Skip to content

Bangladesh and Global Studies chapter 5: Bangladesh State and Government System

বাংলাদেশ : রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থা

  • Bangladesh and Global Studies
  • Textbook pages 49-62
  • 1 source
  • 27,128 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Bangladesh State and Government System

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents12

Printed page 49

পঞ্চম অধ্যায়

বাংলাদেশ : রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থা

রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। সরকার রাষ্ট্র গঠনের একটি উপাদান। পৃথিবীর প্রতিটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নিজস্ব সরকার ব্যবস্থা রয়েছে। সরকার বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। আবার প্রতিটি সরকারের রয়েছে কিছু অঙ্গ। এগুলোর মাধ্যমে রাষ্ট্র নানামুখী কাজ করে থাকে। রাষ্ট্র পরিচালিত হয় সংবিধানে উল্লিখিত নীতিমালার ভিত্তিতে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয়। এতে আমাদের রাষ্ট্র পরিচালনার বিবরণ রয়েছে।

এ অধ্যায় শেষে আমরা–

  • সরকার পদ্ধতির ধরন সংক্ষেপে বর্ণনা করতে পারব;
  • বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ বর্ণনা করতে পারব;
  • বাংলাদেশের সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে পারব ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করব;
  • বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা ও কার্যাবলি বর্ণনা করতে পারব;
  • বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার কাঠামো ও কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • বাংলাদেশের সরকার পরিচালনায় সুশাসনের গুরুত্ব উপলব্ধি করে সুশাসনের জন্য গৃহীত কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে পারব।

পাঠ-১ : সরকারের শ্রেণিবিভাগ

রাষ্ট্রের অপরিহার্য চারটি মৌলিক উপাদানের একটি হচ্ছে সরকার। এটি রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি। ইঞ্জিন ছাড়া যেমন গাড়ি চলতে পারে না তেমনি সরকার ছাড়া রাষ্ট্র চলে না। রাষ্ট্র পরিচালনার সকল কাজ সরকারের মাধ্যমে সাধিত হয়।

সরকার রাষ্ট্রের অপরিহার্য উপাদান হলেও সব রাষ্ট্রের সরকারের ধরন এক নয়। যখন থেকে রাষ্ট্রের শুরু হয়েছে তখন থেকেই সরকারের ধরন এক রকম ছিল না। যুগে যুগে সরকারের ধরন ও ধারণার পরিবর্তন ঘটেছে। বর্তমানকালে সরকারকে নিচের ছক অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ করা হয় :

Figure: সরকারের শ্রেণিবিভাগ

বর্ণনা: ছকে সরকারের শ্রেণিবিভাগ দেখানো হয়েছে:

  • সরকার দুই ভাগে বিভক্ত: গণতন্ত্র এবং একনায়কতন্ত্র।
  • গণতন্ত্র আবার দুই ভাগে বিভক্ত: নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র এবং প্রজাতন্ত্র।
    • নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র দুই ভাগে বিভক্ত: যুক্তরাষ্ট্রীয় এবং এককেন্দ্রিক।
    • প্রজাতন্ত্র দুই ভাগে বিভক্ত: সংসদীয় সরকার এবং রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার।
      • সংসদীয় সরকার দুই ভাগে বিভক্ত: যুক্তরাষ্ট্রীয় এবং এককেন্দ্রিক।
      • রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার দুই ভাগে বিভক্ত: যুক্তরাষ্ট্রীয় এবং এককেন্দ্রিক।

Printed page 50

১. সরকারকে প্রধানত গণতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্র এই দুইভাগে ভাগ করা যায়। গণতন্ত্রে সার্বভৌম ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকে এবং জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। জনগণ তাদের পছন্দের রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনা করে। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই এ ধরনের সরকার রয়েছে। অন্যদিকে একনায়কতন্ত্র হচ্ছে এক ব্যক্তির বা এক দলের শাসন। এতে জনগণের অধিকার ও মতামতের কোনো স্বীকৃতি থাকে না। এখানে একনায়ক বা এক দলের ইচ্ছা-অনিচ্ছা দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।

২. রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে সরকারকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। ক) রাজতান্ত্রিক সরকার ও খ) প্রজাতান্ত্রিক সরকার। যে সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান উত্তরাধিকারসূত্রে ক্ষমতা লাভ করেন তাই হলো রাজতন্ত্র। বর্তমানে দুই/একটি (সৌদি আরব) ব্যতিক্রম ছাড়া সরাসরি রাজতান্ত্রিক সরকার খুব একটা নেই। কিন্তু বিশ্বে অনেক রাষ্ট্রেই অতীত ঐতিহ্য ধরে রাখতে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র চালু আছে (যেমন: গ্রেট ব্রিটেন)। অন্যদিকে জনগণের ভোটে যে সরকারের রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হন, সে সরকার হলো প্রজাতান্ত্রিক সরকার। এ ধরনের ব্যবস্থায় জনগণকে রাষ্ট্রের মালিক মনে করা হয়।

