Bangladesh and Global Studies chapter 8: Various Ethnic Groups of Bangladesh
বাংলাদেশের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী
- Bangladesh and Global Studies
- Textbook pages 84-96
- 1 source
- 21,852 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Various Ethnic Groups of Bangladesh
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents12ShowHide
- বাংলাদেশের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী
- পাঠ-১ : বাংলাদেশের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর ভৌগোলিক অবস্থান
- পাঠ-২ : চাকমা
- পাঠ- ৩ : গারো
- পাঠ-৪ : সাঁওতাল
- পাঠ-৫ : মারমা
- পাঠ -৬ : রাখাইন
- পাঠ-৭ : বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন নৃগোষ্ঠীর সাথে বাঙালি সংস্কৃতির সংমিশ্রণ ও আদান-প্রদান
- নমুনা প্রশ্ন
- বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
- সৃজনশীল প্রশ্ন
- সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন
Printed page 84
অষ্টম অধ্যায়
বাংলাদেশের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী
বাংলাদেশে বৃহত্তর নৃগোষ্ঠী বাঙালিদের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু নৃগোষ্ঠীর মানুষ দীর্ঘকাল ধরে বসবাস করে আসছে। এ অধ্যায়ে আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী যেমন- চাকমা, গারো, সাঁওতাল, মারমা ও রাখাইনদের ভৌগোলিক অবস্থান, জীবনধারা, সামাজিক রীতিনীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানব।
এ অধ্যায় শেষে আমরা–
- বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন, গারো নৃগোষ্ঠীর ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে জানব এবং মানচিত্রে শনাক্ত করতে পারব;
- বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল,রাখাইন, গারো নৃগোষ্ঠীর সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনধারা সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;
- বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন,গারো নৃগোষ্ঠীর সাথে বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতির সংমিশ্রণ ব্যাখ্যা করতে পারব;
- বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন, গারো নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সাংস্কৃতিক আদান প্রদান ব্যাখ্যা করতে পারব;
- বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, রাখাইন, গারো নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করব।
পাঠ-১ : বাংলাদেশের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর ভৌগোলিক অবস্থান
সাধারণভাবে ভৌগোলিক অবস্থানভেদে বাংলাদেশে দুই ধরনের নৃগোষ্ঠীর মানুষ আছেন-পাহাড়ি ও সমতলবাসী। এদের একটি অংশ বসবাস করে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশে তথা পার্বত্য চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায়। এসব জেলায় বসবাসকারী নৃগোষ্ঠীগুলো হলো- চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, পাংখুয়া, চাক, খিয়াং, খুমি এবং লুসাই। নৃতাত্ত্বিক বিচারে এরা মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর মানুষ। এরা পাহাড়ি নামেও পরিচিত।
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাংশেও মঙ্গোলীয় ভিন্ন নৃগোষ্ঠীর বাস রয়েছে। এদের মধ্যে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের গারো, হাজং, কোচ এবং বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে খাসি ও মণিপুরি প্রভৃতি নৃগোষ্ঠীর নাম উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও কক্সবাজার, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় বাস করে মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীভুক্ত রাখাইনরা।
বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের দিনাজপুর, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা প্রভৃতি এলাকায় বসবাস করে সাঁওতাল, ওরাওঁ, মাহালি মুন্ডা, মাল পাহাড়ি, মালো ইত্যাদি নৃগোষ্ঠী। এরা মূলত সমতলবাসী হিসেবে পরিচিত। বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলেও এসব নৃগোষ্ঠীর কারো কারো অবস্থান রয়েছে।
