Skip to content

Islamic Studies chapter 5: Ideal Life Stories

আদর্শ জীবনচরিত

  • Islamic Studies
  • Textbook pages 110-136
  • 1 source
  • 52,170 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Ideal Life Stories

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents66
  1. পঞ্চম অধ্যায়
  2. এ অধ্যায় শেষে আমরা-
  3. পাঠ ১
  4. পরিচয়
  5. অলৌকিক ক্ষমতা লাভ
  6. বিচার শক্তি
  7. বাইতুল মুকাদ্দাস পুনর্নির্মাণ
  8. রাজত্বকাল ও ইন্তিকাল
  9. পাঠ ২
  10. আগমন বার্তা
  11. জন্ম
  12. মাদইয়ানে হিজরত
  13. নবুয়ত লাভ
  14. দ্বীনের দাওয়াত
  15. সত্যের জয়
  16. তাওরাত লাভ
  17. পাঠ ৩
  18. পরিচয়
  19. মুজিযা
  20. হত্যার ষড়যন্ত্র
  21. পুনরায় দুনিয়ায় আগমন
  22. হযরত ঈসা (আ.) সম্পর্কে ভ্রান্তবিশ্বাস
  23. পাঠ ৪
  24. মক্কা বিজয়ের প্রেক্ষাপট
  25. কারণ
  26. মক্কা বিজয়
  27. মহানবি (স.)-এর উদারতা
  28. মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববন্ধন
  29. বিদায় হজের ভাষণ
  30. আদর্শ মানব হযরত মুহাম্মদ (স.)
  31. ক. হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর ব্যক্তিগত আদর্শ
  32. খ. হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর পারিবারিক আদর্শ
  33. গ. হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর সামাজিক আদর্শ
  34. ঘ. হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর রাজনৈতিক আদর্শ
  35. ঙ. মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর অর্থনৈতিক আদর্শ
  36. পাঠ ৫
  37. পরিচয়
  38. শিক্ষাজীবন
  39. ইফকের ঘটনা
  40. শিক্ষায় অবদান
  41. শিক্ষকতা
  42. গুণাবলি
  43. মর্যাদা
  44. ইন্তিকাল
  45. পাঠ ৬
  46. পরিচয়
  47. শৈশব ও শিক্ষাজীবন
  48. গভর্নর পদে নিয়োগলাভ
  49. জনকল্যাণমূলক কাজ
  50. খলিফা পদ লাভ
  51. হাদিস সংকলনে অবদান
  52. প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাপ্রচারের ব্যবস্থা
  53. কৃতিত্ব
  54. চরিত্র
  55. ইন্তিকাল
  56. পাঠ ৭
  57. জন্ম ও পরিচয়
  58. ক্রীতদাসী
  59. আল্লাহর ওপর আস্থা ও ইবাদত
  60. আধ্যাত্মিকতা
  61. অনাড়ম্বর জীবনযাপন
  62. ইন্তিকাল
  63. অনুশীলনী
  64. বহুনির্বাচনি
  65. সৃজনশীল
  66. সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন

Printed page 110

পঞ্চম অধ্যায়

আদর্শ জীবনচরিত

মহান আল্লাহ তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের জন্য মানুষ সৃষ্টি করেছেন। মানুষ সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য হল মহান আল্লাহর ইবাদত করা, আল্লাহর বিধিনিষেধ মান্য করা। আর এসব বিধিনিষেধ যথাযথভাবে অনুসরণ করার জন্য অবশ্যই একটি অনুসরণীয় নীতিমালা প্রয়োজন। যাকে আমরা আদর্শ বলতে পারি। মহান আল্লাহর পক্ষ হতে আগত নবিগণের জীবনচরিত আমাদের আদর্শ। এর মধ্যে হযরত মুহাম্মদ (স.)- এর জীবনচরিত হল সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ। এমনিভাবে যাঁরা নবি ও রাসুলগণের জীবনী অনুকরণ করে ধন্য হয়েছেন তাঁদের জীবনের ভালো দিকগুলোকেও আমরা আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করব।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • আদর্শ জীবনচরিতের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • হযরত সুলায়মান (আ.), হযরত মুসা (আ.) ও হযরত ঈসা (আ.) এর জীবনচরিত বর্ণনা করতে পারব এবং তাঁদের গুণাবলি বাস্তব জীবনে প্রতিফলনে আগ্রহী হব;
  • হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মক্কা বিজয়ের প্রেক্ষাপট, মক্কা বিজয়, উদারতা, মুহাজির ও আনসারগণের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন, বিদায় হজের ভাষণ ও আদর্শ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে পারব এবং মহানবি (স.) এর আদর্শ বাস্তব জীবনে প্রতিফলনে উৎসাহী হব;
  • হযরত আয়েশা (রা.)-এর পরিচয়, শিক্ষাজীবন, ইফকের ঘটনা, শিক্ষায় অবদান, শিক্ষকতা, গুণাবলি ও মর্যাদা সম্পর্কে বিশ্লেষণ করতে পারব এবং বাস্তব জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে উদ্বুদ্ধ হব;
  • হযরত উমর ইবনু আব্দুল আজিজ (র.) ও হযরত রাবেয়া বসরি (র.)-এর জীবনচরিত বর্ণনা করতে পারব ও অনুসরণে আগ্রহী হব;
  • বাস্তব জীবনে মনীষীগণের গুণাবলি অনুসরণ করে আদর্শ জীবন গঠনে উদ্বুদ্ধ হব;
  • দলগতকাজে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করতে পারব এবং সামগ্রিকভাবে নেতৃত্ব প্রদানে আগ্রহী হতে পারব।

Printed page 111

পাঠ ১

হযরত সুলায়মান (আ.)

পরিচয়

হযরত সুলায়মান (আ.) আল্লাহর প্রসিদ্ধ নবি ছিলেন। তিনি হযরত দাউদ (আ.)-এর কনিষ্ঠ পুত্র। তিনি আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৯৭৫-৯৭০ এর মধ্যে জন্মগ্রহণ করেন। যে চারজন বাদশাহ সমস্ত পৃথিবীর শাসক ছিলেন হযরত সুলায়মান (আ.) তাঁদের একজন। তিনি পরিণত বয়সে উপনীত হওয়ার পর তাঁর পিতা হযরত দাউদ (আ.) ইন্তিকাল করেন। এরপর আল্লাহ তায়ালা হযরত সুলায়মান (আ.)-কে নবি হিসেবে হযরত দাউদ (আ.)-এর স্থলাভিষিক্ত করেন এবং সমস্ত পৃথিবীর রাজত্ব দান করেন।

অলৌকিক ক্ষমতা লাভ

নবি হিসেবে হযরত সুলায়মান (আ.)-এর বিশেষ মর্যাদা ছিল। আল্লাহ তাঁকে পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ, জীব-জন্তু ও জিন-ইনসানের ভাষা বোঝার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন–

“সে (সুলায়মান) বলল, হে মানুষ! আমাকে পক্ষিকুলের ভাষা শিক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং আমাকে সবকিছু (জ্ঞান) দেওয়া হয়েছে। নিশ্চয়ই এটা সুস্পষ্ট অনুগ্রহ” (সূরা আন-নামল, আয়াত:১৬)।

তিনি ছিলেন সুবিশাল রাজ্যের রাজা। শাসনকার্য সুষ্ঠু ও সুচারুরূপে সম্পাদন করার জন্য তিনি রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে যেতেন। খুব দ্রুত যাতায়াত করার জন্য মহান আল্লাহ তাঁকে বাতাসে ভর করে চলাচল করার ক্ষমতা দান করেছিলেন। বাতাসকে তাঁর অনুগত করে দিয়েছিলেন। তাঁর যখন যে স্থানে যাওয়ার প্রয়োজন হতো তিনি বাতাসকে আদেশ করলে বাতাস তাঁকে তাঁর বিশাল সিংহাসন ও লোকবলসহ মুহূর্তে সে স্থানে পৌঁছে দিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন–

