Science chapter 10: Acids, Bases and Salts
অ্যাসিড, ক্ষারক ও লবণ
- Science
- Textbook pages 98-107
- 2 sources
- 87,994 characters of context
আমাদের দৈনন্দিন জীবন ও প্রাকৃতিক পরিবেশে অ্যাসিড, ক্ষারক ও লবণ এক অবিচ্ছেদ্য ভূমিকা পালন করে। সকালে দাঁত ব্রাশ করার টুথপেস্ট থেকে শুরু করে সুস্বাদু খাবারের স্বাদবর্ধক ভিনেগার, লেবুর রস, রান্নার অপরিহার্য খাবার লবণ, পেটের গ্যাস্ট্রিকের ব্যথায় ব্যবহৃত অ্যান্টাসিড ওষুধ, কিংবা জমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক…
Study sheet: Acids, Bases and Salts
Structured notes written from the textbook, with page references.
Contents22ShowHide
- এক নজরে
- অধ্যায়ের মূল আলোচনার রূপরেখা
- পাঠবিন্যাস তালিকা
- শিখনফল
- মূল আলোচনা
- পাঠ ১–৪: অম্ল, ক্ষারক ও নির্দেশক (পৃষ্ঠা ৯৯–১০১)
- পাঠ ৫ ও ৬: অ্যাসিড ও ক্ষারকের ব্যবহার (পৃষ্ঠা ১০১–১০২)
- পাঠ ৭–১০: অ্যাসিড ও ক্ষারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য ও বিক্রিয়া (পৃষ্ঠা ১০৩–১০৪)
- পাঠ ১১–১৩: অম্ল, ক্ষার ও লবণ শনাক্তকরণ (পৃষ্ঠা ১০৫–১০৬)
- গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা
- অনুশীলনী
- বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
- সৃজনশীল প্রশ্নসমূহ
- সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্নসমূহ (পৃষ্ঠা ১০৭)
- ব্যবহারিক কাজ (পৃষ্ঠা ১০৭)
- অতিরিক্ত প্রস্তুতি ও প্রশ্নোত্তর
- ক: জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তর (বোর্ড পরীক্ষার জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ)
- খ: অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর (ব্যাখ্যামূলক / 'কেন' / 'কীভাবে' ভিত্তিক)
- গ/ঘ: অতিরিক্ত সৃজনশীল মডেল প্রশ্ন ও পুঙ্খানুপুঙ্খ সমাধান
- সংক্ষেপ ও রিভিশন নোট
- দ্রুত রিভিশনের বুলেট পয়েন্টস
- অধ্যায়ের সকল গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক সমীকরণের মাস্টার চার্ট
দশম অধ্যায় — অ্যাসিড, ক্ষারক ও লবণ
এক নজরে
আমাদের দৈনন্দিন জীবন ও প্রাকৃতিক পরিবেশে অ্যাসিড, ক্ষারক ও লবণ এক অবিচ্ছেদ্য ভূমিকা পালন করে। সকালে দাঁত ব্রাশ করার টুথপেস্ট থেকে শুরু করে সুস্বাদু খাবারের স্বাদবর্ধক ভিনেগার, লেবুর রস, রান্নার অপরিহার্য খাবার লবণ, পেটের গ্যাস্ট্রিকের ব্যথায় ব্যবহৃত অ্যান্টাসিড ওষুধ, কিংবা জমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার—সবকিছুতেই অ্যাসিড, ক্ষারক অথবা লবণের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি বিদ্যমান (পৃষ্ঠা ৯৮)।
