Skip to content

Islamic Studies chapter 1: Aqaid

আকাইদ

  • Islamic Studies
  • Textbook pages 1-40
  • 1 source
  • 82,335 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Aqaid

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents86
  1. প্রথম অধ্যায়
  2. পরিচয়
  3. পাঠ ১
  4. ইসলাম (اَلْإِسْلَامُ)
  5. পরিচয়
  6. ইসলামের ভূমিকা
  7. ইসলাম শিক্ষার গুরুত্ব
  8. পাঠ ২
  9. ইমান (اَلْإِيمَانُ)
  10. পরিচয়
  11. ইমান ও ইসলামের সম্পর্ক
  12. ইমানের মৌলিক বিষয়সমূহ
  13. ১. আল্লাহ তায়ালার প্রতি বিশ্বাস
  14. ২. ফেরেশতাগণের প্রতি বিশ্বাস
  15. ৩. আসমানি কিতাবসমূহের প্রতি বিশ্বাস
  16. ৪. নবি-রাসুলগণের প্রতি বিশ্বাস
  17. ৫. আখিরাতে বিশ্বাস
  18. ৬. তাকদিরে বিশ্বাস
  19. পাঠ-৩
  20. মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে ইমানের গুরুত্ব
  21. পাঠ-৪
  22. তাওহিদ (اَلتَّوْحِيْدُ)
  23. পরিচয়
  24. তাওহিদের গুরুত্ব
  25. তাওহিদের প্রভাব
  26. পাঠ-৫
  27. আল্লাহ তায়ালার পরিচয় (مَعْرِفَةُ اللهِ تَعَالٰى)
  28. পাঠ-৬
  29. কুফর (اَلْكُفْرُ)
  30. পরিচয়
  31. কাফির
  32. কুফরের পরিণতি ও কুফল
  33. ক. অবাধ্যতা ও অকৃতজ্ঞতা
  34. খ. পাপাচার বৃদ্ধি
  35. গ. হতাশা সৃষ্টি
  36. ঘ. দুর্নীতির প্রসার
  37. ৬. আল্লাহ তায়ালার অসন্তুষ্টি
  38. চ. অনন্তকালের শাস্তি
  39. পাঠ-৭
  40. শিরক (اَلشِّرْكُ)
  41. পরিচয়
  42. শিরকের কুফল ও প্রতিকার
  43. পাঠ-৮
  44. নিফাক (اَلنِّفَاقُ)
  45. পরিচয়
  46. নিফাকের কুফল ও প্রতিকার
  47. পাঠ ৯
  48. রিসালাত (اَلرِّسَالَةُ)
  49. পরিচয়
  50. রিসালাতে বিশ্বাসের গুরুত্ব
  51. নবি-রাসুল প্রেরণের উদ্দেশ্য
  52. নবি-রাসুলগণের গুণাবলি
  53. নবুয়তের ধারা
  54. সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবি
  55. খতমে নবুয়তের অর্থ ও এতে বিশ্বাসের গুরুত্ব
  56. পাঠ ১০
  57. নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে রিসালাত ও নবুয়ত
  58. পাঠ ১১
  59. আসমানি কিতাব (اَلْكُتُبُ السَّمَاوِيَةُ)
  60. পরিচয়
  61. আসমানি কিতাবের বিষয়বস্তু
  62. প্রসিদ্ধ আসমানি কিতাবসমূহ
  63. আসমানি কিতাবে বিশ্বাসের গুরুত্ব
  64. সর্বশেষ আসমানি কিতাব 'আল-কুরআন'
  65. কুরআনের নামকরণ
  66. কুরআনের বৈশিষ্ট্য ও মাহাত্ম্য
  67. পাঠ ১২
  68. নৈতিক জীবন গঠনে আসমানি কিতাবের ভূমিকা
  69. পাঠ ১৩
  70. আখিরাত (الْآخِرَةُ)
  71. পরিচয়
  72. আখিরাতে বিশ্বাসের গুরুত্ব
  73. পাঠ ১৪
  74. আখিরাতের কয়েকটি স্তর
  75. ক. মৃত্যু (اَلْمَوْتُ)
  76. খ. কবর (اَلْقَبْرُ)
  77. গ. কিয়ামত (اَلْقِيَامَةُ)
  78. ঘ. হাশর (اَلْحَشْرُ)
  79. ঙ. মিযান (اَلْمِيْزَانُ)
  80. চ. সিরাত (اَلصِّرَاطُ)
  81. ছ. শাফাআত (اَلشَّفَاعَةُ)
  82. জ. জান্নাত (اَلْجَنَّةُ)
  83. ঝ. জাহান্নাম (اَلْجَهَنَّمُ)
  84. পাঠ ১৫
  85. সৎ ও নৈতিকজীবন গঠনে আখিরাতে বিশ্বাসের ভূমিকা
  86. নমুনা প্রশ্ন