وَلِسُلَيْمٰنَ الرِّيْحَ غُدُوُّهَا شَهْرٌ وَّرَوَاحُهَا شَهْرٌ ۚ

অর্থ: আর আমি বায়ুকে সুলায়মানের অধীন করেছিলাম। সে সকালে এক মাসের পথ অতিক্রম করত ও সন্ধ্যায় এক মাসের পথ অতিক্রম করত (সূরা সাবা, আয়াত:১২)।

আল্লাহ তায়ালা জিনদের মধ্য হতে একদলকে হযরত সুলায়মান (আ.)-এর অধীন করে দিলেন। তারা হযরত সুলায়মানের জন্য সমুদ্র হতে মুক্তা সংগ্রহ করে আনত। এ ছাড়া অন্যান্য কাজও করত। যেমন, সু-উচ্চ প্রাসাদ, চৌবাচ্চার ন্যায় বড় পেয়ালা ইত্যাদি নির্মাণ করত। আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَالشَّيٰطِيْنَ كُلَّ بَنَّاۤءٍ وَّغَوَّاصٍ

Printed page 112

অর্থ: (আর আমি অনুগত করে দিলাম) শয়তানদের, যারা সকলেই ছিল প্রাসাদনির্মাণকারী ও ডুবুরি (সূরা সাদ, আয়াত:৩৭)।

তাঁর বিশাল সাম্রাজ্যে গোয়েন্দার কাজ করতে আল্লাহ পাক তাঁকে ‘হুদহুদ’ নামক একটি পাখি দিয়েছিলেন। সে পাখিটি তাঁকে রানি বিলকিস ও তার রাজত্বের সংবাদ দিয়েছে। এ সবই তাঁর মুজিযা।

বিচার শক্তি

হযরত সুলায়মান (আ.)-এর জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও ধীশক্তি ছিল খুবই প্রখর। আল্লাহ তায়ালা তাকে খুব সূক্ষ্মভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। বাল্যকাল থেকেই তিনি খুব বুদ্ধিমান ও প্রজ্ঞার অধিকারী ছিলেন।

একদা দুজন নারী একটি শিশুর মাতৃত্ব দাবি করল। এর মীমাংসা করার জন্য তারা হযরত দাউদ (আ.)-এর নিকট এল। সেখানে হযরত সুলায়মান (আ.)ও উপস্থিত ছিলেন। হযরত সুলায়মান (আ.) বললেন শিশু হল একটি অথচ দাবিদার দুজন। তাহলে শিশুটি কেটে দুভাগ করে দুজনকে দিয়ে দেওয়া হোক। একথা বলে হযরত সুলায়মান (আ.) একটি ছুরি হাতে নিলেন। শিশুটিকে মাটিতে শুইয়ে দুই ভাগ করার জন্য উদ্যত হলেন। তখনই একজন নারী কাঁদতে কাঁদতে বললেন। আল্লাহর দোহাই! শিশুটিকে কাটবেন না আমি আমার দাবি ত্যাগ করলাম। শিশুটিকে জীবিত রাখুন এবং তাকে অপরজনের নিকট দিয়ে দিন। হযরত সুলায়মান (আ.) বুঝলেন এ নারীই শিশুটির প্রকৃত মাতা। তখন তিনি তাকে শিশুটি দিয়ে দিলেন এবং অন্যজনকে মিথ্যা বলার দায়ে শাস্তি দিলেন।

