Skip to content

Science chapter 5: Coordination and Secretion

সমন্বয় ও নিঃসরণ

  • Science
  • Textbook pages 45-54
  • 2 sources
  • 69,361 characters of context

এই অধ্যায়ে জীবদেহে সমন্বয় (coordination) কীভাবে ঘটে তা তিনটি ধাপে দেখানো হয়েছে।

Study sheet: Coordination and Secretion

Structured notes written from the textbook, with page references.

Contents22

পঞ্চম অধ্যায় — সমন্বয় ও নিঃসরণ

এক নজরে

এই অধ্যায়ে জীবদেহে সমন্বয় (coordination) কীভাবে ঘটে তা তিনটি ধাপে দেখানো হয়েছে।

প্রথমে উদ্ভিদে সমন্বয় — উদ্ভিদের কোনো আলাদা তন্ত্র নেই, তার সব কাজ নিয়ন্ত্রণ করে ফাইটোহরমোন (অক্সিন, জিব্বেরেলিন, সাইটোকাইনিন, অ্যাবসাইসিক এসিড, ইথিলিন, ফ্লোরিজেন)। এরপর প্রাণীর স্নায়ুতন্ত্র — নিউরনের গঠন, সিন্যাপস, মস্তিষ্কের তিনটি প্রধান অংশ, মেরুরজ্জু এবং প্রতিবর্ত ক্রিয়া। শেষে নিঃসরণ বা রেচন — ফুসফুস, চর্ম ও বৃক্ক এই তিনটি রেচন অঙ্গ, ঘাম ও মূত্র তৈরির প্রক্রিয়া।

অধ্যায়টি পাঠ ১–১২ ভাগে সাজানো: পাঠ ১–৩ (উদ্ভিদে সমন্বয়), পাঠ ৪ ও ৫ (স্নায়ু তন্ত্র), পাঠ ৬ ও ৭ (মস্তিষ্ক), পাঠ ৮–১০ (মেরুরজ্জু), পাঠ ১১ ও ১২ (রেচনতন্ত্র)।

মনে রাখো: এই অধ্যায়ে প্রাণীর হরমোন বা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির কোনো তালিকা/ছক নেই। বইয়ে হরমোন বলতে কেবল উদ্ভিদ হরমোন (ফাইটোহরমোন) আলোচনা করা হয়েছে।


শিখনফল

(পৃষ্ঠা 45 — "এ অধ্যায় শেষে আমরা–")

  • উদ্ভিদ ও মানুষের ক্ষেত্রে সমন্বয় ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • প্রবাহ চিত্রের সাহায্যে স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রম ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • উদ্ভিদের উদ্দীপনামূলক ক্রিয়া উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • মানুষের উদ্দীপনামূলক ক্রিয়া উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • উদ্ভিদ ও প্রাণীর বর্জ্য নিঃসরণ ব্যাখ্যা করতে পারব।

মূল আলোচনা

ভূমিকা (পৃষ্ঠা 45)

জীবে সমন্বয় একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রাণীর মতো উদ্ভিদের বিভিন্ন কাজের মধ্যেও সমন্বয় প্রয়োজন হয়। জীবের মধ্যে বৃদ্ধি, প্রজনন, বংশবিস্তার, অনুভূতিগ্রহণ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। উদ্ভিদের এ কাজগুলো করার জন্য হরমোনের গুরুত্ব অপরিসীম; এক্ষেত্রে প্রাণীর মতো উদ্ভিদের আলাদা কোনো তন্ত্র থাকে না।

নিম্নশ্রেণি ব্যতীত উচ্চশ্রেণির প্রাণীর দেহে বিভিন্ন জৈবিক কার্যাদি সম্পাদনের জন্য নির্দিষ্ট তন্ত্র থাকে। স্নায়ুতন্ত্র দেহের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে সংযোগ সাধন এবং এদের কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে পরিবেশের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে।

পাঠ ১–৩: উদ্ভিদে সমন্বয় (পৃষ্ঠা 45–47)

