Skip to content

Islamic Studies chapter 4: Akhlaq

আখলাক

  • Islamic Studies
  • Textbook pages 125-172
  • 1 source
  • 105,656 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Akhlaq

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents86
  1. আখলাক (الْأَخْلَاقُ)
  2. পাঠ ১
  3. আখলাকে হামিদাহ (الْأَخْلَاقُ الْحَمِيدَةُ)
  4. পরিচয়
  5. গুরুত্ব
  6. পাঠ ২
  7. তাকওয়া (التَّقْوَى)
  8. পরিচয়
  9. গুরুত্ব
  10. নৈতিক জীবনে তাকওয়ার প্রভাব
  11. পাঠ ৩
  12. ওয়াদা পালন (الْوَفَاءُ بِالْوَعْدِ)
  13. পরিচয়
  14. গুরুত্ব
  15. পাঠ ৪
  16. সত্যবাদিতা (الصِّدْقُ)
  17. পরিচয়
  18. গুরুত্ব
  19. প্রভাব ও পরিণতি
  20. পাঠ ৫
  21. শালীনতা (الحَيَاءُ)
  22. শালীনতার গুরুত্ব
  23. পাঠ ৬
  24. আমানত (الْأَمَانَةُ)
  25. পরিচয়
  26. আমানত রক্ষার গুরুত্ব
  27. আমানতের ক্ষেত্র
  28. পাঠ ৭
  29. মানবসেবা (خِدْمَةُ الإِنسَانِيَّةِ)
  30. পাঠ ৮
  31. ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি (الأُخُوَّةُ وَالتَّعَايُشُ الْمُجْتَمَعِيُّ)
  32. পাঠ ৯
  33. নারীর প্রতি সম্মানবোধ (اِحْتِرَامُ الْمَرْأَةِ)
  34. গুরুত্ব ও তাৎপর্য
  35. ইসলামে নারীর মর্যাদা ও সম্মান
  36. নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের উপায়
  37. পাঠ ১০
  38. স্বদেশপ্রেম (حُبُّ الْوَطَنِ)
  39. পাঠ ১১
  40. কর্তব্যপরায়ণতা (الإِخْلَاصُ فِي الأَدَاءِ)
  41. কর্তব্যপরায়ণতার নানা দিক
  42. পাঠ ১২
  43. পরিচ্ছন্নতা (اَلنَّظَافَةُ)
  44. দৈহিক পরিচ্ছন্নতা
  45. পোশাকের পরিচ্ছন্নতা
  46. পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা
  47. পাঠ ১৩
  48. মিতব্যয়িতা (الاِقْتِصَادُ فِي الاِنْفَاقِ)
  49. আত্মশুদ্ধি (تَزْكِيَةُ النَّفْسِ)
  50. আত্মশুদ্ধির প্রয়োজনীয়তা
  51. আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব
  52. আত্মশুদ্ধির উপায়
  53. সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ
  54. গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
  55. আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার ত্যাগের পরিণতি
  56. আখলাকে যামিমাহ (الأَخْلَاقُ الذَّمِيْمَةُ)
  57. পরিচয়
  58. কুফল বা অপকারিতা
  59. প্রতারণা (الْغَشُّ)
  60. পরিচয়
  61. প্রতারণা বর্জনের গুরুত্ব
  62. গিবত (الْغِيبَةُ)
  63. পরিচয়
  64. গিবতের স্বরূপ
  65. গিবতের কুফল ও পরিণাম
  66. পাঠ ১৯
  67. হিংসা (الْحَسَدُ)
  68. হিংসার কুফল
  69. হিংসার ব্যাপারে ইসলামের বিধান
  70. পাঠ ২০
  71. ফিতনা-ফাসাদ (الْفِتْنَةُ وَالْفَسَادُ)
  72. পরিচয়
  73. কুফল
  74. ফিতনা-ফাসাদ সম্পর্কে ইসলামি বিধান
  75. পাঠ ২১
  76. কর্মবিমুখতা (الْكَسَلُ)
  77. কুফল
  78. কর্মবিমুখতা পরিহারের গুরুত্ব
  79. পাঠ ২২
  80. সুদ ও ঘুষ (الرِّبَا وَالرِّشْوَةُ)
  81. সুদ
  82. ঘুষ
  83. কুফল ও পরিণতি
  84. ইসলামের আলোকে সুদ-ঘুষের বিধান
  85. নমুনা প্রশ্ন
  86. সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন

