Bangladesh and Global Studies chapter 1: Movement of East Bengal and Rise of Nationalism (1947-1970)
পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭ খ্রি.–১৯৭০ খ্রি.)
- Bangladesh and Global Studies
- Textbook pages 1-13
- 1 source
- 32,928 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Movement of East Bengal and Rise of Nationalism (1947-1970)
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents17ShowHide
- পরিচ্ছেদ ১.১ : বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে ভাষা-আন্দোলন
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমি
- জাতীয়তাবাদের উন্মেষ
- শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস
- আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন
- যুক্তফ্রন্ট গঠন, প্রাদেশিক নির্বাচন ও সরকার গঠন
- ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা
- যুক্তফ্রন্ট সরকার
- আইয়ুব খানের ক্ষমতা দখল
- পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য
- সেনাবাহিনীতে বৈষম্য
- ৬ দফার পটভূমি
- ৬ দফা
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
- ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান
- ১৯৭০ সালের নির্বাচন ও পরবর্তী ঘটনা
- নমুনা প্রশ্ন
Printed page 1
প্রথম অধ্যায়
পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭ খ্রি.–১৯৭০ খ্রি.)
১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয়; জন্ম নেয় ভারত এবং পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র। ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ই আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। পাকিস্তানের ছিল দুটি অংশ। পূর্ববাংলা পাকিস্তানের একটি প্রদেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এ অংশের নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান। অপর অংশটি পশ্চিম পাকিস্তান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। শুরু থেকেই পাকিস্তানের শাসনভার পশ্চিম পাকিস্তানের ধনিকগোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল। পূর্ববাংলার ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থা পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নিজেদের করায়ত্ত করতে শুরু করে এবং বৈষম্য সৃষ্টি করে। এর বিরুদ্ধে পূর্ববাংলার জনগণ প্রতিবাদ ও আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলে। বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়। এর মাধ্যমে পূর্ববাংলার জনগোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধ হয়। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার চেতনা থেকে পূর্ববাংলার জনগণ ক্রমান্বয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক বৈষম্য ও অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু করে। প্রথম ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টকে এবং পরে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে এদেশের মানুষ বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করে। ফলে বাংলা ভাষা, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বাঙালি জাতিগত পরিচয়ে জাতীয় ঐক্য গঠিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নয় মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আমাদের প্রাণপ্রিয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। এ অধ্যায়ে আমরা পূর্ববাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান সম্পর্কে জানতে পারব।
এ অধ্যায় শেষে আমরা–
- ভাষা আন্দোলনের পটভূমি ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে পারব;
- জাতীয়তাবাদের উন্মেষে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারব;
- নিজ ও অপরের মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে পারব ;
- বিভিন্ন ক্ষেত্রে পূর্ববাংলার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের বৈষম্যের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করতে পারব;
- ১৯৫৪ সাল থেকে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনা বর্ণনা করতে পারব;
- ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের উপর এই নির্বাচনের প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব;
- দেশের স্বার্থরক্ষায় কর্মসূচি প্রণয়ন করতে পারব।
পরিচ্ছেদ ১.১ : বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে ভাষা-আন্দোলন
ভাষা-আন্দোলনের পটভূমি
পাকিস্তান সৃষ্টির আগেই এই রাষ্ট্রের ভাষা কী হবে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে বাঙালি নেতা শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন। ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে পাকিস্তান নামক একটি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা যখন প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়,
Printed page 2
