Bangladesh and Global Studies chapter 1: Colonial Era and Bengal's Independence Struggle
ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম
- Bangladesh and Global Studies
- Textbook pages 1-12
- 1 source
- 23,908 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Colonial Era and Bengal's Independence Struggle
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents10ShowHide
- ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম
- পাঠ- ১ : বাংলায় ঔপনিবেশিক শাসন
- পাঠ- ২ : বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন ও বাণিজ্য বিস্তার
- পাঠ- ৩ : বাংলায় ঔপনিবেশিক শক্তির বিজয়
- পাঠ-৪ ও ৫ : ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ
- পাঠ-৬ ও ৭ : ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতিক্রিয়া: বাংলার নবজাগরণ ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন
- পাঠ-৮: লাহোর প্রস্তাব ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা
- নমুনা প্রশ্ন
- সৃজনশীল প্রশ্ন
- সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন
Printed page 1
প্রথম অধ্যায়
ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম
বাংলায় ইউরোপীয় বণিকদের আগমন ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে হলেও পরে তারা আমাদের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে নেয়। এদের মধ্যে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যায়। ১৭৫৭ সালে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে তারা ক্ষমতা দখল করে নেয়। বাংলায় ইংরেজদের শাসন চলে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত। এভাবে ১৭৫৭ সালের পরে বাংলায় যে শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় সাধারণত আমরা তাকে ঔপনিবেশিক শাসন বলি। আর ১৭৫৭ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ইংরেজ শাসনামলকে ঔপনিবেশিক যুগ বলি।
এ অধ্যায় শেষে আমরা–
- উপনিবেশ কী তা ব্যাখ্যা করতে পারব;
- উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার বিস্তার ও অবসানের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব;
- বাংলায় ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকদের আগমন ও বাণিজ্য বিস্তার সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;
- বাংলায় ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠার কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব;
- বাংলায় ইংরেজ শাসনের কার্যক্রম ব্যাখ্যা ও মূল্যায়ন করতে পারব;
- ইংরেজ কোম্পানি শাসনের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে পারব;
- ইংরেজ কোম্পানি শাসনকালে বাংলার আর্থ-সামাজিক অবস্থা বর্ণনা করতে পারব;
- ইংরেজ কোম্পানি শাসনের প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারব;
- ব্রিটিশ শাসনের বৈশিষ্ট্যসমূহ ব্যাখ্যা করতে পারব;
- ব্রিটিশ শাসনের প্রভাব মূল্যায়ন করতে পারব;
- বাংলার জাগরণের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
পাঠ- ১ : বাংলায় ঔপনিবেশিক শাসন
উপনিবেশ বলতে এমন একটি ভৌগোলিক অঞ্চলকে বোঝায়, যা একটি বিদেশি সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রভুত্ব ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন থাকে। উপনিবেশিকরণ একটি প্রক্রিয়া, যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক শোষণ ও লাভের উদ্দেশ্যে এক দেশ অন্য দেশকে নিজের দখলে আনে। দখলকৃত দেশটি দখলকারী দেশের উপনিবেশে পরিণত হয়। বাংলা প্রায় দুইশ বছর এভাবে ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনাধীনে ছিল। ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে এই শাসনের সূচনা হয়েছিল যা নানা আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালে শেষ হয়। কীভাবে এই ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনা হয়েছিল তা জানার আগে সেই সময় বাংলার রাজনৈতিক অবস্থা কেমন ছিল তা কিছুটা জেনে নেওয়া দরকার।
Printed page 2