Printed page 125

চতুর্থ অধ্যায়

আখলাক (الْأَخْلَاقُ)

আখলাক আরবি শব্দ। এটি বহুবচন। এর একবচন খুলুকুন (خُلُقٌ)। এর আভিধানিক অর্থ- স্বভাব, চরিত্র ইত্যাদি। শব্দগত বিবেচনায় আখলাক বলতে সচ্চরিত্র ও দুশ্চরিত্র উভয়কেই বোঝায়। তবে প্রচলিত অর্থে আখলাক শুধু সচ্চরিত্রকেই বুঝায়। যেমন ভালো চরিত্রের মানুষকে আমরা চরিত্রবান বলি। আর মন্দ চরিত্রের মানুষকে বলি চরিত্রহীন। ব্যবহারিক বিবেচনায় আখলাক দ্বারা ভালো ও উত্তম চরিত্রকে বোঝানো হয়।

মূলত আখলাক হলো মানুষের স্বভাবসমূহের সমন্বিত রূপ। মানুষের আচার-আচরণ, চিন্তা-ভাবনা, মানসিকতা, কর্মপন্থা সবকিছুকে একত্রে চরিত্র বা আখলাক বলা হয়। তা ভালো কিংবা মন্দ হতে পারে। এককথায়, মানুষের সকল কাজ ও নীতির সমষ্টিকেই আখলাক বলা হয়।

আখলাক দু'প্রকার। যথা-

ক. আখলাকে হামিদাহ (اَخْلَاقٌ حَمِيْدَةٌ)

খ. আখলাকে যামিমাহ (اَخْلَاقٌ ذَمِيْمَةٌ)

আখলাকে হামিদাহ হলো মানুষের প্রশংসনীয় গুণাবলি আর আখলাকে যামিমাহ মানব স্বভাবের মন্দ অভ্যাসগুলোর সামষ্টিক নাম। আমরা আলোচ্য অধ্যায়ে এ দু'প্রকার আখলাকের পরিচয়, গুরুত্ব, কুফল এবং কতিপয় ভালো ও মন্দ চরিত্র সম্পর্কে জানব।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • আখলাকের ধারণা, প্রকার ও গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব;
  • কতিপয় সদাচরণ (আখলাকে হামিদাহ) এর পরিচয় ও গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব;
  • তাকওয়ার ধারণা ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • ওয়াদা পালনের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • সত্যবাদিতার ধারণা ও গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব;
  • শালীনতার ধারণা ও গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব;
  • আমানতদারির পরিচয়, আমানত রক্ষার উপায় ও আমানতের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • ইসলামে মানবসেবার ধারণা ও প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করতে পারব;
  • ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রয়োজনীয়তা ও সুফল বর্ণনা করতে পারব;
  • ইসলামের দৃষ্টিতে নারীর মর্যাদা ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • স্বদেশপ্রেমের গুরুত্ব ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • কর্তব্যপরায়ণতার গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব;
  • ইসলামে পরিচ্ছন্নতার ধারণা, গুরুত্ব ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • মিতব্যয়িতার ধারণা, প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব;

Printed page 126

  • আত্মশুদ্ধির ধারণা ও গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব;
  • সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • কতিপয় অসদাচরণ (আখলাকে যামিমাহ) এর পরিচয় ও এর কুফল বর্ণনা করতে পারব;
  • প্রতারণার ধারণা ও এর কুফল ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • গিবত ও পরনিন্দার ধারণা ও এর কুফল ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • হিংসা-বিদ্বেষের ধারণা ও এর কুফল বর্ণনা করতে পারব;
  • ফিতনা-ফাসাদের পরিচয় ও অপকারিতা ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • কর্মবিমুখতা ও অলসতার কুফল বর্ণনা করতে পারব;
  • সুদ ও ঘুষের কুফল ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • নিজ জীবনে অসদাচরণ পরিহার ও সদাচরণ অনুশীলনে উদ্বুদ্ধ হব ।

