Science chapter 13: Natural Environment and Pollution
প্রাকৃতিক পরিবেশ ও দূষণ
- Science
- Textbook pages 135-145
- 1 source
- 17,317 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Natural Environment and Pollution
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents19ShowHide
- প্রাকৃতিক পরিবেশ ও দূষণ
- পাঠ ১: পরিবেশ দূষণ
- পাঠ ২ : পরিবেশের উপাদানসমূহের দূষণের কারণ
- পাঠ ৩-৪ : মাটিদূষণ
- মাটিদূষণের কারণ ও উৎস
- পাঠ ৫-৬ : পানিদূষণ
- পানি দূষণের কারণ এবং উৎস
- পাঠ ৭-৮ : বায়ুদূষণ
- বায়ুদূষণের কারণ এবং উৎস
- পাঠ ৯ : দূষণের প্রভাব
- মাটিদূষণের প্রভাব
- পানিদূষণের প্রভাব
- বায়ুদূষণের প্রভাব
- পাঠ ১০ : দূষণ প্রতিরোধ ও পরিবেশ সংরক্ষণ
- এ অধ্যায়ে আমরা যা শিখলাম
- নমুনা প্রশ্ন
- বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
- সৃজনশীল প্রশ্ন
- সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন
Printed page 135
ত্রয়োদশ অধ্যায়
প্রাকৃতিক পরিবেশ ও দূষণ
আমাদের চারপাশের সব জড় ও জীবকে নিয়ে গড়ে উঠেছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। তোমরা জানো বিভিন্ন জড় ও জীবের মধ্যে রয়েছে সম্পর্ক। আবার জীব ও পরিবেশের অন্যান্য অংশের মধ্যেও রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক, যার ফলে আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে বিচিত্র সব কর্মকাণ্ড। পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করে, যার জন্য পরিবেশে সে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালায়। কোনো একটি পরিবেশে মানুষ যখন এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালায়, তখন সেখানকার উপাদানসমূহের উপর বিভিন্ন প্রভাব পড়ে।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা
- পরিবেশ দূষণ ব্যাখ্যা করতে পারব;
- পরিবেশের উপাদানসমূহের দূষণের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব;
- পরিবেশের উপাদানের উপর দূষণের প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারব;
- পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধের উপায় ব্যাখ্যা করতে পারব;
- পরিবেশ সংরক্ষণে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টিতে উদ্যোগী হব।
- পরিবেশ দূষণ এবং এর প্রভাব পোস্টারে উপস্থাপন করতে পারব।
Printed page 136
পাঠ ১: পরিবেশ দূষণ
সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে আমাদের চারপাশের পরিবেশ পরিবর্তিত হচ্ছে। মানুষ তার প্রয়োজন মেটানোর জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করছে। প্রাকৃতিক অথবা মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, এই উভয় কারণেই পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের পরিবর্তন ঘটতে পারে এবং এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। ফলে মানুষ, উদ্ভিদ এবং অন্যান্য প্রাণীর জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসকল ঘটনাকে আমরা বলি পরিবেশ দূষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবেশকে বলি দূষিত পরিবেশ।