৩. ক্ষমতা বণ্টনের নীতির উপর ভিত্তি করে গণতান্ত্রিক সরকারকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায় : এককেন্দ্রিক সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার। যে সরকার ব্যবস্থায় কেন্দ্রের হাতে ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে তাকে বলে এককেন্দ্রিক সরকার। আর যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারে সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করা হয়।

৪. আইন ও শাসনবিভাগের সম্পর্কের আলোকে গণতান্ত্রিক সরকারকে দুইভাগে ভাগ করা হয় : সংসদীয় সরকার ও রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার। সংসদীয় সরকারে শাসনবিভাগ আইন বিভাগের উপর নির্ভরশীল ও সংসদের কাছে দায়ী থাকে। কিন্তু রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারে শাসনবিভাগ আইনবিভাগের নিকট দায়ী বা তার উপর নির্ভরশীল থাকে না। এখানে রাষ্ট্রপতি তার মন্ত্রিপরিষদ নিয়ে সরাসরি দেশের শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করেন।

কাজ-১ : সরকার পদ্ধতির ধরনগুলো একটি পোস্টার পেপারে চার্ট আকারে উপস্থাপন করে শ্রেণিকক্ষের দেওয়ালে ঝুলিয়ে দাও।

পাঠ-২ : বাংলাদেশের সরকার পদ্ধতি

বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এ রাষ্ট্রে প্রজাতান্ত্রিক সরকার বিদ্যমান। এখানে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। এর কোনো প্রদেশ নেই। একটি কেন্দ্র থেকেই শাসনকার্য পরিচালিত হয়। এতে সংসদীয় তথা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থায় নিয়মতান্ত্রিকভাবে একজন রাষ্ট্রপ্রধান থাকেন।

Figure: বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য

বর্ণনা: ছকের কেন্দ্রে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতীক রয়েছে এবং চারদিকে চারটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে:

  • উপরে: প্রজাতান্ত্রিক সরকার। এর নাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
  • নিচে: সংসদীয় পদ্ধতি/মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার
  • বামে: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র
  • ডানে: এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র ছকের নিচে লেখা: "ছক: বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য"।

Printed page 51

সরকার প্রধান বা নির্বাহী প্রধান হিসেবে থাকেন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদ। এই শাসন ব্যবস্থায় আইনসভার প্রাধান্য বিদ্যমান। মন্ত্রিপরিষদ রাষ্ট্রের যেকোনো নির্বাহী কার্য সম্পাদনের জন্য আইনসভার কাছে দায়বদ্ধ থাকে।

কাজ-১ : ‘বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র’, -দুটি উদাহরণের সাহায্যে প্রমাণ করো।

পাঠ-৩ : বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি

১৯৭২ সালের মূল সংবিধান এবং সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী বাংলাদেশ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ হলো :

১. জাতীয়তাবাদ : একই ধরনের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বাঙালি জাতির মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য সৃষ্টি করেছে। তাই সংবিধানে বলা হয়েছে, একই ভাষা ও সংস্কৃতিতে আবদ্ধ বাঙালি জাতি যে ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে সেই ঐক্য ও সংহতি হবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।

২. সমাজতন্ত্র : অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমতা আনার মাধ্যমে সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই হলো সমাজতন্ত্রের মূল লক্ষ্য। শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সমাজতন্ত্রকে রাষ্ট্রের একটি মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

৩. গণতন্ত্র : রাষ্ট্রের সকল কাজে নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই হলো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূলনীতি। এর মাধ্যমে নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে; মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে।

৪. ধর্মনিরপেক্ষতা : রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে এবং ধর্ম পালনে কেউ কাউকে বাধা প্রদান করবে না- এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।

Figure: বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি

বর্ণনা: ছকে একটি বৃত্তের কেন্দ্রে লেখা "রাষ্ট্রীয় মূলনীতি" এবং তা থেকে চারটি তীরচিহ্ন নির্দেশ করছে চারটি মূলনীতি:

  • উপরে: জাতীয়তাবাদ
  • নিচে: ধর্মনিরপেক্ষতা
  • বামে: গণতন্ত্র
  • ডানে: সমাজতন্ত্র ছকের নিচে লেখা: "ছক : বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি"।

Printed page 52

উল্লিখিত মূলনীতিগুলো রাষ্ট্র পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে অনুসৃত হয়। প্রতিটি নাগরিকের উচিত এগুলো মেনে চলা। এছাড়া সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনার পবিত্র দলিল। অতএব, সংবিধানকে সম্মান করা ও তা মেনে চলা প্রতিটি নাগরিকের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য।

