Bangla Sahitya chapter 51: Boishakh
বোশেখ
- Bangla Sahitya
- Textbook pages 245-248
- 1 source
- 6,160 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Boishakh
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents5ShowHide
Printed page 245
বোশেখ
আল মাহমুদ
[কবি-পরিচিতি: আল মাহমুদ ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। কবি হিসেবে সমধিক পরিচিত হলেও ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ এবং শিশু সাহিত্য রচনায়ও তিনি শিল্প-সাফল্য লাভ করেছেন। তিনি দীর্ঘকাল সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে যোগদান করেন এবং পরিচালকের পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধ তাঁকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে। স্বাধীনতার পর তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন। তাঁর কবিতায় লোকজ শব্দের সুনিপুণ প্রয়োগ যেমন লক্ষণীয় তেমনি রয়েছে ঐতিহ্যপ্রীতি। তাঁর প্রকাশিত কাব্য: লোক লোকান্তর, কালের কলস, সোনালি কাবিন, একচক্ষু হরিণ, মিথ্যাবাদী রাখাল, অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি। কথাসাহিত্য : উপমহাদেশ, কাবিলের বোন, পানকৌড়ির রক্ত ইত্যাদি। পাখির কাছে ফুলের কাছে তাঁর শিশুতোষ কবিতার বই। সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আল মাহমুদ বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন। কবি ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন ।]
যে বাতাসে বুনোহাঁসের ঝাঁক ভেঙে যায়
জেটের পাখা দুমড়ে শেষে আছাড় মারে
নদীর পানি শূন্যে তুলে দেয় ছড়িয়ে
নুইয়ে দেয় টেলিগ্রাফের থামগুলোকে।
সেই পবনের কাছে আমার এই মিনতি
তিষ্ঠ হাওয়া, তিষ্ঠ মহাপ্রতাপশালী,
গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে কী লাভ?
কী সুখ বলো গুঁড়িয়ে দিয়ে চাষির ভিটে?
বেগুন পাতার বাসা ছিঁড়ে টুনটুনিদের
উল্টে ফেলে দুঃখী মায়ের ভাতের হাঁড়ি
হে দেবতা, বলো তোমার কী আনন্দ,
কী মজা পাও বাবুই পাখির ঘর উড়িয়ে?
রামায়ণে পড়েছি যার কীর্তিগাথা
সেই মহাবীর হনুমানের পিতা তুমি?
কালিদাসের মেঘদূতে যার কথা আছে
তুমিই নাকি সেই দয়ালু মেঘের সাথী?
তবে এমন নিঠুর কেন হলে বাতাস
উড়িয়ে নিলে গরিব চাষির ঘরের খুঁটি
কিন্তু যারা লোক ঠকিয়ে প্রাসাদ গড়ে
তাদের কোনো ইট খসাতে পারলে নাতো।
Printed page 246
হায়রে কতো সুবিচারের গল্প শুনি,
তুমিই নাকি বাহন রাজা সোলেমানের
যার তলোয়ার অত্যাচারীর কাটতো মাথা
অহমিকার অট্টালিকা গুঁড়িয়ে দিতো।
কবিদের এক মহান রাজা রবীন্দ্রনাথ
তোমার কাছে দাঁড়িয়েছিলেন করজোড়ে
যা পুরানো শুষ্ক মরা, অদরকারি
কালবোশেখের একটি ফুঁয়ে উড়িয়ে দিতে।
ধ্বংস যদি করবে তবে, শোনো তুফান
ধ্বংস করো বিভেদকারী পরগাছাদের
পরের শ্রমে গড়ছে যারা মস্ত দালান
বাড়তি তাদের বাহাদুরি গুঁড়িয়ে ফেলো।
শব্দার্থ ও টীকা : বুনোহাঁস– যে হাঁস গৃহপালিত নয়, বনে থাকে। জেট– দ্রুতগতিসম্পন্ন উড়োজাহাজ। টেলিগ্রাফ– সংকেতের সাহায্যে দূরে বক্তব্য প্রেরণের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র। ১৮৩৭ খ্রিষ্টাব্দে আধুনিক এই যন্ত্র বিদ্যুতের সাহায্যে পরিচালিত হয়। (এখন এ ধরনের যন্ত্র আর ব্যবহার হয় না।)। তিষ্ঠ– স্থির হও। রামায়ণ– পৃথিবীর চারটি জাত মহাকাব্যের একটি। রচয়িতা– বাল্মীকি। মহাবীর হনুমান– রামায়ণে বীর হনুমানের বীরত্বপূর্ণ বহু কর্মের কথা উল্লেখ আছে। রামায়ণোক্ত হনুমানকে মহাবীর হনুমান বলা হয়। কালিদাসের মেঘদূত– সংস্কৃত ভাষার শ্রেষ্ঠ কবিদের একজন কালিদাস। সংস্কৃত ভাষায় তাঁর অমর রচনা মেঘদূতম্ কাব্য। মেঘদূতম্কে বাংলায় মেঘদূত বলা হয়। রাজা সোলেমান– ডেভিডের পুত্র এবং ইসরাইলের তৃতীয় রাজা। তিনি বীর ও দক্ষ যোদ্ধা ছিলেন। অদরকারি– যার প্রয়োজন নেই।
