Bangla Grammar and Composition chapter 4: Words and Parts of Speech
শব্দ ও পদ
- Bangla Grammar and Composition
- Textbook pages 25-47
- 1 source
- 30,513 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Words and Parts of Speech
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents16ShowHide
- শব্দ ও পদ
- ৪. শব্দ ও পদ
- ৪.১ লিঙ্গান্তরের নিয়ম ও উদাহরণ
- ৪.২ বহুবচন গঠনের নিয়ম ও উদাহরণ
- ৪.৩ বিশেষ্যের শ্রেণিবিভাগ
- ৪.৪ নির্দেশক সর্বনামের রূপ (চলিত রীতি) : ‘এ’, ‘ও’
- ৪.৫ ধাতু ও ক্রিয়াপদ
- ৪.৬ সকর্মক ও অকর্মক ক্রিয়া
- ধাতু
- ৪.৭ মৌলিক ও সাধিত ধাতু
- ৪.৮ ক্রিয়ার কাল : বর্তমান, অতীত, ভবিষ্যৎ ও অনুজ্ঞা
- ১. বর্তমান কাল
- ২. অতীত কাল
- ৩. ভবিষ্যৎ কাল
- ৪. অনুজ্ঞা
- ৪.৯ কর্ম-অনুশীলন
Printed page 25
চতুর্থ পরিচ্ছেদ
শব্দ ও পদ
৪. শব্দ ও পদ
৪.১ লিঙ্গান্তরের নিয়ম ও উদাহরণ
৪.২ বহুবচন গঠনের নিয়ম ও উদাহরণ
৪.৩ বিশেষ্যের শ্রেণিবিভাগ : সংজ্ঞাবাচক, শ্রেণিবাচক, সমষ্টিবাচক, ভাববাচক ও ক্রিয়াবাচক
৪.৪ নির্দেশক সর্বনামের রূপ (চলিত রীতি) : ‘এ’, ‘ও’
৪.৫ ধাতু ও ক্রিয়াপদ
৪.৬ সকর্মক ও অকর্মক ক্রিয়া
৪.৭ মৌলিক ও সাধিত ধাতু
৪.৮ ক্রিয়ার কাল : বর্তমান, অতীত, ভবিষ্যৎ ও অনুজ্ঞা
৪.৯ কর্ম-অনুশীলন
৪. শব্দ ও পদ
অর্থ হলো শব্দের প্রাণ। এক বা একাধিক ধ্বনির সম্মিলনে যদি কোনো নির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ পায় তবে তাকে শব্দ বলে। যেমন : ক, ল, ম – এই তিনটি ধ্বনি একসাথে জুড়ে দিলে হয় : কলম (ক+ল+ম)। ‘কলম’ লেখার একটি উপকরণকে বোঝায়। সুতরাং এটি একটি শব্দ। এ রকম : আমি, বাজার, যাই ইত্যাদিও শব্দ। এগুলোর আলাদা আলাদা অর্থ আছে। কিন্তু এ রকম আলাদা আলাদা শব্দ মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশ করতে পারে না। তাই অর্থপূর্ণ শব্দ জুড়ে জুড়ে মানুষ তার মনের ভাব সম্পূর্ণভাবে প্রকাশ করে থাকে। যেমন : ‘আমি বাজারে যাই।’– এটি একটি বাক্য। এখানে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণ প্রকাশ পেয়েছে। কতগুলো অর্থপূর্ণ শব্দ যখন একত্র হয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশ করে, তখন তাকে বাক্য বলে।
