Bangla Sahitya chapter 34: Song of the Waterfall
ঝরনার গান
- Bangla Sahitya
- Textbook pages 182-185
- 1 source
- 5,438 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Song of the Waterfall
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Printed page 182
ঝরনার গান
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
[কবি-পরিচিতি : ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার কাছাকাছি নিমতা গ্রামে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত জন্মগ্রহণ করেন। সত্যেন্দ্রনাথ বিএ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি কাব্যচর্চা করতেন। দর্শন, বিজ্ঞান, ইতিহাস, ভাষা, ধর্ম ইত্যাদি বিচিত্র বিষয়ের তিনি অনুরাগী ছিলেন। সবিতা, সন্ধিক্ষণ, বেণু ও বীণা, হোমশিখা, কুহু ও কেকা, অভ্র-আবীর প্রভৃতি তাঁর মৌলিক কাব্য। তাঁর অনুবাদ-কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে : তীর্থরেণু, তীর্থ-সলিল, ফুলের ফসল প্রভৃতি। বিবিধ উপনিষদ ও কবির, নানক প্রমুখের রচনা এবং আরবি, ফার্সি, চীনা, জাপানি, ইংরেজি, ফরাসি ভাষার অনেক উৎকৃষ্ট কবিতা ও গদ্য রচনা তিনি বাংলায় অনুবাদ করেন। ছন্দ নির্মাণে তিনি অসাধারণ নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন। এজন্য তিনি 'ছন্দের যাদুকর' বলে পরিচিত হন। ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে তিনি পরলোকগমন করেন।]
চপল পায় কেবল ধাই,
কেবল গাই পরীর গান,
পুলক মোর সকল গায়,
বিভোল মোর সকল প্রাণ।
শিথিল সব শিলার পর
চরণ থুই দোদুল মন,
দুপুর-ভোর ঝিঁঝিঁর ডাক,
ঝিমায় পথ, ঘুমায় বন।
বিজন দেশ, কূজন নাই
নিজের পায় বাজাই তাল,
একলা গাই, একলা ধাই,
দিবস রাত, সাঁঝ সকাল।
ঝুঁকিয়ে ঘাড় ঝুম-পাহাড়
ভয় দ্যাখায়, চোখ পাকায়;
শঙ্কা নাই, সমান যাই,
টগর-ফুল-নূপুর পায়,
কোন গিরির হিম ললাট
ঘামল মোর উড়ুবে,
কোন পরীর টুটল হার
কোন নাচের উৎসবে।
খেয়াল নাই-নাই রে ভাই
পাই নি তার সংবাদই,
ধাই লীলায়,–খিলখিলাই–
Printed page 183
বুলবুলির বোল সাধি।
বন-ঝাউয়ের ঝোপগুলায়
কালসারের দল চরে,
শিং শিলায়–শিলার গায়,
ডালচিনির রং ধরে।
ঝাঁপিয়ে যাই, লাফিয়ে ধাই,
দুলিয়ে যাই অচল-ঠাঁট,
নাড়িয়ে যাই, বাড়িয়ে যাই–
টিলার গায় ডালিম-ফাট।
শালিক শুক বুলায় মুখ
থল-ঝাঁঝির মখমলে,
জরির জাল আংরাখায়
অঙ্গ মোর ঝলমলে।
নিম্নে ধাই, শুনতে পাই
'ফটিক জল।' হাঁকছে কে,
কণ্ঠাতেই তৃষ্ণা যার
নিক না সেই পাঁক ছেঁকে।
গরজ যার জল স্যাঁচার
পাতকুয়ায় যাক না সেই,
সুন্দরের তৃষ্ণা যার
আমরা ধাই তার আশেই।
তার খোঁজেই বিরাম নেই
বিলাই তান-তরল শ্লোক,
চকোর চায় চন্দ্রমায়,
আমরা চাই মুগ্ধ-চোখ।
চপল পায় কেবল ধাই
উপল-ঘায় দিই ঝিলিক,
দুল দোলাই মন ভোলাই,
ঝিলমিলাই দিগ্বিদিক।
শব্দার্থ ও টীকা : বিভোল– অচেতন, বিভোর, বিবশ, বিহ্বল। বিজন– নির্জন, জনশূন্য, নিভৃত। কূজন– পাখির ডাক। ঝুম-পাহাড়– নীরব পাহাড়, নির্জন পাহাড়। হিম– তুষার, বরফ। শুক– টিয়ে পাখি। থল– স্থল। ঝাঁঝি– একপ্রকার জলজ গুল্ম, বহুদিন ধরে জমা শেওলা। মখমল– কোমল ও মিহি কাপড়। আংরাখা– লম্বা ও ঢিলা পোশাকবিশেষ। 'ফটিক জল'– স্বচ্ছ জল, নির্মল জল বা ঝরনার জল। চাতক পাখি ডাকলে 'ফটিক জল' শব্দের মতো শোনা যায়।
