Sahitya Kanika chapter 19: I Shall Return Again
আবার আসিব ফিরে
- Sahitya Kanika
- Textbook pages 107-110
- 1 source
- 6,198 characters of context
Textbook (verbatim transcription): I Shall Return Again
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents9ShowHide
Printed page 107
আবার আসিব ফিরে
জীবনানন্দ দাশ
Figure: ধানসিঁড়ি নদীর তীরে গ্রামীণ দৃশ্য
বর্ণনা: নদীর তীরে নারকেল ও তালগাছ, খড়ের চালের ঘর, খড়ের গাদা, গাছপালা এবং আকাশে উড়ে চলা পাখির ঝাঁক।
আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে— এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয়— হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে;
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঁঠাল-ছায়ায়;
হয়তো বা হাঁস হব— কিশোরীর ঘুঙুর রহিবে লাল পায়,
সারাদিন কেটে যাবে কলমির গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে;
আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ খেত ভালোবেসে
জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙায়;
হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে;
হয়তো শুনিবে এক লক্ষ্মীপেঁচা ডাকিতেছে শিমুলের ডালে;
হয়তো খইয়ের ধান ছড়াতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে;
রূপসার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক সাদা ছেঁড়া পালে
ডিঙা বায়;— রাঙা মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে
দেখিবে ধবল বক; আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভিড়ে—
Printed page 108
শব্দার্থ ও টীকা
ধানসিঁড়ি — ঝালকাঠি জেলার একটি নদী। নদীটি এখন মরে গেছে।
শঙ্খচিল — এক ধরনের সাদা চিল।
নবান্ন — নতুন ধানকাটার পর আমাদের দেশে এ উৎসব হয়। এ উৎসবে দুধ, গুড়, নারকেলের সঙ্গে মিশিয়ে নতুন আতপ চালের ভাত খাওয়া হয়।
কার্তিকের নবান্নের দেশে— কবি নিজের জন্মভূমি বাংলাদেশকে নবান্নের দেশ বলেছেন। নবান্ন অর্থ নতুন ভাত। কার্তিক মাসে ঘরে নতুন ধান তুলে কৃষকেরা নবান্ন উৎসবে মেতে ওঠে।
ঘুঙুর — নূপুর, পায়ের অলংকার।
জলাঙ্গী — কবি এখানে নদীকে জলাঙ্গী (অর্থাৎ জল যার অঙ্গ) নামে অভিহিত করেছেন। নদীমাতৃক বাংলাদেশকে কবি জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলা বলেছেন।
ডাঙা — জলাশয়ের নিকটবর্তী উঁচু স্থান।
সুদর্শন — শকুনি; এক ধরনের পোকা যা উড়তে পারে।
লক্ষ্মীপেঁচা — এক ধরনের পেঁচা।
রূপসা — একটি নদীর নাম।
ডিঙা — ছোট নৌকা।
নীড়ে — পাখির বাসায়।
ধবল — সাদা।
পাঠের উদ্দেশ্য
কবিতাটি পাঠ করে শিক্ষার্থীরা বাংলার প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্যের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করবে। তাদের মনে নিজের দেশের প্রতি মমত্ববোধের জাগরণ ঘটবে।
পাঠ-পরিচিতি
‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি কবির ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে। জন্মভূমির অত্যন্ত তুচ্ছ জিনিস কবির দৃষ্টিতে সুন্দর হয়ে ধরা পড়েছে কবিতায়। কবি মনে করেন, যখন তাঁর মৃত্যু হবে তখন দেশের সঙ্গে তাঁর মমতার বাঁধন শেষ হবে না। তিনি বাংলার নদী, মাঠ, ফসলের খেতকে ভালোবেসে শঙ্খচিল বা শালিকের বেশে এদেশে ফিরে আসবেন। আবার কখনও বা ভোরের কাক হয়ে কুয়াশায় মিশে যাবেন। এমনও হতে পারে, তিনি হাঁস হয়ে সারাদিন কলমির গন্ধে ভরা বিলের পানিতে ভেসে বেড়াবেন। এমনকি দিনের শেষে যে সাদা বকের দল মেঘের কোল ঘেঁষে নীড়ে ফিরে আসে তাদের মাঝেও কবিকে খুঁজে পাওয়া যাবে। এভাবে তিনি বাংলাদেশের রূপময় প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যাবেন।
Printed page 109
কবি-পরিচিতি
কবি জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯২১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম. এ. পাশ করেন। ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে তাঁর কর্মজীবনের শুরু হয় এবং তিনি বিভিন্ন সময়ে কলকাতা সিটি কলেজ, দিল্লি রামযশ কলেজ, বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ, খড়গপুর কলেজ, বরিষা কলেজ ও হাওড়া কলেজে অধ্যাপনা করেন। এক সময় তিনি সাংবাদিকতার পেশাও অবলম্বন করেছিলেন। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় বাংলাদেশের প্রকৃতির রং ও রূপের বিচিত্র প্রকাশ ঘটেছে। অনেক অজানা গাছ, পশু-পাখি ও লতাপাতা তাঁর কবিতায় নতুন পরিচয়ে ধরা পড়েছে। প্রকৃতিপ্রেমিক এই কবি প্রকৃতি থেকেই তাঁর কবিতার রূপরস সংগ্রহ করেছেন। কবিতা ছাড়াও তিনি গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তিনি ১৯৫৪ সালে কলকাতায় এক ট্রাম দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন।
কর্ম-অনুশীলন
ক. কবিতাটির দৃশ্যচিত্র অবলম্বনে একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করো (শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে)।
খ. ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি অবলম্বনে একক ও দলগত আবৃত্তির আয়োজন করো।
নমুনা প্রশ্ন
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১. ধানসিঁড়ি কীসের নাম?