Figure: চিত্র-১৩.১: দূষিত পরিবেশ
বর্ণনা: একটি দূষিত শহরের দৃশ্য। রাস্তার পাশে উন্মুক্ত ডাস্টবিন থেকে আবর্জনা উপচে পড়ছে এবং পাশে একটি কুকুর দাঁড়িয়ে আছে। রাস্তায় যানবাহন থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে এবং একজন পথচারী নাকে-মুখে রুমাল চেপে পথ চলছেন। দূরে কলকারখানার চিমনি থেকে কালো ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে।
কাজ: পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে জানা। প্রয়োজনীয় উপকরণ: নোট খাতা ও কলম। পদ্ধতি: তোমার এলাকা ও স্কুলের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করো। পরিবেশে কোন প্রকার দূষণ ঘটেছে কি না তা লক্ষ্য কর এবং শনাক্ত করো। যে সকল দূষণ তুমি শনাক্ত করেছ, সে সম্পর্কে শ্রেণিতে আলোচনা করো।
ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীব থেকে শুরু করে সকল প্রকার জীব ও মানুষের বিচরণ পৃথিবীর এই পরিবেশে। পরিবেশের কোনো অংশই আজ দূষণমুক্ত নয়। মানুষ শুধু তার নিজের পরিবেশকেই দূষিত করছে না, সকল জীব ও তার পরিবেশও এই দূষণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবেশ দূষণের ফলে মানুষসহ সকল উদ্ভিদ ও প্রাণির জীবন ধারণে বিঘ্ন ঘটেছে। দূষণ কেন ঘটছে? কিছু ক্ষতিকারক উপাদান প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ব্যবহারের ফলে আমাদের পরিবেশ দূষিত করছে। সেগুলোকে আমরা দূষক (pollutant) বলি। বিভিন্ন কারখানা, তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের চিমনি এবং যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া, জমিতে ব্যবহৃত কীটনাশক, রাসায়নিক সার, বিভিন্ন আবর্জনা, পলিথিন, প্লাস্টিক ইত্যাদি হলো দূষকের উদাহরণ। এ সকল দূষক বিভিন্নভাবে পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানকে দূষিত করছে।
Printed page 137
পাঠ ২ : পরিবেশের উপাদানসমূহের দূষণের কারণ
পরিবেশ প্রধানত দুটো উপাদান নিয়ে গঠিত। জীব এবং জড় উপাদান। তোমরা জানো সকল উদ্ভিদ ও প্রাণী নিয়ে পরিবেশের জীব উপাদান গঠিত। আবার জড় উপাদানের মধ্যে রয়েছে মাটি, পানি, বায়ুসহ পৃথিবীর অন্যান্য সকল জড়বস্তু। দূষণের ফলে পরিবেশের সকল জীব ও জড় উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার ফলে মানুষসহ সকল জীব পরিবেশে হুমকির সম্মুখীন হয়। এখন প্রশ্ন হলো, পরিবেশ দূষিত হওয়ার কারণ কী?
কাজ: পরিবেশের উপাদানসমূহের দূষণ সম্পর্কে জানা। প্রয়োজনীয় উপকরণ: নোট খাতা, পোস্টার কাগজ ও মার্কার। পদ্ধতি: শিক্ষকের সহায়তায় দল গঠন করো। পূর্ববর্তী পাঠে তোমরা যে সকল দূষণ শনাক্ত করেছ, সেগুলোর কারণ কী, তা বিভিন্ন দলের সদস্যরা পর্যবেক্ষণ করো। পরিবেশের এ সকল উপাদান দূষিত হওয়ার উৎসসমূহ খুঁজে বের করো। দূষণের কারণ এবং উৎসসমূহ পোস্টার কাগজে লিখে শ্রেণিতে প্রদর্শন করো। প্রত্যেক দলের কাজ ঘুরে ঘুরে দেখ এবং শ্রেণি আলোচনায় অংশগ্রহণ করো।
