Skip to content

Bangla Sahitya chapter 32: Invention of the Shoe

জুতা-আবিষ্কার

  • Bangla Sahitya
  • Textbook pages 174-178
  • 1 source
  • 6,873 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Invention of the Shoe

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents4

Printed page 174

জুতা-আবিষ্কার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কহিলা হবু, ‘শুন গো গোবুরায়,
কালিকে আমি ভেবেছি সারা রাত্র –
মলিন ধুলা লাগিবে কেন পায়
ধরণী-মাঝে চরণ-ফেলা মাত্র!
তোমরা শুধু বেতন লহ বাঁটি,
রাজার কাজে কিছুই নাহি দৃষ্টি।
আমার মাটি লাগায় মোরে মাটি,
রাজ্যে মোর একি এ অনাসৃষ্টি!
শীঘ্র এর করিবে প্রতিকার,
নহিলে কারো রক্ষা নাহি আর।’

শুনিয়া গোবু ভাবিয়া হলো খুন,
দারুণ ত্রাসে ঘর্ম বহে গাত্রে।
পণ্ডিতের হইল মুখ চুন,
পাত্রদের নিদ্রা নাহি রাত্রে।
রান্নাঘরে নাহিকো চড়ে হাঁড়ি,
কান্নাকাটি পড়িল বাড়ি-মধ্যে,
অশ্রুজলে ভাসায়ে পাকা দাড়ি
কহিলা গোবু হবুর পাদপদ্মে,
‘যদি না ধুলা লাগিবে তব পায়ে,
পায়ের ধুলা পাইব কী উপায়ে!’

শুনিয়া রাজা ভাবিল দুলি দুলি,
কহিল শেষে, ‘কথাটা বটে সত্য–
কিন্তু আগে বিদায় করো ধূলি,
ভাবিয়ো পরে পদধুলির তত্ত্ব।
ধুলা-অভাবে না পেলে পদধুলা
তোমরা সবে মাহিনা খাও মিথ্যে,
কেন-বা তবে পুষিনু এতগুলা
উপাধি-ধরা বৈজ্ঞানিক ভৃত্যে?
আগের কাজ আগে তো তুমি সারো,
পরের কথা ভাবিয়ো পরে আরো।’

Printed page 175

আঁধার দেখে রাজার কথা শুনি,
যতনভরে আনিল তবে মন্ত্রী
যেখানে যত আছিল জ্ঞানী গুণী
দেশে বিদেশে যতেক ছিল যন্ত্রী ।
বসিল সবে চশমা চোখে আঁটি,
ফুরায়ে গেল উনিশ পিপে নস্য,
অনেক ভেবে কহিল, ‘গেলে মাটি
ধরায় তবে কোথায় হবে শস্য?’
কহিল রাজা, ‘তাই যদি না হবে,
পণ্ডিতেরা রয়েছ কেন তবে?’

সকলে মিলি যুক্তি করি শেষে
কিনিল ঝাঁটা সাড়ে সতেরো লক্ষ,
ঝাঁটের চোটে পথের ধুলা এসে
ভরিয়া দিল রাজার মুখ বক্ষ ।
ধুলায় কেহ মেলিতে নারে চোখ,
ধুলার মেঘে পড়িল ঢাকা সূর্য,
ধুলার বেগে কাশিয়া মরে লোক,
ধুলার মাঝে নগর হলো উহ্য ।
কহিল রাজা, ‘করিতে ধুলা দূর,
জগৎ হলো ধুলায় ভরপুর!’

তখন বেগে ছুটিল ঝাঁকে ঝাঁক
মশক কাঁখে একুশ লাখ ভিস্তি ।
পুকুরে বিলে রহিল শুধু পাঁক,
নদীর জলে নাহিকো চলে কিস্তি ।
জলের জীব মরিল জল বিনা,
ডাঙার প্রাণী সাঁতার করে চেষ্টা ।
পাঁকের তলে মজিল বেচা-কিনা,
সর্দিজ্বরে উজাড় হলো দেশটা ।
কহিল রাজা, ‘এমনি সব গাধা
ধুলারে মারি করিয়া দিল কাদা!’

