Bangla Sahitya chapter 47: Poster
পোস্টার
- Bangla Sahitya
- Textbook pages 231-232
- 1 source
- 4,431 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Poster
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents5ShowHide
Printed page 231
পোস্টার
আবুল হোসেন
কবি-পরিচিতি : আবুল হোসেন ১৫ই আগস্ট, ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক বাড়ি খুলনা জেলার দেয়ারা গ্রামে। আবুল হোসেন কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অর্থনীতি বিষয়ে বিএ সম্মান ও এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর কবিতায় দেশের প্রতি গভীর মমত্ববোধের স্বচ্ছন্দ প্রকাশ ঘটেছে। চিত্রময়তা ও শব্দের প্রয়োগকুশলতা তাঁর কবিতাকে বিশিষ্টতা দান করেছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য হচ্ছে : নবরসন্ত, বিরস সংলাপ, হাওয়া তোমার কী দুঃসাহস ইত্যাদি। ইকবালের কবিতা, বিভিন্ন ভাষার কবিতা, অন্য ক্ষেত্রের ফসল ইত্যাদি তাঁর অনুবাদ কাব্য। আবুল হোসেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, পদাবলী পুরস্কারসহ প্রচুর পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ জুন তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন ।]
জেনেছি সত্য বহু দিন মনে মনে
মুক্তির পথ মিশে গেছে জনগণে,
যেখানে লক্ষ লোকের রুক্ষ হাত
সৃষ্টির মাঝে নিয়োজিত দিনরাত,
যেখানে মানুষ দৈনন্দিন কাজে
প্রাণপাত করে দুঃস্বপ্নের মাঝে,
মাটিতে শিকড় গেড়ে যারা বেঁচে আছে,
আধমরা হয়ে পাষাণের রসে বাঁচে,
সেই জনতার দীপ্ত মিছিল ধরে
নবযুগ আসে রক্ত দিনের ভোরে ।
শব্দার্থ ও টীকা : জেনেছি সত্য .... গেছে জনগণে – 'জেনেছি সত্য' হলো এক ধরনের বিশ্বাস যা বহুদিন ধরে মনের মাঝে কবি বহন করে চলেছেন। আর সে বিশ্বাসটি হলো মানুষের মুক্তির পথ জনগণের মাঝেই মিশে আছে। 'জনগণ' বলতে সাধারণ খেটে-খাওয়া, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষকে বোঝানো হয়েছে। সেই জনগণের ভেতর থেকেই মুক্তির সোপান বেরিয়ে আসবে।
আধমরা হয়ে পাষাণের রসে বাঁচে – সমাজের খেটে-খাওয়া মানুষ, যাদের কর্মযজ্ঞেই এই পৃথিবী এত সুন্দর সেই মানুষেরা সমাজে দু'বেলা খেতে পায় না, তাদের জীবনে কোনো রস নেই, বৈচিত্র্য নেই, যেন পাষাণের মতো বা পাথরের মতো নীরস তাদের জীবন।
সেই জনতার দীপ্ত ... রক্ত দিনের ভোরে – খেটে খাওয়া মানুষ, জনতা নিজেদের ভাগ্যকে নিজেদের হাতে বদলানোর জন্য একদিন সোচ্চার হয়ে ওঠে, বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে, রাজপথে নেমে আসে, মিছিল করে– এভাবে এক বৈপ্লবিক অবস্থার সৃষ্টি যখন করে তখনই নতুন যুগের সৃষ্টি হয়; সকল অত্যাচার নির্যাতন দূর হয়।
পাঠ-পরিচিতি : এই সভ্যতা গড়ে উঠেছে শ্রমজীবী ও মেহনতি মানুষের পরিশ্রমের কারণে। যেখানে লক্ষ হাত একত্রিত হয় সেখানেই শক্তি দৃঢ়তর হয়; সেখানেই সৃষ্টির নতুন পথ হয় রচিত। যে মানুষ দুঃস্বপ্নের মধ্যেও দিনরাত কাজ করে, যারা শত বাধাকে উপেক্ষা করে মা ও মাটির টানে দেশের হিতার্থে নিয়োজিত, যারা অর্ধাহার-অনাহারেও দেশত্যাগ করে অন্যত্র চিরদিনের মতো চলে যায় না তারাই প্রকৃত দেশপ্রেমী। সেই শ্রমজীবী, মেহনতি সাধারণ মানুষের কাতারে মিশে গেলেই জীবনের প্রকৃত আনন্দ পাওয়া সম্ভব। কবি মনে করেন, এটাই মুক্তির মৌল সত্য। কবিতাটিতে মানবমুক্তি ও প্রগতির চিরন্তন সে সত্যরূপ প্রকাশিত হয়েছে।
Printed page 232
কর্ম-অনুশীলন
১। সভ্যতা বিকাশে খেটে খাওয়া মানুষের অবদানের ধারাবাহিক বিবরণ দাও।
নমুনা প্রশ্ন
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১। মুক্তির পথ কোথায় মিলে গেছে?
ক. পথে
খ. মিছিলে
গ. জনগণে
ঘ. সম্মেলনে
২। মানুষ কেন দুঃস্বপ্নের মাঝে থাকে?
ক. সমস্যার জন্য
খ. সৃজনের জন্য
গ. উপেক্ষার জন্য
ঘ. দৈনন্দিন কাজের জন্য
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও।
পৃথিবীর অধিকারে বঞ্চিত যে ভিক্ষুকের দল–
জীবনের বন্যাবেগে তাহাদের কারো বিচঞ্চল
অসত্য অন্যায় যত ডুবে যাক, সত্যের প্রসাদ
গিয়ে লভ অমৃতের স্বাদ ।
৩। উদ্দীপকে 'পোস্টার' কবিতায় কোন দিক উন্মোচিত হয়েছে?
ক. বঞ্চনা
খ. অধিকারহীনতা
গ. নতুন দিনের সম্ভাবনা
ঘ. স্বপ্নময়তা
৪। উদ্দীপকের ভাবনার সঙ্গে 'পোস্টার' কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ পঙ্ক্তি কোনটি?
ক. মুক্তির পথ মিশে গেছে জনগণে,
খ. দৈনন্দিন কাজে, প্রাণপাত করে দুঃস্বপ্নের মাঝে,
গ. নবযুগ আসে রক্ত দিনের ভোরে
ঘ. আধমরা হয়ে পাষাণের রসে বাঁচে ।
সৃজনশীল প্রশ্ন
তিমির রাত্রি মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান!
যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান!
ফেনাইয়া ওঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান,
ইহাদের পথে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার ।
ক. কারা দিনরাত সৃষ্টির মাঝে নিয়োজিত?
খ. কারা আধমরা হয়ে বেঁচে আছে? বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকে 'পোস্টার' কবিতার কোন দিক প্রতিফলিত হয়েছে– ব্যাখ্যা করো।
ঘ. "উদ্দীপক 'পোস্টার' কবিতার মূলভাব পরিপূর্ণভাবে ধারণ করেনি ।" – মূল্যায়ন করো।
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.