Printed page 85
বাংলাদেশে আরও কয়েকটি নৃগোষ্ঠী রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- ডালু, হদি, পাত্র, রাজবংশী, বর্মণ, বানাই, পাহান, মাহাতো, কোল প্রভৃতি। বৃহত্তর সিলেট, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন স্থানে এদের বসবাস।
কাজ-১: বাংলাদেশের প্রধান প্রধান নৃগোষ্ঠীর নাম, আবাসস্থল ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয় উল্লেখ কর।
| নৃগোষ্ঠীর নাম | আবাসস্থল | নৃতাত্ত্বিক পরিচয় |
|---|---|---|
কাজ-২: বাংলাদেশের মানচিত্র অঙ্কন করে প্রধান প্রধান নৃগোষ্ঠীর ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্ত করো।
পাঠ-২ : চাকমা
বাংলাদেশের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বসবাসকারী বৃহত্তম নৃগোষ্ঠী হলো চাকমা। নৃতাত্ত্বিক বিচারে চাকমারা মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর লোক। বাংলাদেশের বাইরেও চাকমারা ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম ও অরুণাচলে বসবাস করে।
সামাজিক জীবন : চাকমা সমাজের মূল অংশ পরিবার। কয়েকটি চাকমা পরিবার নিয়ে গঠিত হয় ‘আদাম’ বা ‘পাড়া’। পাড়ার প্রধানকে বলা হয় কার্বারি। কয়েকটি পাড়া নিয়ে গঠিত হয় মৌজা। মৌজার প্রধানকে বলা হয় হেডম্যান। কার্বারি ও হেডম্যান মিলে যথাক্রমে পাড়া ও মৌজার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করে। কয়েকটি মৌজা মিলে চাকমা সার্কেল গঠিত হয় এবং এর প্রধান হলেন চাকমা রাজা। চাকমা সমাজে রাজার পদটি বংশানুক্রমিক। চাকমা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক। চাকমা পরিবারে পিতাই প্রধান।
অর্থনৈতিক জীবন : চাকমাদের জীবিকার প্রধান উপায় হচ্ছে কৃষিকাজ। যে পদ্ধতিতে তারা চাষ করে তাকে বলা হয় ‘জুম’। এই পদ্ধতিতে ঘুরে ঘুরে অর্থাৎ স্থানান্তরের মাধ্যমে চাষাবাদ করা হয়। পাহাড়ের বনভূমি কেটে, পুড়িয়ে অল্প কয়েক বছর চাষাবাদের পর দীর্ঘ সময় ঐ স্থান ফেলে রাখা হয় জমির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য। তবে বর্তমান সময়ে তারা হালচাষ ছাড়াও সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে অভ্যস্ত হয়েছে।
ধর্মীয় জীবন : চাকমারা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। তাদের অধিকাংশ গ্রামে ‘কিয়াং’ বা বৌদ্ধ মন্দির রয়েছে। চাকমারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিনকে ভক্তি সহকারে পালন করে। চাকমাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বৈশাখী পূর্ণিমা। গৌতম বুদ্ধের জন্ম, মৃত্যু ও বুদ্ধত্ব প্রাপ্তির দিন এটি। তাছাড়া ‘মাঘী পূর্ণিমার’ রাতে কিয়াং বা প্যাগোডার প্রাঙ্গণে গৌতম বুদ্ধের সম্মানে ফানুস উড়ায়। চাকমা সমাজে মৃতদেহ দাহ করা অর্থাৎ পোড়ানো হয়।
Printed page 86
সাংস্কৃতিক জীবন
চাকমারা নিজেদের তাঁত দিয়ে পোশাক তৈরি করে। চাকমা মেয়েদের পরনের কাপড়ের নাম ‘পিনোন’ এবং ‘হাদি’। পূর্বে চাকমা পুরুষেরা এক রকম মোটা সুতার জামা, ধুতি ও গামছা পরত এবং মাথায় এক রকম পাগড়ি বাঁধত। ইদানীং তারা শার্ট, প্যান্ট ও লুঙ্গি পরিধান করে। চাকমা নারীদের তৈরি বিভিন্ন কাপড়ের মধ্যে ‘ফুলগাদি’ ও নানা ধরনের ওড়না দেশি ও বিদেশি সবার কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চাকমারা বাঁশ ও বেত দিয়ে সুন্দর সুন্দর ঝুড়ি, পাখা, চিরুনি, বাঁশি এবং বাদ্যযন্ত্র তৈরি করে।
Figure: চাকমাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক
বর্ণনা: চাকমাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিহিত একজন পুরুষ ও একজন নারীর আলোকচিত্র।
চাকমাদের প্রধান খাদ্য ভাত। তারা ভাতের সাথে মাছ, মাংস এবং শাকসবজি খেতে ভালোবাসে। তাদের প্রিয় খাদ্য বাঁশ কোড়ল। বাঁশ কোড়ল দিয়ে চাকমা মেয়েরা বেশ কয়েক ধরনের রান্না করে। চাকমারা হা-ডু-ডু, কুস্তি এবং ‘ঘিলাখারা’ খেলতে ভালোবাসে। ছোটো ছোটো মেয়েরা ‘বউচি’ খেলে।
চাকমাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্ববৃহৎ উৎসব হলো ‘বিজু’। বাংলা বর্ষের শেষ দুদিন ও নববর্ষের প্রথম দিনে চাকমারা বিজু উৎসব পালন করে। অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর তুলনায় চাকমারা তুলনামূলকভাবে বেশি শিক্ষিত। চাকমাদের নিজস্ব ভাষা ও বর্ণমালা রয়েছে।