প্রতিটি উদ্ভিদকোষে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম একটি নিয়ম-শৃঙ্খলার মাধ্যমে সংঘটিত হয়। এ কারণে সমন্বয় উদ্ভিদের একটি অপরিহার্য কার্যক্রম। এ সমন্বয় না থাকলে উদ্ভিদের জীবনে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে।

উদ্ভিদের জীবনচক্রের পর্যায়গুলো — অঙ্কুরোদ্গম, পুষ্পায়ন, ফল সৃষ্টি, বার্ধক্য প্রাপ্তি, সুপ্তাবস্থা — একটি সুশৃঙ্খল নিয়ম মেনে চলে। এ কাজে আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত প্রভাবকগুলোর গুরুত্বও লক্ষ করার মতো। একটি কাজ অন্য কাজকে বাধা প্রদান করে না।

বিজ্ঞানীরা মত প্রকাশ করেন যে, উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশ, বিভিন্ন অঙ্গ সৃষ্টি ইত্যাদি উদ্ভিদ দেহে উৎপাদিত বিশেষ কোনো জৈব রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে হয়ে থাকে।

উদ্ভিদের সকল কাজ নিয়ন্ত্রণকারী এই জৈব রাসায়নিক পদার্থটিকে ফাইটোহরমোন বা বৃদ্ধিকারক বস্তু হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ফাইটোহরমোন কোষে উৎপন্ন হয় এবং উৎপত্তিস্থল থেকে বাহিত হয়ে দূরবর্তী কোষের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে।

উদ্ভিদ হরমোনের শ্রেণিবিভাগ:

ধরনহরমোন
বৃদ্ধি সহায়কঅক্সিন, জিব্বেরেলিন, সাইটোকাইনিন
বৃদ্ধি প্রতিবন্ধকঅ্যাবসাইসিক এসিড, ইথিলিন

ফ্লোরিজেন: পাতায় ফ্লোরিজেন নামক হরমোন উৎপন্ন হয় এবং তা পত্রমূলে স্থানান্তরিত হয়ে পত্রমুকুলকে পুষ্পমুকুলে পরিণত করে। তাই দেখা যায় ফ্লোরিজেন উদ্ভিদে ফুল উৎপন্ন করে।

অক্সিন (পৃষ্ঠা 46)

চার্লস ডারউইন এ হরমোন প্রথম আবিষ্কার করেন। তিনি উদ্ভিদের ভ্রূণমুকুলাবরণীর উপর আলোর প্রভাব লক্ষ করেন। যখন আলো তীর্যকভাবে একদিকে লাগে তখন ভ্রূণমুকুলাবরণী আলোর উৎসের দিকে বাঁকা হয়ে বৃদ্ধি লাভ করে। প্রকৃতপক্ষে ভ্রূণমুকুলাবরণীর অগ্রভাগে অবস্থিত রাসায়নিক পদার্থটি ছিল বৃদ্ধি সহায়ক হরমোন অক্সিন।

কাজ: অক্সিন প্রয়োগে শাখা কলমে মূল গজায়, ফলের অকালে ঝরেপড়া রোধ হয়।

জিব্বেরেলিন (পৃষ্ঠা 46)

চারাগাছ, বীজপত্র ও পত্রের বর্ধিষ্ণু অঞ্চলে এদের দেখা যায়। এর প্রভাবে উদ্ভিদের পর্বমধ্যগুলো দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পায়। এ জন্য খাটো উদ্ভিদে এ হরমোন প্রয়োগ করলে উদ্ভিদটি অন্যান্য সাধারণ উদ্ভিদ থেকেও অধিক লম্বা হয়। বীজের সুপ্তাবস্থা কাটাতে এর কার্যকারিতা রয়েছে।

ইথিলিন (পৃষ্ঠা 46)

এ হরমোনটি একটি গ্যাসীয় পদার্থ। এটি ফল পাকাতে সাহায্য করে। এ হরমোন ফল, ফুল, বীজ, পাতা ও মূলেও দেখা যায়। ইথিলিন —