Printed page 1

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এতে বিশ্বজগতের সৃষ্টি, ধ্বংস, ইহকালের সব প্রয়োজনীয় বিষয়, মৃত্যু, মৃত্যুর পরবর্তী জীবন সবকিছুই সুন্দরভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। মানবজীবনের এমন কোনো দিক নেই যা ইসলামে আলোচনা করা হয়নি। ইসলাম সম্পর্কে বিস্তৃত জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে এ বিষয়গুলো আমরা জানতে পারব। এজন্য ইসলাম-শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। ইসলাম শিক্ষার পরিসর অত্যন্ত ব্যাপক হওয়ায় একটি পুস্তক বা একটি শ্রেণিতে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় লাভ করা খুবই দুরূহ। এ শ্রেণিতে আকাইদ ও নৈতিক জীবন, শরিয়তের উৎস, ইবাদত, আখলাক ও আদর্শ জীবনচরিত শিরোনামে পাঁচটি অধ্যায়ে ইসলামের সুন্দর আদর্শ ও শিক্ষাসমূহ সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো।

প্রথম অধ্যায়

আকাইদ (اَلْعَقَائِدُ)

পরিচয়

আকাইদ শব্দটি আকিদা (عَقِيْدَةٌ) শব্দের বহুবচন। আকাইদ অর্থ বিশ্বাসমালা। ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসকেই আকাইদ বলা হয়। ইসলাম আল্লাহ তায়ালার মনোনীত একমাত্র দীন বা জীবনব্যবস্থা। এর দুটি দিক রয়েছে। যথা- বিশ্বাসগত দিক ও আচরণগত বা প্রায়োগিক দিক। ইসলামের বিশ্বাসগত দিকের নামই হলো আকাইদ। আল্লাহ তায়ালা, নবি-রাসুল, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, পরকাল, জান্নাত-জাহান্নাম ইত্যাদি আকাইদের অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়গুলো কুরআন ও হাদিস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও প্রমাণিত। মুসলিম হতে হলে সবাইকে এ বিষয়গুলোর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে হয়। এরপর নামায, রোযা, হজ, যাকাত ইত্যাদি প্রায়োগিক দিক তথা ইবাদত পালন করতে হয়। বস্তুত আকাইদের বিষয়গুলোর উপর বিশ্বাসের মাধ্যমেই মানুষ ইসলামে প্রবেশ করে। এজন্য ইসলাম সম্পর্কে আলোচনার শুরুতেই আকাইদ বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। এ অধ্যায়ে আমরা সংক্ষেপে আকাইদ বা ইসলামি বিশ্বাসমালার কতিপয় মৌলিক বিষয় সম্পর্কে জানব।

এ অধ্যায় শেষে আমরা -

  • ইসলামের পরিচয় ও ইসলাম শিক্ষা পাঠের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • ইমান ও ইসলামের সম্পর্ক এবং ইমানের মৌলিক ছয়টি বিষয়ের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের প্রতি আস্থা স্থাপনে ও অনুশীলনে উদ্বুদ্ধ হব;
  • মহান আল্লাহর পরিচয় ও তাওহিদে বিশ্বাসের প্রভাব বর্ণনা করতে পারব;
  • তাওহিদের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করতে পারব;
  • কুফর, শিরক ও নিফাকের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব এবং এগুলোর পরিণতি জানতে পারব;
  • বাস্তবজীবনে কুফর, শিরক ও নিফাক পরিহার করে চলতে পারব;
  • মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে ইমানের গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব;