কাজ : চাকমাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো উল্লেখ করো।
| জীবনব্যবস্থা | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| সামাজিক | |
| অর্থনৈতিক | |
| সাংস্কৃতিক | |
| ধর্মীয় |
Printed page 87
পাঠ- ৩ : গারো
বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী ভিন্ন নৃগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গারোরা হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ। গারোরা ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলের মধুপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর ও গাজীপুরের শ্রীপুরে বাস করে। বৃহত্তর সিলেট জেলায়ও কিছু সংখ্যক গারো রয়েছে। বাংলাদেশের বাইরে ভারতের মেঘালয় ও অন্যান্য রাজ্যেও গারোরা বাস করে। বাংলাদেশের গারোরা সাধারণত সমতলের বাসিন্দা।
গারোরা সাধারণত ‘মান্দি’ নামে নিজেদের পরিচয় দিতে পছন্দ করে। গারোরা মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর লোক।
সামাজিক জীবন : গারোদের সমাজ মাতৃসূত্রীয়। তাদের সমাজে মাতা হলেন পরিবারের প্রধান। সন্তানেরা মায়ের উপাধি ধারণ করে। পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ কন্যা পরিবারের সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করে থাকে। গারো পরিবারে পিতা বা মায়ের ভাই সংসার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে।
গারো সমাজের মূলে রয়েছে মাহারি বা মাতৃগোত্র পরিচয়। তাদের সামাজিক জীবনে বিশেষত বিয়ে, উত্তরাধিকার, সম্পত্তির ভোগ-দখল ইত্যাদিতে এই মাহারির গুরুত্ব অপরিসীম। মাতার বংশ ধরেই গারোদের চাচ্চি (গোত্র) ও মাহারি (মাতৃগোত্র) নির্ণয় করা হয়। গারো সমাজে একই মাহারির পুরুষ ও নারীর মধ্যে বিয়ে নিষিদ্ধ। বর ও কনেকে ভিন্ন ভিন্ন মাহারির অন্তর্ভুক্ত হতে হয়।
গারো সমাজে বেশ কয়েকটি দল রয়েছে। এরকম প্রধান পাঁচটি দল হচ্ছে : সাংমা, মারাক, মোমিন, শিরা ও আরেং।
অর্থনৈতিক জীবন : বাংলাদেশের গারোরা সাধারণত কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। পূর্বে গারোরা জুম চাষে অভ্যস্ত ছিল। বর্তমানে সমতলের গারোদের মধ্যে জুম চাষের প্রচলন নেই। তারা হাল চাষের সাহায্যে প্রধানত ধান, নানা জাতের সবজি ও আনারস উৎপাদন করে।
ধর্মীয় জীবন : গারোদের আদি ধর্মের নাম ছিল ‘সাংসারেক’। অতীতে গারোরা বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করত। তাদের প্রধান দেবতার নাম ছিল ‘তাতারা রাবুগা’। গারোরা সালজং, সুসিমে, গোয়েরা, মেন প্রভৃতি দেবদেবীর পূজা করত। নাচ-গান ও পশু বলিদানের মাধ্যমে তারা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করত। বর্তমানে গারোদের অধিকাংশ লোক খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী। তারা এখন বড়দিনসহ খ্রিষ্ট ধর্মীয় উৎসব পালন করে।
Printed page 88
সাংস্কৃতিক জীবন
গারো নারীদের নিজেদের তৈরি পোশাকের নাম ‘দকমান্দা’ ও ‘দকশাড়ি’। পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম ‘গান্দো’।
Figure: ঐতিহ্যবাহী পোশাকে গারো নারী
বর্ণনা: ঐতিহ্যবাহী পোশাকে দুইজন গারো নারীর আলোকচিত্র।
গারোরা ভাতের সাথে মাছ ও শাকসবজি খেয়ে থাকে। তাদের একটি বিশেষ খাদ্য হচ্ছে কচি বাঁশের গুঁড়ি। এর জনপ্রিয় নাম ‘মেওয়া’। এছাড়াও তারা কলাপাতা মোড়ানো পিঠা, মেরা পিঠা এবং তেলের পিঠা খেতে পছন্দ করে।
গারোরা খুব আমোদ প্রমোদ প্রিয়। তাদের সামাজিক উৎসবগুলো কৃষিকেন্দ্রিক। তাদের প্রধান সামাজিক ও কৃষি উৎসব হলো ‘ওয়ানগালা’।
Figure: গারোদের ওয়ানগালা উৎসব
বর্ণনা: ঢাক-ঢোল বাজিয়ে ও নেচে গারোদের ওয়ানগালা উৎসব উদযাপনের একটি দৃশ্য।
বাংলাদেশের গারোদের ভাষা ‘আচিক’। এই ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই। গারো ভাষা তিব্বতীয়-বর্মি ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
কাজ : গারোদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জীবনের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
| জীবনব্যবস্থা | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| সামাজিক | |
| অর্থনৈতিক | |
| সাংস্কৃতিক | |
| ধর্মীয় |
Printed page 89
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.