  • বীজ এবং মুকুলের সুপ্তাবস্থা ভঙ্গ করে;
  • চারা গাছের কাণ্ডের বৃদ্ধি ঘটিয়ে চারা গাছকে লম্বা হতে সাহায্য করে;
  • ফুল এবং ফল সৃষ্টির সূচনা করে;
  • পাতা, ফুল এবং ফলের ঝরে পড়া ত্বরান্বিত করে।

চলন (পৃষ্ঠা 46)

উদ্ভিদও অন্যান্য জীবের মতো অনুভূতি ক্ষমতাসম্পন্ন। এজন্য অভ্যন্তরীণ বা বহিঃউদ্দীপক উদ্ভিদদেহে যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে, তার ফলে উদ্ভিদে চলন ও বৃদ্ধি সংঘটিত হয়। এসব চলনকে ট্রপিক চলন বলা হয়।

পরীক্ষণ: আলোর প্রতি উদ্ভিদের সাড়া দেওয়ার পরীক্ষণ (পৃষ্ঠা 46)

  • উপকরণ: একটি স্বচ্ছ কাচের বড় মুখযুক্ত বোতল, পুষ্টি দ্রবণ, ছিদ্রযুক্ত কর্ক, একটি সবল উদ্ভিদের চারা।
  • কার্যপ্রণালি: একটি বোতলে পুষ্টি দ্রবণ নিয়ে ছিদ্রযুক্ত ছিপিটি লাগিয়ে ছিপির ছিদ্রপথে চারাগাছটি এমনভাবে ঢুকিয়ে দিতে হবে যাতে মূলগুলো পুষ্টি দ্রবণে ডুবে থাকে। এবার গাছসহ বোতলটি জানালার কাছে আলোকিত স্থানে রেখে দিই।
  • পর্যবেক্ষণ: ৪/৫ দিন পর দেখা যাবে যে উদ্ভিদটির কাণ্ডের অংশ জানালার বাইরের দিকে বেঁকে গেছে। মূলগুলো আলোক উৎসের বিপরীত দিকে বেঁকে রয়েছে।
  • সিদ্ধান্ত: এ পরীক্ষণে প্রমাণিত হয় যে কাণ্ডে আলোকমুখী ও মূলে আলোকবিমুখী বৃদ্ধি ও চলন ঘটে।

কাজ (পৃষ্ঠা 47): শিক্ষকের সাথে আলোচনা করে, অভিকর্ষ উদ্ভিদের বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে তা একটি পরীক্ষার মাধ্যমে দেখাও।

হরমোনের ব্যবহার (পৃষ্ঠা 47)

  • অক্সিন ও অন্যান্য কৃত্রিম হরমোন শাখাকলমের মূল উৎপাদনে সাহায্য করে।
  • ইন্ডোল অ্যাসেটিক এসিড (এক ধরনের অক্সিন) ক্ষতস্থান পূরণে সাহায্য করে।
  • অক্সিন প্রয়োগে ফলের মোচন বিলম্বিত হয়।
  • বিভিন্ন উদ্দীপক যেমন — আলো, পানি, অভিকর্ষ ইত্যাদি উদ্ভিদের বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে।

পাঠ ৪ ও ৫: স্নায়ু তন্ত্র (পৃষ্ঠা 47–48)

বহুকোষী জীবের দেহে টিস্যু, অঙ্গ ও তন্ত্র ইত্যাদির ভিন্ন ভিন্ন গঠন পরিলক্ষিত হয়। বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে রয়েছে অগণিত কোষের বিচিত্র কর্মকাণ্ড। এই কর্মকাণ্ডের সাথে যোগসূত্র রচনা করা এবং পরিবেশের সাথে সম্পর্ক রাখার জন্য জীবদেহে দ্রুত যোগাযোগ রক্ষা করা প্রয়োজন। যেমন — কারো দুঃখে তোমার কান্না পায়, কারো খুশিতে তুমি খুশি হও, পরীক্ষায় ভালো ফল করলে তোমার আনন্দ হয়। এই কাজগুলো ঘটে বিভিন্ন উদ্দীপকের কার্যকারিতার ফলে।