এই যৌগসমূহের রাসায়নিক গঠন ও ধর্মের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পার্থক্য রয়েছে। কোনোটি জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) দান করে অম্লীয় ধর্ম প্রকাশ করে, কোনোটি হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH−) প্রদান করে ক্ষারকীয় আচরণ দেখায়, আবার অ্যাসিড ও ক্ষারকের পারস্পরিক প্রশমন বিক্রিয়ায় উৎপন্ন নিরপেক্ষ লবণ ও পানি পরিবেশের রাসায়নিক ভারসাম্য রক্ষা করে। এছাড়া দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ও শিল্পোন্নয়নের পরিমাপক হিসেবেও সালফিউরিক অ্যাসিডের মতো খনিজ অ্যাসিডের ব্যবহারকে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে, অ্যাসিডের অপব্যবহার ও অ্যাসিড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা নাগরিক জীবনের এক অপরিহার্য দায়িত্ব।
অধ্যায়ের মূল আলোচনার রূপরেখা
- অম্ল বা অ্যাসিড (Acids): সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, জলীয় দ্রবণে বিয়োজন, বিভিন্ন ফল ও খাদ্যদ্রব্যে প্রাপ্ত জৈব অ্যাসিডের তালিকা, খনিজ বা অজৈব অ্যাসিডের পরিচয়, এবং মিথেনের মতো যৌগ কেন অ্যাসিড নয় তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
- ক্ষারক ও ক্ষার (Bases and Alkalis): সংজ্ঞা, ধাতব অক্সাইড ও হাইড্রোক্সাইডসমূহ, জলীয় দ্রবণে বিয়োজন, 'সকল ক্ষারই ক্ষারক, কিন্তু সকল ক্ষারক ক্ষার নয়' প্রতিজ্ঞার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ, এবং চুন ও অ্যামোনিয়ার ক্ষারকীয় ধর্ম।
- নির্দেশক (Indicators): লিটমাসের উৎস (লাইকেন উদ্ভিদ) ও প্রস্তুতি, কৃত্রিম নির্দেশক (মিথাইল অরেঞ্জ, ফেনোফথ্যালিন, মিথাইল রেড), এবং প্রাকৃতিক উপায়ে ফুল ও সবজির নির্যাস থেকে নির্দেশক তৈরির কার্যপদ্ধতি।
- নিরপেক্ষ পদার্থ ও লবণ (Neutral Substances and Salts): নিরপেক্ষ দ্রবণের ধর্ম, লিটমাসে বর্ণহীনতা, এবং বিভিন্ন পদ্ধতিতে (প্রশমন, ধাতু ও অ্যাসিডের বিক্রিয়া, কার্বনেটের সাথে বিক্রিয়া) লবণ প্রস্তুতির সমীকরণ।
- অ্যাসিড ও ক্ষারকের ব্যবহার: ব্লীচিং পাউডার, লাইম ওয়াটার (হোয়াইট ওয়াশ), মিল্ক অব লাইম (কীটপতঙ্গ দমন), অ্যান্টাসিড ওষুধ (মিল্ক অব ম্যাগনেসিয়া), সাবান ও রেয়ন শিল্প, স্বর্ণশিল্প, সার কারখানা, ব্যাটারি, সাপের উপদ্রব নিবারণে কার্বোলিক অ্যাসিড এবং মানবদেহের পাকস্থলীতে পরিপাক ক্রিয়া।
- অ্যাসিডের অপব্যবহার ও অ্যাসিড সন্ত্রাস রোধ: অ্যাসিডের বিধ্বংসী প্রভাব, কঠোর আইন ও সামাজিক প্রতিরোধ।
পাঠবিন্যাস তালিকা
- পাঠ ১–৪: অম্ল, ক্ষারক ও নির্দেশক (পৃষ্ঠা ৯৯–১০১)
- পাঠ ৫ ও ৬: অ্যাসিড ও ক্ষারকের ব্যবহার (পৃষ্ঠা ১০১–১০২)
- পাঠ ৭–১০: অ্যাসিড ও ক্ষারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ও বিক্রিয়া (পৃষ্ঠা ১০৩–১০৪)
- পাঠ ১১–১৩: অম্ল, ক্ষার ও লবণ শনাক্তকরণ (পৃষ্ঠা ১০৫–১০৬)
শিখনফল
(মূল পাঠ্যবইয়ের পৃষ্ঠা ৯৮ অনুসারে হুবহু উদ্ধৃত)