Printed page 176

আবার সবে ডাকিল পরামর্শে,
বসিল পুনঃ যতেক গুণবন্ত –
ঘুরিয়া মাথা হেরিল চোখে সর্ষে,
ধুলার হায় নাহিক পায় অন্ত ।
কহিল, ‘মহী মাদুর দিয়ে ঢাকো,
ফরাস পাতি করিব ধুলা বন্ধ ।’
কহিল কেহ, ‘রাজারে ঘরে রাখো,
কোথাও যেন থাকে না কোনো রন্ধ্র!
ধুলার মাঝে না যদি দেন পা
তা হলে পায়ে ধুলা তো লাগে না ।’

কহিল রাজা, ‘সে কথা বড়ো খাঁটি –
কিন্তু মোর হতেছে মনে সন্ধ,
মাটির ভয়ে রাজ্য হবে মাটি
দিবস-রাতি রহিলে আমি বন্ধ ।’
কহিল সবে, ‘চামারে তবে ডাকি
চর্ম দিয়া মুড়িয়া দাও পৃথ্বী ।
ধূলির মহী ঝুলির মাঝে ঢাকি
মহীপতির রহিবে মহাকীর্তি ।’
কহিল সবে, ‘হবে সে অবহেলে,
যোগ্যমতো চামার যদি মেলে ।’

রাজার চর ধাইল হেথা-হোথা,
ছুটিল সবে ছাড়িয়া সব কর্ম ।
যোগ্যমতো চামার নাহি কোথা,
না মিলে এত উচিত-মতো চর্ম ।
তখন ধীরে চামার-কুলপতি
কহিল এসে ঈষৎ হেসে বৃদ্ধ,
‘বলিতে পারি করিলে অনুমতি,
সহজে যাহে মানস হবে সিদ্ধ ।
নিজের দুটি চরণ ঢাকো, তবে
ধরণী আর ঢাকিতে নাহি হবে ।’

কহিল রাজা, ‘এত কি হবে সিধে!
ভাবিয়া ম’ল সকল দেশসুদ্ধ!’

Printed page 177

মন্ত্রী কহে, ‘বেটারে শূল বিঁধে
কারার মাঝে করিয়া রাখো রুদ্ধ ।’
রাজার পদ চর্ম-আবরণে
ঢাকিল বুড়া বসিয়া পদোপান্তে ।
মন্ত্রী কহে, ‘আমারো ছিল মনে
কেমনে বেটা পেরেছে সেটা জানতে ।’
সেদিন হতে চলিল জুতা পরা –
বাঁচিল গোবু, রক্ষা পেল ধরা ।

শব্দার্থ ও টীকা : চরণ –পা। প্রতিকার – প্রতিবিধান, সমাধান। মাহিনা – পারিশ্রমিক, বেতন। পুষিনু – পোষণ করি, লালন-পালন করি। পিপে – ঢাক বা ঢোলের আকৃতিবিশিষ্ট কাঠের তৈরি পাত্র। ভিস্তি – পানি বহনের জন্য চামড়ার তৈরি এক প্রকার থলি। পাঁক – কাদা, কর্দম। কিস্তি – নৌকা বা জাহাজ, জলযান। গুণবন্ত – গুণবান, গুণী। মহী – পৃথিবী, ধরণী। ফরাশ – মেঝে বা তক্তপোশে বিছানোর জন্য কার্পেট বা বিছানা, মাদুর। রন্ধ্র – ছিদ্র, ফুটো। চামার – চর্মকার, মুচি। যোগ্যমতো – উপযুক্ত। কুলপতি – বংশের প্রধান, কুলশ্রেষ্ঠ ।