পাঠ ১

আখলাকে হামিদাহ (الْأَخْلَاقُ الْحَمِيدَةُ)

পরিচয়

আখলাক অর্থ চরিত্র, স্বভাব। আর হামিদাহ অর্থ প্রশংসনীয়। সুতরাং আখলাকে হামিদাহ অর্থ প্রশংসনীয় চরিত্র, সচ্চরিত্র। ইসলামি পরিভাষায়, যেসব স্বভাব বা চরিত্র সমাজে প্রশংসনীয় ও সমাদৃত, আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুল (স.)-এর নিকট প্রিয় সেসব স্বভাব বা চরিত্রকে আখলাকে হামিদাহ বলা হয়।

এককথায়, মানব চরিত্রের সুন্দর, নির্মল ও মার্জিত গুণাবলিকে আখলাকে হামিদাহ বলা হয়। মানুষের সার্বিক আচার-আচরণ যখন শরিয়ত অনুসারে সুন্দর, সুষ্ঠু ও কল্যাণকর হয় তখন সে স্বভাব-চরিত্রকে বলা হয় আখলাকে হামিদাহ।

আখলাকে হামিদাহকে আখলাকে হাসানাহ বা হুসনুল খুলুকও বলা হয়। আখলাকে হাসানাহ অর্থ সুন্দর চরিত্র। মানব চরিত্রের উত্তম ও নৈতিক গুণাবলি আখলাকে হামিদাহ এর অন্তর্ভুক্ত। যেমন- সততা, সত্যবাদিতা, ওয়াদা পালন, মানব সেবা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, দয়া, ক্ষমা ইত্যাদি।

গুরুত্ব

আখলাকে হামিদাহ মানবীয় মৌলিক গুণ ও জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। এর দ্বারাই মানুষ পূর্ণমাত্রায় মনুষ্যত্বের স্তরে উপনীত হয়। মানবিকতা ও নৈতিকতার আদর্শ আখলাকে হামিদাহর মাধ্যমেই পরিপূর্ণতা লাভ করে। মানুষের ইহ ও পরকালীন সুখ, শান্তি উত্তম আখলাকের উপরই নির্ভরশীল। সচ্চরিত্রবান ব্যক্তি যেমন সমাজের চোখে ভালো তেমনি মহান আল্লাহর নিকটও প্রিয়। মহানবি (স.)-এর হাদিসে বলা হয়েছে-

Printed page 127

أَحَبُّ النَّاسِ إِلَى اللهِ أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا

অর্থ : আল্লাহ তায়ালার নিকট সেই লোকই অধিক প্রিয়, চরিত্রের বিচারে যে উত্তম (ইবনে হিব্বান)।

এ জন্য মানুষকে আখলাক শিক্ষা দেওয়াও নবি-রাসুলগণের অন্যতম দায়িত্ব ছিল। আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী। সব ধরনের সদ্‌গুণ তাঁর চরিত্রে পাওয়া যায়। স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রসঙ্গে বলেছেন-

وَإِنَّكَ لَعَلٰى خُلُقٍ عَظِيمٍ

অর্থ : আর নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী (সূরা আল-কালাম, আয়াত ৪)।

রাসুলুল্লাহ (স.) ঘোষণা করেছেন,

إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَمِّمَ مَكَارِمَ الْأَخْلَاقِ

অর্থ : উত্তম চারিত্রিক গুণাবলিকে পূর্ণতা দানের জন্যই আমি প্রেরিত হয়েছি (বায়হাকি, আল-আদাবুল মুফরাদ)।

