Skip to content

Bangladesh and Global Studies chapter 4: Physiography and Climate of Bangladesh

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু

  • Bangladesh and Global Studies
  • Textbook pages 45-60
  • 1 source
  • 44,268 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Physiography and Climate of Bangladesh

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents27
  1. বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু
  2. এ অধ্যায় শেষে আমরা–
  3. পরিচ্ছেদ ৪.১ : বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি
  4. ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা
  5. ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চলের শ্রেণিবিভাগ ও গঠন
  6. বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতির গঠন, জনসংখ্যা ও জনবসতি
  7. বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহারে জনবসতি বিস্তারের প্রভাব
  8. পরিচ্ছেদ ৪.২: বাংলাদেশের জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  9. বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের জলবায়ু
  10. বাংলাদেশের জলবায়ু
  11. মিয়ানমারের জলবায়ু
  12. নেপালের জলবায়ু
  13. বাংলাদেশের মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর জলবায়ুর প্রভাব
  14. ভূমিকম্পের (Earthquake) ধারণা
  15. ভূমিকম্পের কারণ
  16. ভূমিকম্পের ফলাফল
  17. বিশ্বের ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল (World's Earthquake Prone Regions)
  18. বাংলাদেশে ভূমিকম্পের কারণ
  19. ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
  20. ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি
  21. ভূমিকম্পের প্রস্তুতিস্বরূপ একজন ব্যক্তির করণীয়
  22. ভূমিকম্প চলাকালীন জনসাধারণের করণীয়
  23. ভূমিকম্পের পর একজন সচেতন ব্যক্তির করণীয়
  24. নমুনা প্রশ্ন
  25. বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
  26. সৃজনশীল প্রশ্ন
  27. সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন

Printed page 45

চতুর্থ অধ্যায়

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু

বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব–দ্বীপ। সমগ্র বাংলাদেশ সামান্য পাহাড়ি অঞ্চল, সীমিত উঁচুভূমি এবং নদী বিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি নিয়ে গঠিত। এদেশের ভূপ্রকৃতি নিচু ও সমতল। বাংলাদেশের জলবায়ু মোটামুটি সমভাবাপন্ন। জলবায়ুর উপর মৌসুমি বায়ুর প্রভাব খুব বেশি। তাই বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঋতুর আগমন ঘটে। বিভিন্ন ঋতুতে এ দেশের জলবায়ুর তারতম্যের কারণে আমরা কখনো গরম আবার কখনো শীত অনুভব করি। জলবায়ুর কারণে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। ফলে অতিবৃষ্টি, অকাল বন্যা, জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতি মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে। এ অধ্যায়ে আমরা বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে অবহিত হব।

এ অধ্যায় শেষে আমরা–

  • বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা বর্ণনা করতে পারব;
  • বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চল চিহ্নিত করতে পারব;
  • বাংলাদেশের ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চলের শ্রেণিবিভাগ ও গঠন ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • ভূপ্রাকৃতিক গঠন কীভাবে জনসংখ্যার (জনবসতি) বিস্তরণে প্রভাব বিস্তার করে তা বিশ্লেষণ করতে পারব;
  • বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহারের উপর জনবসতি বিস্তারের প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব;
  • পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ হব;
  • বাংলাদেশের সাথে দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের (ভারত, মিয়ানমার ও নেপাল) জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যের তুলনা করতে পারব;
  • বাংলাদেশের মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর জলবায়ুর প্রভাব বিশ্লেষণ ও এ বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করতে পারব;
  • ভূমিকম্পের ধারণা ও কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • বিশ্বের ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত কয়েকটি দেশের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে পারব;
  • বাংলাদেশকে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল বলার কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবিলায় সচেতন হব এবং অভিযোজনে সক্ষমতা লাভ করব;
  • ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহযোগিতার মনোভাব তৈরি করব ।

Printed page 46

পরিচ্ছেদ ৪.১ : বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি

বাংলাদেশ পলি গঠিত একটি আর্দ্র অঞ্চল। উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বের সামান্য পাহাড়ি অঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিমাংশের সীমিত উঁচুভূমি ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশ নদী বিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি। দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি বড়ো নদী-গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনার অববাহিকায় বাংলাদেশ অবস্থিত। এ দেশের ভূপ্রকৃতি নিচু ও সমতল।

ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা

এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে বাংলাদেশের অবস্থান। বাংলাদেশ ২০°৩৪´ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮´ উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে এবং ৮৮°০১´ পূর্ব দ্রাঘিমারেখার থেকে ৯২°৪১´ পূর্ব দ্রাঘিমারেখার মধ্যে অবস্থিত। বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩°৫´) অতিক্রম করেছে। পূর্ব-পশ্চিমে সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৪৪০ কি.মি. এবং উত্তর-উত্তর পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৭৬০ কি.মি.। বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম; পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম এবং মিয়ানমার; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত। বাংলাদেশের মোট আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কি.মি. বা ৫৬, ৯৭৭ বর্গমাইল।

Figure: চিত্র ৪.১ : বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ

লেবেল: সুমেরু বৃত্ত, আর্কটিক মহাসাগর, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া, আটলান্টিক মহাসাগর, বাংলাদেশ, কর্কটক্রান্তি রেখা, আফ্রিকা, বিষুব রেখা, প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণ আমেরিকা, ভারত মহাসাগর, মকরক্রান্তি রেখা, অস্ট্রেলিয়া, কুমেরু বৃত্ত, এন্টার্কটিকা, প্রশান্ত মহাসাগর বর্ণনা: বিশ্ব মানচিত্রের রূপরেখা; বাংলাদেশের অবস্থানে একটি গাঢ় চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। মানচিত্রে মহাদেশ ও মহাসাগরের নাম, কর্কটক্রান্তি, বিষুব ও মকরক্রান্তি রেখা এবং সুমেরু ও কুমেরু বৃত্ত দেখানো হয়েছে।

ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চলের শ্রেণিবিভাগ ও গঠন

বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপ। বাংলাদেশের উপর দিয়ে বয়ে গেছে অসংখ্য নদ-নদী। এগুলোর মধ্যে পদ্মা, যমুনা, মেঘনা, ব্রহ্মপুত্র, শীতলক্ষ্যা, কর্ণফুলী ইত্যাদি প্রধান। বাংলাদেশের ভূখণ্ড উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে অবস্থিত। ফলে এসব নদ-নদী, উপনদী ও শাখা নদীগুলো উত্তর দিক থেকে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অভিমুখে প্রবাহিত হয়েছে। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাংশের পাহাড়িয়া অংশ ব্যতীত প্রায় সমগ্র দেশটিই এসব নদ-নদীর পলি দ্বারা গঠিত সমভূমি। বাংলাদেশের প্রায় সমগ্র অঞ্চল এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।

বাংলাদেশের সামান্য পরিমাণে উচ্চভূমি রয়েছে। ভূ-প্রকৃতির ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়– টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ, প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ ও সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ : বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ১২% এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত। আজ থেকে প্রায় ২ মিলিয়ন বছরেরও আগে টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উথিত হওয়ার সময় এ সকল পাহাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যথা– দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এবং উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

Printed page 47

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ : রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্গত। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার। বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম তাজিওডং (বিজয়), যার উচ্চতা ১,২৩১ মিটার। এটি বান্দরবান জেলায় অবস্থিত। বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হচ্ছে কিওক্রাডং, যার উচ্চতা ১,২৩০ মিটার। এ ছাড়া এ অঞ্চলের আরও দুটি উচ্চতর পাহাড়চূড়া হচ্ছে– মোদকমুয়াল (১,০০০ মিটার) ও পিরামিড (৯১৫ মিটার)। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলো বেলে পাথর, কর্দম ও শেল পাথর দ্বারা গঠিত।

উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ : ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। এ পাহাড়গুলোর উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়। উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত। এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর মধ্যে চিকনাগুল, খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া প্রধান।

প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ বা চত্বরভূমি : বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ৮% এলাকা নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিন কাল বলা হয়। এই সময়ের আন্তঃবরফ গলা পানিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়ে এসব চত্বরভূমি গঠিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়, যথা– বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং লালমাই পাহাড়। নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে বরেন্দ্রভূমি গঠিত। এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার। প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার। এ স্থানের মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের। ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে মধুপুর ও ভাওয়ালের সোপানভূমি গঠিত। এর আয়তন প্রায় ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার। সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ৩০ মিটার। মাটির রং লালচে ও ধূসর। কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত লালমাই পাহাড়টি বিস্তৃত। এর আয়তন ৩৪ বর্গকিলোমিটার। এই পাহাড়ের গড় উচ্চতা ২১ মিটার। এ অঞ্চলের মাটির রং লালচে এবং মাটি নুড়ি, বালি ও কংকর মিশ্রিত।

