Bangladesh and Global Studies chapter 11: Climate and Disaster Management in Bangladesh
বাংলাদেশে জলবায়ু ও দুর্যোগ মোকাবিলা
- Bangladesh and Global Studies
- Textbook pages 109-125
- 1 source
- 32,284 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Climate and Disaster Management in Bangladesh
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents11ShowHide
- বাংলাদেশে জলবায়ু ও দুর্যোগ মোকাবিলা
- পাঠ-১ : বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ধারণা
- পাঠ- ২ : বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণ ও প্রভাব
- পাঠ-৩ : দুর্যোগের ধারণা ও ধরন
- পাঠ- ৪ ও ৫ : বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ
- পাঠ- ৬ : প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ
- পাঠ-৭ : বাংলাদেশের জীবন ও অর্থনীতির ওপর দুর্যোগের প্রভাব
- পাঠ- ৮ : দুর্যোগ মোকাবিলায় করণীয়
- বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
- সৃজনশীল প্রশ্ন
- সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন
Printed page 109
একাদশ অধ্যায়
বাংলাদেশে জলবায়ু ও দুর্যোগ মোকাবিলা
বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোর একটি। আমরা জানি যে, ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা উষ্ণায়নের কারণে সারা পৃথিবীতেই আজ জলবায়ুর পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। জলবায়ুর এই পরিবর্তনের ফলে উষ্ণমণ্ডলীয় দেশে শুষ্ক মৌসুমে ফসলের উৎপাদন হ্রাস পায়। এছাড়া বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। শুষ্ক মৌসুমে অনাবৃষ্টি ও অত্যধিক খরা, শিলাবৃষ্টি, ভূমিক্ষয়, টর্নেডো, সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে এবং উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়। শীত মৌসুমে হঠাৎ শৈত্য ও উষ্ণ প্রবাহ এবং ঘন কুয়াশা লক্ষ করা যায়। এ ছাড়া দেশে সংগঠিত প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহের মধ্যে ভূমিকম্প অন্যতম। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এ দুর্যোগ সংঘটনের কারণ। বাংলাদেশের জীবন ও অর্থনীতির ওপর এইসব দুর্যোগের প্রভাব লক্ষ করা যায়।
এ অধ্যায় শেষে আমরা–
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব;
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণ ও প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব;
- দুর্যোগের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব;
- দুর্যোগের ধরন উল্লেখ করতে পারব;
- বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ যথা- ভূমিকম্প, সুনামি, ভূমিধস ও অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদি সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;
- বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ বর্ণনা করতে পারব;
- বাংলাদেশের জীবন ও অর্থনীতির ওপর এসব দুর্যোগের প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব;
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগে করণীয়, জীবন ও জীবিকা রক্ষায় উপযোগী পদক্ষেপের পরামর্শসহ পরিকল্পনা তৈরি করতে পারব;
- পরিবেশ বিষয়ে সচেতন হব।
পাঠ-১ : বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ধারণা
পৃথিবীতে উদ্ভিদ ও প্রাণীর উদ্ভব ও বিকাশ ঘটেছে পানি, বায়ু ও অন্যান্য উপাদানে গঠিত একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও প্রাণ-উপযোগী পরিবেশের কারণে। কিন্তু বর্তমানে এই পরিবেশ ভয়াবহভাবে বিপন্ন হচ্ছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। বিজ্ঞানের বিস্ময়কর অগ্রগতির ফলে মানুষ তার জীবনকে আরও সহজ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও প্রযুক্তিনির্ভর করছে, তেমনি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশকে করেছে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভারসাম্যহীন। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বৃক্ষনিধন, ইঞ্জিনচালিত যানবাহন এবং বড়ো বড়ো শিল্পকারখানার কারণে পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এর
Printed page 110
ফলে দেখা দিচ্ছে নানান পরিবেশগত সমস্যা। এদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো ‘গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া (Greenhouse Effect)’। গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া মূলত কিছু নির্দিষ্ট গ্যাসের কারণে ঘটে। কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড ও জলীয় বাষ্প ইত্যাদিকে বলা হয় গ্রিনহাউস গ্যাস। এই গ্যাসগুলো পৃথিবীর চারপাশের বায়ুমণ্ডলে একটি অদৃশ্য চাদরের মতো স্তর তৈরি করে। পাশের চিত্রটি লক্ষ্য কর। সূর্য থেকে আসা আলোক রশ্মি সহজেই এই স্তর ভেদ করে পৃথিবীর পৃষ্ঠে পৌঁছায়। পৃথিবী এই আলোকরশ্মি শোষণ করে উত্তপ্ত হয়। পরে এই তাপ বিকিরণরূপে মহাকাশে ফিরে যায়। এই বিকিরিত তাপের কিছু অংশ আবার বায়ুমণ্ডলের গ্রিনহাউস গ্যাস দ্বারা শোষিত হয়ে তার একটি অংশ পৃথিবীর দিকে ফিরে আসে। এর ফলে বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে যায় এবং পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়াকেই বলা হয় বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তিত হচ্ছে, বরফ গলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