এবার লক্ষ করি : আমি, বাজার , যাই – তিনটি অর্থপূর্ণ শব্দ।
আমি বাজারে যাই – একটি মনের ভাব প্রকাশক বাক্য।
এখানে ‘বাজার’ শব্দটি বাক্যে ব্যবহৃত হওয়ার সময় কিছুটা (বাজার+এ) বদলে গেছে। বাক্যে ব্যবহৃত হওয়ার সময় শব্দের শেষে এই ধরনের কিছু বর্ণ যোগ হয়। এগুলোকে বলে বিভক্তি। শব্দে বিভক্তি যুক্ত হলেই তাকে
Printed page 26
পদ বলা হয়। তাহলে বলা যায় বিভক্তি যুক্ত শব্দকে অথবা বাক্যে ব্যবহৃত প্রতিটি শব্দকে পদ বলে। পদ পাঁচ প্রকার : ১. বিশেষ্য ২. বিশেষণ ৩. সর্বনাম ৪. অব্যয় ও ৫. ক্রিয়া।
৪.১ লিঙ্গান্তরের নিয়ম ও উদাহরণ
লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা লক্ষণ। বাংলা ভাষায় এমন অনেক শব্দ আছে যেগুলো কোনোটি পুরুষ জাতীয়, কোনোটি স্ত্রী জাতীয়, কোনোটি আবার স্ত্রী–পুরুষ উভয়কেই বোঝায়। তাই যেসব চিহ্ন বা লক্ষণ দ্বারা শব্দকে পুরুষ, স্ত্রী বা অন্য জাতীয় হিসেবে আলাদা করা যায়, তাকে লিঙ্গ বলে।
লিঙ্গ চার প্রকার। যথা :
১. পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দ। যেমন : বাবা, ছেলে, বিদ্বান, সুন্দর।
২. স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দ। যেমন : মা, মেয়ে, বিদুষী, সুন্দরী।
৩. উভয়লিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন : মানুষ, শিশু, সন্তান, বাঙালি।
৪. ক্লীবলিঙ্গ বা অলিঙ্গবাচক শব্দ। যেমন : বই, খাতা, চেয়ার, টেবিল।
পুংলিঙ্গ বা পুরুষবাচক শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীবাচক শব্দে রূপান্তর করাকে লিঙ্গান্তর বা লিঙ্গ পরিবর্তন বলে। লিঙ্গ পরিবর্তনের কিছু সাধারণ নিয়ম আছে। যেমন :
১. পুরুষবাচক শব্দের শেষে –আ (া), –ঈ (ী), –নী, –আনি, –ইনী ইত্যাদি স্ত্রী প্রত্যয় জুড়ে পুংলিঙ্গ শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গে রূপান্তর করা যায়। যেমন : প্রথম > প্রথমা, চাকর > চাকরানি, ছাত্র > ছাত্রী, মালী > মালিনী।
২. কখনো কখনো ভিন্ন শব্দযোগেও পুংলিঙ্গ শব্দ স্ত্রীলিঙ্গবাচক শব্দে পরিবর্তন হয়। যেমন : বাবা > মা, ছেলে > মেয়ে, পুরুষ > নারী, সাহেব > বিবি, স্বামী > স্ত্রী, কর্তা > গিন্নি, ভাই > বোন, পুত্র > কন্যা, বর > কনে।