কাজ : গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এ দুটি মূলনীতি আমরা আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে কীভাবে অনুসরণ করতে পারি তার দুটি করে উদাহরণ দাও।

পাঠ-৪ : বাংলাদেশের সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য

সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দলিল। একটি ভবন বা ইমারত যেমন এর নকশা দেখে তৈরি করা হয়, তেমনি সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়। সরকার কী ধরনের হবে, নাগরিক হিসাবে আমরা কী অধিকার ভোগ করব, সরকারের বিভিন্ন বিভাগ কী ক্ষমতা ভোগ করবে তার সবকিছুই এতে লিপিবদ্ধ থাকে। বাংলাদেশের সংবিধান রচনার ইতিহাস নিম্নরূপ:

দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর আমাদের বিজয় অর্জিত হয়। পাকিস্তানের শাসন মুক্ত হয়ে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। ১৯৭২ সালের ১০ই এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে এবং ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে একটি সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ছয় মাসের মধ্যে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন করে। ১৯৭২ সালের ৩০শে অক্টোবর গণপরিষদে এটি আলোচিত হয়। অবশেষে একই বছরের ৪ঠা নভেম্বর গণপরিষদে এটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

সংবিধান কোনো অপরিবর্তনশীল বিষয় নয়। সময়ের প্রয়োজনে এটি পরিবর্তিত এবং সংশোধিত হতে পারে। বাংলাদেশের সংবিধান এ পর্যন্ত ১৭ বার সংশোধিত হয়েছে। সংবিধানের সর্বশেষ সংশোধনী (সপ্তদশ) সংসদে পাশ হয় ৮ই জুলাই ২০১৮। কিন্তু এইসব সংশোধনী সবসময় জন-আকাঙ্ক্ষা থেকে হয়েছে এমন নয় বরং নানা সময়ে অগণতান্ত্রিকভাবে সংশোধনীও আনা হয়েছে।

আমাদের সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:

১. গণপ্রজাতন্ত্রী সরকার: বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত হবে।

২. সংসদীয় পদ্ধতির সরকার: বাংলাদেশে মন্ত্রিপরিষদ শাসিত বা সংসদীয় পদ্ধতির শাসনব্যবস্থা চালু থাকবে। এই পদ্ধতিতে প্রকৃত শাসন ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকবে।

Printed page 53

৩. লিখিত সংবিধান: এটি একটি লিখিত দলিল। যা ১১ ভাগে বিভক্ত এবং এতে ১৫৩টি অনুচ্ছেদ ও একটি প্রস্তাবনা আছে।

৪. রাষ্ট্রীয় মূলনীতি: সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতি নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।

৫. রাষ্ট্রধর্ম: সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও অন্য সকল ধর্ম ও ধর্মের অনুসারীদের সমান মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

৬. জাতি ও জাতীয়তা: বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি নামে পরিচিত হবে এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের পরিচয় হবে ‘বাংলাদেশি’।

৭. এককেন্দ্রিক সরকার: দেশে এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত থাকবে।

৮. এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: সংবিধানে এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত ৩০০জন সংসদ সদস্য ও তাদের দ্বারা নির্বাচিত ৫০জন মহিলা সংসদ সদস্য নিয়ে এই আইনসভা গঠিত হবে।

৯. মৌলিক অধিকার: সংবিধানে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও তা সংরক্ষণের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

১০. জনগণের সার্বভৌমত্ব: সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনগণের পক্ষে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ক্ষমতা পরিচালনা করবে।

১১. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: সংবিধানে বিচারবিভাগের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।

১২. সর্বজনীন ভোটাধিকার: সংবিধানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ১৮ বছর থেকে তদূর্ধ্ব বয়সের সকল নাগরিককে ভোটাধিকার প্রদান করা হয়েছে।

১৩. নির্বাচন অনুষ্ঠান: মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে এবং মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙে গেলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

১৪. সংবিধান সংশোধন: সংসদ সদস্যদের মোট সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের ভোটে সংবিধান সংশোধন করা যাবে। বাংলাদেশের সংবিধানের মূল গণতান্ত্রিক চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক এবং স্বৈরতন্ত্রের বীজ সংবিধানেই আছে যা বারে বারে স্বৈরতান্ত্রিক উত্থানকে সংহত করেছে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন। সংবিধানের সংস্কার বিষয়টি এ কারণে ইদানীং প্রাসঙ্গিক।

কাজ-১ : বাংলাদেশের সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো চিহ্নিত করো।

কাজ-২ : বিদ্যালয় বা আশেপাশের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের পাঠাগার থেকে বাংলাদেশের সংবিধান সংগ্রহ করে সংক্ষেপে এর পরিচিতি লেখো।

Printed page 54

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.