Chemistry chapter 1: Concepts of Chemistry
রসায়নের ধারণা
- Chemistry
- Textbook pages 1-16
- 1 source
- 29,440 characters of context
Textbook (verbatim transcription): Concepts of Chemistry
Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.
Contents13ShowHide
- ১.১ রসায়ন পরিচিতি (Introduction to Chemistry)
- Chemistry শব্দের উৎপত্তি
- ১.২ রসায়নের পরিধি বা ক্ষেত্রসমূহ (The Scope of Chemistry)
- ১.৩ রসায়নের সাথে বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার সম্পর্ক (Relationship Between Chemistry and Other Branches of Science)
- ১.৪ রসায়ন পাঠের গুরুত্ব (The Importance of Studying Chemistry)
- ১.৫ রসায়নে অনুসন্ধান বা গবেষণা প্রক্রিয়া
- (The Process of Research in Chemistry)
- ১.৬ রসায়ন পরীক্ষাগার ব্যবহারে ও পরীক্ষাগারে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারে সতর্কতা গ্রহণ
- (Safety Measures in Chemistry Laboratory and in Use of Chemicals)
- নমুনা প্রশ্ন
- বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
- সৃজনশীল প্রশ্ন
- সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন
Printed page 1
প্রথম অধ্যায়
রসায়নের ধারণা
(The Concepts of Chemistry)
তোমরা যারা নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র তারা রসায়ন বইটি হাতে পেয়েছো। বইটি হাতে পেয়ে কিছু প্রশ্ন তোমাদের মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে—রসায়ন বিষয়টি কী? কেনইবা আমরা রসায়ন পড়ব? অর্থাৎ রসায়ন আমাদের কী কাজে লাগে? রসায়নের সাথে বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার কি কোনো সম্পর্ক আছে? এসব বিষয়ের উত্তর এ অধ্যায়টি পড়লে জানতে পারবে।
Printed page 2
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা
- রসায়নের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- রসায়নের ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করতে পারব।
- রসায়নের সাথে বিজ্ঞানের অন্য শাখাগুলোর সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারব।
- রসায়ন পাঠের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- রসায়নে অনুসন্ধান ও গবেষণা প্রক্রিয়ার বর্ণনা করতে পারব।
- বিভিন্ন ধরনের অনুসন্ধানমূলক কাজের পরিকল্পনা প্রণয়ন, অনুমিত সিদ্ধান্ত গঠন ও পরীক্ষা করতে পারব।
- রসায়ন পরীক্ষাগারে কাজের সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে পারব।
- প্রকৃতির ও বাস্তব জীবনের ঘটনাবলি রসায়নের দৃষ্টিতে ব্যাখ্যা করতে পারব।
Printed page 3
১.১ রসায়ন পরিচিতি (Introduction to Chemistry)
প্রাগৈতিহাসিক যুগে মানুষ কাপড় পরতে জানত না, ঘরবাড়ি বানাতে জানত না, এমনকি রান্না করে খেতে জানত না। আজ ডিজিটালাইজেশনের যুগে মানুষ কত কিনা করছে। তাপকে নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে শিখেছে। বিদ্যুৎকে ব্যবহার করে মানুষ কত কী করছে। ইন্টারনেট ব্যবহার করে মানুষ ঘরে বসে পৃথিবীর কোথায় কী ঘটছে তা দেখতে পাচ্ছে। এগুলোর সব কিছুই হলো বিজ্ঞানের অবদান। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন হয়, বিজ্ঞান কী? বিজ্ঞান হলো, মানবজাতির পদ্ধতিগত, নিয়মানুগ ধারাবাহিক প্রচেষ্টা যার দ্বারা প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে নিজেদের কল্যাণে কাজে লাগানো। বিজ্ঞানের অনেকগুলো শাখা আছে যার মধ্যে রসায়ন হলো অন্যতম প্রধান শাখা।