৩. শব্দের আগে পুরুষবাচক বা স্ত্রীবাচক শব্দ জুড়ে দিয়েও শব্দের লিঙ্গান্তর হয়ে থাকে। যেমন : পুরুষ-মানুষ > মেয়ে-মানুষ, হুলো বিড়াল > মেনি বিড়াল, মদ্দা ঘোড়া > মাদি ঘোড়া, ব্যাটাছেলে > মেয়েছেলে, এঁড়ে বাছুর > বকনা বাছুর, বলদ গরু > গাই গরু।
৪. কতকগুলো পুরুষবাচক শব্দের আগে মহিলা, নারী ইত্যাদি স্ত্রীবাচক শব্দ প্রয়োগ করে শব্দের লিঙ্গান্তর হয়। যেমন : কবি > মহিলা কবি, ডাক্তার > মহিলা ডাক্তার, সভ্য > নারী সভ্য, সৈন্য > নারী সৈন্য।
৫. কোনো কোনো শব্দের শেষে পুরুষ ও স্ত্রীবাচক শব্দ যোগ করে পুংলিঙ্গবাচক শব্দ স্ত্রীলিঙ্গবাচক শব্দে পরিবর্তন হয়। যেমন : গয়লা > গয়লা বউ, বোন পো > বোন ঝি, ঠাকুর পো > ঠাকুর ঝি।
Printed page 27
৬. কতকগুলো শব্দে কেবল পুরুষ বোঝায়। যেমন : কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, বিপত্নীক, স্ত্রৈণ।
৭. কতকগুলো শব্দ শুধু স্ত্রীবাচক হয়। যেমন : সতীন, সৎমা, সধবা, এয়ো, দাই।
নিচে পুংলিঙ্গ শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গে পরিবর্তনের কিছু নিয়ম ও উদাহরণ দেওয়া হলো :
১. শব্দের শেষে ‘-আ’ প্রত্যয় যোগ করে :
| পুংলিঙ্গ | স্ত্রীলিঙ্গ | পুংলিঙ্গ | স্ত্রীলিঙ্গ |
|---|---|---|---|
| অজ | অজা | প্রিয় | প্রিয়া |
| আধুনিক | আধুনিকা | প্রবীণ | প্রবীণা |
| কোকিল | কোকিলা | বৃদ্ধ | বৃদ্ধা |
| চতুর | চতুরা | মাননীয় | মাননীয়া |
| চঞ্চল | চঞ্চলা | শিষ্য | শিষ্যা |
| নবীন | নবীনা | সরল | সরলা |
২. শব্দের শেষে ‘আ’-এর জায়গায় ‘-ই’ প্রত্যয় বসিয়ে :
| পুংলিঙ্গ | স্ত্রীলিঙ্গ | পুংলিঙ্গ | স্ত্রীলিঙ্গ |
|---|---|---|---|
| কাকা | কাকি | বুড়া | বুড়ি |
| চাচা | চাচি | নানা | নানি |
| দাদা | দাদি | মামা | মামি |
৩. শব্দের শেষে ‘-ঈ’ প্রত্যয় যোগ করে :
| পুংলিঙ্গ | স্ত্রীলিঙ্গ | পুংলিঙ্গ | স্ত্রীলিঙ্গ |
|---|---|---|---|
| কিশোর | কিশোরী | মানব | মানবী |
| ছাত্র | ছাত্রী | ময়ূর | ময়ূরী |
| তরুণ | তরুণী | রাক্ষস | রাক্ষসী |
| দাস | দাসী | সিংহ | সিংহী |
| নর | নারী | সুন্দর | সুন্দরী |
| পাত্র | পাত্রী | হরিণ | হরিণী |
Printed page 28
৪. শব্দের শেষে ‘-নি / -নী’ প্রত্যয় যোগ করে :
| পুংলিঙ্গ | স্ত্রীলিঙ্গ | পুংলিঙ্গ | স্ত্রীলিঙ্গ |
|---|---|---|---|
