Skip to content

Islamic Studies chapter 2: Sources of Islamic Shariah

ইসলামি শরিয়তের উৎস

  • Islamic Studies
  • Textbook pages 41-96
  • 1 source
  • 106,383 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Sources of Islamic Shariah

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents136
  1. পাঠ ১
  2. শরিয়ত (اَلشَّرِيعَةُ)
  3. পাঠ ২
  4. শরিয়তের প্রথম উৎস : আল-কুরআন
  5. পাঠ ৩
  6. আল-কুরআন সংরক্ষণ ও সংকলন
  7. পাঠ ৪
  8. মাক্কি ও মাদানি সূরা
  9. মাক্কি সূরা
  10. মাক্কি সূরার বৈশিষ্ট্য
  11. মাদানি সূরা
  12. মাদানি সূরার বৈশিষ্ট্য
  13. পাঠ ৫
  14. তিলাওয়াত : গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য
  15. শানে নুযুল
  16. অর্থ ও পটভূমিসহ আল-কুরআনের কতিপয় সূরা
  17. পাঠ ৬
  18. সূরা আশ-শামস (سُوْرَةُ الشَّمْسِ)
  19. পরিচয়
  20. শব্দার্থ
  21. অনুবাদ
  22. ব্যাখ্যা
  23. শিক্ষা
  24. পাঠ ৭
  25. সূরা আদ-দুহা (سُوْرَةُ الضُّحٰى)
  26. পরিচয়
  27. শানে নুযুল
  28. শব্দার্থ
  29. অনুবাদ
  30. ব্যাখ্যা
  31. শিক্ষা
  32. সূরা আল-ইনশিরাহ (سُورَةُ الْإِنْشِرَاحِ)
  33. পরিচয়
  34. শানে নুযুল
  35. শব্দার্থ
  36. অনুবাদ
  37. ব্যাখ্যা
  38. শিক্ষা
  39. পাঠ ৯
  40. সূরা আত-তীন (سُوْرَةُ التِّيْنِ)
  41. পরিচয়
  42. শানে নুযুল
  43. শব্দার্থ
  44. অনুবাদ
  45. ব্যাখ্যা
  46. শিক্ষা
  47. পাঠ ১০
  48. সূরা আল-মাউন (سُورَةُ الْمَاعُونِ)
  49. পরিচয়
  50. অনুবাদ
  51. ব্যাখ্যা
  52. শিক্ষা
  53. পাঠ ১১
  54. শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস : সুন্নাহ (الْمَصْدَرُ الثَّانِي لِلتَّشْرِيعِ: السُّنَّةُ)
  55. আল-হাদিস
  56. প্রকারভেদ
  57. ক. কওলি হাদিস
  58. খ. ফি'লি হাদিস
  59. গ. তাকরিরি হাদিস
  60. ক. মারফু হাদিস
  61. খ. মাওকুফ হাদিস
  62. গ. মাকতু হাদিস
  63. হাদিস সংরক্ষণ ও সংকলন
  64. হাদিসের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
  65. মহানবি (স.)-এর ১০টি হাদিস
  66. পাঠ ১২
  67. হাদিস ১
  68. শব্দার্থ
  69. ব্যাখ্যা
  70. শিক্ষা
  71. হাদিস ২
  72. ব্যাখ্যা
  73. শিক্ষা
  74. হাদিস ৩
  75. ব্যাখ্যা
  76. শিক্ষা
  77. হাদিস ৪
  78. ব্যাখ্যা
  79. শিক্ষা
  80. পাঠ ১৬
  81. হাদিস ৫
  82. শব্দার্থ
  83. ব্যাখ্যা
  84. শিক্ষা
  85. পাঠ ১৭
  86. হাদিস ৬
  87. শব্দার্থ
  88. ব্যাখ্যা
  89. শিক্ষা
  90. পাঠ ১৮
  91. হাদিস ৭
  92. শব্দার্থ
  93. ব্যাখ্যা
  94. শিক্ষা
  95. পাঠ ১৯
  96. হাদিস ৮
  97. শব্দার্থ
  98. ব্যাখ্যা
  99. শিক্ষা
  100. পাঠ ২০
  101. হাদিস ৯
  102. শব্দার্থ
  103. ব্যাখ্যা
  104. শিক্ষা
  105. পাঠ ২১
  106. হাদিস ১০
  107. শব্দার্থ
  108. ব্যাখ্যা
  109. শিক্ষা
  110. শরিয়তের তৃতীয় উৎস : আল-ইজমা
  111. পরিচয়
  112. ইজমার উৎপত্তি
  113. ইজমার হুকুম ও কার্যকারিতা
  114. ইজমার গুরুত্ব ও বৈধতা
  115. শরিয়তের চতুর্থ উৎস : আল-কিয়াস
  116. পরিচয়
  117. কিয়াসের গুরুত্ব
  118. কিয়াসের নীতিমালা
  119. শরিয়তের আহকাম সংক্রান্ত পরিভাষা
  120. ফরজ
  121. ১. ফরজে আইন
  122. ২. ফরজে কিফায়া
  123. ওয়াজিব
  124. সুন্নত
  125. ১. সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ
  126. ২. সুন্নতে যায়িদাহ
  127. মুস্তাহাব
  128. মুবাহ
  129. হালাল-হারাম
  130. হালাল
  131. হারাম
  132. হালাল-হারামের সংখ্যা
  133. মানবজীবনে হালালের প্রভাব
  134. মানবজীবনে হারামের প্রভাব
  135. নমুনা প্রশ্ন
  136. বহুনির্বাচনি

