Skip to content

Islamic Studies chapter 4: Akhlaq

আখলাক (اَلْأَخْلَاقُ)

  • Islamic Studies
  • Textbook pages 84-109
  • 1 source
  • 41,680 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Akhlaq

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents73
  1. এ অধ্যায় শেষে আমরা-
  2. পাঠ ১
  3. আখলাকের প্রকার (اَقْسَامُ الْأَخْلَاقِ)
  4. ১. আখলাকে হামিদাহ্ (اَلْأَخْلَاقُ الْحَمِيدَةُ)
  5. ২. আখলাকে যামিমাহ্ (اَلْأَخْلَاقُ الذَّمِيمَةُ)
  6. কতিপয় আখলাকে হামিদাহ্ (اَلْأَخْلَاقُ الْحَمِيدَةُ)
  7. পাঠ ২
  8. ধৈর্য (اَلصَّبْرُ)
  9. পাঠ ৩
  10. ভ্রাতৃত্ব (اَلْأُخُوَّةُ)
  11. ইসলামি ভ্রাতৃত্ব
  12. পাঠ ৪
  13. নারীর মর্যাদা (شَرَفُ النِّسَاءِ)
  14. পাঠ ৫
  15. সমাজসেবা (خِدْمَةُ الْمُجْتَمَعِ)
  16. পাঠ ৬
  17. দেশপ্রেম (حُبُّ الْوَطَنِ)
  18. গুরুত্ব
  19. পাঠ ৭
  20. পরমতসহিষ্ণুতা
  21. গুরুত্ব
  22. পাঠ ৮
  23. আখলাকে যামিমাহ্ (اَلْأَخْلَاقُ الذَّمِيمَةُ)
  24. অহংকার (اَلْكِبْرُ)
  25. পরিচয়
  26. অহংকারের ধরন তিনটি
  27. অপকারিতা
  28. অশ্লীলতা (اَلْبَذَاءَةُ)
  29. পরিচয়
  30. কুফল
  31. প্রতিকার
  32. পরশ্রীকাতরতা (اَلْحَسَدُ)
  33. কুফল
  34. আমাদের প্রতিজ্ঞা
  35. পাঠ ১২
  36. ঘৃণা (اَلْبُغْضُ)
  37. পরিচয়
  38. কুফল
  39. পাঠ ১৩
  40. চুরি (اَلسَّرِقَةُ)
  41. পরিচয়
  42. চুরির কুফল
  43. নিরাপত্তাহীনতা
  44. সামাজিক শান্তি বিনষ্ট
  45. সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি
  46. চুরি একটি ঘৃণিত কাজ
  47. পরকালীন শান্তি
  48. চুরি প্রতিরোধে ইসলামের ভূমিকা
  49. প্রতিকার
  50. ২. দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা
  51. ৩. নৈতিকতাবোধ জাগ্রতকরণ
  52. ধর্মীয় প্রতিকার
  53. পাঠ ১৪
  54. ঘুষ (اَلرِّشْوَةُ)
  55. পরিচয়
  56. কুফল
  57. ঘুষ প্রতিরোধে ইসলামি বিধান
  58. পাঠ ১৫
  59. সন্ত্রাস (اَلْإِرْهَابُ)
  60. পরিচয়
  61. সন্ত্রাসের কুফল
  62. সন্ত্রাস প্রতিরোধে ইসলামের বিধান
  63. ১. শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
  64. ২. কারণ উদঘাটন ও নিরসন
  65. ৩. নৈতিকতাবোধ জাগ্রতকরণ
  66. পাঠ ১৬
  67. এইচআইভি এবং এইডস
  68. এইচআইভি যেভাবে ছড়ায়
  69. প্রতিরোধের উপায়সমূহ
  70. অনুশীলনী
  71. বহুনির্বাচনি
  72. সৃজনশীল
  73. সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন

Printed page 84

চতুর্থ অধ্যায়

আখলাক (اَلْأَخْلَاقُ)

মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের মধ্য দিয়ে যে আচার-আচরণ ও স্বভাব-চরিত্রের প্রকাশ পায় তাকে আখলাক বলে। আখলাক (اَلْأَخْلَاقُ) আরবি শব্দ 'খুলুকুন' (خُلُقٌ) এর বহুবচন। যার অর্থ চরিত্র বা স্বভাব। মানব জীবনের ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং আন্তর্জাতিক সকল দিকই আখলাকের অন্তর্ভুক্ত।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • সদাচরণের ধারণা, ধৈর্য, ভ্রাতৃত্ব, নারীর মর্যাদা, সমাজসেবা, দেশপ্রেম ও পরমতসহিষ্ণুতার গুরুত্ব ও তাৎপর্য ইসলামের দৃষ্টিতে বর্ণনা করতে পারব;
  • অসদাচরণের ধারণা, অহংকার, অশ্লীলতা, পরশ্রীকাতরতা, ঘৃণা, চৌর্যবৃত্তি, ঘুষ, সন্ত্রাস এগুলো পরিহারের গুরুত্ব ও প্রতিকারের উপায় ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • এইচআইভি-এর ধারণা ও ইসলামের দৃষ্টিতে এইচআইভি এবং এইডস প্রতিরোধের উপায় বর্ণনা করতে পারব।

পাঠ ১

আখলাকের প্রকার (اَقْسَامُ الْأَخْلَاقِ)

আখলাক দুই ভাগে বিভক্ত। যেমন–

১. আখলাকে হামিদাহ্ (اَلْأَخْلَاقُ الْحَمِيدَةُ)

মানবজীবনের উত্তম গুণাবলিকে আখলাকে হামিদাহ্ বা প্রশংসনীয় চরিত্র বলে। যেমন– সততা, দেশপ্রেম, সমাজসেবা প্রভৃতি। এ ধরনের চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি সমাজে নন্দিত ও সম্মানিত।

২. আখলাকে যামিমাহ্ (اَلْأَخْلَاقُ الذَّمِيمَةُ)

মানবজীবনের নিকৃষ্ট চরিত্রকে আখলাকে যামিমাহ্ বা নিন্দনীয় চরিত্র বলে। যেমন– অহংকার, ঘৃণা, মিথ্যাচার, সুদ, ঘুষ, অশ্লীলতা প্রভৃতি। এ ধরনের চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি সমাজে ঘৃণিত ও নিন্দিত।

আখলাকের গুরুত্ব

ইসলামের দৃষ্টিতে আখলাকের গুরুত্ব সর্বাধিক। আখলাকই উন্নত জাতির জীবনীশক্তি। যে জাতির চরিত্র যত ভালো থাকে, সে জাতি তত শক্তিশালী। যে জাতির চরিত্র ঠিক নেই, সে জাতি পৃথিবীতে টিকে থাকতে

Printed page 85

পারে না। সকল নবিই নিজ নিজ জাতিকে উত্তম চরিত্রের শিক্ষা দিয়েছেন। আর উন্নত চরিত্রকে পূর্ণতা দানের জন্য শেষ নবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। মহানবি (স.) বলেন–

إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ مَكَارِمَ الْأَخْلَاقِ

অর্থ : উত্তম চরিত্রের পরিপূর্ণতা দানের জন্যই আমি প্রেরিত হয়েছি (মুসনাদে আহমাদ)।

উত্তম চরিত্র ব্যক্তিকে সুন্দর ও উন্নত করে। আর সমাজের সকল মানুষ চরিত্রবান ব্যক্তিকে ভালোবাসে ও শ্রদ্ধা করে। অপরদিকে চরিত্রহীন ব্যক্তি সকলের নিকট ঘৃণিত ও নিন্দিত। যার চরিত্র যত উন্নত ধর্মের দিক থেকেও সে তত অগ্রসর।

নবি করিম (স.) বলেন-

اَلْبِرُّ حُسْنُ الْخُلُقِ

অর্থ : উত্তম চরিত্রই হলো সকল নেক কাজের মূল কথা (মুসলিম)।

চরিত্র মানুষের ভূষণ। চরিত্রবলেই মানুষ সর্বত্র সমাদৃত হয়। ভালো চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি অধিকতর ইমানদার হয়। মহানবি (স.) বলেন–

اَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا اَحْسَنُهُمْ خُلُقًا

অর্থ : চরিত্রের বিচারে যে লোক উত্তম, মুমিনদের মধ্যে সেই পূর্ণ ইমানের অধিকারী (আবু দাউদ ও তিরমিযি)।

কিয়ামতের দিন পরিমাপদণ্ডে উত্তম চরিত্রের ওজন হবে অত্যন্ত ভারী।

নবি করিম (স.) বলেন, “মুমিনের পরিমাপদণ্ডে কিয়ামতের দিন উত্তম চরিত্র অপেক্ষা ভারী জিনিস আর কিছুই নেই” (তিরমিযি)।

উত্তম চরিত্র মানুষের পাপকে খণ্ডন করে দেয়। নবি করিম (স.) বলেন, “উত্তম চরিত্র পাপকে এমনভাবে বিগলিত করে যেমনভাবে সূর্যতাপ বরফকে বিগলিত করে” (তাবারানি, বায়হাকি)।

উত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি আখিরাতে তার উত্তম চরিত্রের বিনিময়ে অত্যধিক মর্যাদা লাভ করবে। মহানবি (স.) বলেন, “বান্দা তার উত্তম চরিত্রের বলে আখিরাতে বিশেষ মর্যাদা ও সম্মানিত স্থানে উন্নীত হবে, যদিও সে ইবাদতের দিক থেকে দুর্বল থাকে” (তাবারানি)।

আমরা উত্তম চরিত্র অর্জন করব। নিন্দনীয় স্বভাব পরিহার করব। আমরা দুনিয়াতে সকলের কাছে প্রিয় হব। পরকালে অশেষ মর্যাদা লাভ করব।

কাজ: শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে আখলাকে হামিদাহ-এর (সদাচরণের) সুফলগুলোর একটি তালিকা তৈরি করবে।

Printed page 86

কতিপয় আখলাকে হামিদাহ্ (اَلْأَخْلَاقُ الْحَمِيدَةُ)

পাঠ ২

ধৈর্য (اَلصَّبْرُ)

ধৈর্য এর আরবি প্রতিশব্দ 'সবর' (اَلصَّبْرُ)। যার প্রতিশব্দ হচ্ছে সহিষ্ণুতা, দৃঢ়তা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, বিরত রাখা ইত্যাদি। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় জীবনের সকল ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে সহিষ্ণুতার সাথে আল্লাহর বিধান মোতাবেক সকল কর্তব্য পালন করাকে ধৈর্য বলে। কুরআন ও হাদিসের আলোকে ধৈর্য বিশ্লেষণ করলে এর তিনটি বিশেষ দিক স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

১. অবৈধ ও হারাম বস্তু থেকে নিজের নফস বা প্রবৃত্তিকে বিরত রাখতে ধৈর্যধারণ করতে হয়। ২. আল্লাহ তায়ালার ইবাদত ও আনুগত্যে ধৈর্যধারণ করতে হয়। ৩. যেকোনো বিপদ-আপদে ধৈর্যধারণ করতে হয়।

তাৎপর্য

ধৈর্য মানবজীবনের একটি মহৎ গুণ। এটি মানবজীবনের সফলতার চাবিকাঠি। ধৈর্যের অনুশীলন ছাড়া ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত জীবনে সাফল্য অর্জন করা যায় না। ধৈর্যধারণ করা খুবই কঠিন কাজ; তথাপি সমাজের মানুষের কল্যাণের জন্য তা করা অপরিহার্য। সমাজ জীবনে শান্তি শৃঙ্খলা ও কল্যাণময় জীবনযাপনের জন্য ধৈর্যের (সবরের) গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ধৈর্যশীলদের অফুরন্ত প্রতিদান দেওয়ার ওয়াদা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন–

اِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ اَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ ○