| কামার | কামারনী | জেলে | জেলেনি |
| কুমার | কুমারনী | ধোপা | ধোপানি |
৫. শব্দের শেষে ‘-আনি’ / ‘আনী’ প্রত্যয় যোগ করে :
| পুংলিঙ্গ | স্ত্রীলিঙ্গ | পুংলিঙ্গ | স্ত্রীলিঙ্গ |
|---|---|---|---|
| চাকর | চাকরানি | মেথর | মেথরানি |
| ঠাকুর | ঠাকুরানি | নাপিত | নাপিতানি |
| অরণ্য | অরণ্যানী | হিম | হিমানী |
| ইন্দ্র | ইন্দ্রানী | শূদ্র | শূদ্রাণী |
৬. শব্দের শেষে ‘ইনী’ প্রত্যয় যোগ করে :
| পুংলিঙ্গ | স্ত্রীলিঙ্গ | পুংলিঙ্গ | স্ত্রীলিঙ্গ |
|---|---|---|---|
| কাঙাল | কাঙালিনী | গোয়ালা | গোয়ালিনী |
| অনাথ | অনাথিনী | বাঘ | বাঘিনী |
| নাগ | নাগিনী | বিদেশি | বিদেশিনী |
| মানী | মানিনী | গুণী | গুণিনী |
| তপস্বী | তপস্বিনী | ধনী | ধনিনী |
| মায়াবী | মায়াবিনী | সমভাগী | সমভাগিনী |
৭. শব্দের শেষে ‘-ইকা’ প্রত্যয় যোগ করে :
| পুংলিঙ্গ | স্ত্রীলিঙ্গ | পুংলিঙ্গ | স্ত্রীলিঙ্গ |
|---|---|---|---|
| বালক | বালিকা | পাঠক | পাঠিকা |
| লেখক | লেখিকা | অধ্যাপক | অধ্যাপিকা |
| গায়ক | গায়িকা | নায়ক | নায়িকা |
| সেবক | সেবিকা | শিক্ষক | শিক্ষিকা |
৮. পুরুষবাচক শব্দের শেষে ‘তা’ থাকলে ‘ত্রী’ হয় :
| পুংলিঙ্গ | স্ত্রীলিঙ্গ | পুংলিঙ্গ | স্ত্রীলিঙ্গ |
|---|---|---|---|
| নেতা | নেত্রী | কর্তা | কর্ত্রী |
| শ্রোতা | শ্রোত্রী | ধাতা | ধাত্রী |
Printed page 29
৯. পুরুষবাচক শব্দের শেষে ‘অত’, ‘বান’, ‘মান’, ‘ঈয়ান’ থাকলে ‘অতী’, ‘বতী’, ‘মতী’, ‘ঈয়সী’ হয় :
| পুংলিঙ্গ | স্ত্রীলিঙ্গ | পুংলিঙ্গ | স্ত্রীলিঙ্গ |
|---|---|---|---|
| সৎ | সতী | মহৎ | মহতী |
| গুণবান | গুণবতী | রূপবান | রূপবতী |
| শ্রীমান | শ্রীমতী | বুদ্ধিমান | বুদ্ধিমতী |
| গরীয়ান | গরীয়সী | মহীয়ান | মহীয়সী |
৪.২ বহুবচন গঠনের নিয়ম ও উদাহরণ
ব্যাকরণে বচন অর্থ সংখ্যার ধারণা। তাই, যে শব্দ দিয়ে ব্যাকরণে কোনো কিছুর সংখ্যার ধারণা প্রকাশ করা হয়, তাকে বচন বলে।
বাংলা ভাষায় বচন দু প্রকার। যথা : ১. একবচন ও ২. বহুবচন।
১. একবচন : যে শব্দ দিয়ে কোনো বস্তু, প্রাণী বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে। যেমন :
পাখাটি খুঁজে পাচ্ছি না।
গামছাখানা কোথায় রাখলে?
কাজল কি বাড়ি ফিরেছে?