পাঠ -পরিচিতি : কবি আল মাহমুদের কবিতা সমগ্রের পাখির কাছে ফুলের কাছে কাব্য থেকে 'বোশেখ' কবিতাটি সংকলন করা হয়েছে। বাংলাদেশের একটি পরাক্রমশালী মাস বৈশাখ। ঋতুপরিক্রমায় বার বার সে রুদ্র সংহারক রূপে আবির্ভূত হয়। বৈশাখের নিষ্ঠুর করাল গ্রাসে এবং আগ্রাসী থাবায় কখনও কখনও লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় এক-একটা জনপদ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর শিকার হয় দুঃখী দরিদ্র মানুষ বা অসহায় কোনো প্রাণী। ছিঁড়ে যায় গরিব মাঝির পালের দড়ি, উড়ে যায় দরিদ্র চাষির ঘর। ছোট্ট টুনটুনির বাসাও রেহাই পায় না। কিন্তু ধনীর প্রাসাদের কোন ক্ষতি হয় না। কবি তাই আক্ষেপ করে বলছেন, প্রকৃতির যত নিষ্ঠুরতা, নির্মমতা কেন শুধু এই গরিবের বিরুদ্ধেই ঘটবে? অবশেষে বৈশাখের কাছে তার আহ্বান, ধ্বংস যদি করতেই হয়, তাহলে গুঁড়িয়ে দাও সেইসব অট্টালিকা যা গড়ে উঠেছে শ্রমজীবী সাধারণ মানুষকে শোষণ করে। এই কবিতায় বৈশাখের বিধ্বংসী প্রতীকের মধ্য দিয়ে অত্যাচারীর অবসান কামনা করেছেন কবি।
Printed page 247
কর্ম-অনুশীলন
১। কালবৈশাখী আমাদের সমাজ ও পারিবারিক জীবনে যে ক্ষতি করে তার তালিকা তৈরি করো।
নমুনা প্রশ্ন
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১। দয়ালু মেঘের কথা কোথায় আছে?
ক. মহাভারতে
খ. রামায়ণে
গ. সোনালি কাবিনে
ঘ. মেঘদূতে
২। কবিতায় রবীন্দ্রনাথকে কীভাবে সম্বোধন করা হয়েছে?
ক. কবিগুরু
খ. মহান কবি
গ. মহান রাজা
ঘ. বিশ্বকবি
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও।
এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ
তাপস নিঃশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক
যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি,
অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক ॥
৩। উদ্দীপকে 'বোশেখ' কবিতার কোন দিক উন্মোচিত হয়েছে?
ক. ধ্বংসাত্মক রূপ
খ. সৃজনশীল রূপ
গ. পরিশুদ্ধ রূপ
ঘ. প্রখর রূপ
৪। উদ্দীপকের অনুভূতি 'বোশেখ' কবিতার কোন পঙ্ক্তির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ?
ক. যে বাতাসে বুনোহাঁসের ঝাঁক ভেঙে যায়
খ. উড়িয়ে নিলে গরিব চাষির ঘরের খুঁটি
গ. তুমিই নাকি বাহন রাজা সোলেমানের
ঘ. শোনো তুফান ধ্বংস করো বিভেদকারী পরগাছাদের
Printed page 248
সৃজনশীল প্রশ্ন
বন্যার্ত মানুষের জন্য ত্রাণের আয়োজন করা হয়। ত্রাণকমিটি খুবই কঠোরভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখে। হতদরিদ্র রাসুর পরিবারে লোকসংখ্যা বেশি থাকায় দুইবার ত্রাণ নিতে এলে অনিয়মের দায়ে তার কার্ড বাতিল করা হয়। বরাদ্দের চেয়ে কম চাল দেয়ার প্রতিবাদ করলে রহম আলীকে বেদম প্রহার করে রিলিফ ক্যাম্প থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমন সময় যতীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ও শমসের আলী চৌধুরী এলে তাদের প্রত্যেককে এক মণ চাল, আধা মণ ডালসহ অন্য ত্রাণসামগ্রী নৌকায় পৌঁছে দিয়ে আসেন ত্রাণকমিটির প্রধান কর্তাব্যক্তি।
ক. 'তিষ্ঠ' কথার অর্থ কী?
খ. পবনের কাছে কবি মিনতি করেছেন কেন?
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত দরিদ্র শ্রেণির সাথে রিলিফ কমিটির আচরণের মাধ্যমে ফুটে ওঠা দিকটি 'বোশেখ' কবিতার আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. "উদ্দীপকটি 'বোশেখ' কবিতার একটা খণ্ডচিত্র মাত্র, পূর্ণরূপ নয়"– যুক্তিসহ বুঝিয়ে লেখো।
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.