Skip to content

Islamic Studies chapter 5: Ideal Life Stories

আদর্শ জীবনচরিত

  • Islamic Studies
  • Textbook pages 173-200
  • 1 source
  • 61,750 characters of context

Textbook (verbatim transcription): Ideal Life Stories

Verbatim transcription of the printed NCTB textbook pages.

Contents87
  1. আদর্শ জীবনচরিত (السِّيرَةُ المِثَالِيَّةُ)
  2. পাঠ ১
  3. মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর সমকালীন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা
  4. সামাজিক অবস্থা
  5. সাংস্কৃতিক অবস্থা
  6. পাঠ ২
  7. মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর জন্ম, শৈশব ও কৈশোর
  8. জন্ম ও শৈশব
  9. কৈশোর
  10. পাঠ ৩
  11. হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর যৌবনকাল, নবুয়ত প্রাপ্তি ও ইসলাম প্রচার
  12. যৌবনকাল
  13. নবুয়ত প্রাপ্তি
  14. ইসলাম প্রচার
  15. পাঠ ৪
  16. হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাদানি জীবন
  17. মদিনা সনদ
  18. পাঠ ৫
  19. হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মক্কা বিজয় ও বিদায় হজ
  20. মক্কা বিজয়
  21. বিদায় হজ ও এর ভাষণ
  22. খুলাফায়ে রাশেদিনের জীবনাদর্শ
  23. পাঠ ৬
  24. হযরত আবু বকর (রা.)
  25. আল-কুরআন সংরক্ষণ
  26. পাঠ ৭
  27. হযরত উমর (রা.)
  28. ইসলাম গ্রহণ
  29. ন্যায় বিচারক
  30. চরিত্র
  31. পাঠ ৮
  32. হযরত উসমান (রা.)
  33. ইসলামের খেদমত
  34. কুরআন সংকলন
  35. পাঠ ৯
  36. হযরত আলি (রা.)
  37. বীরত্ব
  38. জ্ঞান সাধনা
  39. অনাড়ম্বর জীবনযাপন
  40. ইসলামের সেবা
  41. মুসলিম মনীষী
  42. পাঠ ১০
  43. ইমাম বুখারি (র.)
  44. জ্ঞানার্জন
  45. বুখারি শরিফ সংকলন
  46. বুখারা ত্যাগ
  47. স্মৃতিশক্তি
  48. পাঠ ১১
  49. ইমাম আবু হানিফা (র.)
  50. জ্ঞান সাধনা
  51. ফিকাহশাস্ত্রে অবদান
  52. হাদিসশাস্ত্রে অবদান
  53. গুণাবলি
  54. বিচারকের দায়িত্ব পালনে অনীহা
  55. পাঠ ১২
  56. ইমাম গাযালি (র.)
  57. ইবনে জারির আত-তাবারি (র.)
  58. জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চায় মুসলমানদের অবদান
  59. পাঠ ১৩
  60. চিকিৎসাশাস্ত্র
  61. আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে যাকারিয়া আল রাযি
  62. আল বিরুনি
  63. ইবনে সিনা
  64. ইবনে রুশদ
  65. পাঠ ১৪
  66. রসায়নশাস্ত্র
  67. জাবির ইবনে হাইয়ান
  68. আল কিন্দি
  69. জুননুন মিসরি
  70. ইবনে আব্দুল মালিক আল কাসি
  71. পাঠ ১৫
  72. ভূগোলশাস্ত্র
  73. আল মোকাদ্দাসি
  74. আল-মাসুদি
  75. ইয়াকুত ইবনে আব্দুল্লাহ
  76. ইবনে খালদুন
  77. পাঠ ১৬
  78. গণিতশাস্ত্র
  79. মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খাওয়ারিযমি
  80. হাসান ইবনে হায়সাম
  81. উমর খৈয়াম
  82. নাসির উদ্দিন তুসি
  83. নমুনা প্রশ্ন
  84. বহুনির্বাচনি
  85. সৃজনশীল প্রশ্ন
  86. সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন
  87. সমাপ্ত

