Bangla Sahitya chapter 30: Song of Life
জীবন-সঙ্গীত
- Bangla Sahitya
- Textbook pages 167-170
- 1 source
- 6,183 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Song of Life
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Printed page 167
জীবন-সঙ্গীত
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
[কবি-পরিচিতি ঃ হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই এপ্রিল হুগলি জেলার গুলিটা রাজবল্লভহাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতা সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ প্রসন্নকুমার সর্বাধিকারীর আশ্রয়ে তিনি ইংরেজি শেখেন। পরবর্তীকালে হিন্দু কলেজে সিনিয়র স্কুল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। কর্মজীবনে তিনি সরকারি চাকরি, স্কুল-শিক্ষকতা এবং পরিশেষে আইন ব্যবসায় নিয়োজিত হন। স্বদেশপ্রেমের অনুপ্রেরণায় তিনি বৃত্রসংহার নামক মহাকাব্য রচনা করেন। এছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য: চিন্তাতরঙ্গিনী, বীরবাহু, আশাকানন, ছায়াময়ী ইত্যাদি। ২৪শে মে, ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় মৃত্যুবরণ করেন ।]
বলো না কাতর স্বরে বৃথা জন্ম এ সংসারে
এ জীবন নিশার স্বপন,
দারা পুত্র পরিবার, তুমি কার কে তোমার
বলে জীব করো না ক্রন্দন;
মানব-জনম সার, এমন পাবে না আর
বাহ্যদৃশ্যে ভুলো না রে মন;
কর যত্ন হবে জয়, জীবাত্মা অনিত্য নয়,
ওহে জীব কর আকিঞ্চন।
করো না সুখের আশ, পরো না দুখের ফাঁস,
জীবনের উদ্দেশ্য তা নয়,
সংসারে সংসারী সাজ, করো নিত্য নিজ কাজ,
ভবের উন্নতি যাতে হয়।
দিন যায় ক্ষণ যায়, সময় কাহারো নয়,
বেগে ধায় নাহি রহে স্থির,
সহায় সম্পদ বল, সকলি ঘুচায় কাল,
আয়ু যেন শৈবালের নীর।
সংসার-সমরাঙ্গনে যুদ্ধ কর দৃঢ়পণে,
ভয়ে ভীত হইও না মানব;
কর যুদ্ধ বীর্যবান, যায় যাবে যাক প্রাণ
মহিমাই জগতে দুর্লভ।
মনোহর মূর্তি হেরে, ওহে জীব অন্ধকারে,
ভবিষ্যতে করো না নির্ভর;
অতীত সুখের দিনে, পুনঃ আর ডেকে এনে,
চিন্তা করে হইও না কাতর।
Printed page 168
মহাজ্ঞানী মহাজন, যে পথে করে গমন,
হয়েছেন প্রাতঃস্মরণীয়,
সেই পথ লক্ষ্য করে স্বীয় কীর্তি ধ্বজা ধরে
আমরাও হব বরণীয়
সমর-সাগর-তীরে, পদাঙ্ক অঙ্কিত করে
আমরাও হব হে অমর;
সেই চিহ্ন লক্ষ করে, অন্য কোনো জন পরে,
যশোদ্বারে আসিবে সত্বর।
করো না মানবগণ, বৃথা ক্ষয় এ জীবন,
সংসার-সমরাঙ্গন মাঝে;
সঙ্কল্প করেছ যাহা, সাধন করহ তাহা,
রত হয়ে নিজ নিজ কাজে।
শব্দার্থ ও টীকা : কাতর স্বরে– দুর্বল কণ্ঠে, করুণভাবে। দারা – স্ত্রী। বাহ্যদৃশ্যে – বাইরের জগতের চাকচিক্যময় রূপে বা জিনিসে। জীবাত্মা – মানুষের আত্মা। আত্মা যদিও অমর, কিন্তু মানুষের মৃত্যু অনিবার্য, কাজেই দেহ ছেড়ে আত্মা একদিন চলে যাবে, চিরকাল দেহকে আঁকড়ে থাকতে পারবে না। অনিত্য – অস্থায়ী, যা চিরকালের নয়। আকিঞ্চন – চেষ্টা, আকাঙ্ক্ষা; আশ –আশা। ভবের – জগতের, সংসারের। সমরাঙ্গনে – যুদ্ধক্ষেত্রে (কবি মানুষের জীবনকে যুদ্ধক্ষেত্রের সঙ্গে তুলনা করেছেন)। বীর্যবান – শক্তিমান। মহিমা – গৌরব। প্রাতঃস্মরণীয় – সকাল বেলায় স্মরণ করার যোগ্য, অর্থাৎ সকলের শ্রদ্ধা ও সম্মানের পাত্র। ধ্বজা – পতাকা, নিশান। বরণীয় – সম্মানের যোগ্য। সংসারে-সমরাঙ্গনে – যুদ্ধক্ষেত্রে সাহসী সৈনিকের মতো সংসারেও নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মোকাবিলা করে বেঁচে থাকতে হবে। স্বপন –রাতের স্বপ্নের মতোই মিথ্যা বা অসার। আয়ু যেন শৈবালের নীর – শেওলার ওপর পানির ফোঁটার মতো ক্ষণস্থায়ী। স্বীয় – নিজ, আপন। পদাঙ্ক – কোনো মহৎ ব্যক্তির কৃতকর্ম বা চরিত্র। যশোদ্বারে – খ্যাতির দ্বারে।