- অম্ল ও ক্ষারকের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে পারব;
- ক্ষারের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে পারব;
- লবণের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে পারব;
- নিরপেক্ষ পদার্থ ব্যাখ্যা করতে পারব;
- পরীক্ষণ কার্যক্রমে যন্ত্রপাতির ব্যবহার সঠিকভাবে করতে পারব;
- আমাদের জীবনে অম্ল, ক্ষার ও লবণের অবদান উপলব্ধি করতে পারব;
- পরীক্ষণ কার্যক্রম চলাকালীন প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণে দলীয় সদস্যদের সচেতন করতে পারব।
মূল আলোচনা
পাঠ ১–৪: অম্ল, ক্ষারক ও নির্দেশক (পৃষ্ঠা ৯৯–১০১)
১. অম্ল বা অ্যাসিডের ধারণা ও বৈশিষ্ট্য
আমরা প্রতিদিন লেবু, কমলা, তেঁতুল, টমেটো, কাঁচা আম কিংবা আমলকি খেলে যে টক স্বাদ পাই, তার মূল কারণ হলো এসব খাদ্যদ্রব্যে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক অ্যাসিড থাকে। অর্থাৎ অ্যাসিড বা অম্লের একটি অন্যতম বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য হলো এরা সাধারণত টক স্বাদযুক্ত হয়। তবে ল্যাবরেটরিতে থাকা কোনো রাসায়নিক অ্যাসিডকে কখোনোই জিহ্বা দিয়ে স্বাদ নিয়ে পরীক্ষা করা উচিত নয়, কারণ তীব্র অ্যাসিডগুলো অত্যন্ত ক্ষয়কারী ও বিষাক্ত।
সংজ্ঞা — অম্ল বা অ্যাসিড (Acid): যেসব রাসায়নিক পদার্থের অণুতে এক বা একাধিক প্রতিস্থাপনীয় হাইড্রোজেন পরমাণু থাকে এবং যারা পানিতে দ্রবীভূত হয়ে বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) উৎপন্ন করে, তাদেরকে অম্ল বা অ্যাসিড বলে।
ল্যাবরেটরিতে অ্যাসিড শনাক্তকরণের সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হলো নির্দেশকের (যেমন লিটমাস কাগজের) ব্যবহার। অ্যাসিডসমূহ নীল লিটমাস কাগজকে লাল বর্ণে রূপান্তরিত করে, কিন্তু লাল লিটমাস কাগজের বর্ণের কোনো পরিবর্তন ঘটায় না।
পরীক্ষা-১: লেবুর রস দিয়ে অম্ল শনাক্তকরণ ও লিটমাস পরীক্ষা (পৃষ্ঠা ৯৯)
- প্রয়োজনীয় উপকরণ: একটি কাচের বিকার, টেস্টটিউব, ২–৩ মিলি লেবুর রস, ড্রপার, চিমটা, লাল লিটমাস কাগজ ও নীল লিটমাস কাগজ।
- পদ্ধতি:
- টেস্টটিউবে ২–৩ মিলিলিটার পরিষ্কার লেবুর রস নেওয়া হলো।
- চিমটার সাহায্যে প্রথমে একটি লাল লিটমাস কাগজ লেবুর রসে ডুবানো হলো।
- এরপর চিমটার সাহায্যে একটি নীল লিটমাস কাগজ লেবুর রসে ডুবানো হলো।
- পর্যবেক্ষণ:
- লাল লিটমাস কাগজটি লেবুর রসে ডুবানোর পর এর বর্ণের কোনো পরিবর্তন হয় না (লালই থাকে)।
- নীল লিটমাস কাগজটি লেবুর রসে ডুবানোর সাথে সাথেই তার বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে গাঢ় লাল হয়ে যায়।
- সিদ্ধান্ত: লেবুর রসে সাইট্রিক অ্যাসিড উপস্থিত থাকে। অ্যাসিড দ্রবণে নীল লিটমাসের উপাদানের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হওয়ায় তা লাল বর্ণ ধারণ করে। লাল লিটমাসের সাথে কোনো বিক্রিয়া হয় না বলে বর্ণ অপরিবর্তিত থাকে। সুতরাং প্রমাণিত হয় যে, অম্ল বা অ্যাসিড নীল লিটমাসকে লাল করে।
