Skip to content

Science chapter 4: Reproduction in Plants

উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধি

  • Science
  • Textbook pages 34-44
  • 2 sources
  • 65,294 characters of context

একটি উদ্ভিদে বহু বীজ সৃষ্টি হয় এবং সেই বীজ থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্ম নেয়; আবার উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গ থেকেও নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয় — এ সবই উদ্ভিদের প্রজনন বা বংশ বৃদ্ধির উদাহরণ।

Study sheet: Reproduction in Plants

Structured notes written from the textbook, with page references.

Contents29

চতুর্থ অধ্যায় — উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি

এক নজরে

একটি উদ্ভিদে বহু বীজ সৃষ্টি হয় এবং সেই বীজ থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্ম নেয়; আবার উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গ থেকেও নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয় — এ সবই উদ্ভিদের প্রজনন বা বংশ বৃদ্ধির উদাহরণ। এই অধ্যায়ে প্রজননের দুই প্রধান ধারা অযৌন জনন (স্পোর উৎপাদন ও অঙ্গজ জনন, প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম) এবং যৌন জনন (ফুলের গঠন → পরাগায়ন → নিষিক্তকরণ → ফল ও বীজ → অঙ্কুরোদগম) ধাপে ধাপে আলোচনা করা হয়েছে। কেন কলম করা হয়, কেন পর-পরাগায়ন নতুন বৈশিষ্ট্য আনে, কীভাবে একটি ছোলা বীজ থেকে চারা গজায় — কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনের এই প্রশ্নগুলোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এখানেই তৈরি হয়।

শিখনফল

এ অধ্যায় শেষে আমরা–

  • যৌন এবং অযৌন প্রজননের মধ্যে পার্থক্য করতে পারব;
  • পরাগায়ন ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • বিভিন্ন প্রকার পরাগায়নের মধ্যে পার্থক্য করতে পারব;
  • পরিবেশে সংঘটিত স্ব-পরাগায়ন এবং পর-পরাগায়ন চিহ্নিত করে কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • পরীক্ষার মাধ্যমে অঙ্কুরোদগম প্রদর্শন করতে পারব।

(পৃষ্ঠা 34)

মূল আলোচনা

পাঠ ১–৩: প্রজনন বা জনন

পৃথিবীর প্রতিটি জীব মৃত্যুর পূর্বে তার বংশধর রেখে যেতে চায়। এটাই প্রকৃতির নিয়ম।

  • প্রজনন বা জনন: যে জটিল প্রক্রিয়ায় জীব তার প্রতিরূপ বা বংশধর সৃষ্টি করে তাকে প্রজনন বা জনন বলে।
  • প্রজনন বা জনন প্রধানত দুই প্রকার, যথা– অযৌন ও যৌন জনন।

অযৌন জনন: যে প্রক্রিয়ায় দুটি ভিন্নধর্মী জনন কোষের মিলন ছাড়াই জনন সম্পন্ন হয় তাই অযৌন জনন। নিম্নশ্রেণির জীবে অযৌন জননের প্রবণতা বেশি। অযৌন জনন প্রধানত দুই ধরনের, যথা– স্পোর উৎপাদন ও অঙ্গজ জনন।

(ক) স্পোর উৎপাদন: প্রধানত নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে স্পোর বা অণুবীজ উৎপাদনের মাধ্যমে বংশ রক্ষা করার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

  • উদ্ভিদের দেহকোষ পরিবর্তিত হয়ে অণুবীজবাহী একটি অঙ্গের সৃষ্টি করে। এদের অণুবীজথলি বলে।
  • একটি অণুবীজথলিতে সাধারণত অসংখ্য অণুবীজ থাকে। তবে কখনো কখনো একটি থলিতে একটি অণুবীজ থাকতে পারে।
  • থলির বাইরেও অণুবীজ উৎপন্ন হয়। এদের বহিঃঅণুবীজ বলে। বহিঃঅণুবীজের কোনো কোনোটিকে কনিডিয়াম বলে।
  • Mucor এ থলির মধ্যে অসংখ্য অণুবীজ উৎপন্ন হয়। Penicillium কনিডিয়া সৃষ্টির মাধ্যমে বংশ বৃদ্ধি করে।

(পৃষ্ঠা 34)

