Bangladesh and Global Studies chapter 4: Economy of Bangladesh
বাংলাদেশের অর্থনীতি
- Bangladesh and Global Studies
- Textbook pages 39-48
- 1 source
- 21,159 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Economy of Bangladesh
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents13ShowHide
- বাংলাদেশের অর্থনীতি
- মোট দেশজ উৎপাদন ( Gross Domestic Product : GDP)
- মোট জাতীয় উৎপাদন ( Gross National Product : GNP)
- মাথাপিছু আয় ( Per Capita Income : PCI)
- পাঠ- ২ : বাংলাদেশের দেশজ উৎপাদনে বিভিন্ন খাতের অবদান
- পাঠ- ৩ : বাংলাদেশে মানব উন্নয়ন
- পাঠ- ৪ : মানব উন্নয়ন সূচক
- পাঠ- ৫ : বাংলাদেশ ও উন্নয়নশীল কয়েকটি দেশের তুলনা
- পাঠ-৬ : প্রবাসী আয় বা রেমিটেন্স
- নমুনা প্রশ্ন
- বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
- সৃজনশীল প্রশ্ন
- সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন
Printed page 39
চতুর্থ অধ্যায়
বাংলাদেশের অর্থনীতি
বাংলাদেশকে বলা হয় কৃষিপ্রধান দেশ। এদেশের বেশির ভাগ লোক গ্রামে বাস করে। আর কৃষিই তাদের জীবিকার প্রধান উপায়। এছাড়াও গ্রামাঞ্চলে কিছু লোক যেমন- তাঁতি, জেলে, কুমার, কামার, মুদি দোকানদারও ছোটোখাটো ব্যবসা করে জীবনধারণ করে। শহরাঞ্চলের মানুষ প্রধানত চাকরি ও ব্যবসা-বাণিজ্য করে। এছাড়াও শহরে বহু লোক রিকশা, ঠেলা ও ভ্যানগাড়ি চালক, মুটে, মজুর, ছোটো দোকানদার ও ফেরিওয়ালা ইত্যাদি হিসেবে জীবনধারণ করে। এসব কাজ হয় ব্যক্তি উদ্যোগে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় মালিকানায়ও এদেশে কিছু কিছু শিল্পকারখানা এবং রেল, সড়ক ও নৌপরিবহন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক খাতও রয়েছে। বর্তমানে বেসরকারি মালিকানায় দেশে অনেক শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। দেশের উন্নয়নে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাছাড়া বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে এই খাত থেকে। এভাবে সরকারি ও বেসরকারি দুই খাত নিয়েই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক জীবনধারা বিকশিত হচ্ছে।
এ অধ্যায় শেষে আমরা–
- মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (জিডিপি), মোট জাতীয় উৎপাদন (জিএনপি) ও মাথাপিছু আয়ের ধারণা উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করতে পারব;
- মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) যেসব খাত অবদান রাখছে তা বর্ণনা করতে পারব;
- মানবসম্পদ উন্নয়নের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব;
- বাংলাদেশে মানবসম্পদ উন্নয়ন পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে পারব এবং অন্যান্য দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের সাথে তুলনা করতে পারব;
- মানব উন্নয়ন সূচকের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব;
- মানব উন্নয়ন সূচকের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও উন্নয়নশীল কয়েকটি দেশের তুলনা করতে পারব;
- বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের প্রেরিত রেমিটেন্স ও অর্থনীতিতে এর প্রভাব ব্যাখ্যা করতে পারব;
- মানব উন্নয়ন সূচকের ভিত্তিতে দেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালনের মনোভাব অর্জন করব।
মোট দেশজ উৎপাদন ( Gross Domestic Product : GDP)
একটি দেশের অভ্যন্তরে দেশি বা বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা প্রতি বছর উৎপাদিত সকল দ্রব্য ও সেবার মোট আর্থিক মূল্য হচ্ছে মোট দেশজ উৎপাদন (GDP)। জিডিপি হিসাব করা হয় মূলত একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক শক্তি বা সামর্থ্য বোঝার জন্য।
তবে দেশের কোনো ব্যক্তি যদি বিদেশে কাজ করে অথবা কোনো কোম্পানি যদি বিদেশে ব্যবসা করে দেশে টাকা পাঠায় সেই আয় মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন হিসেবে পরিগণিত হবে না অর্থাৎ জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হবে না। মূলত জিডিপি হচ্ছে একটি দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের আর্থিক মূল্য।
Printed page 40