পাঠ-পরিচিতি : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কল্পনা কাব্য থেকে ‘জুতা আবিষ্কার’ কবিতাটি সংকলন করা হয়েছে। ধুলাবালি থেকে রাজার পা দুটিকে মুক্ত রাখার নানা প্রসঙ্গই কবিতাটির মূল উপজীব্য। রাজা তাঁর মন্ত্রীদের রাজ্য থেকে ধুলাবালি দূর করার নির্দেশ দেন। মন্ত্রীরা রাজ্যের ধুলাবালি ঝাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং এতে রাজ্য ধুলোয় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। রাজার আদেশ মানতে গিয়ে রাজ্যের সভাসদ কোনো উপায় যেন খুঁজে আর পান না। অবশেষে রাজ্যেরই এক বয়স্ক চর্মকার নিজ বুদ্ধিতে রাজার পদযুগল চামড়া দিয়ে ঢেকে দেয়। এভাবে রাজার পা ধুলার স্পর্শ থেকে মুক্তি পায়। সাধারণ সমস্যার সমাধান সাধারণ বুদ্ধিতেই করতে হয়। জটিলভাবে করতে গেলে বিড়ম্বনাই বাড়ে। সমস্যা সমাধানে পদস্থ জনই যে অনিবার্য তাও নয়। সাধারণের দ্বারাও অসাধারণ কৃত্য সম্পাদিত হতে পারে। কবিতায় তাই মূর্ত হয়ে উঠেছে।

কর্ম-অনুশীলন

১। ক্ষুদ্র প্রাণীও মানুষের মহৎ উপকার করতে পারে– এ বিষয়ে একটি কাহিনি লেখো।

নমুনা প্রশ্ন

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?

ক. ১৮৬১
খ. ১৯১৩
গ. ১৯১৪
ঘ. ১৯৪১

Printed page 178

২। পণ্ডিতের মুখ চুন হয়েছিল কেন?

ক. মৃত্যুর ভয়ে ভীত হওয়ায় খ. করণীয় খুঁজে না পাওয়ায়
গ. দায়িত্বে অবহেলা করায় ঘ. মন্ত্রীর আদেশ শুনে

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও।

বন্ধু এন্টনিওর জন্য জামিন হয়ে বাসানিও সুদখোর শাইলকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ধার আনে। এ সময় শর্তে উল্লেখ থাকে যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উক্ত টাকা ফেরতদানে ব্যর্থ হলে শাইলক বাসানিওর বুকের এক পাউন্ড মাংস কেটে নেবে। শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতার সুযোগে শাইলক আদালতে যায়। অসহায় বোধ করে বাসানিও। এমন সময় এক তরুণ উকিল বলেন, শাইলক ঠিক এক পাউন্ড মাংস কাটতে পারবেন–কমবেশি নয় এবং শর্তে উল্লেখ না থাকায় কোনো রক্ত ঝরাতে পারবে না।

৩। উদ্দীপকের তরুণ উকিলের সঙ্গে জুতা আবিষ্কার কবিতার কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে?

ক. হবু

খ. গোবু

গ. পণ্ডিত

ঘ. চামার

সৃজনশীল প্রশ্ন

বিদ্যালয়ের চাল ফুটো হয়ে ঘরে বৃষ্টির পানি পড়ছে। জেলা বোর্ডের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিদর্শনে এলে প্রধান শিক্ষক বিষয়টি তাঁর নজরে আনেন। তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে শোনেন এবং বলেন, অচিরেই তিনি এ ব্যাপারে উপরে লিখবেন। অনুমোদন পেলে বাজেট করে পাঠিয়ে দেবেন। তাই তাকে আগামী বাজেট না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। জেলা বোর্ড কর্মকর্তার প্রতিশ্রুতির বিষয়টি এলাকায় আলোচিত হলে বেকার-ভবঘুরে যুবক সোহেলকে বিষয়টি ভাবিয়ে তোলে। সে তার বন্ধুদের সাথে বিষয়টি আলোচনা করে দ্রুত স্কুলঘরের সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে বের করে।

ক. রাজা হবু ধুলি দূর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন কাকে?

খ. জলের জীব জল বিনা মরল কেন?

গ. জেলা- বোর্ড কর্মকর্তার সাথে ‘জুতা-আবিষ্কার’ কবিতার গোবুরায়ের সাদৃশ্যগত দিকটি ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ‘সমাজের উপেক্ষিতদের মাধ্যমেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব’– বিষয়টি উদ্দীপক ও ‘জুতা-আবিষ্কার’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.