রাসুলুল্লাহ (স.) নিজে যেমন উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন তেমনি মানবজাতিকে সচ্চরিত্র গঠনের শিক্ষা দিয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ মুমিন হওয়ার জন্য তিনি সৎ ও নৈতিক স্বভাব অনুশীলনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “মুমিনগণের মধ্যে সেই পূর্ণ ইমানের অধিকারী, যে তাদের মধ্যে চরিত্রের বিচারে সবচেয়ে উত্তম ।” (তিরমিযি)

প্রকৃতপক্ষে সচ্চরিত্র পরকালীন জীবনেও মানুষের কল্যাণের হাতিয়ার, মুক্তির উপায় হবে। উত্তম আচার-আচরণ মানুষকে পুণ্য বা সাওয়াব দান করে। মহানবি (স.) বলেছেন, الْبِرُّ حُسْنُ الْخُلُقِ

অর্থ : সুন্দর চরিত্রই পুণ্য (মুসলিম)।

প্রশংসনীয় আচরণ ও স্বভাব কিয়ামতের দিন মুমিনের পাল্লা ভারী করবে। একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, “নিশ্চয়ই (কিয়ামতের দিন) মিযানে সুন্দর চরিত্র অপেক্ষা ভারী বস্তু আর কিছুই থাকবে না ।” (তিরমিযি)

দুনিয়ার জীবনেও আখলাকে হামিদাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সচ্চরিত্রবান ব্যক্তিকে সমাজের সবাই ভালোবাসে, বিশ্বাস করে। সবাই তাঁকে শ্রদ্ধা করে, সম্মান দেখায় এবং তাঁর বিপদে-আপদে এগিয়ে আসে।

চরিত্রের কারণে তিনি সমাজে মর্যাদার উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত হন। মহানবি (স.) এ সম্পর্কে বলেছেন,

خِيَارُكُمْ أَحْسَنُكُمْ أَخْلَاقًا

অর্থ : তোমাদের মধ্যে উত্তম ঐ সকল ব্যক্তি, যারা তোমাদের মধ্যে চরিত্র বিচারে সুন্দরতম (বুখারি)।

সমাজের সকলে সচ্চরিত্রবান হলে সেখানে কোনোরূপ হিংসা-বিদ্বেষ, মারামারি, হানাহানি থাকে না। সমাজ সুখে-শান্তিতে ভরে ওঠে।

Printed page 128

সচ্চরিত্র আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ নিয়ামত। দুনিয়ায় আগত সকল নবি-রাসুলই উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। এ ছাড়াও পৃথিবীর স্মরণীয় ও বরণীয় মনীষীগণও উত্তম নৈতিক আদর্শ অনুশীলন করতেন। সচ্চরিত্রের মাধ্যমেই ইসলামের যাবতীয় সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। এজন্য ইসলামে আখলাকে হামিদাহ অর্জনের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

শিক্ষা : শিক্ষার্থীরা আখলাকে হামিদাহর গুরুত্ব সম্পর্কিত পাঠ্যবইয়ের আয়াত ও হাদিসসমূহ শিক্ষকের সহায়তায় অনুশীলন করবে এবং খাতায় লিখে দেখাবে।

পাঠ ২

তাকওয়া (التَّقْوَى)

পরিচয়

তাকওয়া শব্দের অর্থ বিরত থাকা, বেঁচে থাকা, ভয় করা, নিজেকে রক্ষা করা। ব্যবহারিক অর্থে পরহেজগারি, খোদাভীতি, আত্মশুদ্ধি ইত্যাদি বোঝায়। ইসলামি পরিভাষায়, আল্লাহ তায়ালার ভয়ে যাবতীয় অন্যায়, অত্যাচার ও পাপকাজ থেকে বিরত থাকাকে তাকওয়া বলা হয়। অন্যকথায়, সকল প্রকার পাপাচার থেকে নিজেকে রক্ষা করে কুরআন সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করাকে তাকওয়া বলা হয়। যিনি তাকওয়া অবলম্বন করেন তাঁকে বলা হয় মুত্তাকি।