মোট জাতীয় উৎপাদন ( Gross National Product : GNP)
একটি দেশের নাগরিক নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছর) যে সকল দ্রব্য ও সেবা উৎপাদন করে তার মোট আর্থিক মূল্য হচ্ছে মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP)। অর্থাৎ একটি দেশের নাগরিক নিজ দেশসহ বিশ্বের যেখানেই চাকরি বা ব্যবসা করুক না কেন যখন তাদের অর্জিত আয় দেশের অর্থনীতিতে যুক্ত হয় তখন তা মোট জাতীয় উৎপাদন হিসেবে বিবেচিত হবে। জিএনপি হিসাব করা হয় একটি দেশের নাগরিকদের অর্থনৈতিক অবদান বোঝার জন্য। যেমন- কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিদেশে চাকরি বা ব্যবসা করে অর্জিত অর্থের যে পরিমাণ অর্থ বৈধপথে বাংলাদেশে পাঠায় তা বাংলাদেশের মোট জাতীয় উৎপাদনের অংশ হবে।
মাথাপিছু আয় ( Per Capita Income : PCI)
একটি দেশের মোট জাতীয় আয়কে সেই দেশের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে মাথাপিছু আয় পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে একটি দেশের মানুষের সার্বিক জীবনযাত্রার মান নির্ধারণ করা হয়। যে দেশের মাথাপিছু আয় যত বেশি সে দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান ততো উন্নত এবং অর্থনীতি ততো বেশি সমৃদ্ধ।
মাথাপিছু আয়=ঐ বছরের মোট জনসংখ্যাকোনো নির্দিষ্ট বছরের মোট জাতীয় আয়
ধরা যাক, ২০১১ সালে একটি দেশের মোট জনসংখ্যা ছিল ১০ কোটি এবং ঐ সময়ে মোট জাতীয় উৎপাদন বা আয় হলো ৫০০০ কোটি মার্কিন ডলার।
সুতরাং মাথাপিছু আয়=১০ কোটি৫০০০ কোটি মার্কিন ডলার=৫০০ মার্কিন ডলার।
যে কোনো দেশের কৃষি, শিল্প, সেবাসহ যাবতীয় উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের আয় বৃদ্ধি করা। জনগণের আয় বৃদ্ধি পেলে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পায় এবং দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির ফলে ধীরে ধীরে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১০ সালে আমাদের মাথাপিছু আয় ছিল ৯২৮ মার্কিন ডলার; যা ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে এসে দাঁড়িয়েছে ২৭৮৪ মার্কিন ডলারে।
একটি দেশ কতোটা উন্নত বা অনুন্নত তা বিচার করা হয় কতোগুলো সূচক বা মানদণ্ডের সাহায্যে। এই মানদণ্ডগুলো হলো দেশটির মোট জাতীয় উৎপাদন, জনগণের মাথাপিছু আয়, জীবনযাত্রার মান প্রভৃতি। এইসব দিক বিচারে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক উন্নতি লাভ করেছে। আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার প্রতি বছরই পূর্ববর্তী বছরগুলোকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে যেমন আছে আমাদের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি তেমনি আছে প্রবাসে কর্মরত শ্রমিক ও অন্য চাকরিজীবীদের অবদান। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক হিসাবে দেখা যায়, ২০০৪-২০০৫ অর্থবছরে যেখানে বাংলাদেশের
Printed page 41
মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) পরিমাণ ছিল ৩,৭০,৭০৭ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে এর পরিমাণ ৫০ লাখ ৪৮ হাজার ২৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। (উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা- ২০২৪)
দেশের কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধির মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি। দেশে উৎপাদন বাড়লে জনগণের জীবনযাত্রার ওপর তার প্রভাব পড়বে। দারিদ্র্য হ্রাস পাবে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে ও বেকারত্ব হ্রাস পাবে। এর সঙ্গে যদি আমাদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকেও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তবে প্রবৃদ্ধির সূচকে আমাদের দেশ অনেক এগিয়ে যাবে।
কাজ : জাতীয় উৎপাদন ও মাথাপিছু আয় ধারণা দুটি ব্যাখ্যা কর।
পাঠ- ২ : বাংলাদেশের দেশজ উৎপাদনে বিভিন্ন খাতের অবদান
বাংলাদেশে জাতীয় আয়ের উৎস হিসেবে আমরা অনেকগুলি খাতের নাম উল্লেখ করতে পারি। যেমন— কৃষি ও বনজ, মৎস্য, শিল্প, খনিজ, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানিসম্পদ, নির্মাণশিল্প, পাইকারি ও বিপণন, হোটেল-রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও যোগাযোগ, ব্যাংক-বিমা, স্বাস্থ্য, সামাজিক ব্যবসা-বাণিজ্য, শুল্ক প্রভৃতি। এর মধ্যে আমাদের জাতীয় উৎপাদন ও আয়ের কয়েকটি খাত নিচে উল্লেখ করা হলো :