পৃথিবীতে জনসংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে বাড়তি মানুষের জন্য প্রয়োজন হচ্ছে অতিরিক্ত খাদ্য, বাসস্থান, যানবাহন ইত্যাদি। চাষের জমি বাড়াতে ও বাসস্থান তৈরি করতে মানুষ বনজঙ্গল কেটে ফেলছে। ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাইঅক্সাইড বেড়ে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। তাছাড়া এরোসল ও রেফ্রিজারেটর থেকে নির্গত CFC (ক্লোরোফ্লোরো কার্বন) ওজোন স্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বাড়তি মানুষের জন্য খাদ্য ও বাসস্থান ছাড়াও প্রয়োজন নানা রকম পণ্যসামগ্রী। ফলে তারা গড়ে তুলছে বিভিন্ন শিল্পকারখানা। এসব শিল্পকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য দূষিত করছে পরিবেশ। এভাবেই পৃথিবীর পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। পরবর্তী পাঠগুলোতে তোমরা মাটি, পানি ও বায়ু, পরিবেশের এই তিনটি প্রধান উপাদানের দূষণ সম্পর্কে জানবে।
পাঠ ৩-৪ : মাটিদূষণ
আমাদের জীবন ধারণের জন্য মাটি অত্যাবশ্যক। মাটিতে বিভিন্ন ফসল ফলে, যা আমরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করি। শুধু খাদ্যই নয়, জীবন ধারণের সবকিছুই যেমন- বাসস্থান, বস্ত্র, ঔষধ ইত্যাদির জন্য আমরা যে উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল তাও মাটিতে জন্মায়। এ মাটিকেও আমরা বিভিন্নভাবে দূষিত করছি, যার ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে।
কাজ : মাটিদূষণ ও মাটিদূষণের উৎস সম্পর্কে জানা। প্রয়োজনীয় উপকরণ : নোট খাতা, পোস্টার কাগজ ও মার্কার। পদ্ধতি: তোমার এলাকার বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করো। এসব স্থানে কীভাবে মাটি দূষিত হচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ কর। মাটিদূষণের উৎসগুলো কী কী তা পর্যবেক্ষণ করে খাতায় লিখ। তোমার এলাকার মাটি দূষণরোধে সবাইকে সচেতন করতে হলে কী করা দরকার তা পোস্টার কাগজে লিখে শ্রেণিতে প্রদর্শন করো এবং আলোচনায় অংশ নাও।
Printed page 138
মাটিদূষণের কারণ ও উৎস
মাটিতে আমরা যে সকল আবর্জনা ও বর্জ্য পদার্থ ফেলি, এগুলোকে পচতে ব্যাকটেরিয়া সাহায্য করে। যার ফলে এগুলো মাটির সঙ্গে সহজে মিশে যায়। এছাড়াও আজকাল আমরা এমন সব দ্রব্যাদি ব্যবহার করছি যেগুলো মাটিতে পচে না, যেমন কাচ, পলিথিন, প্লাস্টিক, ইত্যাদি। এসকল অপচনশীল দ্রব্যাদি উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এসব জিনিস ছাড়াও মাটিকে আমরা বিভিন্নভাবে দূষিত করছি। এদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন আবর্জনাসহ কৃষিকাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার, কীটনাশকের ব্যবহার, শিল্পকারখানার বর্জ্য, ইত্যাদি।
Figure: চিত্র- ১৩.২ : মাটিদূষণ
বর্ণনা: মাটিতে ফেলা বিভিন্ন অপচনশীল আবর্জনা ও বর্জ্য পদার্থ যেমন পলিথিন, প্লাস্টিক ও অন্যান্য দ্রব্য স্তূপাকারে পড়ে থেকে মাটি দূষিত করছে।
পাঠ ৫-৬ : পানিদূষণ
বর্তমানে পৃথিবীতে সুপেয় পানির অভাব দেখা দিয়েছে। পানি ছাড়া জীবন চলে না। পানিদূষণ আমাদের জন্য একটি বড় চিন্তার বিষয়। পানি নানাভাবে দূষিত হচ্ছে। মানুষই পানি দূষণের জন্য দায়ী। এ সমস্যা শুধু আমাদের দেশে নয়, সারা বিশ্বেই এখন অত্যন্ত প্রকট।