এখানে প্রশ্ন হলো, রসায়ন কী? বিজ্ঞানের যে শাখায় মৌল বা মৌলিক পদার্থের সমন্বয়ে গঠিত যৌগ বা যৌগিক পদার্থের সংযুক্তি, গঠন প্রকৃতি, ধর্ম, ব্যবহার ইত্যাদি এবং বস্তুসমূহের পারস্পরিক রূপান্তর ও রূপান্তরকালে শক্তি মূলত তাপ শক্তির শোষণ ও নিঃসরণ আলোচনা করা হয় তাকে রসায়ন বলে।
আমরা জানি, কয়লা পোড়ালে তাপ উৎপাদিত হয়; সেই সাথে কার্বন ডাইঅক্সাইড যৌগ গঠিত হয়। আর্দ্র-পরিবেশে লোহা বা লোহা নির্মিত জিনিস রেখে দিলে তাতে মরিচা পড়ে, বিভিন্ন গাছের নির্যাস থেকে ঔষধ ও সুগন্ধি নিষ্কাশন করা হয়, আকরিক থেকে বিভিন্ন ধাতু নিষ্কাশন ইত্যাদি হলো রসায়নের কতিপয় উদাহরণ। বলা যায়, প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই মানুষ জেনে অথবা না জেনে বিভিন্নভাবে রসায়নের ব্যবহার করে আসছে। এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রথম ব্যবহৃত ধাতু হলো তামা। এছাড়া সেই প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ সোনা, রুপা, টিন, লোহা ইত্যাদি ধাতু ব্যবহার করছে।
খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দের দিকে কপার ও টিন ধাতুকে গলিয়ে তরলে পরিণত করে এ দুটি তরলকে একত্রে মেশানো হয়। অতঃপর মিশ্রণকে ঠান্ডা করে কঠিন সংকর ধাতুতে (alloy) পরিণত করা হয়। এ সংকর ধাতুর নাম ব্রোঞ্জ। এ ব্রোঞ্জ দিয়ে মানুষ অস্ত্র তৈরি করত এবং পশু শিকার, কৃষিকাজ, জ্বালানির জন্য কাঠ সংগ্রহ ইত্যাদি প্রয়োজনীয় অনেক কাজে এ অস্ত্র ব্যবহার করত। এ ব্রোঞ্জ তখনকার মানবজাতির জন্য এক অতি প্রয়োজনীয় পদার্থে পরিণত হয়। ব্রোঞ্জ-এর আবিষ্কার মানব সভ্যতাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে। ব্রোঞ্জের মতো মানুষ ইস্পাতসহ অনেকগুলো সংকর ধাতু তৈরি করেছে এবং বিভিন্ন কাজে সেগুলো ব্যবহার করছে।
প্রাচীনকালের দার্শনিকেরা পদার্থের গঠন নিয়ে অনেক চিন্তা-ভাবনা করেন। খ্রিষ্টপূর্ব ৩৮০ অব্দের দিকে গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস বলেন যে, প্রত্যেক পদার্থকে অনবরত ভাঙতে থাকলে শেষ পর্যায়ে এমন
Printed page 4
এক ক্ষুদ্র কণা পাওয়া যাবে যাকে আর ভাঙা যাবে না। তিনি এর নাম দেন অ্যাটম (Atom অর্থ indivisible বা অবিভাজ্য)। প্রায় একই সময়ে ভারতীয় দার্শনিক কোনাডা 'অণুর' ধারণা প্রকাশ করেছিলেন যা অ্যাটমের ধারণার অনুরূপ। কিন্তু এ ধারণাগুলোর কোনো পরীক্ষামূলক ভিত্তি ছিল না। তাছাড়া দার্শনিক অ্যারিস্টটল এ ধারণার বিরোধিতা করেন। তখন অ্যারিস্টটলসহ অন্য দার্শনিকেরা মনে করতেন সকল পদার্থ মাটি, আগুন, পানি ও বাতাস মিলে তৈরি হয়। ফলে অ্যাটমের ধারণা অনেক দিন পর্যন্ত মানুষ গ্রহণ করেনি।
Figure: চিত্র ১.০১: অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়ে, রবার্ট বয়েল, স্যার ফ্রান্সিস বেকন এবং জন ডালটন
বর্ণনা: চারজন বিজ্ঞানীর প্রতিকৃতি পাশাপাশি সাজানো; বাম থেকে ডানে চারটি প্রতিকৃতি দেখানো হয়েছে।
Chemistry শব্দের উৎপত্তি
মধ্যযুগে আরবের মুসলিম দার্শনিকগণ কপার, টিন, সিসা ইত্যাদি স্বল্পমূল্যের ধাতু থেকে সোনা তৈরি করতে চেষ্টা করেছিলেন। তাদের আরেকটি চেষ্টা ছিল এমন একটি মহৌষধ তৈরি করা, যা খেলে মানুষের আয়ু অনেক বেড়ে যাবে। এগুলোতে সফল হওয়ার জন্য তারা অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন। ফলে সোনা বানাতে বা মানুষের আয়ু বৃদ্ধিতে সফল না হলেও বিভিন্ন পদার্থ মিশিয়ে সোনার মতো দেখতে এমন অনেক পদার্থ তৈরি করেছিলেন। মূলত এগুলোই ছিল রসায়নের ইতিহাসে প্রথম পদ্ধতিগতভাবে রসায়নের চর্চা বা রসায়নের গবেষণা। মধ্যযুগীয় আরবের রসায়ন চর্চাকে আলকেমি (Alchemy) বলা হতো আর গবেষকদের বলা হতো আলকেমিস্ট (Alchemist)। আলকেমি শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ 'আল-কিমিয়া' থেকে। 'আল-কিমিয়া' শব্দটি আবার এসেছে 'কিমি' (Chemi বা Kimi) শব্দ থেকে। এই Chemi শব্দ থেকেই Chemistry শব্দের উৎপত্তি, যার বাংলা প্রতিশব্দ হলো রসায়ন।