বাংলার রাজনৈতিক পটভূমি: ঔপনিবেশিক শাসন–পূর্বকাল
প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা অঞ্চলে মানব বসতির কথা জানা যায়। এ অঞ্চলটি বরাবরই ছিল ধনসম্পদে পূর্ণ একটি এলাকা। ফলে ইংরেজ আগমনের অনেক আগে থেকেই এখানে বাইরের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষের আগমন ঘটতে থাকে। সকলের আকর্ষণের প্রধান লক্ষ্য ছিল বাংলার অর্থনৈতিক প্রাচুর্য।
খ্রিস্টপূর্ব যুগে বহিরাগত আর্য ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী বাংলায় প্রবেশ করেছিল। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে বাংলার উত্তরাংশ দখল করেন ভারতের মৌর্য সম্রাট অশোক। সে সময় পুণ্ড্রনগর (পুণ্ড্রবর্ধনভুক্তি) হয় মৌর্যদের প্রদেশ। মৌর্যদের পর ভারতে প্রতিষ্ঠিত হয় গুপ্ত সাম্রাজ্য। চতুর্থ শতকে উত্তর বাংলা ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার কিছু অংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধিকারে আসে। গুপ্তদের পতনের পর সপ্তম শতকে বাংলার উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে প্রথম বাঙালি শাসক শশাঙ্ক কর্তৃক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। একই সময়ে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় ‘বঙ্গ’ নামে আরেকটি স্বাধীন রাজ্য গড়ে উঠেছিল। শশাঙ্ক মৃত্যুর পর একশো বছর ধরে বাংলায় অরাজকতা চলতে থাকে। যাকে সংস্কৃত ভাষায় বলা হয় মাৎস্যন্যায় যুগ। এরপর বাঙালিদের দীর্ঘস্থায়ী রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় অষ্টম শতকের মাঝ পর্বে। প্রায় চারশো বছর বাংলাকে শাসন করেন বাঙালি পাল রাজারা। পালদের পতনের পর এগারো শতকের শেষ দিকে আবার বিদেশি শাসনের অধীনে চলে যায় বাংলা। দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক থেকে আসা সেন রাজারা বাংলার সিংহাসন দখল করে নেন।
সেন শাসনের অবসান ঘটে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির হাতে। তিনি রাজা লক্ষণসেনকে পরাজিত করে মুসলমান শাসনের সূচনা করেন। ১২০৪ থেকে ১২০৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার পশ্চিমে নদীয়া ও উত্তর বাংলার কিছুটা অংশ বখতিয়ার খলজির দখলে ছিল। তারপর ১৩৩৮ সাল পর্যন্ত বাংলা জুড়ে মুসলিম শাসনের বিস্তার ঘটতে থাকে।
এ সময়ের মধ্যে বাংলার তিনটি অংশে দিল্লি সালতানাতের তিনটি প্রদেশ বা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিভাগগুলো উত্তর বাংলায় লখনৌতি, পশ্চিম বাংলায় সাতগাঁও এবং পূর্ববাংলায় সোনারগাঁও নামে পরিচিত ছিল। ১৩৩৮ সালে সোনারগাঁয়ের শাসনকর্তা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ দিল্লির সুলতানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এভাবে বাংলায় স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা হয়। তবে সমগ্র বাংলার এক বৃহদাংশ অধিকার করে স্বাধীনভাবে রাজত্ব করার মাধ্যমে সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ বাংলার প্রকৃত স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেন বলে ধরা হয়। ইলিয়াস শাহ ‘শাহ-ই-বাঙ্গালা’ ও ‘শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ান’ উপাধি ধারণ করেন। স্বাধীন সুলতানি আমলের অপর অন্যতম উল্লেখযোগ্য শাসক ছিলেন সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ। ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং
Printed page 3
বাংলার শিল্প, সাহিত্যের বিকাশে তাঁর অবদান অপরিসীম। ১৫৩৮ সালে অবসান ঘটে বাংলার স্বাধীন সুলতানি শাসনের। অবশ্য এর আগেই মুঘলশক্তি দিল্লির সিংহাসন দখল করেছিল। মোগল সম্রাট হুমায়ুন ১৫৩৮ সালে উত্তরবাংলার গৌড় অর্থাৎ লখনৌতি দখল করলেও বাংলায় তখন মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। এর কারণ, বিহারের আফগান শাসক শের খান হুমায়ুনকে প্রথমে বাংলা ও পরে ভারত থেকে বিতাড়িত করেন। এ পর্বে বাংলার শাসন ক্ষমতা আফগানদের হাতে চলে যায়।
