক্ষার কাজ করে।

Printed page 28

থর্ন বা শাখা কণ্টক : অনেক সময় কাক্ষিক মুকুল শাখা মুকুল তৈরি না করে শক্ত ও সুঁচালো কাঁটায় রূপান্তরিত হয়। বেল, ময়না কাঁটা, কাঁটা মেহেদি ইত্যাদি উদ্ভিদে কাঁটার মতো শাখা কণ্টক দেখা যায়।

Figure: চিত্র-৩.২১: পর্ণ কাণ্ড

লেবেল: কণ্টক পাতা, ফাইলোক্ল্যাড বর্ণনা: ফণীমনসার সবুজ ও চ্যাপ্টা পর্ণ কাণ্ড এবং তার গায়ে থাকা কণ্টক পাতা দেখানো হয়েছে।

Figure: চিত্র-৩.২২: শাখা কণ্টক

লেবেল: শাখা আকর্ষী বর্ণনা: পাতার কক্ষ থেকে উৎপন্ন প্যাঁচানো শাখা আকর্ষী দেখানো হয়েছে।

Figure: চিত্র-৩.২৩: শাখা আকর্ষী

বর্ণনা: কাণ্ডের শাখা থেকে উৎপন্ন শক্ত ও তীক্ষ্ণ কাঁটা বা কণ্টক দেখানো হয়েছে।

Figure: চিত্র-৩.২৪ : বুলবিল

লেবেল: বুলবিল, পাতা, পর্ব বর্ণনা: পাতার কক্ষে কাক্ষিক মুকুল স্ফীত হয়ে মাংসল পিণ্ডে পরিণত হওয়া বুলবিল দেখানো হয়েছে।

স্টেম টেনড্রিল বা শাখা আকর্ষী: ঝুমকোলতা, হাড়জোড়া ইত্যাদি দুর্বল আরোহী উদ্ভিদের পত্রকক্ষ থেকে সুতার মতো সরু, লম্বা ও প্যাঁচানো যে অংশগুলো বের হয় তাকে শাখা আকর্ষী বলে। আকর্ষীতে পাতা উৎপন্ন হয় না ।

বুলবিল: কোনো কোনো আরোহী উদ্ভিদের কাক্ষিক মুকুল শাখায় পরিণত না হয়ে প্রচুর খাদ্য সঞ্চয় করে গোলাকার মাংসপিন্ডের মতো আকার ধারণ করে। এরাই বুলবিল। যেমন : গাছ আলু।

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.