Figure: গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন
লেবেল: গ্রিনহাউস গ্যাসের চাদর বর্ণনা: চিত্রে সূর্যের আলোকরশ্মি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করার পর কিছু তাপ গ্রিনহাউস গ্যাসের চাদরে প্রতিফলিত হয়ে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসার এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির দৃশ্য দেখানো হয়েছে।
পাঠ- ২ : বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণ ও প্রভাব
বায়ুর মূল উপাদান হলো- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন। এছাড়া বায়ুতে সামান্য পরিমাণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড আছে। আরও আছে জলীয় বাষ্প ও ওজোন গ্যাস। বায়ুমণ্ডলের এই গৌণ গ্যাসগুলোকেই গ্রিনহাউস গ্যাস বলা হয়। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এসব গ্যাস ছাড়াও মনুষ্য সৃষ্ট সিএফসি (ক্লোরো ফ্লোরো কার্বন), এইচসিএফসি (হাইড্রো ক্লোরো ফ্লোরো কার্বন), হ্যালন ইত্যাদিও গ্রিনহাউস গ্যাস। এই গ্যাসগুলোর মধ্যে গত এক শতাব্দীতে বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়েছে শতকরা ২৫ ভাগ। একইভাবে নাইট্রাস অক্সাইডের পরিমাণও শতকরা ১৯ ভাগ এবং মিথেনের পরিমাণ ১০০ ভাগ বেড়েছে। যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ। এছাড়া অন্যান্য কারণও রয়েছে।
Figure: গ্রিনহাউস গ্যাস ভূপৃষ্ঠের চারপাশে জমা হচ্ছে এবং তার ফলে তাপ বাড়ছে
লেবেল: DANGER বর্ণনা: চিত্রে পৃথিবীর চারপাশে গ্রিনহাউস গ্যাস জমা হওয়ার এবং পাশে বিপদসংকেতবাহী থার্মোমিটারে তাপমাত্রা বৃদ্ধি নির্দেশ করার দৃশ্য দেখানো হয়েছে।
Printed page 111
আমরা যেসব দ্রব্য ব্যবহার করি, যেমন রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, প্লাস্টিক, ফোম, এরোসল প্রভৃতির ফলেও বায়ুমণ্ডলে উৎপন্ন হচ্ছে এক ধরনের গ্রিনহাউস গ্যাস (এইচসিএফসি)। এই গ্যাসের কারণে বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বায়ুমণ্ডলের অনেকগুলো স্তর আছে। তার মধ্যে ভূ-পৃষ্ঠের নিকটবর্তী স্তর ট্রপোস্ফেয়ার। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যার গড় উচ্চতা ১২ কি.মি.। এর পরের স্তর হলো স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার। তারপরের স্তরটি হলো ওজোন স্তর, যা ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার ওপর থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। ওজোন স্তর সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে পৃথিবীর জীবজগৎকে রক্ষা করে। ওজোন স্তর ক্ষয়ের কারণে ভূপৃষ্ঠে অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব শতকরা পাঁচ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটাও বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার কারণ।
Figure: কালো ধোঁয়া
বর্ণনা: কারখানার চিমনি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়ার দৃশ্য।
বিশ্বের উন্নত দেশগুলো অধিক হারে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করে পরিবেশ নষ্ট করছে। তাছাড়া এসব দেশ পারমাণবিক চুল্লি ব্যবহার করে, যা থেকে প্রচুর বর্জ্য সৃষ্টি হয়। এই বর্জ্যও গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধি করছে, তবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নে এর ভূমিকা অতি সামান্য। শিল্প-কারখানার বর্জ্য ও কালো ধোঁয়া থেকেও প্রচুর পরিমাণে পারদ, সিসা ও আর্সেনিক নির্গত হয়। এটাও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণ।
মহাসমুদ্রকে পৃথিবীর মানব দেহের ফুসফুসের সাথে তুলনা করা যায়। বিশ্বের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে মহাসমুদ্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু সমুদ্রে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য নিক্ষেপ করার ফলে তা দূষিত হচ্ছে এবং এ দূষিত বাষ্প বাতাসে মিশ্রিত হয়েও বৈশ্বিক উষ্ণায়নে ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের মতো ক্ষুদ্র একটি দেশেও এক সময় বহু নদী-নালা, খাল-বিল ও হাওড়-বাওড় ছিল যা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। এখন এসব নদী-খাল-বিল শুকিয়ে গিয়েছে কিংবা ভরাট করে ফেলা হয়েছে। অনেক নদী ও খাল বর্জ্য ফেলার কাজে ব্যবহৃত হয়। এভাবে অনেক অনুন্নত দেশেই এসব নদ-নদীর অপব্যবহার হওয়ায় বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়।
Figure: সমুদ্রে বর্জ্য ফেলা ও কালো ধোঁয়া উদগীরণ