ভারতে মুঘলরা আবার সংগঠিত হয় এবং ১৫৭৬ সালে রাজমহলের যুদ্ধে আফগানদের হারিয়ে দিল্লির সিংহাসন পুনরুদ্ধার করেন। এরপর সম্রাট আকবরের সময় ১৫৭৬ সালে পশ্চিম বাংলা ও উত্তর বাংলার অনেকটা অংশ মুঘলদের অধিকারে আসে। বাংলার পূর্বাংশ অর্থাৎ আজকের বাংলাদেশ অংশ সহজে মুঘলরা দখল করতে পারে নি। বারোভূঁইয়া নামে পরিচিত পূর্ববাংলার জমিদাররা একযোগে মুঘল আক্রমণ প্রতিহত করেন। আকবরের সেনাপতি মানসিংহ কয়েকবার চেষ্টা করেও বারোভূঁইয়াদের নেতা ঈশা খাঁকে পরাজিত করতে পারে নি। সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে ১৬১০ সালে মুঘল সুবেদার ইসলাম খান চিশতি চূড়ান্তভাবে বারোভূঁইয়াদের পরাজিত করে ঢাকা অধিকার করেন এবং তৎকালীন দিল্লির সম্রাট জাহাঙ্গীরের নাম অনুসারে জাহাঙ্গীরনগর নামকরণ করেন। এভাবেই বাংলায় মুঘল অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এই মুঘল শাসন চলে আঠারো শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত। ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের মধ্য দিয়ে মুঘল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে। সেই সাথে বাংলার ক্ষমতা দখল করে ইংরেজ শক্তি। আর এভাবেই শুরু হয় ঔপনিবেশিক শক্তির শাসন।
কাজ-১ : ঔপনিবেশিক শাসন বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
কাজ-২ : খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে ঔপনিবেশিক যুগ পর্যন্ত বাংলার শাসকদের পর্যায়ক্রমিক তালিকা তৈরি করো।
পাঠ- ২ : বাংলায় ইউরোপীয়দের আগমন ও বাণিজ্য বিস্তার
১৪৯৮ সালে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা সমুদ্রপথে বাণিজ্য বিস্তারের অন্বেষণে দক্ষিণ ভারতের কালিকট বন্দরে পৌঁছান। এর মধ্য দিয়ে ভারতবর্ষ বিশ্ব বাণিজ্য বিস্তারের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে পরিণত হয়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ক্রমান্বয়ে এই প্রতিযোগিতায় শামিল হতে থাকে। এই লক্ষ্যে সতেরো
Printed page 4
শতকে একে একে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি (হল্যান্ড) , ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি , ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি , ফ্রেঞ্চ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ইত্যাদি বাণিজ্যিক কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয় । এদের অধিকাংশের লক্ষ্য ছিল ভারতবর্ষ । আবার তার মধ্যে বাংলার সিল্ক ও অন্যান্য মিহি কাপড় এবং মসলা তাদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে ।
বিদেশি বণিকরা এদেশে স্থানীয় শ্রমিকদের খাটিয়ে বড়ো বড়ো শিল্পকারখানা স্থাপন করে প্রচুর মুনাফা করতে থাকে । ক্রমে ব্যবসার ক্ষেত্রে পর্তুগিজদের চেয়ে ইংরেজদের ভূমিকা প্রাধান্য পায় । এছাড়া ফরাসি , ওলন্দাজ ও দিনেমাররাও বাংলায় কারখানা স্থাপন করে ব্যবসা শুরু করে । ফরাসি পর্যটক বার্নিয়ের ১৬৬৬ সালে লিখেছেন , ‘ওলন্দাজরা তাদের কাশিমবাজারের সিল্ক ফ্যাক্টরিতে কখনো কখনো ৭শ থেকে ৮শ লোক নিয়োগ করত ।’ ইংরেজ ও অন্যান্য জাতির বণিকরাও এরকম কারখানা চালাত । বার্নিয়ের আরও লিখেছেন , ‘শুধু কাশিমবাজারে বছরে ২২ হাজার বেল সিল্ক উৎপাদিত হতো ।’
জব চার্নক নামক জনৈক ইংরেজ প্রতিনিধি ১৬৯০ সালে ১২০০ টাকার বিনিময়ে কলকাতা , সুতানটি ও গোবিন্দপুর নামে গ্রামগুলো ক্রয় করেন যা পরবর্তীকালে কলকাতা নামে পরিচিত হয় । এ সময় কলকাতা , চন্দননগর , চুঁচুড়া , কাশিমবাজার প্রভৃতি স্থানে ইউরোপীয় বাণিজ্যকেন্দ্রগুলো ফুলে ফেঁপে উঠতে থাকে । আর এদের মাধ্যমে বাংলা থেকে পুঁজিও পাচার হতে থাকে । বাণিজ্যিক উদ্যোগ এবং কূটকৌশলে পারদর্শী হবার কারণে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্রমশ অন্য ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর তুলনায় প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যায় এবং তাদের ওপর প্রাধান্য লাভ করে । তারা এখানে কুঠি , কারখানা তৈরি ও সৈন্য রেখে ব্যবসার অধিকার পায় । পলাশি যুদ্ধের আগে এবং মীর জাফর ও মীর কাশিমের আমলে বাংলার প্রচুর সম্পদ ইংল্যান্ডে পাচার হয়ে যায় ।
কাজ-১ : ভারতবর্ষে যে সকল ইউরোপীয় শক্তির আগমন হয় তার তালিকা তৈরি করো ।
কাজ-২ : ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কীভাবে বাণিজ্যিক বিস্তার ঘটায়?