ক. নদীর
খ. শহরের
গ. ধানের
ঘ. গ্রামের
২. ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি কবির কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
ক. ধূসর পাণ্ডুলিপি
খ. রূপসী বাংলা
গ. ঝরাপালক
ঘ. বনলতা সেন
৩. ‘সারাদিন কেটে যাবে কলমির গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে’—এখানে সারাদিন কেটে যাবে কার?
ক. হাঁসের
খ. কিশোরীর
গ. কাকের
ঘ. কবির
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৪ ও ৫ নং প্রশ্নের উত্তর দাও।
‘গোধূলি লগনে জগদীশে স্মরণে
বিদায় লইব জনমের তরে
লুকাইব আমি সন্ধ্যার আঁধারে বাংলা মায়ের ক্রোড়ে॥’
৪. উদ্দীপকে ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতার কোন দিকটি প্রকাশিত হয়েছে?
ক. স্বদেশচেতনা
খ. মৃত্যুচেতনা
গ. প্রকৃতিচেতনা
ঘ. ধর্মচেতনা
Printed page 110
৫. উক্ত সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি উদ্ভাসিত হয়েছে নিচের কোন চরণে?
i. আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়
ii. হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে
iii. আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ খেত ভালোবেসে
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
সৃজনশীল প্রশ্ন
১. পল্লির সন্তান অমিত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চশিক্ষার্থে ফ্রান্স যায়। সেখানকার সুপ্রশস্ত রাজপথ, উদ্যান, নির্মল প্রকৃতি তার খুব ভালো লাগে। রাস্তাঘাট, রেলস্টেশন, বাস-স্টপেজ সব জায়গায় দেশি-বিদেশি স্মরণীয় ব্যক্তিবর্গের মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে ফরাসিদের দেশপ্রেম দেখে সে বিস্মিত হয়। ওদের ক্যাফে, মিউজিয়াম সবকিছুই তাকে আকৃষ্ট করে। উচ্চশিক্ষা শেষ করে অমিত স্থায়ীভাবে সেখানে থেকে যায়। তার অতীত স্মৃতি ফরাসি সৌন্দর্যের মোহে ক্রমশ ধূসর হয়ে যায়।
ক. উঠানে খইয়ের ধান ছড়ায় কে?
খ. কবি জীবনানন্দ দাশ ‘শঙ্খচিল শালিকের বেশে’, এদেশে ফিরতে চান কেন?
গ. উদ্দীপকে ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতার যে দিকের সাদৃশ্য রয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. অমিতের অনুভূতি আর জীবনানন্দ দাশের অনুভূতি সম্পূর্ণ ভিন্ন—উক্তিটি মূল্যায়ন করো।
২. ‘বাংলার হাওয়া বাংলার জল
হৃদয় আমার করে সুশীতল
এত সুখ শান্তি এত পরিমল
কোথা পাব আর বাংলা ছাড়া।’
ক. ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
খ. ‘বাংলার সবুজ করুণ ডাঙা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপক অবলম্বনে ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা দাও।
ঘ. ‘কোথা পাব আর বাংলা ছাড়া’—কথাটির সঙ্গে কবি জীবনানন্দ দাশের বাংলায় ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা কীভাবে সম্পর্কিত— আলোচনা করো।
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.