Bangla Sahitya chapter 26: Praise
বন্দনা
- Bangla Sahitya
- Textbook pages 155-157
- 1 source
- 5,611 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Praise
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents7ShowHide
Printed page 155
বন্দনা
শাহ মুহম্মদ সগীর
কবি-পরিচিতি [শাহ মুহম্মদ সগীর আনুমানিক খ্রিস্টীয় ১৪-১৫ শতকের কবি। মুসলমান কবিদের মধ্যে তিনিই প্রাচীনতম। তিনি গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৯৩-১৪০৯ খ্রিষ্টাব্দ) ইউসুফ জোলেখা কাব্য রচনা করেন। কাব্যটি পঞ্চদশ শতকের প্রথম দশকে রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। কাব্যের রাজবন্দনায় 'মহামতি গ্যেছ' বলে যাঁকে উল্লেখ করা হয়েছে তিনি গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ বলে অনুমিত। শাহ মুহম্মদ সগীরের কাব্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কতিপয় শব্দের ব্যবহার লক্ষ করে মুহম্মদ এনামুল হক তাঁকে চট্টগ্রামের অধিবাসী বলে বিবেচনা করেছেন। শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর ইউসুফ জোলেখা কাব্যে দেশি ভাষায় ধর্মীয় উপাখ্যান বর্ণনা করতে চেয়েছিলেন, তবে কাব্যে ধর্মীয় পটভূমি থাকলেও তা হয়ে উঠেছে মানবিক প্রেমোপাখ্যান।]
দ্বিতীয়ে প্রণাম করোঁ মাও বাপ পাএ ।
যান দয়া হন্তে জন্ম হৈল বসুধায় ॥
পিঁপিড়ার ভয়ে মাও না থুইলা মাটিত ।
কোল দিআ বুক দিআ জগতে বিদিত ॥
অশক্য আছিলুঁ মুই দুর্বল ছাবাল ।
তান দয়া হন্তে হৈল এ ধড় বিশাল ॥
না খাই খাওয়াএ পিতা না পরি পরাএ ।
কত দুক্ষে একে একে বছর গোএঞাএ ॥
পিতাক নেহায় জিউ জীবন যৌবন ।
কনে বা সুধিব তান ধারক কাহন ॥
ওস্তাদে প্রণাম করোঁ পিতা হন্তে বাড় ।
দোসর-জনম দিলা তিঁহ সে আক্ষার ॥
আক্ষা পুরবাসী আছ জথ পৌরজন ।
ইষ্ট মিত্র আদি জথ সভাসদগণ ॥
তান সভান পদে মোহার বহুল ভকতি ।
সপুটে প্রণাম মোহার মনোরথ গতি ॥
মুহম্মদ সগীর হীন বহোঁ পাপ ভার ।
সভানক পদে দোয়া মাগোঁ বার বার ॥
Printed page 156
শব্দার্থ ও টীকা
পুরবাসী- নগরবাসী। বন্দনা- স্তুতি, প্রশংসা। করোঁ - করি। যান- যার। হন্তে- হতে, থেকে। থুইলা- রাখল। অশক্য- অশক্ত, দুর্বল। আছিলুঁ- ছিলাম। মুই- আমি। ছাবাল- ছাওয়াল, ছেলে, সন্তান। তান- তাঁর। গোঙাএ- গুজরান করে, অতিবাহিত করে। পিতাক- পিতাকে। নেহায়- স্নেহে। বিদিত- জানা। জিউ- আয়ু, জীবিত থাকা। কনে- কখনও। ধারক- ধারের, ঋণের। কাহন- ষোলোপণ, টাকা। বাড়- বাড়া, বেশি। দোসর- দ্বিতীয়। মোহার- আমার। সপুটে- করজোড়ে। সভান- সবার। সভানক- সবার। বসুধায়- পৃথিবীতে। তিঁহ- তিনিও। আক্ষার- আমার। বিদিত- জানা। পিঁপিড়ার ভয়ে মাও না থুইলা মাটিত- মায়ের স্নেহ মমতার তুলনা নেই। মায়ের সদাজাগ্রত কল্যাণদৃষ্টি সন্তানের জীবনপথের পাথেয় স্বরূপ। শিশুকে মা বহু যত্নে লালন-পালন করেন। পিঁপিড়ার ভয়ে মা সন্তানকে মাটিতে রাখেনি—এই কথা উল্লেখ করে কবি মায়ের সেই স্নেহ মমতা ও কল্যাণ দৃষ্টিকেই বড় করে তুলেছেন। অশক্য আছিলুঁ মুই দুর্বল ছাবাল—এখানে কবি মানব শিশুর শৈশবকালীন অসহায় অবস্থার প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। মায়ের আদর-যত্ন ও পরিচর্যা লাভ করে শিশু ধীরে ধীরে পরিণত মানুষ হয়ে ওঠে। কবি তাঁর স্নেহময়ী মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে এই পঙ্ক্তিটি ব্যবহার করেছেন।