আলকেমিস্ট জাবির-ইবনে-হাইয়ান সর্বপ্রথম গবেষণাগারে রসায়নের চর্চা করেন। তাই তাঁকে অনেক সময় রসায়নের জনক বলা হয়ে থাকে। জাবির-ইবনে-হাইয়ান বিশ্বাস করতেন সকল পদার্থ মাটি, পানি, আগুন আর বাতাস দিয়ে তৈরি। তিনি এসব নিয়ে গবেষণা করলেও রসায়নের প্রকৃত রহস্যগুলো তার কাছে পরিষ্কার ছিল না। তবে রসায়নের প্রকৃত রহস্য উদ্ভাবনে রসায়ন চর্চা প্রথম শুরু করেন অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়ে, রবার্ট বয়েল, স্যার ফ্রান্সিস বেকন এবং জন ডাল্টনসহ অন্যান্য বিজ্ঞানী। অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়েকে আধুনিক রসায়নের জনক বলা হয়।
Printed page 5
বিজ্ঞানের যে শাখায় পদার্থের গঠন, পদার্থের ধর্ম এবং পদার্থের পারস্পরিক রূপান্তর ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে রসায়ন বলে।
টেবিল ১.০১: দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন বিষয় রসায়নের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ
| বিষয়/ঘটনা | রসায়নের দৃষ্টিকোণে ঘটনার বিশ্লেষণ |
|---|---|
| কাঁচা আম টক কিন্তু পাকা আম মিষ্টি। | কাঁচা আমে বিভিন্ন ধরনের জৈব এসিড থাকে যেমন: সাক্সিনিক এসিড, ম্যালেয়িক এসিড প্রভৃতি থাকে, ফলে কাঁচা আম টক। কিন্তু আম যখন পাকে তখন এই এসিডগুলোর রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের সৃষ্টি হয়। তাই পাকা আম মিষ্টি। |
| কেরোসিন, প্রাকৃতিক গ্যাস ও মোম ইত্যাদির দহন। | কেরোসিন, প্রাকৃতিক গ্যাস, মোম এগুলোর মূল উপাদান হাইড্রোকার্বন। হাইড্রোকার্বন হচ্ছে কার্বন আর হাইড্রোজেনের যৌগ। তাই যখন এগুলোর দহন ঘটে তখন বাতাসের অক্সিজেনের সাথে এগুলোর বিক্রিয়া হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলো আর তাপশক্তির সৃষ্টি হয়। |
| পেটের এসিডিটির জন্য এন্টাসিড ওষুধ খাওয়া। | পাকস্থলীতে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিঃসরিত হলে পেটে এসিডিটির সমস্যা হয়। এন্টাসিডে থাকে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড। এ দুটি যৌগ এসিডকে প্রশমিত করে। |
এ ঘটনাগুলো থেকে সহজেই বুঝতে পারছো যে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন জিনিস রসায়নের সাথে সম্পর্কিত। কাজেই বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শাখার একটি হলো রসায়ন।
১.২ রসায়নের পরিধি বা ক্ষেত্রসমূহ (The Scope of Chemistry)
যেখানে পদার্থ আছে সেখানেই রসায়ন আছে। বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন গ্যাসীয় পদার্থ থাকে। বায়ুমণ্ডলে কিছু না কিছু রাসায়নিক পরিবর্তন অনবরত ঘটছে। আমরা যে মাটির উপরে বসবাস করছি সে মাটিতেও প্রতি মুহূর্তে ঘটে যাচ্ছে অসংখ্য পরিবর্তন। শুধু বর্তমান সময় কেন, সুদূর অতীতেও এইসব পরিবর্তন ঘটেছে। যখন এ পৃথিবীর প্রথম জন্ম হলো তখন পৃথিবী এমন ছিল না, পৃথিবী ছিল খুবই উত্তপ্ত। সেখানে কোনো বাতাস ছিল না, পানি ছিল না, ছিল না কোনো জীবের অস্তিত্ব। কোটি কোটি বছর ধরে ঘটেছে অসংখ্য রাসায়নিক পরিবর্তন। সৃষ্টি হয়েছে বায়ুমণ্ডল, সৃষ্টি হয়েছে পানি, সৃষ্টি হয়েছে হাজারো রকমের
Printed page 6