Printed page 41

দ্বিতীয় অধ্যায়

ইসলামি শরিয়তের উৎস

(مَصْدَرُ الشَّرِيعَةِ الْإِسْلَامِيَّةِ)

ইসলাম শুধু একটি ধর্মই নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এটি সর্বজনীন ও সর্বকালীন বিধি-বিধানের সমষ্টি। বিশ্বাসগত বিষয়গুলোর পাশাপাশি মানবজীবনের আচরণগত সমস্ত দিকও ইসলামে আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির সার্বিক কল্যাণের জন্য নানা বিধি-বিধান ও আচার-আচরণগত দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। মহান আল্লাহ প্রদত্ত এসব বিধি-বিধানকেই শরিয়ত বলা হয়। আল্লাহ তায়ালা ও মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) -এর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা, সকল কাজে তাঁদের আনুগত্য করা, শরিয়তের অন্যতম দাবি। এগুলোর পরিপূর্ণ আনুগত্য ও অনুসরণের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতের সার্বিক সফলতা লাভ করা যায়। এ অধ্যায়ে আমরা ইসলামি শরিয়তের পরিচয় ও গুরুত্ব সম্পর্কে জানব। পাশাপাশি শরিয়তের উৎসগুলো সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা লাভ করব।

এ অধ্যায় শেষে আমরা–

  • শরিয়ত ও শরিয়তের উৎসের ধারণা এবং প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করতে পারব;
  • কুরআন ও হাদিসের সংরক্ষণ ও সংকলনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বর্ণনা করতে পারব;
  • মাক্কি ও মাদানি সূরার সংখ্যা ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে পারব;
  • কুরআন তিলাওয়াতের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে পারব;
  • নির্বাচিত সূরাগুলো শুদ্ধভাবে মুখস্থ বলতে পারব;
  • নির্বাচিত সূরাগুলোর অর্থ ও পটভূমিসহ (শানে নুযুল) শিক্ষা বর্ণনা করতে পারব;
  • কুরআনের নির্বাচিত সূরাগুলোর শিক্ষা নিজ জীবনে প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ হব;
  • নির্বাচিত দশটি হাদিসের অর্থ ও শিক্ষা বর্ণনা করতে পারব;
  • ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা অর্জনের ক্ষেত্রে হাদিসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • নির্বাচিত হাদিসসমূহের শিক্ষার আলোকে মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন জীবন গঠনে অনুপ্রাণিত হব;
  • ইজমা এর পরিচয় ও উৎপত্তি সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;
  • কিয়াস এর ধরন বর্ণনা করতে পারব;
  • শরিয়তের বিভিন্ন পরিভাষা সম্পর্কে আলোচনা করতে পারব।

পাঠ ১

শরিয়ত (اَلشَّرِيعَةُ)

পরিচয়

শরিয়ত আরবি শব্দ। এর অর্থ পথ, রাস্তা। এটি জীবনপদ্ধতি, আইন-কানুন, বিধি-বিধান অর্থেও ব্যবহৃত হয়। ব্যাপক অর্থে শরিয়ত হলো এমন সুদৃঢ় ও সুস্পষ্ট পথ, যা অনুসরণ করলে মানুষ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নিজ