তখনই বিতর্কটি পুনরায় শুরু হয়। ১৯৪৭ সালের ১৭ই মে চৌধুরী খলীকুজ্জামান এবং জুলাই মাসে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দেন। তাদের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আবদুল হক, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, আবুল মনসুর আহমদ এবং ড. মুহাম্মদ এনামুল হকসহ বেশ কজন বুদ্ধিজীবী প্রবন্ধ লিখে প্রতিবাদ জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ২রা সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ তমদ্দুন মজলিস নামক একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। ৬–৭ই সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত উক্ত সংগঠনের যুবকর্মী সম্মেলনে 'বাংলাকে শিক্ষা ও আইন আদালতের বাহন' করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত এক শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে পূর্ববাংলায় তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি ওঠে, লেখালেখি শুরু হয়। ডিসেম্বর মাসেই 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মিছিল, সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারিসহ সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
Figure: চিত্র ১.১ : ভাষা আন্দোলনের মিছিল
১৯৪৮ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদের ভাষা হিসেবে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ব্যবহারের দাবি জানান। তাঁর দাবি অগ্রাহ্য হলে ২৬ ও ২৯শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ধর্মঘট পালিত হয়। ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' পুনর্গঠিত হয়। এ সংগঠন ১১ই মার্চ 'বাংলা ভাষা দাবি দিবস' পালনের ঘোষণা দেয়। ঐ দিন সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ এ কর্মসূচি পালনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ১৯৪৮ সালের ১১ই মার্চ 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' শ্লোগানসহ মিছিল ও পিকেটিং করা অবস্থায় অন্তত উনসত্তর জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাকায় ১২–১৫ই মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়। বাধ্য হয়ে পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন ১৫ই মার্চ রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে ৮ দফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। দফাগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হলো।
১. বাংলা ভাষার প্রশ্নে গ্রেফতারকৃত সকলকে অবিলম্বে মুক্তি দান করা হবে।
২. পুলিশি অত্যাচারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং তদন্ত করে একটি বিবৃতি প্রদান করবেন।
৩. বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার জন্য পূর্ববাংলার আইন পরিষদে একটি বিশেষ প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।
৪. পূর্ববাংলার সরকারি ভাষা হিসেবে ইংরেজি উঠে যাওয়ার পর বাংলাকে সরকারি ভাষা হিসেবে প্রবর্তন করা হবে। শিক্ষার মাধ্যমও হবে বাংলা।
৫. সংবাদপত্রের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।
৬. আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না।
৭. ২৯শে ফেব্রুয়ারি হতে জারিকৃত ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করা হবে।
৮. রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন 'রাষ্ট্রের দুশমনদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয় নাই'-এ মর্মে মুখ্যমন্ত্রী ভুল স্বীকার করে বক্তব্য দেবেন।
Printed page 3
১৯৪৮ সালের ১৯শে মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় আসেন। ২১শে মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, 'উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা'। ২৪শে মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তনেও তিনি অনুরূপ ঘোষণা দিলে ছাত্রসমাজ প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে এবং আবদুল মতিনকে অনুসরণ করে সবাই 'না, না' বলে তাঁর উক্তির প্রতিবাদ জানায়।
কাজ দলগত : ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিক প্রেক্ষাপটের একটি চার্ট তৈরি কর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেসকোর্স ময়দানে জিন্নাহ'র ঘোষণারও তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল। পরে একপর্যায়ে পাকিস্তান সরকার আরবি হরফে বাংলা প্রচলনের উদ্যোগ নিয়েছিল। পূর্ববাংলার মানুষ এ উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জ্ঞাপন করে। মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার মাধ্যমে পূর্ববাংলার জনগণ জাতীয়ভাবে নিজেদের বিকাশের গুরুত্ব উপলব্ধি করে।
