Bangladesh and Global Studies chapter 7: Organs of Bangladesh Government and Administrative System
বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রশাসন ব্যবস্থা
- Bangladesh and Global Studies
- Textbook pages 85-97
- 1 source
- 35,035 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Organs of Bangladesh Government and Administrative System
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents35ShowHide
- পরিচ্ছেদ ৭.১ : বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গসমূহ
- নির্বাহী বা শাসনবিভাগ
- আইনবিভাগ
- বিচারবিভাগ
- ১. নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা ও কার্যাবলি
- রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা
- রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলি
- রাষ্ট্রপতির জরুরি ক্ষমতা
- প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদা
- প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলি
- ২. আইন বিভাগের ক্ষমতা ও কার্যাবলি
- জাতীয় সংসদের ক্ষমতা ও কার্যাবলি
- জাতীয় সংসদ কর্তৃক শাসনবিভাগ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি
- ৩. বিচারবিভাগের ক্ষমতা ও কার্যাবলি
- অধিকার সুরক্ষা ও আইনের শাসন সংরক্ষণে বিচারবিভাগের ভূমিকা
- বিচারপতি নিয়োগ ব্যবস্থা
- পরিচ্ছেদ ৭.২: বাংলাদেশের প্রশাসন ব্যবস্থা
- কেন্দ্রীয় প্রশাসন
- বাংলাদেশে স্থানীয় প্রশাসনের গঠন ও কাজ
- স্থানীয় প্রশাসন
- বিভাগীয় প্রশাসন
- জেলা প্রশাসন
- উপজেলা প্রশাসন
- স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন
- ইউনিয়ন পরিষদ
- উপজেলা পরিষদ
- জেলা পরিষদের গঠন প্রণালি
- পৌরসভা
- গঠন
- সিটি কর্পোরেশন
- স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্ব
- নমুনা প্রশ্ন
- বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
- সৃজনশীল প্রশ্ন
- সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন
Printed page 85
সপ্তম অধ্যায়
বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রশাসন ব্যবস্থা
আমরা ইতোপূর্বে রাষ্ট্র সম্পর্কে আলোচনা করেছি। সরকার ব্যবস্থা রাষ্ট্রের যন্ত্রস্বরূপ। সরকারের মাধ্যমে রাষ্ট্র তার কাজ করে। সরকারের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সরকারের বিভিন্ন বিভাগ বা অঙ্গ রয়েছে। সাধারণভাবে সরকার বলতে আমরা বুঝি– আইন পরিষদ, রাজনৈতিক দল, মন্ত্রিপরিষদ, শাসনকর্তা, আদালত ও পুলিশ। সামগ্রিকভাবে সরকারের তিনটি বিভাগ রয়েছে, যথা : ১. নির্বাহী বা শাসনবিভাগ, ২.আইনবিভাগ ও ৩. বিচার বিভাগ প্রত্যেক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এ তিনটি মৌলিক বিভাগ বিদ্যমান থাকে। কেননা, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি কাজ হচ্ছে প্রশাসন পরিচালনা, আইন প্রণয়ন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। প্রশাসন পরিচালনা দুই ধরনের– একটি কেন্দ্রীয় এবং অপরটি স্থানীয় শাসন। এ অধ্যায়ে আমরা বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রশাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত হব।
এ অধ্যায় শেষে আমরা–
- বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসমূহ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে পারব;
- রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলি বর্ণনা করতে পারব;
- জাতীয় সংসদ এবং এর ক্ষমতা ও কার্যাবলি বর্ণনা করতে পারব;
- জাতীয় সংসদ শাসনবিভাগকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করে তা ব্যাখ্যা করতে পারব;
- বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ক্ষমতা ও কার্যাবলি বর্ণনা করতে পারব;
- জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা ও আইনের শাসন সংরক্ষণে বিচারবিভাগের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারব;
- বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া বর্ণনা করতে পারব;
- বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো বর্ণনা করতে পারব;
- বাংলাদেশের স্থানীয় প্রশাসনসমূহের গঠন বর্ণনা করতে পারব;
- বাংলাদেশের উন্নয়নে স্থানীয় প্রশাসনের গুরুত্ব মূল্যায়ন করতে পারব;
- অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হব।
পরিচ্ছেদ ৭.১ : বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গসমূহ
নির্বাহী বা শাসনবিভাগ
রাষ্ট্রের শাসনকার্য তথা নিত্যদিনকার প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাষ্ট্রের সার্বিক সিদ্ধান্ত ও সুবিধাসমূহ বাস্তবায়ন করে যে বিভাগ তাকে নির্বাহী বা শাসনবিভাগ বলে। বিস্তৃত অর্থে রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে মন্ত্রিসভা, আমলা, নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কূটনীতিক, দাপ্তরিক কর্মকর্তা এমনকি গ্রাম্য চৌকিদারসহ সকল প্রশাসনিক কর্মচারীদের নিয়ে নির্বাহী বা শাসনবিভাগ গঠিত।
Printed page 86
আইনবিভাগ