মহান আল্লাহকে ভয় করার অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক। আল্লাহ তায়ালা আমাদের স্রষ্টা ও পালনকর্তা। তিনি আমাদের সবকিছু দেখেন, জানেন। তিনি শাস্তিদাতা ও মহাপরাক্রমশালী। হাশরের দিনে তিনি আমাদের সকল কাজের হিসাব নেবেন। অতঃপর পাপকাজের জন্য শাস্তি দেবেন। আল্লাহ-ভীতি হলো আল্লাহ তায়ালার সামনে জবাবদিহি করার ভয়। অতঃপর এরূপ অনুভূতি মনে ধারণ করে সকল পাপ থেকে বেঁচে থাকতে হয়। সকল প্রকার অন্যায়, অত্যাচার, অশ্লীল কথা-কাজ ও চিন্তাভাবনা থেকে বিরত থাকতে হয়। আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করলে এসব পাপ থেকে সহজেই বেঁচে থাকা যায়। ফলে মুত্তাকিগণ পরকালে জান্নাতে প্রবেশ করবেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হওয়ার ভয় করবে ও কুপ্রবৃত্তি থেকে বেঁচে থাকবে, তার স্থান হবে জান্নাত ।” (সূরা আন-নাযিআত, আয়াত ৪০-৪১)

গুরুত্ব

তাকওয়া একটি মহৎ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। মানবজীবনে তাকওয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। তাকওয়া মানুষকে ইহকালীন ও পরকালীন উভয় জীবনকেই সম্মান-মর্যাদা ও সফলতা দান করে। ইসলামি জীবন দর্শনে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান ব্যক্তি হলেন মুত্তাকিগণ। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللهِ أَتْقَاكُمْ

অর্থ : নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট সবচেয়ে সম্মানিত সেই ব্যক্তি যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাকওয়াবান (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১৩)।

Printed page 129

আল্লাহ তায়ালার নিকট তাকওয়ার মূল্য অত্যধিক। ধন-সম্পদ, শক্তি-ক্ষমতা, গাড়ি-বাড়ি থাকলেই মানুষ আল্লাহ তায়ালার নিকট মর্যাদা লাভ করতে পারে না। বরং যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করতে পারেন সেই আল্লাহ তায়ালার নিকট বেশি মর্যাদাবান। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে ভালোবাসেন। আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং বলেছেন-

اِنَّ اللّٰهَ يُحِبُّ الۡمُتَّقِيۡنَ ۙ

অর্থ : নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকিদের ভালোবাসেন (সূরা আত্-তাওবা, আয়াত ৪)।

পার্থিব জীবনে মুত্তাকিগণ আল্লাহ তায়ালার বহু নিয়ামত লাভ করে থাকেন। আল্লাহ তায়ালা তাকওয়াবানদের সর্বদা সাহায্য করেন। তাদেরকে পাপাচার থেকে রক্ষা করেন ও বরকতময় রিযিক দান করেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যে কেউ আল্লাহকে ভয় করে আল্লাহ তার পথ করে দেবেন এবং তাকে তার ধারণাতীত উৎস থেকে রিযিক দান করবেন” (সূরা আত্-তালাক, আয়াত ২-৩)।

পরকালেও তাকওয়াবানদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। আল্লাহ তায়ালা শেষ বিচারের দিন মুত্তাকিদের সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন এবং মহাসফলতা দান করবেন। আল-কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “হে মুমিনগণ! যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর (আল্লাহকে ভয় কর) তবে আল্লাহ তোমাদের ন্যায়-অন্যায় পার্থক্য করার শক্তি দেবেন, তোমাদের পাপ মোচন করবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ অতিশয় মঙ্গলময়” (সূরা আল-আনফাল, আয়াত ২৯)।

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন,

اِنَّ لِلْمُتَّقِيۡنَ مَفَازًا ۙ

অর্থ : নিশ্চয়ই মুত্তাকিগণের জন্য রয়েছে সফলতা (সূরা আন্-নাবা, আয়াত ৩১)।

প্রকৃতপক্ষে তাকওয়া মানব চরিত্রের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্বভাব। এর মাধ্যমে মানুষ সম্মান, মর্যাদা ও সফলতা লাভ করে।

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.