Printed page 173

পঞ্চম অধ্যায়

আদর্শ জীবনচরিত (السِّيرَةُ المِثَالِيَّةُ)

আদর্শকে আরবিতে 'উছওয়া' (أُسْوَةٌ) বলে। আদর্শ বলতে অনুকরণীয়, অনুসরণীয় ও গ্রহণযোগ্য চালচলন এবং রীতিনীতিকে বোঝায়। মানুষের সামগ্রিক জীবন সুন্দর ও সফল করতে মনীষীদের যেসব জীবনকর্ম অনুসরণ করা হয় তা-ই হলো জীবনাদর্শ। শেষ নবি ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ (স.) হলেন আমাদের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ। যেমন, আল্লাহ তায়ালা বলেন- لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ

অর্থ : অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের জীবনে রয়েছে উত্তম আদর্শ (সূরা আল-আহযাব, আয়াত ২১)।

হযরত মুহাম্মদ (স.)- এর দেখানো পথ অনুসরণ করে যাঁরা শ্রেষ্ঠ মানুষ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন এবং তাঁদের জীবনাদর্শ দ্বারা মানবজাতিকে সঠিক পথে চলতে অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করেছেন, তাঁদের জীবনের ভালো দিকগুলোই হলো আমাদের জন্য আদর্শ।

আদর্শ জীবনচরিতের বৈশিষ্ট্য : আদর্শ জীবনচরিতে দু'ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। যেমন, (ক) গ্রহণীয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং (খ) বর্জনীয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।

গ্রহণীয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো হলো : (ক) মানুষের মাঝে সততা, বিশ্বস্ততা, উদারতা ও পরমতসহিষ্ণুতার সমন্বয় থাকা, (খ) আত্মসংযম, পরোপকারিতা, বদান্যতা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা, বিনয় ও নম্রতা থাকা এবং (গ) শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সম্প্রীতি, নিরপেক্ষতা, ক্ষমা ও ন্যায়পরায়ণতা ইত্যাদি গুণের অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকা।

বর্জনীয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- (ক) মানুষের মাঝে হিংসা, বিদ্বেষ, জিঘাংসা ও গোঁড়ামি থাকা; (খ) আড়ম্বরতা, ধোঁকাবাজি, প্রতারণা, পরনিন্দা ও অসত্য থাকা এবং (গ) অসহনশীলতা, দলাদলি, সাম্প্রদায়িকতা, অন্যায়, অত্যাচার, ব্যভিচার ও বেহায়াপনাসহ অশোভন সকল খারাপ আচরণে লিপ্ত থাকা ।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • আদর্শ জীবনচরিতের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে পারব;
  • প্রাক-ইসলামি যুগে আরবের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা বর্ণনা করতে পারব;
  • মহানবি (স.)-এর কিশোর বয়সের সততা, সহযোগিতা ও সহমর্মিতার অনন্য দৃষ্টান্ত বর্ণনা করতে পারব;
  • মহানবি (স.)-এর যৌবনকালের সুউচ্চ নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি বর্ণনা করতে পারব;
  • মহানবি (স.)-এর নবুয়ত প্রাপ্তি ও ইসলাম প্রচার সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;
  • মহানবি (স.)-এর মাদানি জীবনের ঘটনাবলি বর্ণনা করতে পারব;
  • মহানবি (স.)-এর মদিনা সনদ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বর্ণনা করতে পারব;
  • মহানবি (স.)-এর বিদায় হজের ভাষণ ও ভাষণে প্রতিফলিত মানবাধিকার ও সাম্যের ধারণা, নারীর প্রতি সম্মানবোধ এবং বিশ্বভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব;
  • মহানবি (স.)-এর মক্কা বিজয় ও ক্ষমার আদর্শ বর্ণনা করতে পারব;
  • খুলাফায়ে রাশেদিনের পরিচয় ও জীবনাদর্শ বর্ণনা করতে পারব;