Printed page 42

গন্তব্যে পৌছতে পারে। ইসলামি পরিভাষায়, ইসলামি কার্যনীতি বা জীবনপদ্ধতিকে শরিয়ত বলা হয়। অন্যকথায়, ইসলামি আইন-কানুন বা বিধি-বিধানকে একত্রে শরিয়ত বলা হয়। অর্থাৎ মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (স.) যেসব আদেশ-নিষেধ ও পথনির্দেশনা মানুষকে জীবন পরিচালনার জন্য প্রদান করেছেন তাকে শরিয়ত বলে।

শরিয়ত সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন–

ثُمَّ جَعَلْنَاكَ عَلَىٰ شَرِيعَةٍ مِّنَ الْأَمْرِ فَاتَّبِعْهَا وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ ○

অর্থ : অতঃপর আমি আপনাকে শরিয়তের উপর প্রতিষ্ঠিত করেছি। সুতরাং আপনি তার অনুসরণ করুন। আর আপনি অজ্ঞদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করবেন না (সূরা আল-জাসিয়া, আয়াত ১৮)।

শরিয়তের বিষয়বস্তু ও পরিধি

শরিয়তের বিষয়বস্তু ও পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। এটি হলো মানবজাতির জন্য সার্বিক ও পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মানব জীবনের সকল বিষয়ের বিধি-বিধান ও নির্দেশনা এতে বিদ্যমান। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন–

اَلْيَوْمَ اَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ وَاَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِىْ وَرَضِيْتُ لَكُمُ الْاِسْلَامَ دِيْنًا ۠

অর্থ : আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের উপর আমার নিয়ামত পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত ৩)।

সুতরাং বোঝা গেল যে, ইসলামি শরিয়তের বিষয়বস্তু ও পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক। মুসলিম মনীষীগণ শরিয়তের বিষয়বস্তুকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন। যথা–

ক. আকিদা বা বিশ্বাসগত বিধি-বিধান।

খ. নৈতিকতা ও চরিত্র সংক্রান্ত রীতি-নীতি।

গ. বাস্তব কাজকর্ম সংক্রান্ত নিয়মকানুন।

বস্তুত মানুষের সবধরনের আচার-আচরণ, চিন্তা-চেতনা উপরিউক্ত তিনটি বিষয়ের আওতাভুক্ত। ফলে মানুষের আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় সকল কাজই শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত। শরিয়তের নির্দেশনার বাইরে কোনো কাজই নেই।

শরিয়তের গুরুত্ব

মানবজীবনে শরিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম। শরিয়ত হলো মহান আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রদত্ত আদেশ-নিষেধ ও বিধি- বিধান। সুতরাং শরিয়ত মেনে চললে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুল খুশি হন। অন্যদিকে, শরিয়ত অস্বীকার করা আল্লাহ তায়ালা ও তার রাসুলকে অস্বীকার করার নামান্তর। কোনো মুসলমান এরূপ কাজ করতে পারে না। এমনকি শরিয়তের এক অংশ পালন করা আর অন্য অংশ অস্বীকার করাও মারাত্মক

Printed page 43

পাপ (কুফর)। যে ব্যক্তি এরূপ করে তার জন্য কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশ বিশ্বাস কর, আর কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান কর? তোমাদের যারা এরূপ করে তাদের একমাত্র প্রতিফল হলো পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা-গঞ্জনা। আর কিয়ামতের দিন তারা কঠিনতম শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৮৫)।

শরিয়ত হলো জীবন পরিচালনার দিকনির্দেশনা। এর দ্বারা জীবনের নানা ক্ষেত্রে ইসলামি বিধি-নিষেধ জানা যায়।

কোনটি হালাল, কোনটি হারাম ইত্যাদি জানা যায়। ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, নফল ইত্যাদি বিষয়ের জ্ঞানও শরিয়তের শিক্ষার মাধ্যমেই লাভ করা যায়। উত্তম চরিত্র ও নৈতিকতার নানা শিক্ষাও শরিয়তে বিবৃত রয়েছে। সুতরাং সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে জীবন পরিচালনার জন্য শরিয়ত অপরিহার্য।