পাঠ-পরিচিতি :
শাহ মুহম্মদ সগীরের ইউসুফ জোলেখা কাব্যের 'বন্দনা' পর্ব থেকে গৃহীত এই কবিতাংশ 'বন্দনা' নামে সংকলিত হয়েছে। 'বন্দনা' পর্ব যথেষ্ট বড়ো, এখানে শুধু গুরুজনদের প্রতি বন্দনার অংশটুকু স্থান পেয়েছে। কবি তাঁর মূল কাব্যের প্রারম্ভে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর প্রশংসা করেছেন। সংকলিত এই কবিতাংশে জন্মদাতা পিতামাতার ও জ্ঞানদাতা শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। পিতামাতা অশেষ দুঃখকষ্ট স্বীকার করে পরম যত্নে সন্তানকে বড় করে তোলেন। শিক্ষক জ্ঞানদান করে তাকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন। তাই তাঁদের প্রতি অফুরন্ত শ্রদ্ধা দেখাতে হবে। কবি তাঁর কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন। শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতা মনুষ্যত্বের প্রধান ধর্ম। কবিতাংশে তা-ই প্রকাশিত হয়েছে।
কর্ম-অনুশীলন
১. তোমার জীবন গঠনে পিতামাতার অবদান বিষয়ে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করো।
২. গুরুজনদের প্রতি কীভাবে শ্রদ্ধা-প্রদর্শন করবে তার একটি তালিকা তৈরি করো।
৩. 'বর্তমান প্রেক্ষাপটে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক' বিষয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করো।
নমুনা প্রশ্ন
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১. 'বন্দনা' কবিতায় কীসের ভয়ে মা সন্তানকে মাটিতে রাখেননি?
ক. ঠাঙ্গা
খ. পিঁপিড়া
গ. পোকা
ঘ. মশক
Printed page 157
২. 'না খাই খাওয়াএ পিতা'—এ চরণে প্রকাশ পেয়েছে –
i. অপত্যস্নেহ
ii. সন্তান বাৎসল্য
iii. উদারতা
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও।
অমর্ত্য সেন নোবেল পুরস্কার লাভ করে তাঁর প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন। হাজারো কর্মব্যস্ততার মধ্যেও তিনি ছুটে যান শৈশবের বিদ্যাপীঠে, শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন তাঁর দীক্ষাগুরুদের, যাঁদের কাছে তিনি হাতেখড়ি নিয়েছিলেন।
৩। উদ্দীপকের অমর্ত্য সেন-এর মাঝে 'বন্দনা' কবিতার কবির চেতনার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?
ক. স্মৃতিকাতরতা
খ. স্বদেশপ্রেম
গ. গুরুভক্তি
ঘ. স্বাজাত্যবোধ
৪। কবির উল্লিখিত চেতনা প্রকাশ পেয়েছে নিচের কোন চরণে?
ক. ইষ্ট মিত্র আদি জথ সভাসদগণ
খ. দোসর জনম দিলা তিঁহ সে আক্ষার
গ. যান দয়া হন্তে জন্ম হৈল বসুধায়
ঘ. কোল দিআ বুক দিআ জগতে বিদিত
সৃজনশীল প্রশ্ন
১। বায়েজিদ বোস্তামির মা এক রাতে পানি খেতে চান। ঘরে পানি না থাকায় তা বাহির থেকে সংগ্রহ করে ফিরে এসে দেখেন মা ঘুমিয়ে পড়েছেন। পানির পাত্র হাতে বায়েজিদ সারারাত মায়ের শিয়রে দাঁড়িয়ে থাকেন, যাতে ঘুম থেকে জাগলেই মাকে পানি দিতে পারেন। মা যেন পিপাসায় কষ্ট না পান।
ক. 'বন্দনা' কবিতায় পিতার চেয়েও কাকে বেশি শ্রদ্ধা দেখাতে বলা হয়েছে?
খ. 'দোসর-জনম' বলতে কী বুঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের বায়েজিদের মাঝে 'বন্দনা' কবিতার যে দিক প্রকাশ পেয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. "প্রকাশিত দিকটিই 'বন্দনা' কবিতার একমাত্র উপজীব্য নয়"– মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করো।
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.