বর্ণনা: নদীতে বা সমুদ্রে চলাচলকারী জাহাজ থেকে বর্জ্য ফেলা ও কালো ধোঁয়া উদগীরণের দৃশ্য।
পরিবেশ দূষণের পিছনে যে কারণটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো বন উজাড়করণ। আমরা জানি, সবুজ উদ্ভিদ বাতাস থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং আমাদের জন্য অক্সিজেন ত্যাগ করে। কিন্তু ব্যাপকভাবে বৃক্ষ নিধন বা বন উজাড়করণের ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে গেছে। ফলে বায়ুমণ্ডলে ওজোন স্তর ক্ষয়কারী সিএফসি গ্যাস অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
Figure: বন উজাড় হওয়া
বর্ণনা: বনের গাছপালা কেটে বন উজাড় করার দৃশ্য।
Printed page 112
বর্তমান বিশ্বে ব্যাপক হারে নগর গড়ে উঠেছে। মানুষ কাজের খোঁজে শহরে ছুটছে। ফলে শহরে জনসংখ্যার চাপ ও বিভিন্ন প্রকার যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। এসব যানবাহনের নির্গত কালো ধোঁয়া হচ্ছে কার্বন-ডাই-অক্সাইড। তাছাড়া শিল্প-কারখানার কালো ধোঁয়াও নগরের বায়ুতে কার্বনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এটিও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির একটা কারণ।
Figure: যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি
বর্ণনা: শহরের রাস্তায় যানবাহনের দীর্ঘ জটলা ও ভিড়ের দৃশ্য।
কৃষিতে যান্ত্রিক সেচ, নাইট্রোজেন সার, কীটনাশক প্রভৃতি ব্যবহার করা হয়। এসবের ফলেও বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার প্রভাবে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে।
Figure: কৃষিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার
বর্ণনা: একজন কৃষক জমিতে রাসায়নিক সার ছিটাচ্ছেন।
আমরা সপ্তম শ্রেণিতে বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে জেনেছি। জলবায়ু পরিবর্তনের একটি প্রধান কারণ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। এর ফলে পৃথিবীর সর্বত্র আজ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশও তা থেকে মুক্ত নয়। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে বাংলাদেশে পরিবেশ ও জীবনযাত্রায় যেসব ক্ষতি হতে পারে তা হলো :
সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার ফলে উপকূলবর্তী অঞ্চলসমূহে সমুদ্রের পানি ঢুকে পড়ে। আর সমুদ্রের লবণাক্ত পানির প্রভাবে গাছপালা, মৎস্যখামার ও শস্যক্ষেতের ক্ষতি হয়। ইতোমধ্যেই এর প্রভাব লক্ষ করা গেছে। বাংলাদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলসমূহের ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকার কৃষি জমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। জমির উর্বরাশক্তি কমে গেছে। এ কারণে এসব অঞ্চলে কৃষি উৎপাদনও কমে গেছে। অনেক রকম মিঠা পানির মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে গাছপালা। এর প্রভাব পড়ছে মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর। জীবিকার টানে মানুষ শহরমুখী হয়। শহরের ওপরও চাপ বাড়ছে।
সমুদ্রের পানি বৃদ্ধির কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় উঁচু জোয়ারের সৃষ্টি হয়। যা জলোচ্ছ্বাসের আকার ধারণ করে। আবার সমুদ্রে নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার কারণে সাইক্লোনের তীব্রতা বেড়ে যায়। আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ‘আইলা’ ও ‘সিডর’ এর নাম শুনেছি। এ দুটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমাদের দেশের উপকূলবর্তী এলাকায় প্রাণহানি ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। খাবার পানির তীব্র অভাব দেখা দেয়। ইতোমধ্যে সুন্দরবনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ বন নষ্ট হয়েছে। এর ফলে জীববৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।
Printed page 113
উষ্ণায়নের কারণে পৃথিবীপৃষ্ঠে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে আসার ফলে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর বিভিন্ন প্রকারের মারাত্মক রোগ সৃষ্টি হয়। ক্যান্সার, চর্মরোগসহ নানা ধরনের নতুন নতুন রোগের আবির্ভাব ঘটে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। যেমন-বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে ইতোমধ্যে মরুকরণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
উষ্ণায়নের ফলে সৃষ্ট বন্যা, খরা, লবণাক্ততা প্রভৃতি কারণে গবাদি পশুর খাদ্যের অভাব হবে। বাড়বে বিভিন্ন ধরনের রোগ। এসব ক্ষতিকর প্রভাব বিবেচনা করে আমাদের জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
কাজ- ১ : বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কী কী কারণে ঘটে, উল্লেখ করো।
কাজ- ২ : বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে মানুষ, পরিবেশ ও জীবজন্তুর কী কী ক্ষতি হয় এবং হতে পারে? উল্লেখ করো।
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.