Figure: চিত্র ৪.২ : বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি

লেবেল: A; B; C; বাংলাদেশ ভূপ্রকৃতি; উত্তর; ভারত (তিনবার); মিয়ানমার; বঙ্গোপসাগর; ০, ৫০, ১০০ কি.মি.; টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ; প্লাইস্টোসিন যুগের চত্বরভূমি; সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি; [অস্পষ্ট] (চিহ্নের শিরোনাম); [অস্পষ্ট] (মানচিত্রের ভেতরের স্থাননাম) বর্ণনা: বাংলাদেশের মানচিত্র, ভূ-প্রকৃতি অনুযায়ী আলাদা নকশায় ভাগ করা। উত্তর-পশ্চিমে ও উত্তরের মাঝামাঝি বিচ্ছিন্ন ডট-নকশার চত্বরভূমি অংশ, দক্ষিণ-পূর্বে আনুভূমিক রেখার নকশায় টারশিয়ারি পাহাড়ের অংশ এবং অবশিষ্ট বেশিরভাগ এলাকা ক্রস-হ্যাচ নকশায় প্লাবন সমভূমি হিসেবে দেখানো হয়েছে। A রেখাটি উত্তর-পশ্চিমের একটি চত্বরভূমি অংশে, B রেখাটি দক্ষিণ-পূর্বের একটি পাহাড় অংশে এবং C রেখাটি মধ্যাঞ্চলের একটি প্লাবন সমভূমি অংশে নির্দেশ করে।

সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি : বাংলাদেশের প্রায় ৮০% ভূমি নদীবিধৌত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি। সমতল ভূমির উপর দিয়ে অসংখ্য নদী প্রবাহিত হওয়ার কারণে এখানে বর্ষাকালে বন্যার সৃষ্টি হয়। বছরের পর বছর এভাবে বন্যার পানির সঙ্গে পরিবাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত হয়েছে। এ প্লাবন সমভূমির

Printed page 48

আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার। সমগ্র সমভূমির মাটির স্তর খুব গভীর এবং ভূমি খুবই উর্বর। সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়, যেমন– দেশের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অধিকাংশ স্থান, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের অংশবিশেষ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার অধিকাংশ এলাকা এবং কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার পূর্বদিকের সামান্য অংশ নিয়ে এ সমভূমি গঠিত। এছাড়াও চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অধিকাংশ এবং লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলার কিছু অংশ জুড়েও এ সমভূমি বিস্তৃত। হিমালয় পর্বত থেকে আনীত পলল দ্বারা এ অঞ্চল গঠিত। ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও ঢাকা অঞ্চলের অংশবিশেষ নিয়ে ব-দ্বীপ সমভূমি গঠিত। নোয়াখালী ও ফেনী নদীর নিম্নভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল হলো উপকূলীয় সমভূমি। খুলনা ও পটুয়াখালী অঞ্চল এবং বরগুনা জেলার কিয়দংশ নিয়ে স্রোতজ সমভূমি গঠিত। বাংলাদেশের এ অঞ্চলগুলোর মাটি খুব উর্বর বলে কৃষিজাত দ্রব্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।

Figure: চিত্র ৪.৩ : ভূপ্রকৃতির বিস্তৃতির পরিমাণ

লেবেল: সোপান ৮%, পাহাড় ১২%, প্লাবন সমভূমি ৮০%

ভূপ্রকৃতিশতাংশ
সোপান৮%
পাহাড়১২%
প্লাবন সমভূমি৮০%

বর্ণনা: বৃত্তাকার পাই-চার্ট। ওপরের দিকে ছোট একটি সূক্ষ্ম-নকশার অংশ নির্দেশক রেখা দিয়ে "সোপান" বলে চিহ্নিত; ডান দিকে ইটের মতো নকশার অংশ নির্দেশক রেখা দিয়ে "পাহাড়" বলে চিহ্নিত; বাকি বৃহৎ অংশ ডট-নকশায় "প্লাবন সমভূমি ৮০%" লেখা।

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.