Skip to content

Bangla Sahitya chapter 53: Procession

মিছিল

  • Bangla Sahitya
  • Textbook pages 253-255
  • 1 source
  • 5,262 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Procession

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents5

Printed page 253

মিছিল

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

[কবি-পরিচিতি : রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ১৬ই অক্টোবর, ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাটের মোংলায়। তিনি ওয়েস্ট এন্ড হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে সম্মানসহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। মূলত স্বাধীনতা-উত্তর বাংলা কবিতায় উচ্চকণ্ঠে প্রতিবাদী কবি হিসেবে তাঁর আবির্ভাব। এছাড়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, দেশাত্মবোধ, গণআন্দোলন ও অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধের অসাধারণ এক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য: উপদ্রুত উপকূল, ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম, মানুষের মানচিত্র, ছোবল ইত্যাদি। তিনি মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার, একুশে পদকসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন। ২১শে জুন, ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর অকালপ্রয়াণ ঘটে।]

যে যাবে না সে থাকুক, চলো, আমরা এগিয়ে যাই।
যে-সত্য জেনেছি পুড়ে, রক্ত দিয়ে যে-মন্ত্র শিখেছি,
আজ সেই মন্ত্রের সপক্ষে নেবো দীপ্র হাতিয়ার।
শ্লোগানে কাঁপুক বিশ্ব, চলো, আমরা এগিয়ে যাই।

প্রথমে পোড়াই চলো অন্তর্গত ভীরুতার পাপ,
বাড়তি মেদের মতো বিশ্বাসের দ্বিধা ও জড়তা।
সহস্র বর্ষের গ্লানি, পরাধীন স্নায়ুতন্ত্রীগুলো,
যুক্তির আঘাতে চলো মুক্ত করি চেতনার জট।

আমরা এগিয়ে যাবো শ্রেণিহীন পৃথিবীর দিকে,
আমাদের সাথে যাবে সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস,
অনার্যের উষ্ণ লহু, সংঘশক্তি, শিল্পে সুনিপুণ
কর্মঠ, উদ্যমশীল, বীর্যবান শ্যামল শরীর।

আমাদের সাথে যাবে ক্ষেত্রভূমি, খিলক্ষেত্র, নদী,
কৃষি সভ্যতার স্মৃতি, সুপ্রাচীন মহান গৌরব।
কার্পাশের দুকূল, পত্রোর্ণ আর মিহি মসলিন,
আমাদের সাথে যাবে তন্তু-দক্ষ শিল্পীর আঙুল।

চলো, আমরা এগিয়ে যাই। আমাদের সাথে যাবে
বায়ান্নর শহিদ মিনার, যাবে গণ-অভ্যুত্থান,
একাত্তর অস্ত্র হাতে সুনিপুণ গেরিলার মতো।
আমাদের সাথে যাবে ত্রিশ লক্ষ রক্তাক্ত হৃদয়।

(সংক্ষেপিত)

Printed page 254

শব্দার্থ ও টীকা: পরাধীন- অন্যের অধীন। শ্রেণিহীন পৃথিবী- এমন এক পৃথিবী যেখানে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না, ধনী-দরিদ্র ভেদাভেদ থাকবে না। কর্মঠ- কাজে পারদর্শী, পরিশ্রমী। উদ্যমশীল- আগ্রহ রয়েছে এমন। কৃষিসভ্যতার স্মৃতি- আমাদের এই বাংলা অঞ্চল কৃষিক্ষেত্রে খুব উন্নত ছিল। সেই উন্নত কৃষি সভ্যতার স্মৃতিকে মাথায় রাখার কথা বলা হয়েছে।