ক) কৃষিখাতঃ খাদ্যশস্য, শাকসবজি, প্রাণি, মৎস্য ও বনজ সম্পদ এই খাতের অন্তর্ভুক্ত। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে এই খাতের অবদান ছিলো ১৩.১৪ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধির হার ছিলো ৩.৫৪ শতাংশ। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে এই খাতের অবদান ছিলো ১১.০২ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধির হার ছিলো ৩.২১ শতাংশ।
খ) মৎস্যখাতঃ ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ নদী ও অন্যান্য জলাশয় এবং সামুদ্রিক উৎস থেকে মাছ আহরণসহ দেশজ উৎপাদনে মৎস্যখাতের অবদান ছিল ২.৭৭ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪.৯৩ শতাংশ। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে এই খাতের অবদান ছিল ২.৩৮ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২.৮১ শতাংশ।
গ) শিল্পখাতঃ ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদান ছিল ৩৩.৮৫ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১০.২০ শতাংশ। পোশাকশিল্প, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ, খনিজসম্পদ ও নির্মাণ শিল্প প্রভৃতিকে এই খাতের অন্তর্ভুক্ত করায় জাতীয় অর্থনীতিতে এই খাতের অবদান অনেক বেড়ে যায়। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে এই খাতের অবদান ৩৭.৯৫ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.৬৬ শতাংশ।
ঘ) পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্যঃ ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে জিডিপিতে এই খাতের অবদান ছিল ১৪.৭৫ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮.৭৪ শতাংশ। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে এই খাতের অবদান ছিল ১৫.৩২ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.১৯ শতাংশ।
Printed page 42
ঙ) পরিবহন, সংরক্ষণ ও যোগাযোগঃ ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে জিডিপিতে এই খাতের অবদান ছিল ৭.৮৮ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.৭৪ শতাংশ। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে এই খাতের অবদান ছিল ৭.২৫ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫.২৪ শতাংশ।
চ) স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবাখাতঃ ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে জিডিপিতে এই খাতের অবদান ছিল ২.৮৯ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৯.২০ শতাংশ। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে এই খাতের অবদান ছিল ৩.৫৭ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১০.০৭ শতাংশ। (উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা- ২০২৪)
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জিডিপির গুরুত্ব
এককভাবে ধরলে আমাদের মোট জাতীয় উৎপাদনে কৃষির অবদানই সর্বাধিক। তবে শিল্পের ভূমিকাও দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়া সেবাখাতসমূহও দেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছে। বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তি-নির্ভর। কৃষি, শিল্প, যোগাযোগ, সেবা প্রভৃতি খাতের উন্নয়নে প্রযুক্তির বিকাশকে কাজে লাগিয়ে আমরা সহজেই আমাদের জাতীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত ও জাতীয় আয় বৃদ্ধি করতে পারি। সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে বিভিন্ন খাতের উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় ও আয়ের ভারসাম্য বজায় রাখলে জনগণের জীবনমানের উন্নয়নেও তা সহায়ক হবে।
কাজ : বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধিতে যেসব খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে সেগুলোর একটি তালিকা তৈরি কর এবং খাতওয়ারি অবদানের বিবরণ দাও।
পাঠ- ৩ : বাংলাদেশে মানব উন্নয়ন
মানবসম্পদ উন্নয়ন