অর্থ : অবশ্যই ধৈর্যশীলগণকে তাদের প্রতিদান অগণিতভাবে দেওয়া হবে (সূরা আয-যুমার, আয়াতঃ ১০)।

ধৈর্যের বিপরীত হচ্ছে অধৈর্য। অধৈর্য মানুষকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দেয়। এ কারণে জীবনে চলার পথে মানুষকে অবশ্যই ধৈর্যশীল হতে হবে।

মানুষের জীবনে আসে সুখ-দুঃখ, বিপদ-আপদ, সফলতা-বিফলতা ও জয়-পরাজয়। এসব ক্ষেত্রে ধৈর্যধারণের প্রয়োজন হয়। বিপদে যেমন সুদিনের আশায় ধৈর্যধারণ করতে হয়, তেমনি সুদিনে আত্মহারা না হয়ে ধৈর্যধারণ করতে হয়। সুখশান্তি প্রাপ্তিতে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করতে হবে, জীবনে যাঁরা বড় হয়েছেন তাঁরা সবাই ছিলেন ধৈর্যশীল। বিখ্যাত নবি হযরত ইবরাহিম (আ.) ছিলেন ধৈর্যের মূর্ত প্রতীক। জালিম শাসক নমরুদের মূর্তি পূজার বিরোধিতা করায় তিনি অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। তিনি আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে সাহায্য চাননি। এমনিভাবে হযরত আইয়ুব (আ.)ও কঠিন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁর দেহে পচন ধরেছিল। শরীর থেকে গোশত খসে পড়েছিল। আত্মীয়স্বজন তাঁকে

Printed page 87

ত্যাগ করেছিল। তাঁর সন্তানাদি মারা গিয়েছিল। তাঁর ঘরবাড়ি সব ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এমন কঠিন মুহূর্তেও তিনি ধৈর্যহারা হননি। আমাদের নবি হযরত মুহাম্মদ (স.)ও ধৈর্যের চরম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তাঁর ধৈর্য ছিল অতুলনীয়। তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল, তবু তিনি ধৈর্য হারাননি। সকল বিপদেই তিনি ছিলেন অটল ও অবিচল।

শরিয়তের বিধান পালন করতেও ধৈর্যের প্রয়োজন হয়। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়, রমযান মাসের সিয়াম পালন, প্রচুর অর্থ ব্যয় করে হজ সম্পাদন, সঞ্চিত সম্পদের চল্লিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত হিসাবে প্রদান ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রচুর ধৈর্যধারণ করতে হয়।

এমনিভাবে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের বিভিন্ন স্তরে ধৈর্যধারণের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা সকল বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করব। বিপদ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করব। আমরা ধৈর্যশীল হব।

কাজ : শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে ধৈর্যধারণের সুফলগুলোর একটি তালিকা তৈরি করবে এবং উপস্থাপন করবে।

পাঠ ৩

ভ্রাতৃত্ব (اَلْأُخُوَّةُ)

পরিচয়

উখ্‌ওয়াত শব্দের আভিধানিক অর্থ ভ্রাতৃত্ব। পরস্পরের মধ্যে হৃদ্যতা ও আন্তরিকতার সম্পর্ককে ভ্রাতৃত্ব বলে। মানুষের মাঝে এ হৃদ্যতা ও আন্তরিকতা বিভিন্নভাবে গড়ে ওঠে।

ভ্রাতৃত্বকে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে–

১. ঔরসজাত ভ্রাতৃত্ব, ২. বিশ্বভ্রাতৃত্ব এবং ৩. ইসলামি ভ্রাতৃত্ব।

ঔরসজাত ভ্রাতৃত্ব

একই পিতার ঔরসে বা একই মায়ের গর্ভে জন্মগ্রহণ করার কারণে যে ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি হয় তাকে ঔরসজাত ভ্রাতৃত্ব বলে।