(খ) অঙ্গজ জনন

অঙ্গজ জনন: কোনো ধরনের অযৌন রেণু বা জনন কোষ সৃষ্টি না করে দেহের অংশ খণ্ডিত হয়ে বা কোনো অঙ্গ রূপান্তরিত হয়ে যে জনন ঘটে, তাকে অঙ্গজ জনন বলে।

  • এ ধরনের জনন প্রাকৃতিক নিয়মে বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘটলে তাকে প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন বলা হয়।
  • যখন কৃত্রিমভাবে অঙ্গজ জনন ঘটানো হয় তখন তাকে কৃত্রিম অঙ্গজ জনন বলে।

প্রাকৃতিক অঙ্গজ জনন

বিভিন্ন পদ্ধতিতে স্বাভাবিক নিয়মেই এ ধরনের অঙ্গজ জনন দেখা যায়, যেমন–

১. দেহের খণ্ডায়ন: সাধারণত নিম্নশ্রেণির উদ্ভিদে এ ধরনের জনন দেখা যায়। Spirogyra, Mucor ইত্যাদি উদ্ভিদের দেহ কোনো কারণে খণ্ডিত হলে প্রতিটি খণ্ড একটি স্বাধীন উদ্ভিদ হিসেবে জীবনযাপন শুরু করে।

২. মূলের মাধ্যমে: কোনো কোনো উদ্ভিদের মূল থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হতে দেখা যায়, যেমন– পটল, সেগুন ইত্যাদি। কোনো কোনো মূল খাদ্য সঞ্চয়ের মাধ্যমে বেশ মোটা ও রসাল হয়। এর গায়ে কুঁড়ি সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে নতুন উদ্ভিদ গজায়, যেমন– মিষ্টি আলু।

৩. রূপান্তরিত কাণ্ডের মাধ্যমে: কিছু কাণ্ডের অবস্থান ও বাইরের চেহারা দেখে তাকে কাণ্ড বলে মনেই হয় না। এরা পরিবর্তিত কাণ্ড। বিভিন্ন প্রতিকূলতায়, খাদ্য সঞ্চয়ে অথবা অঙ্গজ জননের প্রয়োজনে এরা পরিবর্তিত হয়। এদের বিভিন্ন রূপ:

রূপবৈশিষ্ট্যউদাহরণ
(ক) টিউবারমাটির নিচের শাখার অগ্রভাগে খাদ্য সঞ্চয়ের ফলে স্ফীত হয়ে কন্দের সৃষ্টি করে; কন্দের গায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গর্ত (চোখ) থাকে, প্রতি চোখে একটি কুঁড়ি; প্রতিটি চোখ থেকে একটি স্বাধীন উদ্ভিদের জন্ম হয়আলু
(খ) রাইজোমমাটির নিচে ভূমির সমান্তরালে অবস্থান করে; পর্ব, পর্বসন্ধি স্পষ্ট; পর্বসন্ধিতে শল্কপত্রের কক্ষে কাক্ষিক মুকুল জন্মে; খাদ্য সঞ্চয় করে মোটা ও রসালো হয়আদা
(গ) কন্দ (বাল্ব)অতি ক্ষুদ্র কাণ্ড; এদের কাক্ষিক ও শীর্ষ মুকুল নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়পিঁয়াজ, রসুন
(ঘ) স্টোলনকচুর লতি — কচুর শাখা কাণ্ড, জননের জন্যই পরিবর্তিত; স্টোলনের অগ্রভাগে মুকুল উৎপন্ন হয়কচু, পুদিনা
(ঙ) অফসেটজলজ উদ্ভিদের শাখা কাণ্ড বৃদ্ধি পেয়ে একটি নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়; কিছুদিন পর মাতৃউদ্ভিদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন উদ্ভিদে পরিণত হয়কচুরিপানা, টোপাপানা
(চ) বুলবিলকাক্ষিক মুকুলের বৃদ্ধি যথাযথভাবে না হয়ে একটি পিণ্ডের মতো আকার ধারণ করে; কিছুদিন পর গাছ থেকে খসে মাটিতে পড়ে এবং নতুন গাছের জন্ম দেয়চুপড়ি আলু

৪. পাতার মাধ্যমে: কখনো কখনো পাতার কিনারায় মুকুল সৃষ্টি হয়ে নতুন উদ্ভিদ জন্ম নেয়। যেমন– পাথরকুচি।

গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত: অঙ্গজ জননে উৎপাদিত উদ্ভিদ মাতৃউদ্ভিদের মতো গুণসম্পন্ন হয়। এর ফলে কোনো নতুন বৈশিষ্ট্যের সমাবেশ ঘটে না। উন্নত গুণসম্পন্ন অর্থকরী ফসলের ক্ষেত্রে তাই অনেক সময় কৃত্রিম অঙ্গজ জনন ঘটানো হয়।

কাজ: আলু ও আদা থেকে কীভাবে অঙ্গজ জনন ঘটে তা হাতেকলমে দেখাও।

(পৃষ্ঠা 35–36)

কৃত্রিম অঙ্গজ জনন

কৃত্রিম অঙ্গজ জনন: যেসব উদ্ভিদের বীজ থেকে উৎপাদিত উদ্ভিদের ফলন মাতৃউদ্ভিদের তুলনায় অনুন্নত ও পরিমাণে কম হয় সাধারণত সেসব উদ্ভিদে কৃত্রিম অঙ্গজ জননের মাধ্যমে মাতৃউদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করা হয়। ভালো জাতের আম, কমলা, লেবু, পেয়ারা ইত্যাদি গাছের কলম করা হয়।

১. কলম (Grafting) — ধাপগুলো:

  1. একটি সুস্থ গাছের কচি ও সতেজ শাখা বা সায়ন নির্বাচন করতে হবে।
  2. উপযুক্ত স্থানে বাকল সামান্য কেটে নিতে হবে।
  3. ঐ ক্ষত স্থানটি মাটি ও গোবর মিশিয়ে ভালোভাবে আবৃত করে দিতে হবে।
  4. সেলোফেন টেপ অথবা পলিথিন দিয়ে ঐ স্থানটি মুড়ে দিতে হবে যাতে পানি লেগে মাটি ও গোবরের মিশ্রণ খসে না পড়ে।
  5. নিয়মিত পানি দিয়ে এ অংশটি ভিজিয়ে দিতে হবে। এভাবে কিছুদিন রেখে দিলে এ স্থানে মূল গজাবে।
  6. এরপরে মূলসহ শাখার এ অংশটি মাতৃউদ্ভিদ থেকে কেটে নিয়ে মাটিতে রোপণ করে দিলে নতুন একটি উদ্ভিদ হিসেবে বেড়ে উঠবে।

২. শাখা কলম (Cutting): গোলাপের ডাল কেটে ভেজা মাটিতে পুঁতে দিলে কিছুদিনের মধ্যেই তা থেকে নতুন কুঁড়ি উৎপন্ন হয়। এসব কুঁড়ি বড়ো হয়ে একটি নতুন গোলাপ গাছ জন্ম নেয়।

কাজ: শাখা কলম বা কাটিং কীভাবে প্রস্তুত করতে হয় তা একটি গোলাপের ডাল দিয়ে প্রদর্শন করো।

(পৃষ্ঠা 36)

পাঠ ৪: যৌন জনন

ফুল থেকে ফল এবং ফল থেকে বীজ হয়। বীজ থেকে নতুন গাছের জন্ম হয়। এভাবে একটি সপুষ্পক উদ্ভিদ যৌন জননের মাধ্যমে বংশ বৃদ্ধি করে। তাই ফুল উদ্ভিদের যৌন জননের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।

ফুল: একটি ফুলে মোট পাঁচটি অংশ থাকে — পুষ্পাক্ষ, বৃতি, দল বা পাপড়ি, পুংকেশর ও গর্ভকেশর।

  • সম্পূর্ণ ফুল: যে ফুলে এই পাঁচটি অংশই থাকে।
  • অসম্পূর্ণ ফুল: যে ফুলে এই পাঁচটি অংশের মধ্যে একটি বা দুটি অংশ থাকে না।
  • উপবৃতি: কখনো কখনো ফুলে এই পাঁচটি অংশ ছাড়াও বৃতির নিচে একটি অতিরিক্ত অংশ থাকে; একে উপবৃতি বলে। জবা ফুলে এমন উপবৃতি দেখা যায়।
  • সবৃন্তক ফুল: যে ফুলে বৃন্ত থাকে। অবৃন্তক ফুল: যে ফুলে বৃন্ত থাকে না।