Printed page 2

  • রিসালাত ও নবুয়তের ধারণা এবং নবি-রাসুল প্রেরণের উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে পারব;
  • নবি-রাসুলগণের গুণাবলি, তাঁদের আগমনের ধারা, নবি-রাসুলের প্রতি বিশ্বাস ও তাঁদের অনুসরণ করার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • খতমে নবুয়তের ধারণা, সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবি হিসেবে হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর উপর বিশ্বাস স্থাপনের গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব;
  • নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে রিসালাত ও নবুয়তের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • রিসালাতের প্রতি বিশ্বাস এবং এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য উপলব্ধি করে নিজের জীবনে রিসালাতের শিক্ষা বাস্তবায়নে আগ্রহী হব;
  • আসমানি কিতাবের পরিচয় ও তৎপ্রতি বিশ্বাসের গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব;
  • নৈতিক জীবন গঠনে আসমানি কিতাবের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারব;
  • সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পরমতসহিষ্ণুতা ও উদার দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে আল-কুরআনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • আসমানি কিতাবসমূহ ও কুরআন মজিদের পরিচয় জানব, বৈশিষ্ট্য উপলব্ধি করে কুরআন পাঠ করতে উদ্বুদ্ধ হব;
  • আখিরাতের ধারণা ও বিশ্বাসের গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব;
  • আখিরাতের জীবনের স্তরসমূহ- মৃত্যু, কবর, কিয়ামত, হাশর, বিচার, মিযান, পুলসিরাত, শাফাআত সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;
  • জান্নাত ও জাহান্নামের পরিচয়, জান্নাত ও জাহান্নামের নাম, জান্নাত লাভের ও জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণের উপায় বর্ণনা করতে পারব;
  • নৈতিক জীবন গঠনে আখিরাতে বিশ্বাসের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করতে পারব;
  • আখিরাতে বিশ্বাস ও এর তাৎপর্য অনুধাবন করে পাপমুক্ত, সৎকর্মশীল, নীতিবান, মানবহিতৈষী ব্যক্তি হিসেবে জীবন গঠনে অনুপ্রাণিত হব।

পাঠ ১

ইসলাম (اَلْإِسْلَامُ)

পরিচয়

ইসলাম (اَلْإِسْلَامُ) আরবি শব্দ। এর অভিধানিক অর্থ হলো আনুগত্য করা, আত্মসমর্পণ করা, শান্তির পথে চলা ইত্যাদি। ব্যবহারিক অর্থে আল্লাহ তায়ালা ও রাসুল (স.)-এর আনুগত্য করাকে ইসলাম বলে।

শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহ তায়ালার প্রতি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস স্থাপন করে তার নিকট পরিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করা, বিনা দ্বিধায় তার যাবতীয় আদেশ-নিষেধের আনুগত্য করা ও হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর দেখানো পথ অনুসারে জীবনযাপন করাকে ইসলাম বলা হয়।

Printed page 3

একটি হাদিসে মহানবি (স.) সুন্দরভাবে ইসলামের মূল পরিচয় তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন-

اَلْإِسْلَامُ اَنْ تَشْهَدَ اَنْ لَّا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَاَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللهِ وَتُقِيْمَ الصَّلٰوةَ وَتُؤْتِيَ الزَّكٰوةَ وَتَصُوْمَ رَمَضَانَ وَتَحُجَّ الْبَيْتَ اِنِ اسْتَطَعْتَ اِلَيْهِ سَبِيْلًا

অর্থ: ইসলাম হলো- তুমি এ কথার সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই আর মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর রাসুল। সালাত আদায় করবে, যাকাত প্রদান করবে, রমযানের রোযা পালন করবে এবং সামর্থ্য থাকলে বাইতুল্লাহর হজ আদায় করবে (বুখারি ও মুসলিম)।

আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির হিদায়াতের জন্য যুগে যুগে বহু আদেশ-নিষেধ, বিধি-বিধান প্রেরণ করেছেন। এসব আদেশ-নিষেধ শরিয়ত হিসেবে প্রদান করেছেন। শরিয়তের সর্বশেষ ও পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো ইসলাম। এটি হলো মানবজাতির জন্য নির্দেশিত সর্বশেষ ও সর্বোত্তম জীবন বিধান। আল্লাহ তায়ালা এ সম্পর্কে বলেন-

اِنَّ الدِّيْنَ عِنْدَ اللهِ الْإِسْلَامُ

অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট ইসলামই একমাত্র মনোনীত জীবনব্যবস্থা (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৯)।

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন-

وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِيْنًا فَلَنْ يُّقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْاٰخِرَةِ مِنَ الْخٰسِرِيْنَ

অর্থ: যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দীন তালাশ করে, তা কখনও তার নিকট থেকে গ্রহণ করা হবেনা। আর আখিরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৮৫)।

অতএব যিনি ইসলাম অনুসারে জীবন পরিচালনা করেন তাকে বলা হয় মুসলিম বা মুসলমান।

ইসলামের ভূমিকা

ইসলাম হলো আল্লাহ তায়ালার প্রবর্তিত ধর্ম বা পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। এটি মানবজাতির জন্য আল্লাহ তায়ালার একটি বিশেষ নিয়ামত। মানবজীবনের সকল বিষয় ও সমস্যার পরিপূর্ণ সমাধানের দিকনির্দেশনা এতে দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,