Printed page 174

  • খুলাফায়ে রাশেদিনের চরিত্রে প্রস্ফুটিত গুণাবলি : মানবসেবা, দানশীলতা, উদারতা, জ্ঞানচর্চা, প্রজাবাৎসল্য, ন্যায়বিচার ও সুশাসন সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;
  • মুসলিম মনীষীগণের চরিত্রে প্রস্ফুটিত গুণাবলি : সমাজসেবা, সাম্য, গণতান্ত্রিক চেতনা, ভ্রাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতা, সৌহার্দ্য, বিশ্বস্ততা, ত্যাগ ও ক্ষমা, দেশপ্রেম, পরোপকারিতা ও শিক্ষাবিস্তারে অবদান সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;
  • জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশেষত চিকিৎসা, রসায়ন, ভূগোল ও গণিত শাস্ত্রে মুসলমানদের অবদান বর্ণনা করতে পারব ।

পাঠ ১

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর সমকালীন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা

মানুষকে সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ তায়ালার প্রেরিত নবি ও রাসুলগণের মধ্যে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) হলেন সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল। তাঁর আবির্ভাবের পূর্বে আরবের মানুষ চরম বর্বরতা ও অজ্ঞতার মাঝে ডুবে ছিল। তাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল চরমভাবে অধঃপতিত। তারা অসংখ্য মূর্তি তৈরি করত এবং মূর্তির পূজা করত । গোত্রের ভিন্নতার পাশাপাশি তাদের মূর্তিও ভিন্ন ভিন্ন ছিল । তারা পবিত্র কাবাঘরে ৩৬০টি মূর্তি স্থাপন করেছিল । কালের এই চরম অবক্ষয়ের কারণে একজন পথপ্রদর্শক হিসেবে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে প্রেরণ করেন। আল্লাহ তাঁর নিকট মহাগ্রন্থ আল-কুরআন অবতীর্ণ করেন । মহানবি (স.) মানুষকে মুক্তির পথ প্রদর্শন করেন ।

সামাজিক অবস্থা

মহানবি (স.)-এর আবির্ভাবের পূর্বে আরব সমাজের লোকেরা নবি ও রাসুল এর শিক্ষা ভুলে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল । তাদের আচার ব্যবহার ও চালচলন ছিল বর্বর ও মানবতাবিরোধী । তাই সে যুগকে 'আইয়্যামে জাহিলিয়্যা' বা অজ্ঞতার যুগ বলা হয় । সুষ্ঠু ও সুন্দর সামাজিক ব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই ছিল না । মানুষের জান, মাল, ইজ্জতের কোনো নিরাপত্তা ছিল না । নরহত্যা, রাহাজানি, খুন-খারাবি, ডাকাতি, মারামারি, কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া, জুয়াখেলা, মদ্যপান, সুদ, ঘুষ, ব্যভিচার ছিল তখনকার প্রচলিত ব্যাপার । তৎকালীন সমাজে নারীর কোনো মর্যাদা ছিল না । নারীদের সামাজিক জীব মনে করা হতো না; বরং দাসী হিসেবে তাদের বিক্রি করা হতো, ভোগ বিলাসের বস্তু মনে করা হতো । যার বর্ণনা পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্টভাবে এসেছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “তাদের কাউকে যখন কন্যা সন্তানের (ভূমিষ্ঠ হওয়ার) সুসংবাদ দেওয়া হয় তখন তাদের মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অসহনীয় মনস্তাপে ক্লিষ্ট হয় । তাকে যে সংবাদ দেওয়া হয়, তার গ্লানি হেতু সে নিজ সম্প্রদায় থেকে আত্মগোপন করে । সে চিন্তা করে হীনতা সত্ত্বেও সে তাকে রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে ফেলবে । সাবধান! তারা যা সিদ্ধান্ত করে তা খুবই নিকৃষ্ট ” (সূরা আন-নাহল, আয়াত ৫৮-৫৯)।