তাছাড়া শরিয়ত আমাদের ইবাদতের পদ্ধতি ও নিয়ম-কানুন শিক্ষা দেয়। সালাত, যাকাত, সাওম, হজ ইত্যাদি কীভাবে, কোথায়, কোন সময়ে আদায় করতে হয় তাও শরিয়তের বর্ণনার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি। আত্মিক পরিশুদ্ধি অর্জনের উপায়, পারিবারিক ও সামাজিক সম্প্রীতি ইত্যাদিও শরিয়তের আওতাভুক্ত। অতএব, মানুষের সার্বিক জীবনাচরণে শরিয়তের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শরিয়তের উৎসসমূহ

শরিয়ত হলো ইসলামি জীবনপদ্ধতি। এটি আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুলের আদেশ-নিষেধ ও দিকনির্দেশনার সমষ্টি। অতএব, শরিয়ত এর প্রধান উৎস দুটি। যথা- আল-কুরআন ও আল-হাদিস বা সুন্নাহ।

পরবর্তীতে কুরআন ও সুন্নাহ এর স্বীকৃতি ও নির্দেশনার ভিত্তিতে শরিয়তের আরও দুটি উৎস নির্ধারণ করা হয়। এগুলো হলো ইজমা ও কিয়াস। সুতরাং আমরা বলতে পারি- শরিয়ত এর উৎস চারটি। যথা–

১. আল-কুরআন (اَلْقُرْاٰنُ)

২. সুন্নাহ (اَلسُّنَّةُ)

৩. ইজমা (اَلْاِجْمَاعُ)

৪. কিয়াস (اَلْقِيَاسُ)

আমরা পর্যায়ক্রমে শরিয়তের এ চারটি উৎস সম্পর্কে জানব।

কাজ : ইসলামি শরিয়ত কেন প্রয়োজন? এতে কী কী কল্যাণ আছে? শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে একটি পরিচ্ছেদ রচনা করবে।

Printed page 44

পাঠ ২

শরিয়তের প্রথম উৎস : আল-কুরআন

(اَلْمَصْدَرُ الْأَوَّلُ لِلشَّرِيعَةِ: اَلْقُرْاٰنُ الْكَرِيمُ)

শরিয়তের সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান উৎস হলো আল-কুরআন। ইসলামি শরিয়তের সকল বিধি-বিধানের মূল উৎসই আল- কুরআন। এর উপরই ইসলামি শরিয়তের ভিত্তি ও কাঠামো প্রতিষ্ঠিত। আল-কুরআন শরিয়তের অকাট্য ও প্রামাণ্য দলিল। মানব জীবনের প্রয়োজনীয় সকল বিষয়ের সমাধানসূচক মূলনীতি ও ইঙ্গিত আল-কুরআনে বিদ্যমান। আল্লাহ তায়ালা বলেন–

وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِّكُلِّ شَيْءٍ

অর্থ : আর আমি আপনার প্রতি কিতাব নাজিল করেছি প্রত্যেক বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা স্বরূপ (সূরা আন-নাহল, আয়াতঃ ৮৯)।

আল-কুরআন আল্লাহ তায়ালার পবিত্র বাণী। এটি সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব। আল্লাহ তায়ালা হযরত জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর উপর এ কিতাব নাজিল করেন। এ কিতাব আরবি ভাষায় নাজিলকৃত। ইসলামি শরিয়তের প্রধান উৎস হিসেবে আল-কুরআনে মানবজাতির জীবন পরিচালনার সুস্পষ্ট মূলনীতি ও নির্দেশনা বিদ্যমান। আল্লাহ তায়ালা বলেন–

وَلَقَدْ صَرَّفْنَا لِلنَّاسِ فِي هٰذَا الْقُرْاٰنِ مِنْ كُلِّ مَثَلٍ

অর্থ : আর অবশ্যই আমি মানুষের জন্য এ কুরআনে বিভিন্ন উপমা বিশদভাবে বর্ণনা করেছি (সূরা বনি ইসরাঈল, আয়াত ৮৯)।