বালক বয়সে হযরত সুলায়মান (আ.)-এর আরও একটি ঘটনা হল– একদা দুজন লোক হযরত দাউদ (আ.)–এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বিচারপ্রার্থী হলো। তাদের একজন ছিল রাখাল অপরজন কৃষক। কৃষক তথা শস্যক্ষেতের মালিক ছাগল রাখালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করল যে, রাখালের ছাগল রাতে ছাড়া পেয়ে তার সমস্ত ফসল বিনষ্ট করে ফেলেছে। সত্যতা যাচাই করার পর হযরত দাউদ (আ.) রায় দিলেন যে, ছাগলের মালিক তার সমস্ত ছাগল শস্যক্ষেতের মালিককে অর্পণ করুক। মামলার বাদি-বিবাদি উভয়ে রায় শুনে দরবার হতে যাওয়ার পথে হযরত সুলায়মান (আ.)-এর সাথে দেখা হলে তিনি সব শুনে বললেন-আমি রায় দিলে তা ভিন্ন হতো, উভয় পক্ষের উপকার হতো। হযরত সুলায়মান (আ.) তাঁর পিতার নিকট তা ব্যক্ত করার পর তাঁর পিতা বললেন এর চেয়ে উত্তম রায় কী হতে পারে? হযরত সুলায়মান (আ.) বললেন আপনি সমস্ত ছাগল শস্যক্ষেতের মালিককে দিয়ে দিন। সে এগুলোর দুধ, পশম দ্বারা উপকৃত হোক। আর শস্যক্ষেত ছাগলের মালিকের নিকট অর্পণ করুন। সে তাতে চাষাবাদ করে শস্য উৎপাদন করবে। যখন শস্যক্ষেত ছাগলে বিনষ্ট করার পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবে তখন তা তার মালিককে বুঝিয়ে দেবে। হযরত দাউদ (আ.) এ রায় পছন্দ করলেন এবং তা কার্যকর করতে বললেন।

Printed page 113

আল্লাহ তায়ালা বলেন–

فَفَهَّمْنٰهَا سُلَيْمٰنَ ۚ وَكُلًّا اٰتَيْنَا حُكْمًا وَّعِلْمًا

অর্থ : “অতঃপর আমি সুলায়মানকে এ বিষয়ের মীমাংসা বুঝিয়ে দিয়েছিলাম এবং তাদের প্রত্যেককে আমি দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও জ্ঞান ।” (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত:৭৯)

বাইতুল মুকাদ্দাস পুনর্নির্মাণ

হযরত সুলায়মান (আ.)-এর পিতা হযরত দাউদ (আ.) বাইতুল মুকাদ্দাস পুনর্নির্মাণের কাজ সমাপ্ত করার আগে ইন্তিকাল করেন। ইন্তিকালের আগে তিনি দোয়া করেছিলেন যে, হে আল্লাহ! আমার সন্তানের দ্বারা তা নির্মাণ করাও। আল্লাহ তায়ালা তাঁর দোয়া কবুল করলেন। জেরুজালেমের ক্ষমতা গ্রহণ করে হযরত সুলায়মান (আ.) বাইতুল মুকাদ্দাসের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এ মসজিদ নির্মাণে অসংখ্য শ্রমিক কাজ করেছেন। মূলত জিন জাতিই এ মসজিদ পুনর্নির্মাণ করেছিল।