স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান কাজ: দেহের বিভিন্ন অংশের উদ্দীপনা বহন করা, দেহের বিভিন্ন অঙ্গের কাজের সমন্বয় সাধন করা ও পরিবেশের সাথে সম্পর্ক রাখা।

সংজ্ঞা: প্রাণিদেহের যে তন্ত্র দেহের বিভিন্ন অঙ্গের সংযোগ রক্ষা করে, বিভিন্ন জৈবিক কার্যাবলির সমন্বয় সাধন করে এবং উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করার মাধ্যমে পরিবেশের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে, তাকে স্নায়ুতন্ত্র বলে।

স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ হলো মস্তিষ্ক। উন্নত মস্তিষ্কের কারণে মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে পরিগণিত হয়। মস্তিষ্ক অসংখ্য বিশেষ কোষ দ্বারা গঠিত। এরা নিউরন বা স্নায়ুকোষ নামে পরিচিত।

স্নায়ুকোষ বা নিউরন (পৃষ্ঠা 47–48)

সংজ্ঞা: স্নায়ুতন্ত্রের গাঠনিক ও কার্যকরী এককে স্নায়ুকোষ বা নিউরন বলে।

নিউরন মানবদেহের দীর্ঘতম কোষ। নিউরন দুইটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। যথা — ১. কোষদেহ এবং ২. প্রলম্বিত অংশ।

১. কোষদেহ: কোষদেহ নিউরনের প্রধান অংশ। কোষদেহ বিভিন্ন আকৃতির হয় যেমন — গোলাকার, ডিম্বাকার বা নক্ষত্রাকার। কোষদেহ কোষ আবরণী, সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস দ্বারা গঠিত। এই কোষে সেন্ট্রিওল থাকে না। তাই এরা অন্যান্য কোষের মতো বিভাজিত হয় না।

২. প্রলম্বিত অংশ: কোষদেহ থেকে উৎপন্ন শাখা-প্রশাখাকে প্রলম্বিত অংশ বলে। প্রলম্বিত অংশ দুই প্রকার। যথা — ক) অ্যাক্সন এবং খ) ডেনড্রন।

  • ক) অ্যাক্সন: কোষদেহ থেকে উৎপন্ন লম্বা সুতার মতো অংশকে অ্যাক্সন বলে। অ্যাক্সনের যে প্রান্তে কোষদেহ থাকে তার বিপরীত প্রান্ত থেকে শাখা বের হয়। সাধারণত একটি নিউরনে একটি মাত্র অ্যাক্সন থাকে।
  • খ) ডেনড্রন: কোষদেহের চারদিক থেকে উৎপন্ন শাখাগুলোকে ডেনড্রন বলে। এগুলো বেশি লম্বা হয় না। ডেনড্রন থেকে সৃষ্ট শাখাগুলোকে ডেনড্রাইট বলে। এদের দ্বারা স্নায়ুতাড়না নিউরনের দেহের দিকে পরিবাহিত হয়।

সিন্যাপস: একটি স্নায়ুকোষের অ্যাক্সন অন্য একটি স্নায়ুকোষের ডেনড্রাইটের সাথে মিলিত হওয়ার স্থানকে সিন্যাপস বলে। সিন্যাপসের মাধ্যমেই স্নায়ুতাড়না এক স্নায়ুকোষ থেকে অন্য স্নায়ুকোষে পরিবাহিত হয়।

নিউরনের কাজ: উদ্দীপনা বহন করা, প্রাণিদেহের ভিতরের ও বাইরের পরিবেশের সাথে সংযোগ রক্ষা করা, প্রাণিদেহের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে কাজের সমন্বয় সাধন করা, মস্তিষ্কে স্মৃতিধারণ করা, চিন্তা করা ও বিভিন্ন কাজের নির্দেশ দেওয়া ও পরিচালনা করা।

স্নায়ুতন্ত্রের বিভাগ (পৃষ্ঠা 48) — স্নায়ুতন্ত্রকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যথা — ১. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ২. প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র ৩. স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র।

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.