পাঠ-পরিচিতি : জীবন কেবল নিছক স্বপ্ন নয়। কাজেই এ পৃথিবীকে শুধু স্বপ্ন ও মায়ার জগৎ বলা যায় না। স্ত্রী-পুত্র-কন্যা এবং পরিজনবর্গ কেউ কারও নয়, একথাও ঠিক নয়। মানব-জন্ম অত্যন্ত মূল্যবান। মিথ্যা সুখের কল্পনা করে দুঃখ বাড়িয়ে লাভ নেই; তা আমাদের জীবনের উদ্দেশ্যও নয়। সংসারে বাস করতে হলে সংসারের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। কেননা বৈরাগ্যে মুক্তি নেই। আমাদের জীবন যেন শৈবালের শিশিরবিন্দুর মতো ক্ষণস্থায়ী। সুতরাং মানুষকে এ পৃথিবীতে সাহসী যোদ্ধার মতো সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হবে। মহাজ্ঞানী ও মহান ব্যক্তিদের পথ অনুসরণ করে আমাদেরও বরণীয় হতে হবে। কেননা জীবন তো একবারই। নেতিবাচকতা পরিহারপূর্বক মহামানবের পদচিহ্ন অনুসরণ করে জীবনপাঠের দীক্ষা গ্রহণের কথা কবিতাটিতে প্রকাশিত হয়েছে। 'জীবন - সঙ্গীত' কবিতাটি মার্কিন কবি Henry Wadsworth Longfellow-র (১৮০৭-১৮৮২) 'A Psalm of life' শীর্ষক ইংরেজি কবিতার ভাবানুবাদ।
Printed page 169
কর্ম-অনুশীলন
১. তুমি আদর্শ মনে কর এমন একজন মানুষের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
২. 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার আলোকে মানবজীবন বিফল হওয়ার কারণসমূহ ব্যাখ্যা করো।
নমুনা প্রশ্ন
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১। 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় মানুষের আয়ুকে কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
ক. নিশার স্বপন খ. শৈবালের নীর গ. সমর-সাগর-তীর ঘ. সংসার-সমরাঙ্গন২। 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় 'সংসার-সমরাঙ্গন' বলতে বোঝায়?
ক. অস্তিত্ব খ. প্রতিরোধ গ. যুদ্ধক্ষেত্র ঘ. জীবন যুদ্ধনিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও।
"বৈরাগ্য সাধনে মুক্তি, সে আমার নয়।
অসংখ্য বন্ধন-মাঝে মহানন্দময়
লভিব মুক্তির স্বাদ।"
৩। উদ্দীপকের ভাব তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন কবিতার ভাবের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ?
ক. কপোতাক্ষ নদ খ. জীবন-সঙ্গীত গ. জুতা আবিস্কার ঘ. মানুষ৪। সাদৃশ্যপূর্ণ ভাব হলো—
i. বৈরাগ্যের প্রতি নিরুৎসাহভাব ii. কর্মীরূপে সংসার জীবন যাপন iii. সংসারের মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ থাকা
নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i ও ii খ. i ও iii গ. ii ও iii ঘ. i, ii ও iiiPrinted page 170
সৃজনশীল প্রশ্ন
রবার্ট ক্রুস পর পর ছয়বার যুদ্ধে পরাজিত হয়ে এক সময় হতাশ হয়ে বনে চলে যান। সেখানে দেখেন একটা মাকড়সা জাল বুনতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। অবশেষে সেটি সপ্তমবারে সফল হয়। এ ঘটনা রবার্ট ক্রুসের মনে উৎসাহ জাগায়। তিনি বুঝতে পারেন জীবনে সাফল্য ও ব্যর্থতা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। তাই তিনি আবার পূর্ণ উদ্যমে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হন।
ক. কবি কোন দৃশ্য ভুলতে নিষেধ করেছেন?
খ. কীভাবে 'ভবের' উন্নতি করা যায়?
গ. পরাজয়ের গ্লানি রবার্ট ক্রুসের মনের ওপর যে প্রভাব বিস্তার করে সেটি 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার সাথে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. 'হতাশা নয় বরং সহিষ্ণুতা ও ধৈর্যই মানুষের জীবনে চরম সাফল্য বয়ে আনে'–উদ্দীপক ও 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতা অবলম্বনে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.