শিক্ষক বললেন, “দুই আর দুই চার হয়।”
একবচন প্রকাশের উপায়
বাংলা ভাষায় একবচন প্রকাশের কিছু উপায় আছে। যেমন :
ক. শব্দের মূল রূপের সাথে কিছু যোগ না করে :
‘আমার বাড়ি যাইও ভ্রমর, বসতে দেব পিঁড়ে।’
আজ স্কুল ছুটি।
রীতা গান শিখতে গেছে।
বাস ঢাকা ছেড়েছে।
খ. শব্দের শেষে টি, টা, খান, খানা, খানি, গাছ, গাছা, গাছি ইত্যাদি নির্দেশক যোগ করে :
মেয়েটি খুব চালাক।
তোমার কলমটা দাও তো।
Printed page 30
নৌকাখানি বেশ সুন্দর হয়েছে।
বইখানা আমি পড়েছি।
দড়িগাছা দিয়ে যা তো মা।
দাদুর হাতে লাঠিগাছা বেশ মানিয়েছে।
গ. শব্দের আগে এক, একটা, একটি, একখানা, একজন ইত্যাদি সংখ্যাবাচক শব্দ বসিয়ে :
এক দেশে ছিল এক রাজা।
তোমার সাথে একটা কথা ছিল।
একটি কলম নিয়ে দুভাইয়ের মধ্যে টানাটানি শুরু হয়েছে।
একখানা ইংরেজি খবরের কাগজ এনো তো।
একজন ছাত্র এসেছিল তোমার কাছে।
২. বহুবচন : যে শব্দ দিয়ে একের অধিক সংখ্যক বস্তু, ব্যক্তি বা প্রাণীর ধারণা পাওয়া যায়, তাকে বহুবচন বলে। যেমন :
আমরা সেখানে গিয়েছিলাম।
ছেলেরা মাঠে খেলছে।
‘শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে।’
‘রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে।’
বহুবচন গঠনের নিয়ম ও উদাহরণ
বাংলা ভাষায় বহুবচন গঠনের নানা উপায় আছে। প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক এবং উন্নত প্রাণিবাচক ও ইতর প্রাণিবাচক শব্দভেদে বিভিন্ন ধরনের বহুবচনবোধক বিভক্তি, প্রত্যয় ও সমষ্টিবাচক শব্দযোগে বহুবচন গঠন করা হয়ে থাকে। যেমন :
১. শব্দের শেষে রা, এরা, গুলো, গুলি, দের বিভক্তি যোগ করে :
রা – ছেলেরা বল খেলছে।
তারা আজ আর আসবে না।
এরা – ভাইয়েরা মিলেমিশে আনন্দময় জীবনযাপন করছে।
শ্রমিকেরা ধর্মঘট ডেকেছে।
গুলো – আমগুলো রাজশাহী থেকে এসেছে।
ছেলেগুলো খুব হৈচৈ করছে।
Printed page 31
গুলি – বইগুলি জায়গা মতো তুলে রাখ।
দের – মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা শ্রদ্ধা করি।
২. শব্দের শেষে গণ, বৃন্দ, বর্গ, কুল, মণ্ডলী, মালা, গুচ্ছ, পাল, দল, দাম, ঝাঁক, আবলি, সব, সমূহ, রাজি, রাশি, পুঞ্জ, শ্রেণি ইত্যাদি সমষ্টিবাচক শব্দ যোগ করে :
গণ – ‘শিশুগণ দেয় মন নিজ নিজ পাঠে।’
বৃন্দ – ভক্তবৃন্দ কবিকে শুভেচ্ছা জানালেন।
কুল – সন্ধ্যায় পক্ষিকুল নীড়ে ফিরে আসে।
মণ্ডলী – শিক্ষকমণ্ডলী নবীন ছাত্রদের বরণ করে নিলেন।
মালা – ‘দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা, দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু।’
গুচ্ছ – আমি রবীন্দ্রনাথের ‘গল্পগুচ্ছ’ পড়েছি।
পাল – ‘রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে।’
দল – জাতীয় ক্রিকেটদলে তার জায়গা হয়েছে।
দাম – শৈবালদামে পুকুর ভরেছে।
ঝাঁক – পায়রার ঝাঁক বাকুম বাকুম করছে।
আবলি – আজ রাতে পদাবলি কীর্তন শুনতে যাব।
সব – ‘পাখিসব করে রব রাতি পোহাইল।’
সমূহ – অতিরিক্ত বৃক্ষনিধনের ফলে বনসমূহ উজাড় হয়ে যাচ্ছে।
রাজি – লাইব্রেরির গ্রন্থরাজির মধ্যে রয়েছে সমৃদ্ধ জ্ঞানের ভান্ডার।
রাশি – বাজারে নিয়ে যাবার জন্য পুষ্পরাশি সংগ্রহ করা হয়েছে।