লিটমাস কাগজ তৈরির ইতিহাস ও বিজ্ঞান
লিটমাস কাগজ কোনো কৃত্রিম রাসায়নিক রঞ্জক নয়, এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উৎস থেকে তৈরি। থ্যালোফাইটা পর্বের লাইকেন (Lichens) নামক এক ধরনের শৈবাল ও ছত্রাকের মিথোজীবী উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক রঞ্জক বা রঙের সাহায্যে সাধারণ ফিল্টার কাগজকে প্রক্রিয়াজাত করে লিটমাস কাগজ প্রস্তুত করা হয়।
- সাধারণ অবস্থায় বা নিষ্কাশন প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত লিটমাসের নির্যাস দেখতে লাল বা হালকা লালচে-বেগুনি বর্ণের হয়।
- এই লাল লিটমাস কাগজকে ক্ষারীয় দ্রবণে ডুবিয়ে শুকিয়ে নিলে তা নীল লিটমাস কাগজে পরিণত হয়।
- পরবর্তীতে কোনো অম্লীয় দ্রবণে নীল লিটমাস ডুবানো হলে তা অ্যাসিডের সংস্পর্শে বিক্রিয়া করে পুনরায় লাল লিটমাসে রূপান্তরিত হয়।
বিভিন্ন ফল ও খাদ্যদ্রব্যে উপস্থিত প্রাকৃতিক অ্যাসিড
প্রকৃতিতে প্রাপ্ত শাকসবজি ও ফলমূলে বিভিন্ন প্রকার দুর্বল জৈব অ্যাসিড থাকে। এসব অ্যাসিড মানবদেহের বিপাক প্রক্রিয়ার জন্য উপকারী এবং খাওয়ার উপযোগী।
| ফলের / খাদ্যের নাম | উপস্থিত অ্যাসিডের নাম | রাসায়নিক সংকেত | বিশেষ কাজ / বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|
| আঙুর, কমলা, লেবু, বাতাবি লেবু | সাইট্রিক অ্যাসিড (Citric Acid) | C6H8O7 | সাইট্রাস গোত্রের ফলে থাকে; অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে |
| তেঁতুল | টারটারিক অ্যাসিড (Tartaric Acid) | C4H6O6 | মৃদু রেচক ও হজমে সাহায্যকারী |
| টমেটো | অক্সালিক অ্যাসিড (Oxalic Acid) | C2H2O4 বা HOOC−COOH | রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ ও কোষে শক্তি উৎপাদনে সহায়ক |
| আমলকি | অ্যাসকরবিক অ্যাসিড (Ascorbic Acid) | C6H8O6 | এটিই ভিটামিন সি; এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয় |
| আপেল, আনারস | ম্যালিক অ্যাসিড (Malic Acid) | C4H6O5 | কোষে এটিপি (ATP) তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে |
| ভিনেগার / সিরকা | অ্যাসিটিক অ্যাসিড (Acetic Acid) | CH3COOH | খাদ্য সংরক্ষণ ও আচার প্রস্তুতিতে বহুল ব্যবহৃত |
| টক দই | ল্যাকটিক অ্যাসিড (Lactic Acid) | C3H6O3 | দুধের ল্যাকটোজ থেকে ব্যাকটেরিয়ার গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি |
অ্যাসিডের আধুনিক রাসায়নিক সংজ্ঞা ও জলীয় বিয়োজন
অ্যাসিডের আণবিক সংকেতের দিকে লক্ষ করলে দেখা যায়, এদের প্রত্যেকের অণুতে এক বা একাধিক হাইড্রোজেন পরমাণু (H) রয়েছে। কিন্তু কেবল হাইড্রোজেন থাকাই কোনো যৌগের অ্যাসিড হওয়ার একমাত্র শর্ত নয়; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—জলীয় দ্রবণে যৌগটিকে বিয়োজিত হয়ে প্রোটন বা হাইড্রোজেন ক্যাটায়ন (H+) মুক্ত করতে হবে।