পাঠ-পরিচিতি: 'মিছিল' কবিতাটি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ছোবল কাব্য থেকে সংকলন করা হয়েছে। এ কবিতায় কবি অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে মিছিলকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে বিবেচনা করেছেন। তিনি অনুধাবন করেছেন দেশকে এগিয়ে নেওয়ার মন্ত্রে পথ চলায় আমাদের ভয়হীন ও দৃঢ় হতে হবে। একটি শ্রেণিহীন সমাজ বিনির্মাণের সংগ্রাম ও মিছিলে এ দেশের রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। আমাদের রয়েছে গৌরবজনক কৃষিসভ্যতা, মসলিন কাপড়, কারুশিল্পের ঐতিহ্য। রয়েছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্তাক্ত স্মৃতি। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার মিছিলে এসব আমাদের প্রেরণার উৎস।

কর্ম-অনুশীলন

১। 'মিছিল' কবিতা অবলম্বনে আবহমান বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পরিচয় উপস্থাপন করো।

নমুনা প্রশ্ন

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. 'মিছিল' কবিতায় কবি যুক্তির আঘাতে কী মুক্ত করতে চান?
ক. বিশ্বাসের দ্বিধা
খ. ভীরুতার পাপ
গ. চেতনার জট
ঘ. পরাধীনতার গ্লানি

২. কবিতাটিতে বায়ান্নর শহিদ মিনার প্রসঙ্গ আনা হয়েছে কেন?
ক. ভাষা শহিদদের স্মরণ করতে
খ. নব চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে
গ. মিছিলে অংশগ্রহণ করতে
ঘ. নতুন শহিদ মিনার গড়তে

নিচের উদ্দীপকটি পড়ে ৩ ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও।

বাঙালি জাতির ইতিহাস দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ইতিহাস। কিন্তু আজও যখন পদে পদে বঞ্চনা, লাঞ্ছনা আমাদের চলার পথকে বাধাগ্রস্ত করে তখন প্রয়োজন ঐক্যের। আবীর, অর্ণব, আলী, ডোন্‌স যে যে ধর্মের হোক না কেন, তাদের অঙ্গীকার সুন্দর সুখী শোষণমুক্ত একটি পৃথিবী গড়া।

৩. উদ্দীপকের ভাবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ পঙ্ক্তি কোনটি?
ক. শ্লোগানে কাঁপুক বিশ্ব, চলো আমরা এগিয়ে যাই
খ. যুক্তির আঘাতে মুক্ত করি চেতনার জট
গ. আমাদের সাথে যাবে সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস
ঘ. আমরা সশস্ত্র হই সমতার পবিত্র বিশ্বাসে

Printed page 255

৪. উদ্দীপকের আবীর, অর্ণব, আলী ও ডোন্‌স এর মধ্যে 'মিছিল' কবিতার কবির যে চেতনা পরিস্ফুট, তা হলো–

i. গণমানুষের প্রতি মমতা
ii. দেশাত্মবোধ
iii. ঐতিহ্য চেতনা

নিচের কোনটি ঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii

সৃজনশীল প্রশ্ন

বাংলাদেশ নামক ছোট্ট দেশটি যখন সবে ১৩ বছরে পা দিল, সেলিম সাহেব তখন তেত্রিশে। ভাষা আন্দোলন তার কাছে আবছা আবছা, গণঅভ্যুত্থান তার চোখে জ্বলজ্বল করছে আজও, আর মুক্তিযুদ্ধ? সে তো ছবির মতো স্পষ্ট। কিন্তু চারিদিকের অস্থিরতা তাকে ভাবিয়ে তোলে। তিনি ভাবেন- কী চেয়েছিলাম আর কী পেলাম। অনুভব করেন দেশের এই অস্থিরতা, চারদিকে অন্যায়, অত্যাচার-অনাচার দূর করতে প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ শক্তির।

ক. 'মিছিল' কবিতায় কবি প্রথমে কী পোড়ানোর কথা বলেছেন?

খ. 'আমাদের সাথে যাবে ত্রিশ লক্ষ রক্তাক্ত হৃদয়।'— বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

গ. সেলিম সাহেবের চেতনায় 'মিছিল' কবিতার যে বিশেষ দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে-তা ব্যাখ্যা করো।

ঘ. "চেতনাগত সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি 'মিছিল' কবিতার সমগ্রভাবকে ধারণ করেনি " – মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

সমাপ্ত

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.