কাজ : পানিদূষণ এবং পানিদূষণের কারণ এবং উৎস সম্পর্কে জানা। পদ্ধতি : তোমার এলাকায় বা এলাকার নিকটে বা গ্রামের বাড়িতে যদি কোনো জলাশয়, পুকুর বা নদী থাকে তা পরিদর্শন করো। লক্ষ করে দেখ এখানকার পানি কীভাবে দূষিত হচ্ছে। যদি তোমার এলাকা বা গ্রামের বাড়িতে এ ধরনের জলাশয় বা পুকুর অথবা নদী কিছুই না থাকে, তবে সহপাঠিদের সাথে আলোচনা করে জেনে নাও কীভাবে তাদের এলাকার পানি দূষিত হয়, নোট খাতায় লিখে রাখ। পানিদূষণের উৎস ও কারণ জেনে শ্রেণিতে আলোচনায় অংশ নাও।
Printed page 139
পানি দূষণের কারণ এবং উৎস
বিভিন্নভাবে পানি দূষিত হতে পারে। এ কারণগুলোর মধ্যে মানুষের কর্মকাণ্ড অন্যতম প্রধান কারণ। নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে পয়ঃনিষ্কাশন ও শিল্পবর্জ্য অনেক বেড়ে গিয়েছে। ফলে পানি দূষিত হচ্ছে। এছাড়াও কৃষিজ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য জমিতে ও জলাশয়ে বিভিন্ন কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলোও বিভিন্ন ভাবে জলাশয় থেকে নদী এবং নদী থেকে সাগরে পড়ছে। এছাড়া এগুলো মাটির নিচের পানির সঙ্গে মিশেও পানিকে দূষিত করছে। তোমরা লক্ষ করে থাকবে অনেকে পুকুরের পানিতে বাঁশ, বেত, পাট, ইত্যাদি ভিজিয়ে রাখে। গরু, মহিষ, ছাগল গোসল করায়। অনেকে বিভিন্ন জলাশয়ের উপর কাঁচা পায়খানা তৈরি করে। এসবই পানিকে দূষিত করে।
এছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণেও পানি দূষিত হয়ে থাকে। যেমন- তোমরা বন্যার কথা শুনেছ। বন্যার ফলে মানুষ ও গৃহপালিত পশু পাখির মলমূত্র পানিতে মিশে যায় এবং পানি দূষিত হয়। খাদ্যের উচ্ছিষ্ট, ময়লা আবর্জনা, জীবজন্তুর মৃতদেহ, গৃহস্থালির ব্যবহার্য নানাধরণের পচনশীল বস্তু যেখানে সেখানে ফেলা হয়। এগুলো পচে বিভিন্ন জীবাণুর সৃষ্টি হয়। এসব বর্জ্য বৃষ্টির পানির সাথে পুকুর, নদী ও জলাশয়ের পানিতে গিয়ে মিশে।
Figure: চিত্র-১৩.৩ : পানিদূষণ
বর্ণনা: একটি কারখানার পাইপ থেকে তরল শিল্পবর্জ্য সরাসরি জলাশয়ের পানিতে ফেলা হচ্ছে। কারখানার চিমনি দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে এবং পাড়ে একজন লোক দেখা যাচ্ছে।
পাঠ ৭-৮ : বায়ুদূষণ
আমাদের পৃথিবীর চারপাশে রয়েছে বায়ুমণ্ডল। এই বায়ুর মধ্যেই মানুষসহ অন্যান্য প্রাণী ও উদ্ভিদ বেঁচে আছে। মানুষের সৃষ্ট বিভিন্ন কারণে বায়ুর কোনো কোনো উপাদানের পরিমাণ বেড়ে বা কমে যাচ্ছে, যা পরিবেশ এবং আমাদের জন্য ক্ষতিকর। বায়ুর এ ধরনের পরিবর্তন বায়ুদূষণ নামে পরিচিত। আজ পৃথিবীর চারপাশের বায়ুমণ্ডল বিভিন্নভাবে দূষিত হচ্ছে।
Printed page 140
কাজ: বায়ুদূষণ এবং এর উৎস সম্পর্কে জানা। পদ্ধতি: তোমার এলাকার বায়ুদূষণের উৎস ও কারণগুলো পর্যবেক্ষণ করো। এগুলোর মধ্যে মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক কারণগুলো পৃথকভাবে পোস্টার কাগজে লিখ। এটি শ্রেণিতে প্রদর্শন কর এবং আলোচনা কর।
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.