১৯৫২ সালের ২৬শে জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত জনসভায় পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দীন জিন্নাহর অনুকরণে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার নতুন ঘোষণা প্রদান করেন। এর প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ ৩০শে জানুয়ারি ধর্মঘট পালন করে। আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়। ৩১শে জানুয়ারি কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে নতুনভাবে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। ফলে আন্দোলন আরও বেগবান হয়। এর সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোও যুক্ত হয়। ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়। ২১শে ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সাধারণ হরতাল পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
Figure: চিত্র : ১.২ ভাষাশহিদ
লেবেল: আব্দুস সালাম, আবুল বরকত, আবদুল জব্বার, শফিউর রহমান, রফিকউদ্দিন আহমেদ বর্ণনা: পাঁচজন ব্যক্তির প্রতিকৃতি পাশাপাশি সাজানো; প্রতিটি প্রতিকৃতির নিচে একটি করে নাম লেখা, বাম থেকে ডানে ক্রমানুসারে।
ভাষার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প ঘোষণা করা হয়। দেশব্যাপী জনমত গড়ে উঠতে থাকে। ১৯৫২ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি সরকারি এক ঘোষণায় ২১শে ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। সভা সমাবেশ, মিছিল এক মাসের জন্যে নিষিদ্ধ করা হয়। আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ২১শে ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় (বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগের পাশে) একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১০জন করে মিছিল বের করার সিদ্ধান্ত হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিক থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল এগিয়ে চলে। সাথে ছিলেন ইডেন কলেজ, কামরুন্নেসা গার্লস স্কুল ও বাংলা বাজার গার্লস স্কুল হতে আগত ছাত্রীগণও।
Printed page 4
পুলিশ প্রথমে কয়েকজনকে গ্রেফতার করে, মিছিলে লাঠিচার্জ করে ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি বর্ষণ করলে আব্দুস সালাম, আবুল বরকত, জব্বার এবং রফিক শহিদ হন। অনেকে আহত হন। ঢাকায় ছাত্রহত্যার খবর দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ২২শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিশাল শোক র্যালি বের হয়। সেখানে পুলিশের হামলায় শফিউর রহমান শহিদ হন।
শহিদদের স্মৃতি অমর করে রাখার জন্য ২৩শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে একটি শহিদ মিনার নির্মাণ করে এবং শফিউর রহমানের পিতাকে দিয়ে ঐ দিনই তা উদ্বোধন করা হয়। ২৪ তারিখ পুলিশ উক্ত শহিদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে। ঢাকায় ২১শে ফেব্রুয়ারি ছাত্রহত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে কবি মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' শীর্ষক প্রথম কবিতা রচনা করেন। তরুণ কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ 'স্মৃতির মিনার' কবিতাটি রচনা করেন। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন শহরে ছাত্র, যুবকসহ সাধারণ মানুষ ভাষার দাবিতে আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করে। পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতি ঘৃণা পোষণ শুরু করে। এসব হত্যাকান্ড পূর্ববাংলার জনগণের মনের ওপর বড়ো ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচনা করেন 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি'। সজ্জীতশিল্পী আবদুল লতিফ রচনা ও সুর করেন 'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়', এবং 'তোরা ঢাকা শহর রক্তে ভাসাইলি'র মতো সজ্জীত। মুনীর চৌধুরী জেলে বসে রচনা করেন 'কবর' নাটক। পরে ১৯৬৯ সালে জহির রায়হান রচনা করেছিলেন 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পূর্ববাংলায় শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনা মূলধারার রাজনৈতিক আদর্শ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নেয়।
১৯৪৭ সালে সূচিত রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালে প্রতিবাদ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে রূপ লাভ করে। ফলে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নিজের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে পূর্ববাংলার বাংলাভাষী এবং অন্যান্য জনগোষ্ঠী মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস ও আত্মপ্রত্যয় খুঁজে পায়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর পঞ্চাশের দশকব্যাপী ছিল আমাদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতিকাল। ভাষা আন্দোলন পরবর্তীকালে সকল রাজনৈতিক আন্দোলনের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। এ আন্দোলন এ দেশের মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। পাকিস্তানি শাসনপর্বে এটি বাঙালিদের জাতীয় মুক্তির প্রথম আন্দোলন।
Figure: চিত্র ১.৩ প্রথম শহিদ মিনার
বর্ণনা: একটি স্তম্ভাকৃতি শহিদ মিনার; মিনারের গোড়ায় একটি ভিত্তিমঞ্চ, যার সামনে ফুলের তোড়া রাখা।
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.