মানুষ তখনই রাষ্ট্র ও সমাজের সম্পদে পরিণত হয় যখন সে কিছু করতে পারে। কেউ শারীরিক শ্রম দিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য সম্পদ তৈরিতে সহায়তা করে আবার কেউ মেধা দিয়ে নতুন নতুন সম্পদ উদ্ভাবন করে সহায়তা করে থাকে। দেশের কৃষি, শিল্প বা সেবাখাতে উৎপাদন বৃদ্ধির কাজে যারা শ্রম ও মেধা দিয়ে কাজ করেন তারা নিজেদেরকে শ্রমশক্তিতে রূপান্তরিত করেন। শ্রমশক্তি সম্পন্ন মানুষকেই দেশের মানবসম্পদ বলা হয়। প্রতিটি অদক্ষ মানুষকে শ্রমশক্তি সম্পন্ন বা মানবসম্পদ পরিণত করাই হচ্ছে মানবসম্পদের উন্নয়ন। উপযুক্ত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, বাসস্থান, চিকিৎসা ও খাদ্যের সংস্থানের মাধ্যমেই মানবসম্পদের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। কোনো অদক্ষ মানুষ নয়, কেবলমাত্র দক্ষ মানুষই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। সুতরাং দেশের সকল মানুষকে তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষার মাধ্যমে জ্ঞান লাভের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দক্ষতা সৃষ্টি করতে হবে। দক্ষতা অনুযায়ী কাজ করার জন্য সুস্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করতে হবে। অতএব চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও উৎপাদনমুখী সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাই মানবসম্পদের উন্নয়ন।
Printed page 43
বাংলাদেশে মানবসম্পদ উন্নয়ন
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ অনুযায়ী ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশের জনসংখ্যা ছিলো ১৭ কোটি ১৪ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৯০ জন। ২০২২ সালে প্রকাশিত আদমশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৫১ লক্ষ ৫৮ হাজার ৬১৬জন। বিবিএস পরিচালিত সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৩-২০২৪ অনুযায়ী ১৫ বছরের উপরে অর্থনৈতিকভাবে কর্মক্ষম শ্রমশক্তি ৭.৩৫ কোটি। উক্ত শ্রমশক্তির শতকরা ৪৫ ভাগ কৃষি, ১৭ ভাগ শিল্প এবং ৩৮ ভাগ বিভিন্ন সেবাখাতে নিয়োজিত রয়েছে। মোট শ্রমশক্তির ৪.৮ কোটি পুরুষ এবং ২.৫৫ কোটি নারী কাজে নিয়োজিত রয়েছে। বাকি মানুষ সার্বক্ষণিক কাজের সঙ্গে যুক্ত নয়। তবে তাদের মধ্যে ১৫ বছরের নিচের শিশু-কিশোর এবং বৃদ্ধ মানুষও রয়েছেন।
আমাদের দেশে সাক্ষরতার হার এখন দ্রুতগতিতে বাড়ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশ (উৎস: অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪); ২০০৯ সালে এই হার ছিল ৫৪.৮%। দেশে স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও বাসস্থানের ব্যাপক সমস্যা রয়েছে। ফলে আমাদের বিপুল জনগণের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। দারিদ্রের কারণে অনেক মানুষ তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও খাদ্যের যোগান দিতে পারছে না। ফলে তারা দ্রুত দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হয়ে উঠতে পারছে না। আমাদের দেশের মানুষ দক্ষ জনসম্পদে পরিণত না হওয়ার কারণ ‘দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র’। নিচের উদাহরণটি পড়লেই এ চক্রটি কীভাবে মানবসম্পদে পরিণত হওয়ার পথে বাধা তা পরিষ্কার হওয়া যাবে।
দরিদ্র লোকের পর্যাপ্ত খাদ্য থাকে না বলে দুর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী হয়। তাই এরা কাজ পায় না বা করতে পারে না। ফলে আয় কম হয়। কম আয়ের কারণে সঞ্চয় করতে পারে না বা কম সঞ্চয় করে। সঞ্চয় কম হলে মূলধন কম হয়, ফলে বিনিয়োগ কম হয়। বিনিয়োগ কম হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না, তাই অনেক লোকই কাজের অভাবে দরিদ্রই থেকে যায়। সুতরাং দারিদ্র্যের এই চক্রাকার আবর্তের কারণে মানবসম্পদ উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই বাংলাদেশে মানবসম্পদ পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন জনসাধারণকে খাদ্যের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষাখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
কাজ : দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র কীভাবে উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে?
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.