Printed page 5
পাঠ- ৩ : বাংলায় ঔপনিবেশিক শক্তির বিজয়
নবাব আলিবর্দি খাঁর মৃত্যুর পর তাঁর প্রিয় নাতি সিরাজউদ্দৌলা মাত্র ২২ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন। এই সময় তাঁর সামনে একদিকে উদীয়মান ইংরেজ শক্তি ও হামলাকারী বর্গিদের সামলানোর কঠিন কাজ, পাশাপাশি বড়ো খালা ঘসেটি বেগম ও প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলী খানের মতো ঘনিষ্ঠজনদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলার কাজ। সিরাজের বিরুদ্ধে তৃতীয় আরেকটি পক্ষও (বণিকশ্রেণি) সক্রিয় ছিল। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটার সাথে সাথে বড়ো ব্যবসাকেন্দ্রগুলোতে প্রভাবশালী দেশীয় বণিকসমাজের অভ্যুদয় ঘটে। বাংলায় এরা ছিল প্রধানত রাজপুতানা থেকে আসা মারওয়াড়ি বণিক। এদের মধ্যে জগৎ শেঠ, উমিচাঁদ প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। নবাবের বিপরীতে একাধিক দেশীয় ষড়যন্ত্রকারী ও ইংরেজরা গোপনে জোট বাঁধে। শাসনকাজে নবাবের অদক্ষতা বিরোধী পক্ষের অবস্থানকে শক্তিশালী করে। এরই সবশেষ ফল হলো ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে পলাশীর যুদ্ধে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার নবাবের পরাজয় ও নির্মম মৃত্যু এবং ইংরেজদের হাতে বাংলার পতন। বিজয়ের পর ইংরেজরা মীর জাফরকে নবাব বানালেও, মূল ক্ষমতা তাদের হাতে চলে যায়। ধূর্ত ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভ হন সর্বেসর্বা। তবে ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে মীর জাফরের উত্তরসূরী মীর কাশিমের পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলার শাসন ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকভাবে ইংরেজদের হস্তগত হয়।
বাংলায় প্রতিষ্ঠিত রাজশক্তির বিরুদ্ধে একটি ভিনদেশী বাণিজ্যিক কোম্পানি তথা ঔপনিবেশিক শক্তির এই বিজয়ের কারণ কী ছিল? এর পিছনে নানাবিধ কারণ থাকলেও কয়েকটা প্রধান কারণ হলো-
১. বাংলার শাসকদের দুর্বলতা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও চক্রান্ত এবং তা মোকাবিলায় তরুণ অনভিজ্ঞ নবাবের অপারগতা; ২. উদীয়মান অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসেবে ইংরেজদের উত্তরোত্তর ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে তাদের কূটকৌশল বোঝার মতো পারদর্শী দেশীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও শক্তির অভাব; ৩. ইংরেজদের উন্নত সামরিক শক্তি, রণকৌশল ও নেতৃত্ব; ৪ . অর্থনৈতিক শোষণ ও নির্যাতনের শিকার প্রজাদের সাথে শাসকদের দূরত্ব এতটাই ছিল যে নবাবের সাথে ইংরেজদের দ্বন্দ্বে বাংলার সাধারণ মানুষ ছিল নির্বিকার। প্রজাদের এই নিষ্ক্রিয়তা পরোক্ষভাবে ইংরেজদের সুবিধা দেয়।
কাজ-১ : পলাশীর যুদ্ধ কী?
কাজ-২ : বাংলায় ইংরেজরা কেন জয়লাভ করেছিল?
Printed page 6
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.