কয়েকটি সুপরিচিত অ্যাসিডের জলীয় বিয়োজন সমীকরণ:
- হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড: HClH2OH++Cl−
- অ্যাসিটিক অ্যাসিড (ভিনেগার): CH3COOHH2OH++CH3COO−
- সালফিউরিক অ্যাসিড: H2SO4H2O2H++SO42−
- নাইট্রিক অ্যাসিড: HNO3H2OH++NO3−
Note মিথেন (CH4) কিংবা গ্লুকোজ (C6H12O6) কেন অ্যাসিড নয়?
মিথেন গ্যাসের অণুতে চারটি (4) হাইড্রোজেন পরমাণু রয়েছে এবং গ্লুকোজের অণুতে বারোটি (12) হাইড্রোজেন পরমাণু রয়েছে। তা সত্ত্বেও এরা অ্যাসিড নয়। কারণ মিথেন ও গ্লুকোজের হাইড্রোজেন পরমাণুগুলো কার্বনের সাথে শক্তিশালী সমযোজী বন্ধনে যুক্ত থাকে। পানিতে দ্রবীভূত করলে এরা কোনো অবস্থাতেই বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) তৈরি করে না। অ্যাসিড হওয়ার জন্য হাইড্রোজেন পরমাণুর উপস্থিতি যেমন দরকার, তেমনি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে সেই হাইড্রোজেনের H+ হিসেবে অবমুক্ত হওয়ার ক্ষমতাও অপরিহার্য। যেহেতু মিথেন ও গ্লুকোজ পানিতে H+ দান করে না, তাই এরা অ্যাসিড নয়।
২. ক্ষারক ও ক্ষারের ধারণা (পৃষ্ঠা ১০০–১০১)
সাধারণত ক্ষারকসমূহ স্পর্শে পিচ্ছিল (সাবানের মতো) অনুভূত হয় এবং স্বাদে কটু বা তিক্ত (ঝাঁঝালো) হয়। তবে ল্যাবরেটরির কোনো ক্ষারক কখনোই স্পর্শ বা আস্বাদন করা সমীচীন নয়, কারণ এরা ত্বক ও পেশির মারাত্মক ক্ষয় সাধন করতে পারে।
সংজ্ঞা — ক্ষারক (Base): যেসব রাসায়নিক পদার্থ সাধারণত ধাতব অক্সাইড বা ধাতব হাইড্রোক্সাইড এবং যা অম্লের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে, তাদেরকে ক্ষারক বলে। আধুনিক ধারণায়, যেসব যৌগ জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH−) তৈরি করে, তারা ক্ষারক।
সংজ্ঞা — ক্ষার (Alkali): যেসব ক্ষারক পানিতে সম্পূর্ণ বা আংশিক দ্রবীভূত হয় এবং জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH−) উৎপন্ন করে, তাদেরকে ক্ষার বলে।
পরীক্ষা-২: ক্ষারক শনাক্তকরণ ও চুনের পানি (Lime Water) তৈরি (পৃষ্ঠা ১০০)
- প্রয়োজনীয় উপকরণ: কলিচুন বা গুঁড়া চুন (CaO), বিকার, পানি, ড্রপার, কাচদণ্ড (নাড়ানি), চামচ, হাতমোজা, চিমটা, লাল ও নীল লিটমাস কাগজ।
- পদ্ধতি:
- হাতে সুরক্ষামূলক গ্লাভস (হাতমোজা) পরে চামচ দিয়ে ৫–১০ গ্রাম চুন বিকারে নেওয়া হলো।
- ড্রপারের সাহায্যে ধীরে ধীরে ১০০ মিলিলিটার পানি যোগ করে কাচদণ্ড দিয়ে উত্তমরূপে আলোড়িত করা হলো।
- মিশ্রণটিকে প্রায় ১০ মিনিট স্থির রেখে দেওয়া হলো, যাতে অদ্রবণীয় কণাগুলো নিচে থিতিয়ে পড়ে।
- উপরের পরিষ্কার স্বচ্ছ দ্রবণটিকে অন্য একটি পাত্রে সতর্কতার সাথে ঢেলে আলাদা করে নেওয়া হলো। এই পরিষ্কার দ্রবণটিই হলো চুনের পানি বা লাইম ওয়াটার [Ca(OH)2 দ্রবণ]।