পুঞ্জ – মেঘপুঞ্জের অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে বৃষ্টি হবে।
শ্রেণি – ধনিকশ্রেণি সব সময় নিম্নশ্রেণির উপর খবরদারি করে থাকে।
৩. শব্দের আগে অনেক, অজস্র, অসংখ্য, প্রচুর, বহু, বিস্তর, নানা, ঢের, সব, সকল, সমস্ত, হরেক ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে :
অনেক – এবার পরীক্ষায় অনেক ছাত্র ফেল করেছে।
অজস্র – তার অজস্র টাকা-পয়সা হয়েছে।
অসংখ্য – বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ এখনো অশিক্ষিত।
প্রচুর – বাজারে প্রচুর আম উঠেছে।
বহু – তিনি বহু সম্পত্তির মালিক।
বিস্তর – ‘সে কহে বিস্তর মিছা, যে কহে বিস্তর।’
নানা – ‘নানা মুনির নানা মত।’
Printed page 32
ঢের – বৃষ্টি আসতে এখনো ঢের বাকি।
সব – বাজারে গিয়ে সব টাকা খরচ হয়ে গেল।
সকল – পৃথিবীর সকল মানুষ আমার ভাই।
সমস্ত – তার বলা সমস্ত কাহিনিই ছিল বানোয়াট।
হরেক – মেলায় হরেক রকম জিনিস পাওয়া যায়।
৪. একই শব্দ পর পর দুবার বসিয়ে :
ফুলে – বাগানটা ফুলে ফুলে ভরে গেছে।
হাঁড়ি – বরযাত্রীরা হাঁড়ি হাঁড়ি সন্দেশ নিয়ে এসেছে।
কাঁড়ি – মেয়ের বিয়েতে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচা হয়ে গেল।
বলে – তোমাকে বলে বলে আর পারলাম না।
খেটে – আমি খেটে খেটে সারা হলাম।
দ্বারে – দ্বারে দ্বারে ঘুরেও আজ ভিক্ষা জুটল না।
ছোট – ‘আমাদের ছোট গাঁয়ে ছোট ছোট ঘর।’
বড় – বাবা বড় বড় আম কিনে এনেছেন।
ঘরে – আজ ঘরে ঘরে বিজয়ের আনন্দ।
বিন্দু – বিন্দু বিন্দু জল দিয়ে তৈরি হয় বিশাল সাগর।
ভালো – ক্লাসের ভালো ভালো ছেলেকে পুরস্কার দেওয়া হবে।
যে– যে যে যাবে, তারা লঞ্চে ওঠো।
৫. আগে সংখ্যাবাচক শব্দ বসিয়ে :
কাঞ্চনের বিয়েতে শ পাঁচেক অতিথি খাবে।
সপ্তাহ দুই পরে মাছের দাম কমে যাবে।
শিয়াল তার সাত ছেলেকে কুমিরের কাছে পড়তে দিল।
দশ কেজি রসগোল্লা দিন তো।
Printed page 33
৬. কখনো কখনো একবচনের রূপ দিয়ে :
মানুষ মরণশীল।
বাঙালি সব পারে।
বাগানে ফুল ফুটেছে।
বাজারে লোক জমেছে।
পোকার আক্রমণে ফসল নষ্ট হয়।
বনে বাঘ থাকে।
গরু আমাদের দুধ দেয়।
* বিশেষ দ্রষ্টব্য
বচন মূলত বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের এক বা একাধিক সংখ্যার ধারণা নির্দেশ করে। সে-কারণে শুধু বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বচনভেদ হয়।
উন্নত প্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে গণ, বৃন্দ, মণ্ডলী, বর্গ এবং অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে আবলি, গুচ্ছ, দাম, নিকর, পুঞ্জ, মালা, রাজি, রাশি ব্যবহৃত হয়।
রা, এরা, গণ, গুলো, কুল, সকল, সব, সমূহ প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক উভয় শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
বাংলা বাক্যে একই সঙ্গে একাধিক বহুবচনবাচক শব্দ ব্যবহৃত হয় না। যেমন :
সকল ছাত্রদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। (ভুল)
সকল ছাত্রকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। (শুদ্ধ)
ছাত্রদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। (শুদ্ধ)
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.