اَلْيَوْمَ اَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ وَاَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِيْ وَرَضِيْتُ لَكُمُ الْاِسْلَامَ دِيْنًا

অর্থ: আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম; আর তোমাদের উপর আমার নিয়ামতকে সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য জীবনব্যবস্থা হিসেবে মনোনীত করলাম (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত ৩)।

মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সকল কাজকর্মের যথাযথ দিকনির্দেশনা ইসলামে বিদ্যমান। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সকল বিষয়ই ইসলামে যথাযথভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এমনকি মানুষের মৃত্যুর পরবর্তী জীবন বা পরকালের অবস্থার বর্ণনাও ইসলামে রয়েছে। সুতরাং সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে জীবন পরিচালনার জন্য ইসলামের বিকল্প নেই।

ইসলাম শব্দটি سِلْمٌ (সিলমুন) মূলধাতু হতে নির্গত, সিলমুন অর্থ শান্তি। ইসলাম মানুষকে শান্তির পথে পরিচালনা করে। ইসলামি বিধি-বিধান মেনে চললে মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতে পরিপূর্ণ শান্তিময় জীবন লাভ করতে পারে। এজন্য ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলা হয়।

Printed page 4

ইসলাম সর্বজনীন জীবনবিধান। এটি কোনো কাল, অঞ্চল বা জাতির জন্য সীমাবদ্ধ নয়। অন্যান্য ধর্মের নামকরণ সে সব ধর্মের প্রবর্তক, প্রচারক, অনুসারী কিংবা জাতির নামে করা হয়েছে। কিন্তু ইসলাম সর্বজনীন জীবনবিধান হওয়ার কারণে এর নামকরণ কারও নামে করা হয়নি। বরং মহান আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্যের মাধ্যমে শান্তির পথে জীবন পরিচালনা করার উদ্দেশ্যে এর নামকরণ করা হয়েছে ইসলাম।

ইসলাম শিক্ষার গুরুত্ব

ইসলাম শিক্ষা হলো ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। কোনো কিছু বাস্তবায়ন করতে হলে প্রথমে সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে হয়। যেমন সাঁতার কাটতে হলে প্রথমে সাঁতার কী, কীভাবে সাঁতার কাটতে হয় ইত্যাদি শিখতে হয়। গাড়ি চালাতে হলে গাড়ি ও গাড়ি চালনা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হয়। ঠিক তেমনি ইসলাম অনুযায়ী জীবন পরিচালনার জন্য ইসলাম সম্পর্কে প্রথমে জ্ঞান অর্জন করতে হয়। আর এর প্রধান মাধ্যম হলো ইসলাম শিক্ষা।

ইসলাম শিক্ষার মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তায়ালার ইবাদত ও আনুগত্য শিখতে পারি। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চলাফেরা, উঠাবসা কীভাবে করতে হবে তা জানতে পারি। সততা, ন্যায়পরায়ণতা, দয়া, ক্ষমা, বিনয়, নম্রতা ইত্যাদি গুণের অনুশীলন করতে পারি। লোভ, হিংসা, মিথ্যাচার, অহংকার, পরনিন্দা ইত্যাদি খারাপ অভ্যাস পরিহার করে উত্তম চরিত্রের অধিকারী হতে পারি। সাম্য, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব, সহিষ্ণুতা, ধৈর্য, সহনশীলতা, পারস্পরিক সহযোগিতা, সহানুভূতি ইত্যাদির মাধ্যমে সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানার্জন করতে পারি। পরকালীন জীবনে জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির উপায় জানতে পারি। এককথায়, ইসলাম শিক্ষার মাধ্যমে আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে শান্তি ও সফলতা লাভের দিকনির্দেশনা অর্জন করতে পারি। তাই, ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের গুরুত্ব ও প্রভাব শুধু অন্যসব বিষয়ের মত পার্থিব জীবনে সীমাবদ্ধ নয়। অর্থাৎ সকল বিষয়ের চেয়ে এর গুরুত্ব ব্যাপক ও গভীর,যা সবার জন্য আবশ্যক, তিনি যে পেশারই হোন না কেন।

কাজ : ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়-শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে কুরআনের একটি আয়াত অর্থসহ লিখে দেখাবে এবং মুখস্থ শোনাবে।

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.