কুরআন মজিদ সহজ ও সাবলীল ভাষায় নাজিলকৃত। এতে কোনোরূপ অস্পষ্টতা, বক্রতা, কিংবা জটিলতা নেই। বরং এতে খুবই সুন্দর ও সরল ভাষায় নানা বিষয়ের বর্ণনা করা হয়েছে। অতি সাধারণ মানুষও এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। আল্লাহ তায়ালা বলেন–

فَاِنَّمَا يَسَّرْنٰهُ بِلِسَانِكَ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُوْنَ ○

অর্থ : আর আমি তো কুরআনকে আপনার ভাষায় সহজ করে দিয়েছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে (সূরা আদ-দুখান, আয়াত ৫৮)।

অবতরণ

আল-কুরআন আল্লাহ তায়ালার কালাম। এটি 'লাওহে মাহফুজ' বা সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন–

بَلْ هُوَ قُرْاٰنٌ مَّجِيْدٌ ۝ فِيْ لَوْحٍ مَّحْفُوْظٍ ۙ

অর্থ : বস্তুত এটি সম্মানিত কুরআন। সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ (সূরা আল-বুরুজ, আয়াত ২১-২২)।

Printed page 45

আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম কদরের রাতে গোটা কুরআন মজিদ লাওহে মাহফুজ থেকে 'বায়তুল ইযযাহ' নামক স্থানে নাজিল করেন। বায়তুল ইযযাহ হলো প্রথম আসমানের একটি বিশেষ স্থান।

মহানবি (স.) হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকা অবস্থায় মহান আল্লাহর নির্দেশে জিবরাইল (আ.) আল-কুরআনের সূরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত নিয়ে তথায় মহানবি (স.)-এর নিকট অবতরণ করেন। এটাই ছিল দুনিয়াতে আল-কুরআনের প্রথম নাজিলের ঘটনা। এরপর বিভিন্ন সময় ও প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে মহানবি (স.)-এর প্রতি কুরআন নাজিল হয়।

এভাবে মহানবি (স.)-এর জীবদ্দশায় মোট ২৩ বছরে সম্পূর্ণ কুরআন নাজিল হয়। এটি একসাথে নাজিল হয়নি। বরং অল্প অল্প করে প্রয়োজনানুসারে নাজিল হতো। কখনো ৫ আয়াত, কখনো ১০ আয়াত, কখনো আয়াতের অংশবিশেষ, আবার কখনো একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা একসাথে নাজিল হতো। আল্লাহ তায়ালা এ প্রসঙ্গে বলেন–

وَقُرْاٰنًا فَرَقْنٰهُ لِتَقْرَاَهُ عَلَى النَّاسِ عَلٰى مُكْثٍ وَّنَزَّلْنٰهُ تَنْزِيْلًا ○

অর্থ : আর আমি খণ্ড-খণ্ডভাবে কুরআন নাজিল করেছি যাতে আপনি তা মানুষের নিকট ক্রমে ক্রমে পাঠ করতে পারেন আর আমি তা ক্রমশ নাজিল করেছি (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত ১০৬)।

অন্যান্য আসমানি কিতাবের ন্যায় আল-কুরআন একসাথে নাজিল করা হয়নি। তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জিল ইত্যাদি একসাথে পূর্ণাঙ্গ আকারে নাজিল করা হয়েছিল। কিন্তু আল-কুরআন এর ব্যতিক্রম। এটি আল-কুরআনের বিশেষ মর্যাদার পরিচায়ক। মক্কার কাফিররা এ সম্পর্কে রাসুল (স.)-কে প্রশ্ন করলে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “কাফিররা বলে, তাঁর উপর সমগ্র কুরআন একবারে অবতীর্ণ হলো না কেন? আমি এভাবেই অবতীর্ণ করেছি আপনার হৃদয়কে তার দ্বারা মজবুত করার জন্য এবং আমি তা ক্রমে ক্রমে স্পষ্টভাবে আবৃত্তি করেছি ” (সূরা আল-ফুরকান, আয়াত ৩২)।

আল-কুরআন আল্লাহ তায়ালার বাণী। জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা অল্প অল্প করে মহানবি (স.)-এর ২৩ বছরের নবুওয়াতি জীবনে পূর্ণরূপে নাজিল করেন।

কাজ : কুরআন একত্রে নাজিল হলে কী হতো, শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে ব্যাখ্যা উপস্থাপন করবে।

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.