- এবার চিমটা দিয়ে এই চুনের পানিতে লাল ও নীল লিটমাস কাগজ ডুবানো হলো।
- পর্যবেক্ষণ:
- লাল লিটমাস কাগজটি চুনের পানিতে স্পর্শ করামাত্র তার বর্ণ পরিবর্তিত হয়ে নীল হয়ে যায়।
- নীল লিটমাস কাগজের কোনো বর্ণ পরিবর্তন হয় না।
- সিদ্ধান্ত: চুনের পানি বা ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড একটি ক্ষারকীয় দ্রবণ। এটি লাল লিটমাসকে নীল বর্ণে রূপান্তর করে।
ক্ষারকের জলীয় বিয়োজন
সাধারণ ক্ষারক বা ক্ষারের অণুতে ধাতুর সাথে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন (হাইড্রোক্সিল মূলক, −OH) যুক্ত থাকে। পানিতে এরা ক্যাটায়ন এবং হাইড্রোক্সিল অ্যানায়নে বিয়োজিত হয়:
- সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড: NaOHH2ONa++OH−
- পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড: KOHH2OK++OH−
- ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড: Ca(OH)2H2OCa2++2OH−
অক্সিজেন-হাইড্রোজেন অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কিছু যৌগ কেন ক্ষারক?
কিছু কিছু যৌগ রয়েছে যাদের সংকেতে একই সাথে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন সরাসরি উপস্থিত থাকে না, তবুও তারা ক্ষারক হিসেবে গণ্য হয়। যেমন:
- চুন বা ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO): এটি একটি ধাতব অক্সাইড। এতে হাইড্রোজেন পরমাণু নেই। কিন্তু একে পানিতে যোগ করলে তা পানির সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও পরবর্তীতে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH−) তৈরি করে: CaO+H2O→Ca(OH)2H2OCa2++2OH−
- অ্যামোনিয়া গ্যাস (NH3): এর অণুতে অক্সিজেন নেই। কিন্তু পানিতে দ্রবীভূত করলে অ্যামোনিয়া পানির সাথে বিক্রিয়া করে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড উৎপন্ন করে, যা জলীয় মাধ্যমে বিয়োজিত হয়ে OH− তৈরি করে: NH3+H2O→NH4OHH2ONH4++OH− সুতরাং, ধাতব অক্সাইড কিংবা অ্যামোনিয়ার মতো পদার্থগুলো পানির সংস্পর্শে হাইড্রোক্সিল আয়ন সরবরাহ করায় এবং অম্লের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন করায় এরা ক্ষারক।
"সকল ক্ষারই ক্ষারক, কিন্তু সকল ক্ষারক ক্ষার নয়" — বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা (পৃষ্ঠা ১০১)
বোর্ড পরীক্ষায় এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং শিক্ষার্থীদের অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এর বৈজ্ঞানিক যুক্তি উপস্থাপন করতে হয়।