Printed page 184
বিলাই– বিতরণ করি, পরিবেশন করি (বিলোনো থেকে)। তান– সুর। তরল শ্লোক– লঘু বা হালকা চালের কবিতা। চকোর– পাখি বিশেষ। কবি-কল্পনা অনুযায়ী এই পাখি চাঁদের আলো পান করে। চন্দ্রমা– চাঁদের আলো। উপল-ঘায়– পাথরের আঘাতে।
পাঠ-পরিচিতি: সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের 'ঝরনার গান' কবিতাটি কবির বিদায় আরতি কাব্য থেকে সংকলন করা হয়েছে। কবিতাটিতে অদ্ভুত ধ্বনিব্যঞ্জনায় প্রকাশিত হয়েছে অপূর্ব ভাব। চঞ্চল পা পুলকিত গতিময়; স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দের পদচিহ্ন। নির্জন দুপুরে পাখির ডাকও শোনা যায় না। পাহাড় যেন দৈত্যের মতো ঘাড় ঘুরিয়ে ভয় দেখায়! এত কিছুর মধ্যেও ঝরনার চঞ্চল ও আনন্দময় পদধ্বনিতে পর্বত থেকে নেমে আসে সাদা জলরাশির ধারা। চমৎকার এর ধ্বনিমাধুর্য ও বর্ণবৈভব। এই জলধারার যে সৌন্দর্য এবং অমিয় স্বাদ তা তুলনারহিত। গিরি থেকে পতিত এই অম্বুরাশি পাথরের বুকে আঘাত হেনে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে যে অপূর্ব সৌন্দর্যের সৃষ্টি করে তা সত্যি মনোহর।
কর্ম-অনুশীলন
১। কবিতাটিতে প্রকৃতির যেসব উপাদান ও প্রাণীর নাম বলা হয়েছে, তার একটি তালিকা করো।
নমুনা প্রশ্ন
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১। দুপুর-ভোর ঝরনা কার গান শুনতে পায়?
ক. ঝিঁঝিঁর
খ. পরীর
গ. বুলবুলির
ঘ. শালিকের
২। 'একলা গাই একলা ধাই
দিবস রাত, সাঁঝ সকাল।' এ—বক্তব্যে ঝরনার কোন রূপটি ফুটে ওঠে?
ক. ছন্দময়
খ. মনোহর
গ. ছুটে চলা
ঘ. শঙ্কাহীন
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৩ নং প্রশ্নের উত্তর দাও।
নারিন্দার বৃক্ষপ্রেমী বলরাম গড়ে তোলেন হাজার রকমের বৃক্ষের সমারোহে একটা উদ্যান যা বলধা গার্ডেন নামে পরিচিত। নিছক আনন্দ উপভোগের জন্যই তাঁর এ উদ্যোগ। অনেকেই সেখানে এখন ভেষজ ঔষধের উপকরণ খোঁজেন।
৩। উদ্দীপকের বলরামের সাথে 'ঝরনার গান' কবিতায় কার সাদৃশ্য রয়েছে –
ক. চাতকের
খ. ঝরনার
গ. বন-ঝাউয়ের
ঘ. ফটিক জলের
Printed page 185
সৃজনশীল প্রশ্ন
নিসর্গকে হাতের মুঠোয় পুরে দেয়ার তাগিদ থেকে পলাশ সাহেব গড়ে তোলেন এক রমণীয় উদ্যান। বিস্তীর্ণ খোলা মাঠকে সুপরিকল্পিতভাবে তিনি গড়ে তোলেন। পুকুর, দীঘি, হাঁস, গাছপালা, ফুল, পাখির বিচিত্র সমারোহ সৌন্দর্য-পিপাসু মানুষমাত্রকেই আকৃষ্ট করে। অনিন্দ্য সুন্দর এই প্রকৃতিকে শিল্পী তিলোত্তমা করে সাজিয়েছেন শুধুই নিজের খেয়ালে। ব্যক্তিবিশেষ বা কোনো গোষ্ঠীকে আনন্দ দান নয়, সৌন্দর্যই মুখ্য। বৈরী প্রকৃতি, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে তিনি এ কাজে অগ্রসর হয়েছেন। সৃষ্টির আনন্দই তাঁকে এগিয়ে নিয়েছে এতটা পথ।
ক. ঝরনা কেমন পায়ে ছুটে চলে?
খ. 'শিথিল সব শিলার পর' বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের সাথে 'ঝরনার গান' কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার মূল বক্তব্যকে কতটুকু ধারণ করে? যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো।
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.