Bangladesh and Global Studies chapter 3: Bangladesh's Liberation War and Democratic Struggle
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম
- Bangladesh and Global Studies
- Textbook pages 19-38
- 1 source
- 43,643 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Bangladesh's Liberation War and Democratic Struggle
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents17ShowHide
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম
- পাঠ-১: সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি
- পাঠ-২ : ৭ই মার্চের ভাষণ
- পাঠ-৩ : ২৫শে মার্চের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ
- পাঠ- ৪ : স্বাধীনতার ঘোষণা
- পাঠ- ৫ : মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ও অস্থায়ী সরকার গঠন
- পাঠ-৬: মুক্তিবাহিনী গঠন ও কার্যক্রম
- পাঠ-৭ : মুক্তিযুদ্ধে বিরোধী শক্তি
- পাঠ-৮ : মুক্তিযুদ্ধে দেশি ও বিদেশি সহযোগিতা
- পাঠ- ৯ : যৌথবাহিনীর নেতৃত্বে চূড়ান্ত যুদ্ধ
- পাঠ-১০ : গণহত্যা ও নির্যাতন
- পাঠ- ১১: পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ
- পাঠ-১২: বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় গণঅভ্যুত্থান
- নমুনা প্রশ্ন
- বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
- সৃজনশীল প্রশ্ন
- সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন
Printed page 19
তৃতীয় অধ্যায়
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন শেষে ভারতীয় উপমহাদেশে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। হাজার মাইলের ভৌগোলিক দূরত্ব, ভাষা ও সংস্কৃতিসহ সকল বিষয়ে অমিল থাকা সত্ত্বেও শুধু ধর্মীয় মিলের কারণে পূর্ববাংলাকে পাকিস্তানের একটি প্রদেশ পূর্বপাকিস্তান করা হয়। এই নতুন রাষ্ট্র পূর্ববাংলার মানুষের জীবনে কাঙ্ক্ষিত মুক্তি আনতে পারেনি। পাকিস্তানের স্বাধীনতার কিছুদিনের মধ্যেই পাকিস্তানের নেতারা বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও সমাজের উপর নানান নিপীড়নমূলক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়। বাংলা বাদ দিয়ে শুধু উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার বারংবার ঘোষণায় বাঙালির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়। মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়ে বাঙালি ভাষা আন্দোলন, ৬ ও ১১ দফার আন্দোলন করেছে যা ধীরে ধীরে স্বাধীনতার লড়াইয়ে অনুপ্রাণিত করেছে বাঙালিদের। পরবর্তীকালে অনেক আন্দোলন, সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। সপ্তম শ্রেণিতে আমরা ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট গঠন, ছয়দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও ৭০ এর নির্বাচন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনেছি। এ অধ্যায়ে আমরা ১৯৭০ এর নির্বাচন পরবর্তী সময়, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতাউত্তর বাংলাদেশে ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে জানব।
এ অধ্যায় শেষে আমরা–
- ১৯৭০ এর নির্বাচনোত্তর জনগণ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া বর্ণনা করতে পারব;
- ২৫শে মার্চের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের বিবরণ দিতে পারব ও এর ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারব ;
- ২৬শে মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা উল্লেখ করতে পারব;
- মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির বিবরণ দিতে পারব ও অস্থায়ী সরকারের গঠন ও ভূমিকা বর্ণনা করতে পারব;
- মুক্তিবাহিনীর গঠন বর্ণনা করতে ও তাদের ভূমিকা মূল্যায়ন করতে পারব;
- সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির তৎপরতা ও ভূমিকা বর্ণনা করতে পারব;
- মুক্তিযুদ্ধে বাঙালিদের সহযোগিতার স্বরূপ বর্ণনা ও মূল্যায়ন করতে পারব;
- মুক্তিযুদ্ধে বহির্বিশ্বের ভূমিকা মূল্যায়ন করতে পারব;
- মুক্তিযুদ্ধে যৌথবাহিনীর ভূমিকা বিশ্লেষণ করতে পারব;
- মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও অত্যাচারের বিবরণ দিতে পারব;
- পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঘটনা বলতে পারব;
- মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করতে পারব;
- দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক চেতনায় উজ্জীবিত হব;
- নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের উল্লেখযোগ্য কারণসমূহ চিহ্নিত করতে পারব;
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কারণ, পটভূমি ও ফলাফল বিশ্লেষণ করতে পারব।
Printed page 20
পাঠ-১: সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি
১৯৭০ সালে সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বিজয়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানি সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান ষড়যন্ত্র শুরু করে। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বার বার স্থগিত ঘোষণা করলে আওয়ামী লীগ ১৯৭১ সালের মার্চের শুরু থেকে অসহযোগ আন্দোলন গড়ে তোলে। ফলে বাঙালির স্বাধীনতার প্রস্তুতি শুরু হয়।
একদিকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের প্রস্তুতি নেয় অন্যদিকে তৎকালীন পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো তা বানচালের জন্য ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে ষড়যন্ত্র শুরু করেন। তিনি ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন সংকট তৈরি করেন। পূর্ব-পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে এর প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়। ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে আওয়ামী লীগের সকল কর্মসূচিতে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। বিশেষ করে ছাত্রদের ভূমিকা ছিল অগ্রণী। এছাড়া শিক্ষক, পেশাজীবী ও মহিলা সংগঠনগুলোও এগিয়ে আসে। একাত্তরের মার্চের শুরু থেকে প্রতিদিনের সকল সমাবেশে প্রচুর লোকের সমাগম ঘটে। ভুট্টোর সাথে ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১লা মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করায় ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ফলে ওই দিন সর্বাত্মক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। শুরু হয় বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের আরেক অধ্যায়-অসহযোগ আন্দোলন।
Figure: স্বাধীন বাংলার প্রথম পতাকা
বর্ণনা: স্বাধীন বাংলার প্রথম পতাকা উত্তোলনের দৃশ্য; জনতার সমাবেশে একটি গাঢ় রঙের পতাকা উঁচিয়ে ধরা হয়েছে, যার মাঝখানে একটি বৃত্তে মানচিত্র দেখা যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগ ২রা মার্চ ১৯৭১ ঢাকা শহরে ও ৩রা মার্চ সারা দেশে হরতালের ডাক দেয়। ২রা মার্চ সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বিশাল সমাবেশে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে দেশের মানচিত্র খচিত স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এটিই ছিল সর্বসাধারণের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলিত 'স্বাধীন বাংলার' প্রথম পতাকা। মুক্তিযুদ্ধে এ পতাকা ছিল আমাদের প্রেরণা। ৩রা মার্চ থেকে শুরু হয় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন যা ২৫শে মার্চ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ৩রা মার্চ গঠিত হয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। এদিন পল্টন ময়দানের সমাবেশে ছাত্রনেতা শাজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। এতে আন্দোলন আরও বেগবান হয়।
Printed page 21
এ পরিস্থিতিতে ভীত হয়ে ইয়াহিয়া খান ৬ই মার্চ এক বেতার ভাষণে ২৫শে মার্চ ঢাকায় পুনরায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেন। শেখ মুজিবুর রহমান সে ঘোষণায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি। এ পরিস্থিতিতে ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার জন্য একটি জনসভার আয়োজন করা হয়।
কাজ : পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যে বাঙালির প্রস্তুতির চিত্র তুলে ধরো।
পাঠ-২ : ৭ই মার্চের ভাষণ
শেখ মুজিবুর রহমান তার ৭ই মার্চের ভাষণে বিজয়ী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশ পরিচালনার ঘোষণা দেন। জনগণের প্রতি পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে সর্বাত্মক অসহযোগিতার নির্দেশ দিয়ে তিনি তাঁর ভাষণে কোর্ট-কাচারি, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন। আমরা জানি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র পরিচালিত হয় জনগণের ট্যাক্স বা খাজনায়। তিনি তাঁর ভাষণে আরও বলেন, “যে পর্যন্ত আমার এ দেশের মুক্তি না হচ্ছে, ততোদিন খাজনা-ট্যাক্স বন্ধ করে দেওয়া হলো”।
Figure: শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণের দৃশ্য
বর্ণনা: বক্তব্যরত শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর সামনে একাধিক মাইক্রোফোন এবং পেছনে জনতা।
শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ১লা মার্চ থেকে ইয়াহিয়া খান ও তাঁর সহযোগী জুলফিকার আলী ভুট্টোর কর্মকাণ্ড দেখে বুঝেছিলেন এরা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন না। তাই তিনি বলেন "প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোলো এবং তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো।" বক্তৃতার আর এক জায়গায় তিনি বলেন, "প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে।" শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বাঙালিকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত রাখা। বক্তৃতায় শেষ অংশে “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম" ঘোষণা দিয়ে তিনি স্পষ্টভাবেই স্বাধীনতার ডাক দেন। বক্তৃতায় শেখ মুজিবুর রহমান নিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ উন্মুক্ত করতে ইয়াহিয়া ঘোষিত ২৫শে মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদান করার ব্যাপারে ৪টি পূর্বশর্ত ঘোষণা করেন।
১. সামরিক আইন প্রত্যাহার ২. নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর ৩. সেনাবাহিনীর গণহত্যার তদন্ত ৪. সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া
Printed page 22
এ দাবিগুলো মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তিনি অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন। ইয়াহিয়ার নেতৃত্বে পাকিস্তানের সামরিক শাসকরা গণতান্ত্রিক এ দাবিগুলো কখনোই মেনে নেয়নি। ফলে বাঙালির আন্দোলন বেগবান হয়ে ওঠে।