পদার্থ। এসব কিছুই পৃথিবীকে জীবজগতের জন্য বসবাসের উপযোগী করেছে। মানুষসহ বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদ তা ক্ষুদ্র অণুজীব (যেমন—ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা ইত্যাদি) হোক অথবা বৃহৎ উদ্ভিদ বা প্রাণীই হোক সকলের দেহই বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে তৈরি। প্রতিটি দেহ হলো এক-একটি বড় রাসায়নিক কারখানা। এখানে প্রতি মুহূর্তেই ঘটে চলেছে অসংখ্য রাসায়নিক বিক্রিয়া। সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষ বিভিন্ন পদার্থের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে তৈরি করে চলেছে আমাদের ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন সামগ্রী। যেমন— তুমি যে জামা-কাপড় পরছো, যে পেস্ট দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করছো, যে চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়াচ্ছ বা ত্বকে যে কসমেটিকস ব্যবহার করছো তা সবই রসায়নের অবদান। এছাড়া আমরা পরিষ্কারের কাজে সাবান, টয়লেট ক্লিনার, এবং জীবন রক্ষার জন্য ব্যবহার করছি বিভিন্ন ধরনের ওষুধসামগ্রী। আমাদের খাদ্য চাহিদাকে পূরণ করার জন্য ফসলের খেতে ব্যবহার করছি সার ও কীটনাশক। যানবাহনে ব্যবহার করছি পরিশোধিত পেট্রোল, ডিজেল—এসবই শিল্প ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদার্থের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। সত্যি কথা বলতে কি রসায়নের পরিধি এ ক্ষুদ্র পরিসরে লিখে শেষ করা যাবে না। ১.০২ টেবিলে রসায়নের কিছু অতি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রের উদাহরণ দেওয়া হলো—
টেবিল ১.০২: রসায়নের কিছু ক্ষেত্র
| বস্তু/পদার্থ | উপাদান | উৎস ও রাসায়নিক পরিবর্তন |
|---|---|---|
| বায়ু | প্রধানত নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন | আমরা শ্বাস নেওয়ার সময় যে বায়ু গ্রহণ করি সেই বায়ুর অক্সিজেন শরীরের ভেতরে বিয়োজিত (decomposed) খাদ্য উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করে শক্তি উৎপাদন করে। এ ক্ষেত্রে নাইট্রোজেন লঘুকরণের মাধ্যমে বিক্রিয়ার তীব্রতাকে নিয়ন্ত্রণ করে খাদ্য। |
| খাবারের পানি | পানিসহ বিভিন্ন খনিজ লবণ | জীবের শরীরের বেশির ভাগই পানি। শরীরের বিষাক্ত পদার্থ এ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে প্রস্রাব ও ঘামের সাহায্যে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। খাবারের পানিতে পানি ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের খনিজ লবণ যেমন—ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি ধাতুর লবণ থাকে, যা আমাদের শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী। শরীরে পানির স্বল্পতা (dehydration) হলে মানুষ মারা যেতে পারে। ওলাউঠা বা কলেরা রোগে মানুষের মৃত্যুর এটিই মূল কারণ। |
| সার | নাইট্রোজেন, ফসফরাস, | আমরা যেমন খাবার খাই, তেমনি উদ্ভিদেরও খাবারের প্রয়োজন হয়। উদ্ভিদের খাবারের প্রধান উপাদান হলো-নাইট্রোজেন, ফসফরাস ইত্যাদি। এগুলো উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে। তাছাড়া বিভিন্ন সারে এসব মৌলের যৌগ থাকে। |
Printed page 7
| ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম | তাই বিভিন্ন ধরনের সার উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি প্রদান করে। ফলে ফসলের উৎপাদন ভালো হয়। | |
| কাগজ | সেলুলোজ | কাগজের আবিষ্কার মানব সভ্যতার এক অনন্য অবদান। বাঁশ, আখের ছোবড়া ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে সেলুলোজ থাকে। কাগজ তৈরির কারখানায় এই সমস্ত বস্তুকে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণ করে কাগজ তৈরি করা হয়। |
Loading the rest of the chapter…
Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.
Trusted resources
Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.