বিশ্বভ্রাতৃত্ব

পৃথিবীর সকল মানুষের আদি পিতা হযরত আদম (আ.) ও আদি মাতা হযরত হাওয়া (আ.)। এ কারণে বিশ্বের সকল মানুষই ভাই ভাই। ধীরে ধীরে মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। আবহাওয়া এবং ভৌগোলিক পরিবেশের কারণে মানুষের আকার-আকৃতি, স্বভাব-প্রকৃতি এবং বর্ণ ও ভাষার মধ্যে ভিন্নতা

Printed page 88

দেখা দেয়। আর এভাবে মানুষ বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তবু তারা পরস্পর ভাই ভাই। কারণ তারা সবাই এক আদম (আ.) হতে সৃষ্টি। মহান আল্লাহ বলেন–

يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَىٰ وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا

অর্থ : হে মানবমণ্ডলি! আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে, পরে তোমাদের বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াতঃ ১৩)।

রাসুল (স.) বলেছেন, “তোমরা প্রত্যেকেই আদম (আ.) হতে এবং আদম মাটি হতে সৃষ্ট” (মুসনাদে আহমাদ)।

এ আয়াত ও হাদিসের পরিপ্রেক্ষিতে সকল মানুষ ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ।

ইসলামি ভ্রাতৃত্ব

আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত ধর্ম ইসলাম, ইসলামের মূলবাণী- আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, হযরত মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল। যারা এই কালিমায় বিশ্বাসী তারা যেকোনো বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও অঞ্চলের অধিকারী হোক না কেন, তারা ইসলামি ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ। আল্লাহ তায়ালা বলেন–

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ

অর্থ: নিশ্চয়ই মুমিনগণ ভাই ভাই (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াতঃ ১০)।

হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন–

اَلْمُسْلِمُ اَخُو الْمُسْلِمِ

অর্থ: মুসলমান মুসলমানের ভাই (বুখারি ও মুসলিম)।

ইসলামি ভ্রাতৃত্বের তাৎপর্য

ইসলামের দৃষ্টিতে সকল মানুষ সমান। ইসলামে উঁচু-নিচু, সাদা-কালো, ধনী-দরিদ্রের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করার পর বিশ্বের সকল মুসলমান পরস্পরের ভাই। একই দ্বীনসূত্রে আবদ্ধ। মহানবি (স.) বলেন, “অনারবগণের উপর যেমন আরবগণের শ্রেষ্ঠত্ব নেই, তেমনি আরবগণের উপরও অনারবগণের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই” (তিরমিযি)। ইসলামি ভ্রাতৃত্ব এতই সুদৃঢ় যে, আল্লাহর রাসুল (স.) পৃথিবীর সকল ইমানদারগণকে একটি দেহের সাথে তুলনা করেছেন। দেহের কোনো একটি অঙ্গে অসুখ হলে যেমন পুরো দেহ অসুস্থ হয়ে পড়ে, তেমনি পৃথিবীর কোনো একপ্রান্তে

Printed page 89

একজন মুসলিম বিপদে পতিত হলে সকল মুসলমানের অন্তর ব্যথিত হয়। কোনো মুসলমান ভাইকে কষ্ট দেওয়া যাবে না। এমনকি যদি কখনো পরস্পরের মধ্যে কোনো কলহ সৃষ্টি হয় তখন অপর মুসলমান ভাইয়েরা তা মিটিয়ে দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে। কোনো মুসলমান নিজের জন্য যা পছন্দ করে, অপর মুসলমান ভাইয়ের জন্যেও তা পছন্দ করবে; অন্যথায় সে প্রকৃত মুসলমান হতে পারবে না। প্রিয় নবি (স.) বলেন, “মুমিনগণ পরস্পর মিলে একটি ইমারতস্বরূপ, এর এক অংশ অপর অংশকে মজবুত করে রাখে” (বুখারি ও মুসলিম)।

আমরা পরস্পর ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ থাকব। সুখে-দুঃখে একে অপরের সঙ্গে শরিক থাকব।

কাজ : শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে ইসলামি ভ্রাতৃত্বের সুফলগুলো লিখে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষককে দেখাবে।

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.