সংকট উপলব্ধি করে ইয়াহিয়া ১৫ই মার্চ ঢাকা সফরে আসেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আলোচনার প্রস্তাব দেন। ১৬ই মার্চ থেকে আলোচনা শুরু হয়। ২২শে মার্চ জুলফিকার আলী ভুট্টো আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনা ব্যর্থ হলে বাঙালি নিধনের নির্দেশনা দিয়ে ২৫শে মার্চ রাতে ইয়াহিয়া খান ঢাকা ত্যাগ করেন। আর ওই দিনই মধ্যরাতে তারা বাঙালির উপর চরম আঘাত হানে। ওই কালরাতে পাকিস্তানি সেনারা অসংখ্য বাঙালিকে নির্বিচারে হত্যা করে।
কাজ-১ : মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র ও বাঙালিদের প্রস্তুতি বর্ণনা করো।
কাজ-২ : শ্রেণিকক্ষে আলোচনার মাধ্যমে একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন সম্পর্কে তোমার ধারণা সংক্ষেপে লেখো।
কাজ-৩ : শ্রেণিতে সবাই মিলে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ শুনে, এ সম্পর্কে তোমার মতামত লেখো।
পাঠ-৩ : ২৫শে মার্চের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ
পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যার অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল 'অপারেশন সার্চলাইট'। ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে এ অপারেশন সংগঠিত হলেও মূলত এর প্রস্তুতি চলতে থাকে মার্চের প্রথম থেকে। ৩রা মার্চ পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আগত অস্ত্র ও রসদ বোঝাই এম.ভি. সোয়াত জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৫ই মার্চ থেকে ২৪শে মার্চ ঢাকায় শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনার ভান করে আসলে অভিযানের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং অপারেশন সার্চলাইট চূড়ান্ত করেন। 'অপারেশন সার্চলাইট' অনুযায়ী ঢাকা শহরে গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় পাকিস্তানি বাহিনীর মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলীকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমেই ঢাকা শহরের পিলখানার ইপিআর হেডকোয়ার্টার্স এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের নিয়ন্ত্রণভার পাকিস্তানি সেনাদের গ্রহণ করার কথা ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় আক্রমণ, শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ও রেডিও-টেলিভিশন নিয়ন্ত্রণ, স্টেট ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ, আওয়ামী লীগ নেতাদের গ্রেফতার, ঢাকা শহরের
Printed page 23
যাতায়াত ব্যবস্থাসহ শহর নিয়ন্ত্রণ ছিল পাকিস্তানি সৈন্যদের প্রাথমিক দায়িত্ব। অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় রাজশাহী, যশোর, খুলনা, রংপুর, সৈয়দপুর, কুমিল্লায় সেনাবাহিনী, ইপিআর, আনসার, পুলিশের বাঙালি সদস্যদের নিরস্ত্র করার কথা উল্লেখ ছিল। চট্টগ্রাম বন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দখলে রাখাও তাদের লক্ষ্য ছিল। ঢাকার বাইরে এ অপারেশনের প্রধান দায়িত্ব পান মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা। সার্বিকভাবে
Figure: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহত্যা
বর্ণনা: মাটিতে পড়ে থাকা কয়েকটি মানুষের মৃতদেহ; একজন মানুষ ছবির ডান প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন।
এ পরিকল্পনার তত্ত্বাবধান করেন গভর্নর লে. জেনারেল টিক্কা খান। পাকিস্তানি সৈন্যরা ২৫শে মার্চ রাত ১১.৩০ মিনিটে ঢাকা সেনানিবাস থেকে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। এ সময় তাদের প্রথম আক্রমণের শিকার হয় ঢাকার ফার্মগেইট এলাকায় রাস্তায় মিছিলরত মুক্তিকামী বাঙালি। একই সাথে আক্রমণ চালানো হয় পিলখানা ও রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে আক্রমণ পরিচালিত হয় গভীর রাতে। ইকবাল হল (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ও জগন্নাথ হল এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিয়াকত হলে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী হল) ঢুকে পাকিস্তানি সেনারা গুলি করে ঘুমন্ত অনেক ছাত্রকে হত্যা করে।
ঢাকা হলসহ (বর্তমান শহীদুল্লাহ হল) বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকা এবং রোকেয়া হলেও তারা ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। মার্চের এই গণহত্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০জন শিক্ষকসহ ৩০০ জন ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মচারী নিহত হন। জহুরুল হক হল সংলগ্ন রেলওয়ে বস্তিতে সেনাবাহিনী আগুন দিলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সংগঠিত হয়। শুধু ২৫শে মার্চ রাতেই ঢাকায় ৭ থেকে ৮ হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়।
ঢাকার বাইরে সারা দেশে সেনানিবাস, ইপিআর ঘাঁটিতে আক্রমণ চালিয়ে পাকিস্তানি সেনারা অসংখ্য বাঙালি সেনাকে হত্যা করে। এভাবে আক্রমণের শুরুতেই পাকিস্তানি বাহিনী পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের পুলিশ ও ইপিআর ঘাঁটিগুলোর উপর তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। এসব এলাকায় বহু নিরীহ লোককে হত্যা করা হয়। অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৫শে মার্চ রাত দেড়টায় (২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে) শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বাসা থেকে পাকিস্তানি বাহিনী গ্রেফতার করে।
কাজ- ১ : অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় সংগঠিত গণহত্যার ঘটনা দলগতভাবে অভিনয় করে দেখাও।
কাজ- ২ : অপারেশন সার্চলাইটের ভয়াবহ রূপ বর্ণনা করো।
Printed page 24
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.