অনেক বড় বা অনেক ছোট সংখ্যা বা রাশিকে সূচকের সাহায্যে লিখে অতি সহজে প্রকাশ করা যায়। ফলে হিসাব গণনা ও গাণিতিক সমস্যা সমাধান সহজতর হয়। তাছাড়া সূচকের মাধ্যমেই সংখ্যার বৈজ্ঞানিক বা আদর্শ রূপ প্রকাশ করা হয়। তাই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সূচকের ধারণা ও এর প্রয়োগ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক।
সূচক থেকেই লগারিদমের সৃষ্টি। লগারিদমের সাহায্যে সংখ্যার বা রাশির গুণ, ভাগ ও সূচক সম্পর্কিত গণনার কাজ সহজ হয়েছে। ক্যালকুলেটর ও কম্পিউটারের ব্যবহার প্রচলনের পূর্ব পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক হিসাব ও গণনায় লগারিদমের ব্যবহার ছিল একমাত্র উপায়। এখনও এগুলোর বিকল্প হিসাবে লগারিদমের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।
এ অধ্যায়ে সূচক ও লগারিদম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
এ অধ্যায় শেষে শিক্ষার্থীরা—
► মূলদ সূচক ব্যাখ্যা করতে পারবে;
► ধনাত্মক পূর্ণ-সাংখ্যিক সূচক, শূন্য ও ঋণাত্মক পূর্ণ-সাংখ্যিক সূচক ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ করতে পারবে;
► সূচকের নিয়মাবলি বর্ণনা ও তা প্রয়োগ করে সমস্যার সমাধান করতে পারবে;
► n তম মূল ও মূলদ ভগ্নাংশ সূচক ব্যাখ্যা করতে পারবে এবং n তম মূলকে সূচক আকারে প্রকাশ করতে পারবে;
► লগারিদম ব্যাখ্যা করতে পারবে;
► লগারিদমের সূত্রাবলি প্রমাণ ও প্রয়োগ করতে পারবে;
► সাধারণ লগারিদম ও স্বাভাবিক লগারিদম ব্যাখ্যা করতে পারবে;
► সংখ্যার বৈজ্ঞানিক রূপ ব্যাখ্যা করতে পারবে;
► সাধারণ লগারিদমের পূর্ণক ও অংশক ব্যাখ্যা করতে পারবে;
► ক্যালকুলেটরের সাহায্যে সাধারণ ও স্বাভাবিক লগারিদম নির্ণয় করতে পারবে।
Printed page 76
সূচক (Exponents or Indices)
আমরা ষষ্ঠ শ্রেণিতে সূচকের ধারণা পেয়েছি এবং সপ্তম শ্রেণিতে গুণের ও ভাগের সূচক নিয়ম সম্পর্কে জেনেছি। সূচক ও ভিত্তি সংবলিত রাশিকে সূচকীয় রাশি বলা হয়।
কাজ: নিচের সারণিতে খালি ঘরগুলো পূরণ করো।
একই সংখ্যা বা রাশির ক্রমিক গুণ
সূচকীয় রাশি
ভিত্তি
ঘাত বা সূচক
2×2×2
23
2
3
3×3×3×3
3
a×a×a
a3
b×b×b×b×b
5
a যেকোনো বাস্তব সংখ্যা এবং n যেকোনো ধনাত্মক পূর্ণসংখ্যা হলে, n সংখ্যক a এর ক্রমিক গুণ হলো an। অর্থাৎ, a×a×a×…×a (n সংখ্যক বার a) =an। এখানে, n হলো সূচক বা ঘাত এবং a হলো ভিত্তি। আবার, বিপরীতক্রমে an=a×a×a×…×a (n সংখ্যক বার a)।
সূচক শুধু ধনাত্মক পূর্ণসংখ্যাই নয়, ঋণাত্মক পূর্ণসংখ্যা বা ধনাত্মক ভগ্নাংশ বা ঋণাত্মক ভগ্নাংশও হতে পারে। অর্থাৎ, ভিত্তি a∈R (বাস্তব সংখ্যার সেট) এবং সূচক n∈Q (মূলদ সংখ্যার সেট) এর জন্য an সংজ্ঞায়িত। বিশেষ ক্ষেত্রে, n∈N (স্বাভাবিক সংখ্যার সেট) ধরা হয়। তাছাড়া অমূলদ সূচকও হতে পারে। তবে সেটা মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যসূচি বহির্ভূত বলে এখানে আর আলোচনা করা হয়নি।
সূচকের সূত্রাবলি (laws of Indices)
ধরি, a∈R (বাস্তব সংখ্যার সেট) এবং m,n∈N (স্বাভাবিক সংখ্যার সেট)।
সূত্র ১ (গুণ). am×an=am+n
সূত্র ২ (ভাগ). anam=⎩⎨⎧am−nan−m1যখনm≥nযখনn>m
নিচের ছকের খালি ঘরগুলো পূরণ করো:
a=0,m>nm=5,n=3
a=0,n>mm=3,n=5
a5×a3=(a×a×a×a×a)×(a×a×a)=a×a×a×a×a×a×a×a=a8=a5+3
a3×a5=
a3a5=
a5a3=a×a×a×a×aa×a×a=a21=a5−31
Printed page 77
∴ সাধারণভাবে am×an=am+n এবং anam=⎩⎨⎧am−nan−m1যখনm≥nযখনn>m
সূত্র ৩ (গুণফলের ঘাত). (ab)n=an×bn
লক্ষ করি,
(5×2)3=(5×2)×(5×2)×(5×2)[∵a3=a×a×a,a=5×2]=(5×5×5)×(2×2×2)=53×23
সাধারণভাবে,
(ab)n=ab×ab×ab×…×ab [n সংখ্যক ab এর ক্রমিক গুণ]
=(a×a×a×…×a)×(b×b×b×…×b)=an×bn
সূত্র ৪ (ভাগফলের ঘাত). (ba)n=bnan,(b=0)
লক্ষ করি,
(25)3=25×25×25=2353
সাধারণভাবে,
(ba)n=ba×ba×ba×…×ba [n সংখ্যক ba এর ক্রমিক গুণ]
=b×b×b×…×ba×a×a×…×a=bnan
সূত্র ৫ (ঘাতের ঘাত). (am)n=amn
(am)n=am×am×am×…×am [n সংখ্যক am এর ক্রমিক গুণ]
=am+m+m+…+m [ঘাতে n সংখ্যক সূচকের যোগফল]
=am×n=amn
∴(am)n=amn
শূন্য ও ঋণাত্মক সূচক (Zero and Negative Indices)
সূচকে সূত্রাবলির প্রয়োগ ক্ষেত্র সকল পূর্ণসংখ্যা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে a0 এবং a−n (যেখানে n স্বাভাবিক সংখ্যা) এর সংজ্ঞা দেয়া প্রয়োজন।
সংজ্ঞা ১ (শূন্য সূচক). a0=1,(a=0)
সংজ্ঞা ২ (ঋণাত্মক সূচক). a−n=an1,(a=0,n∈N)
এই সংজ্ঞা দুইটির ফলে সূচক বিধি m এবং n এর সকল পূর্ণসাংখ্যিক মানের জন্য বলবৎ থাকে এবং এরূপ সকল সূচকের জন্য anam=am−n খাটে।
Printed page 78
লক্ষ কর, anan=an−n=a0
কিন্তু anan=a×a×a×…×a(nসংখ্যক)a×a×a×…×a(nসংখ্যক)=1
∴a0=1
আর an1=ana0=a0−n=a−n
উদাহরণ ১. মান নির্ণয় করো: ক) 5352 খ) (32)5×(32)−5