(পৃষ্ঠা 37)

ফুলের বিভিন্ন অংশ

বৃতি: ফুলের সবচেয়ে বাইরের স্তবককে বৃতি বলে। সাধারণত এরা সবুজ রঙের হয়।

  • বৃতি খণ্ডিত না হলে সেটি যুক্ত বৃতি, কিন্তু যখন এটি খণ্ডিত হয় তখন বিযুক্ত বৃতি বলে। এর প্রতি খণ্ডকে বৃত্যংশ বলে।
  • কাজ: বৃতি ফুলের অন্য অংশগুলোকে বিশেষত কুঁড়ি অবস্থায় রোদ, বৃষ্টি ও পোকা-মাকড় থেকে রক্ষা করে।

দলমণ্ডল: এটি বাইরের দিক থেকে দ্বিতীয় স্তবক। কতগুলো পাপড়ি মিলে দলমণ্ডল গঠন করে। এর প্রতিটি অংশকে পাপড়ি বা দল বলে।

  • পাপড়িগুলো পরস্পর যুক্ত (যেমন– ধুতরা) অথবা পৃথক (যেমন– জবা) থাকতে পারে। এরা বিভিন্ন রঙের হয়।
  • কাজ: দলমণ্ডল রঙিন হওয়ায় পোকা-মাকড় ও পশুপাখি আকর্ষণ করে এবং পরাগায়ন নিশ্চিত করে। এরা ফুলের অন্য অংশগুলোকে রোদ, বৃষ্টি থেকে রক্ষা করে।

পুংস্তবক বা পুংকেশর: এটি ফুলের তৃতীয় স্তবক। এই স্তবকের প্রতিটি অংশকে পুংকেশর বলে।

  • পুংকেশরের দণ্ডের মতো অংশকে পুংদণ্ড এবং শীর্ষের থলির মতো অংশকে পরাগধানী বলে।
  • পরাগধানীর মধ্যে পরাগরেণু উৎপন্ন হয়। পরাগরেণু থেকে পুং জননকোষ উৎপন্ন হয়। এরা সরাসরি জনন কাজে অংশগ্রহণ করে।

স্ত্রীস্তবক বা গর্ভকেশর: এটি ফুলের চতুর্থ স্তবক। এক বা একাধিক গর্ভপত্র নিয়ে একটি স্ত্রীস্তবক গঠিত হয়।

  • একের অধিক গর্ভপত্র সম্পূর্ণভাবে পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকলে যুক্তগর্ভপত্রী, আর আলাদা থাকলে বিযুক্তগর্ভপত্রী বলে।
  • একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ, যথা– গর্ভাশয়, গর্ভদণ্ড ও গর্ভমুণ্ড।
  • গর্ভাশয়ের ভিতরে ডিম্বক সাজানো থাকে। ডিম্বকে স্ত্রী জননকোষ বা ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়। এরা পুংস্তবকের মতো সরাসরি জনন কাজে অংশগ্রহণ করে।

স্তবকের শ্রেণিবিভাগ:

  • সাহায্যকারী স্তবক — বৃতি ও দলমণ্ডল।
  • অত্যাবশ্যকীয় স্তবক — পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক।

থ্যালামাস ও পুষ্প পত্রাধার: এ অংশ উপরের সবগুলো স্তবককে ধারণ করে।

কাজ: একটি জবা ও একটি ধুতরা ফুল সংগ্রহ করো এবং এর বিভিন্ন অংশ আলাদা করে দেখাও।

(পৃষ্ঠা 37–38)

পুষ্পমঞ্জরি

পুষ্পমঞ্জরি: কাণ্ডের শীর্ষমুকুল বা কাক্ষিক মুকুল থেকে উৎপন্ন একটি শাখায় ফুলগুলো বিশেষ একটি নিয়মে সাজানো থাকে। ফুলসহ এই শাখাকে পুষ্পমঞ্জরি বলে। পরাগায়নের জন্য এর গুরুত্ব খুব বেশি।

  • এ শাখার বৃদ্ধি অসীম হলে অনিয়ত পুষ্পমঞ্জরি।
  • বৃদ্ধি সসীম হলে নিয়ত পুষ্পমঞ্জরি।

(পৃষ্ঠা 38)

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.