এক কথায় অপরাধের এমন কোনো দিক ছিল না, যা তারা করত না ।

Printed page 175

সাংস্কৃতিক অবস্থা

জাহিলি যুগে আরবের অধিকাংশ লোক নিরক্ষর ও অশিক্ষিত থাকলেও সাহিত্যের প্রতি তাদের খুব অনুরাগ ছিল । তাদের অনেকেই মুখে মুখে গীতিকবিতা চর্চা করত । তৎকালীন আরবে উকায মেলা নামে বাৎসরিক একটি মেলা বসত । মেলায় তৎকালীন সময়ের প্রসিদ্ধ কবিগণ তাদের স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করত । যেসব কবিতা সেরা বিবেচিত হতো তা সোনালি বর্ণে লিখে পবিত্র কাবার দেয়ালে ঝুলিয়ে দেওয়া হতো । আরবি সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ 'আস-সাবউল মুআল্লাকাত' (সাতটি ঝুলন্ত গীতিকবিতা) জাহিলি যুগেই রচিত । কবিতা রচনার কারণে আরববরা জাহিলি যুগেই বিশ্বে খ্যাতি অর্জন করেছিল । তাদের কবিতা মানের দিক থেকে ছিল খুব উন্নত । হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, “যখন তোমরা আল্লাহর কিতাবের কোনো কিছু বুঝতে না পার, তবে তার অর্থ আরবদের কবিতায় তালাশ কর। কারণ কবিতা তাদের জীবনালেখ্য” (আল-মুফাচ্ছাল)।

এতে বোঝা যায় প্রাচীন আরবের সাংস্কৃতিক জীবনে অসংখ্য প্রবাদ-প্রবচন, নানা কিংবদন্তি ও মুখরোচক কাহিনী এবং বাগ্মিতার প্রচলন ছিল, তবে তাদের সংস্কৃতি চর্চার প্রধান মাধ্যম ছিল কবিতা ।

পাঠ ২

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর জন্ম, শৈশব ও কৈশোর

জন্ম ও শৈশব

আরব যখন চরম জাহিলিয়াতে নিমজ্জিত তখন আরবের কুরাইশ বংশে ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) এর জন্ম হয় । তাঁর পিতার নাম আব্দুল্লাহ । দাদার নাম আব্দুল মুত্তালিব । মাতার নাম আমিনা । নানার নাম ওয়াহাব । জন্মের পূর্বেই তাঁর পিতা ইন্তিকাল করেন । দাদা আব্দুল মুত্তালিব তাঁর নাম রাখেন মুহাম্মদ । আর তাঁর মাতা নাম রাখেন আহমাদ ।

জন্মের পর মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) ধাত্রী মা হালিমার ঘরে লালিত-পালিত হন । হালিমা বনু সাদ গোত্রের লোক ছিলেন । আর বনু সাদ গোত্র বিশুদ্ধ আরবিতে কথা বলত । ফলে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)ও বিশুদ্ধ আরবি ভাষায় কথা বলতেন । শৈশবকাল থেকে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাঝে ন্যায় ও ইনসাফের নজির দেখা যায় । তিনি ধাত্রী হালিমার একটি স্তন পান করতেন অন্যটি তাঁর দুধভাই আব্দুল্লাহর জন্য রেখে দিতেন ।

হালিমা মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে পাঁচ বছর লালন-পালন করে তাঁর মা আমিনার নিকট রেখে যান । তাঁর বয়স যখন ছয় বছর তখন তাঁর মাতা ইন্তিকাল করেন । প্রিয়নবি (স.) অসহায় হয়ে পড়লে তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব নেন দাদা আব্দুল মুত্তালিব । আর আট বছর বয়সে তাঁর দাদাও মারা যান । এরপর লালন-পালনের দায়িত্ব নেন চাচা আবু তালিব ।