┌─────────────────────────────────────────────────────────────┐│ ক্ষারক (Bases) ││ ┌───────────────────────────────┐ ││ │ ক্ষার (Alkalis) │ পানিতে অদ্রবণীয় ক্ষারক ││ │ (পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারক) │ ───────────────────── ││ │ NaOH, KOH, Ca(OH)₂, NH₄OH │ Al(OH)₃, Fe(OH)₃, CuO ││ └───────────────────────────────┘ │└─────────────────────────────────────────────────────────────┘যুক্তির ধাপসমূহ:
- ক্ষারক হতে হলে যৌগটিকে ধাতব অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড হতে হবে এবং অম্লের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন করতে হবে।
- ক্ষার হলো ক্ষারকদেরই একটি বিশেষ উপসেট বা শ্রেণি। কোনো যৌগের ক্ষার হওয়ার প্রধান শর্ত হলো—তাকে ক্ষারক হওয়ার পাশাপাশি পানিতে দ্রবণীয় হতে হবে।
- সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Ca(OH)2] এবং অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH) ধাতব/যৌগমূলকের হাইড্রোক্সাইড এবং এরা পানিতে দ্রবীভূত হয়ে OH− আয়ন দেয়। তাই এরা একই সাথে ক্ষারক এবং ক্ষার।
- অপরপক্ষে, অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Al(OH)3], ফেরিক হাইড্রোক্সাইড [Fe(OH)3] কিংবা কপার অক্সাইড (CuO) ধাতুর যৌগ হওয়ায় এরা অ্যাসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি তৈরি করতে পারে; ফলে এরা নিঃসন্দেহে ক্ষারক। কিন্তু এরা পানিতে কোনোভাবেই দ্রবীভূত হয় না।
- যেহেতু পানিতে অদ্রবণীয় ক্ষারকগুলো ক্ষারের মূল শর্ত (পানিতে দ্রবণীয়তা) পূরণ করতে পারে না, তাই এদেরকে ক্ষারক বলা গেলেও ক্ষার বলা যায় না।
উপসংহার: ক্ষার হতে হলে যৌগটিকে অবশ্যই আগে ক্ষারক হতে হয় এবং তারপর পানিতে দ্রবীভূত হতে হয়। কিন্তু সকল ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হতে পারে না। এই কারণেই প্রমাণিত হয় যে— সকল ক্ষারই ক্ষারক, কিন্তু সকল ক্ষারক ক্ষার নয়।
৩. নির্দেশক (Indicators) (পৃষ্ঠা ১০০)
সংজ্ঞা — নির্দেশক (Indicator): যেসব পদার্থ নিজেদের বর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে কোনো একটি অজানা দ্রবণ অম্লীয়, ক্ষারকীয় নাকি নিরপেক্ষ—তা সুনির্দিষ্টভাবে নির্দেশ করে, তাদেরকে নির্দেশক বলে।
ল্যাবরেটরিতে বহুল ব্যবহৃত প্রধান প্রধান নির্দেশক ও বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের বর্ণ পরিবর্তন:
| নির্দেশকের নাম | প্রশমিত বা নিরপেক্ষ দ্রবণে বর্ণ | অম্লীয় দ্রবণে বর্ণ (Acid) | ক্ষারকীয় দ্রবণে বর্ণ (Base) |
|---|---|---|---|
| লিটমাস কাগজ / দ্রবণ | বেগুনি / নিরপেক্ষ | লাল | নীল |
| মিথাইল অরেঞ্জ (Methyl Orange) | কমলা | গোলাপি / লাল | হলুদ |
| ফেনোফথ্যালিন (Phenolphthalein) | বর্ণহীন | বর্ণহীন | গোলাপি / লালচে-বেগুনি |
| মিথাইল রেড (Methyl Red) | লালচে-কমলা | লাল | হলুদ |
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.