সরকারের তিনটি বিভাগের একটি হলো আইনবিভাগ। আইন বিভাগ আইন প্রণয়ন এবং প্রয়োজনবোধে প্রচলিত আইনের সংশোধন বা রদবদল করে থাকে। আইনবিভাগের একটি অংশ হলো আইনসভা বা পার্লামেন্ট। আইনসভা আইন প্রণয়ন করে। নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের নিয়ে কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে মনোনীত সদস্যদের নিয়ে এটি গঠিত হয়। আইনসভা প্রণীত আইন রাষ্ট্রপ্রধানের সম্মতি লাভের পর কার্যকর হয়। প্রত্যেক রাষ্ট্রের আইনসভা রয়েছে। এসব আইনসভা বিভিন্ন নামে পরিচিত। বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেস আর ব্রিটেনের আইনসভা হলো পার্লামেন্ট। অনেক মুসলিম রাষ্ট্রের আইনসভা মজলিশ নামে পরিচিত। কোনো দেশের আইনসভা এক কক্ষবিশিষ্ট আবার কোনো দেশের আইনসভা দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট হয়ে থাকে। দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভায় উচ্চ পরিষদ ও নিম্ন পরিষদ থাকে। বাংলাদেশের আইনসভা অবশ্য এক কক্ষবিশিষ্ট। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের আইনসভা দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট।
বিচারবিভাগ
সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। সরকারের যে বিভাগ আইন অনুসারে বিচার কাজ পরিচালনা করে থাকে তাকে বিচারবিভাগ বলে। আইন ভঙ্গকারীকে শাস্তি প্রদান, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিকের ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার রক্ষা বহুলাংশে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। রাষ্ট্রের সকল আদালত ও বিচারক নিয়ে বিচারবিভাগ গঠিত হয়।
১. নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা ও কার্যাবলি
রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা
পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতি সবার উপরে। সংবিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রের প্রধান। সবার উর্ধ্বে তিনি স্থান লাভ করেন। সংবিধান ও আইন অনুযায়ী তাঁকে প্রদত্ত সকল দায়িত্ব ও ক্ষমতা তিনি প্রয়োগ করেন। সংসদ প্রণীত আইন রাষ্ট্রপতি অনুমোদন করেন।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলি
সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নিয়মতান্ত্রিক প্রধান। প্রজাতন্ত্রের সকল কাজ তাঁর নামে পরিচালিত হয়। তাঁর হাতে কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই। দেশের সরকার গঠন, শাসন পরিচালনা, আইন প্রণয়ন এবং অর্থ, বিচার, প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কাজ তিনি সম্পাদন করেন। রাষ্ট্রপতির কার্যাবলি নিম্নে আলোচনা করা হলো–
১. প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ও শাসনসংক্রান্ত ক্ষমতা ও কার্যাবলি : সংসদ নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের আস্থাভাজন নেতাকে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর পছন্দমতো মন্ত্রীদের নিয়ে সরকার গঠন করেন। প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কারও পরামর্শ গ্রহণ করেন না। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের নিয়োগ ও তাঁদের দপ্তর বণ্টন করেন। তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও অন্য বিচারকবৃন্দ, রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনারদের নিয়োগ দান করেন।
কাজ দলগত : রাষ্ট্রপতির কার্যাবলির একটি ছক তৈরি করো।
২. সংসদবিষয়ক ক্ষমতা : রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান করেন। নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে ও নতুন বছরের অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণদান করেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সংসদে আলোচনা
Printed page 87
হয় । সময়ে সময়ে রাষ্ট্রপতি সংসদে বাণী প্রেরণ করেন। তিনি সংসদ মুলতবি রাখতে পারেন এবং প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শে তিনি সংসদ ভেঙ্গে দিতে পারেন।
৩. অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতা : সংসদ ভেঙ্গে গেলে বা অধিবেশন না থাকলে কোনো বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। এ অধ্যাদেশ সংসদ প্রণীত আইনের মতো ক্ষমতাসম্পন্ন।
৪. প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ও বিচারসংক্রান্ত কাজ : রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কারও পরামর্শ গ্রহণ করেন না। সুপ্রিম কোর্টের অন্য বিচারপতিগণও রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন।
৫. ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা : রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা রয়েছে যে কোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করা। কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত যে কোনো দণ্ড তিনি মার্জনা করতে পারেন।
৬. অর্থসংক্রান্ত ক্ষমতা ও কাজ : সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত কোনো বিল সংসদে উত্থাপন করতে হলে তাতে রাষ্ট্রপতির সুপারিশ লাগে। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি সংযুক্ত তহবিল থেকে ব্যয় নির্বাহের ব্যবস্থা করতে পারেন।
৭. প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত ক্ষমতা : বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিভাগসমূহের সর্বাধিনায়কত্ব রাষ্ট্রপতির উপর ন্যস্ত। তিনি বহিরাক্রমণ মোকাবিলার জন্য যে কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।
রাষ্ট্রপতির জরুরি ক্ষমতা
সংবিধানের ১৪১ এর ক (১) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এমন জরুরি অবস্থা বিদ্যমান রয়েছে, যাহাতে যুদ্ধ বা বহিরাক্রমণ বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগে বাংলাদেশ বা যে কোনো অংশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবন বিপদের সম্মুখীন, তা হলে তিনি অনধিক একশত কুড়ি দিনের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদা
রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিকাংশ সদস্যের আস্থাভাজন সাংসদকেই (সংসদ সদস্য) প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন। বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকারপ্রধান। তিনি সরকারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা ও মন্ত্রিসভার প্রধান। তিনিই মন্ত্রিসভা গঠন করেন। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে বা সংসদের আস্থা হারালে সরকারের পতন ঘটে। প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে দেশের সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা পরিচালিত হয়ে আসছে।
সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদা অনেক উপরে। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হলেও রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করেন। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার মূলস্তম্ভ। তিনি অত্যন্ত সম্মানজনক পদমর্যাদার অধিকারী। সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তাঁর শাসন পরিচালনার জন্য সংসদের কাছে দায়ী থাকেন। ২০২৪ এর ছাত্র নাগরিকের গণ অভ্যুত্থানে পূর্বতন প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পর সংসদে প্রধানমন্ত্রী পদের ক্ষমতা হ্রাস করার আলোচনা বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কার্যাবলি
১. শাসন বিষয়ক ও নির্বাহী ক্ষমতা : সংসদীয়ও ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী পুরো শাসনব্যবস্থায় নেতৃত্ব প্রদান করেন। সকল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করেন। সকল নির্বাহী ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির নামে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের নিয়োগ ও তাঁদের দপ্তর বণ্টন করেন। বিচার, অর্থ, পররাষ্ট্র এবং শাসন
Printed page 88
বিষয়ক সকল কাজ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও মতামত অনুযায়ী পরিচালিত হয়। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রের উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়োগ করেন।
২. আইনসংক্রান্ত ক্ষমতা : আইন প্রণয়নে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি জাতীয় সংসদে সরকারি বিলের পৃষ্ঠাপোষকতা করেন। প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে সংসদের আইন প্রণয়ন বিষয়ক কার্যাবলি পরিচালিত হয়।
৩. সংসদ পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা : প্রধানমন্ত্রী সংসদের নেতা। তিনি সংসদের সাফল্যজনক সুষ্ঠু পরিচালনায় কার্যকর ভূমিকা পালন করেন। বিরোধী দলের আস্থা অর্জন ও সহযোগিতা পেতে তিনি নেতৃত্বদান করেন। সংসদে সকল সদস্যের অধিকার সংরক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব অনেক। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে সংসদ আহ্বান, স্থগিত বা ভেঙে দেন।
৪. অর্থবিষয়ক ক্ষমতা : প্রধানমন্ত্রী আর্থিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী। তাঁর পরামর্শ ও নির্দেশক্রমে অর্থমন্ত্রী বাজেট প্রণয়ন ও সংসদে তা উপস্থাপন করেন। বাজেটে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক নীতির প্রতিফলন ঘটে। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহে অর্থ মঞ্জুরি প্রদান করেন।
কাজ দলগত : প্রধানমন্ত্রী কেন নির্বাহী প্রধান উল্লেখ করো। দলগত : প্রধানমন্ত্রীর কার্যাবলির একটি ছক তৈরি করো।
৫. রাষ্ট্রীয় কাজের সমন্বয়ে প্রধানমন্ত্রী : রাষ্ট্রীয় সকল কাজের সমন্বয় প্রধানমন্ত্রী করে থাকেন। তিনি যেহেতু প্রশাসনের কেন্দ্রে অবস্থান করেন তাই সকল মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও অধিদপ্তরের কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধনে তাঁর নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতিত্ব করেন।
৬. জাতির মুখপাত্র হিসেবে প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী জাতির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন। বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। যেকোনো জাতীয় সংকট সম্পর্কে দেশবাসীকে অবহিত করেন। দেশের হয়ে বিবৃতি ও বক্তৃতা দেন।
৭. দলের নেতা : গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী সরকারি দলের নেতা। সংসদ ও সংসদের বাইরে দলের নীতি নির্ধারণ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন। দলীয় নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ভূমিকা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিরোধী দলের সাথে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক স্থাপন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সুতরাং প্রধানমন্ত্রী দেশের শাসন পরিচালনা, আইন প্রণয়ন, অর্থব্যবস্থার তদারকি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাসহ সর্বক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় ভূমিকা পালন করেন। তিনিই সংসদ নেতা, মন্ত্রিসভার নেতা। তদুপরি শাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু।
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.