Printed page 176

কৈশোর

চাচা আবু তালিব অত্যন্ত আদর স্নেহ দিয়ে হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে লালন-পালন করতে থাকেন । আবু তালিবের আর্থিক অবস্থা ছিল অসচ্ছল । হযরত মুহাম্মদ (স.) এ অবস্থা অবলোকন করে চাচার সহযোগিতায় কাজ করা শুরু করেন । তিনি মেষ চরাতেন । মেষপালক রাখাল বালকদের জন্য তিনি ছিলেন উত্তম আদর্শ । তাদের সাথে তিনি বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতেন । কখনোই তাদের সাথে কলহ বা ঝগড়া-বিবাদ করতেন না । তিনি ১২ বছর বয়সে ব্যবসার উদ্দেশ্যে চাচার সঙ্গে সিরিয়া যান । যাত্রাপথে 'বুহায়রা' নামক এক পাদ্রির সাথে দেখা হলে বুহায়রা মুহাম্মদকে অসাধারণ বালক বলে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন যে, 'এ বালকই হবে আখেরি নবি (শেষ নবি) ।'

শৈশবকাল থেকেই মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন সত্যবাদী ও শান্তিকামী । সিরিয়া থেকে ফিরে এসে তিনি ফিজার যুদ্ধের বিভীষিকা দেখলেন । যুদ্ধটি শুরু হলো নিষিদ্ধ মাসে । তাছাড়া কায়স গোত্র অন্যায়ভাবে কুরাইশদের উপর এ যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল । এ জন্য একে 'হারবুল ফিজার' বা অন্যায় যুদ্ধ বলা হয় । পাঁচ বছর যাবৎ এ যুদ্ধ স্থায়ী হয় । হযরত মুহাম্মদ (স.) এ যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেননি । তবে যুদ্ধের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেছিলেন । এ যুদ্ধে বহু মানুষ আহত ও নিহত হয় । তাতে তাঁর কোমল হৃদয় কেঁদে ওঠে । আহতদের আর্তনাদ শুনে তিনি অস্থির হয়ে পড়লেন । শান্তিকামী মানুষ হিসেবে এ অশান্তি তাঁর সহ্য হলো না । তাই তিনি আরবের শান্তিকামী যুবকদের নিয়ে 'হিলফুল ফুযূল' (শান্তি সংঘ) গঠন করলেন । এই সংঘের উদ্দেশ্য ছিল আর্তের সেবা, অত্যাচারীকে প্রতিরোধ ও অত্যাচারিতকে সাহায্য করা, শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা এবং গোত্রে গোত্রে শান্তি, সম্প্রীতি বজায় রাখা । বর্তমান আধুনিক বিশ্বের জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শান্তিসংঘ হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর ঐ হিলফুল ফুযূলের কাছে অনেকাংশে ঋণী । তারাও হিলফুল ফুযূলের মতো যুদ্ধ বন্ধ করে সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট ।

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর চারিত্রিক গুণাবলি- আমানতদারি, সত্যবাদিতা, ন্যায়নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার কারণে তৎকালীন আরবের লোকজন তাঁকে আল-আমিন (বিশ্বাসী) উপাধি দিয়েছিল । নবুয়ত প্রাপ্তির পর যারা তাঁকে অস্বীকার করেছিল তারাও তাঁকে মিথ্যাবাদী বলতে পারেনি ।

কাজ : শিক্ষার্থীরা মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শৈশব-কৈশোর থেকে শিক্ষণীয় বিষয়ের একটি তালিকা তৈরি করবে।

Loading the rest of the chapter…

Textbook content © National Curriculum and Textbook Board (NCTB), Bangladesh. Shown for study.

Trusted resources

Official links checked by the Zntext team. Part of the context pack.