রাজত্বকাল ও ইন্তিকাল

হযরত সুলায়মান (আ.) ৪০ বছর নব্বুয়তি দায়িত্ব পালন করেন এবং সমগ্র বিশ্বের রাজত্ব করেন। তার শাসনকাল ছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৯৬০-৯২০ সাল পর্যন্ত। তাঁর ইন্তিকালের ঘটনা বিস্ময়কর। বাইতুল মুকাদ্দাস নির্মাণের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা ছিল অবাধ্য একদল জিন। তারা হযরত সুলায়মান (আ.)-এর ভয়ে কাজ করত। কিন্তু তাঁর ইন্তিকালের আগে বাইতুল মুকাদ্দাসের কাজ শেষ হবে না আর তাঁর ইন্তিকালের সংবাদ জানলে জিনরাও কাজ করবে না। ফলে বাইতুল মুকাদ্দাস অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তাই হযরত সুলায়মান (আ.) উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে আল্লাহর নির্দেশে ব্যবস্থা নিলেন যে, মৃত্যুর পূর্বক্ষণে তিনি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হয়ে তাঁর স্বচ্ছ কাঁচের নির্মিত মেহরাবে (বিশেষ কক্ষে) প্রবেশ করলেন। তিনি নিয়ম অনুযায়ী ইবাদতের উদ্দেশ্যে লাঠি ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। যথাসময়ে তাঁর আত্মা দেহ থেকে বেরিয়ে গেল। কিন্তু লাঠির উপর ভর করে তাঁর দেহ অনড় থাকায় বাইরে থেকে মনে হতো তিনি ইবাদতরত আছেন। জিনেরা তাঁকে জীবিত মনে করে দিনের পর দিন কাজ করতে থাকে। এমতাবস্থায় এক বছর অতিক্রান্ত হয়। এর মাঝে বাইতুল মুকাদ্দাসের কাজও সমাপ্ত হয়। অন্য দিকে আল্লাহর ইচ্ছায় হযরত সুলায়মান (আ.)-এর লাঠি উঁই পোকায় খেয়ে ফেলে।

লাঠি পড়ে গেলে হযরত সুলায়মান (আ.)-এর দেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তখন সবাই জানতে পারল যে, তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৫৩ বছর। আল্লাহর বাণী–

“যখন আমি তার (সুলায়মানের) মৃত্যু ঘটালাম তখন জিনদিগকে তার মৃত্যুর বিষয়ে জানাল কেবল মাটির পোকা, যা তার লাঠি খেয়েছিল”(সূরা আল-সাবা, আয়াত:১৪)।

Printed page 114

তাঁকে জেরু জালেমের কুব্বাতুস্সাখারে দাফন করা হয়। জ্ঞানবুদ্ধির আলোকে মানবিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় যে উদাহরণ হযরত সুলায়মান (আ.) আমাদের শিখিয়েছেন তা নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়।

কাজ : শিক্ষার্থীরা হযরত সুলায়মান (আ.)-এর একটি সূক্ষ্ম বিচার সম্পর্কে অনুচ্ছেদ লিখে শিক্ষককে দেখাবে।

পাঠ ২

হযরত মুসা (আ.)

আগমন বার্তা

প্রাচীনকালে মিসরীয় বাদশাহদের ‘ফিরাউন’ বলা হতো। হযরত মুসা (আ.)-এর সমসাময়িক ফিরাউনের নাম ছিল ওয়ালিদ ইবনু মুসআব। তাঁকে ‘দ্বিতীয় রামসিস’ (Ramses II)ও বলা হয়। ফিরাউন স্বপ্নে দেখে যে, ‘বাইতুল মুকাদ্দাস’ থেকে এক ঝলক আগুন এসে মিসরকে গ্রাস করে ফেলেছে এবং তার অনুসারী ‘কিবতি’ সম্প্রদায়কে জ্বালিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু বনি ইসরাইলদের কোনো ক্ষতি করছে না। ফিরাউন তার রাজ্যের সকল স্বপ্নবিশারদ থেকে এক সাথে এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চায়। তারা বলল, ইসরাইল বংশে এমন এক পুত্রসন্তানের আগমন হবে যে আপনাকে ও আপনার রাজত্বকে ধ্বংস করে দেবে। স্বপ্নের ব্যাখ্যা শুনে ফিরাউন ভীষণ উত্তেজিত হল এবং দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল। ফিরাউন সেনাবাহিনীকে আদেশ দিল যে, বনি ইসরাইল গোত্রে কোনো পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করলে তাকে যেন হত্যা করা হয়। এভাবে অসংখ্য ইসরাইলি পুত্রসন্তান ফিরাউনের সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হয়।

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.